‘আমারেও লইয়া যাও, আমিও এই নতুন ঘরো থাকবাম’

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৯: ৫৯
বাবা, দুই বোন ও দাদিকে দাফনের সময় তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে জান্নতুল ফারিয়া। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী, তিন সন্তান ও মাকে নিয়ে থাকতেন পরের জায়গায়। স্ত্রীকে নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে চার বছর আগে এক খণ্ড জমি কিনেছিলেন। সেখানে নতুন মাটি ফেলে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নতুন ঘর বানানোর। কিন্তু ঘর আর হলো না জামাল উদ্দিনের।

গতকাল শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইলের ঘোষপালা গ্রামে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জামালসহ তাঁর দুই সন্তান ও মা প্রাণ হারায়। ঘটনার সময় কাছে থাকলেও বেঁচে যায় তাঁর মেয়ে জান্নাতুল ফারিয়া (৯) ও।

আজ রবিবার সকালে জানাজা শেষে যে স্থানে ঘর করার স্বপ্ন ছিল জামালের, সেই স্থানেই তাঁদের দাফন করা হয়েছে। দাফনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের সময় বেঁচে যাওয়া শিশু জান্নাতুল কবরের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় সে চিৎকার করে বলতে থাকে ‘এই ঘরো তোমরা পুতছো (শোয়া), আমারেও লইয়া যাও, আমিও এই নতুন ঘরো থাকবাম। বইন, আব্বা ও দাদু তোমরা আর কত ঘুমাইয়াবা। উইঠ্যা আইয়া পড়ো। না অইলে আমারেও লইয়া যাও। আমি অহন কিবায় থাকবাম’। জান্নাতুলের এমন কথা শুনে উপস্থিত লোকজন কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

জামালের স্ত্রী মরিয়ম অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। স্বামী, দুই সন্তান ও শাশুড়িকে হারিয়ে তিনি এখন পাগলপ্রায়।

স্থানীয়রা জানায়, জামাল উদ্দিন অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। শনিবার সকালে আটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে দুপুরে বাড়িতে ফিরে এসে ঘরের ভেতরেই অটোরিকশাটি চার্জে বসান। এক পর্যায়ে তিনি বিদ্যুতায়িত হলে বাঁচাতে এগিয়ে যান বৃদ্ধা মা আনোয়ারা খাতুন (৬৫)। তখন তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বিষয়টি টের পেয়ে বাবা ও দাদিকে বাঁচাতে এগিয়ে যায় ছয় বছর বয়সী শিশু কন্যা ফাইজা ও চার বছর বয়সী শিশু আনিকা। এ সময় তাঁরাও বিদ্যুস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

এলাকাবাসী আরো জানায়, নিজের জমিজমা না থাকায় পরের জায়গায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন জামাল। বছর পাঁচেক আগে একটু ভালো থাকার জন্য কর্মের সন্ধানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় যান। সেখানে নিজে রিকশা চালাতেন ও স্ত্রী মরিয়ম একটি বেসরকারি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নকর্মীর কাজ করতেন। স্বামী-স্ত্রী দুইজনেরর উপার্জন থেকে একটু একটু করে টাকা জমিয়ে নিজ এলাকায় এক খণ্ড জমি কিনেন। এরপর আরও কিছু টাকা জমিয়ে ঘর করবেন, সেজন্য স্ত্রী মরিয়মকে ঢাকায় রেখে তিন সন্তান নিয়ে বাড়ি চলে যান জামাল। স্বপ্ন ছিল নিজের তৈরি করা ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখে থাকবেন। কিন্তু বিধিবাম, মুহূর্তেই সব কিছুই ধুলিস্যাৎ হয়ে গেল।

রবিবার সকালে জামালের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষ এসেছেন চারজনের জানাজা পড়তে। একটি ফসলি খেতে জানাজায় আসা হাজার হাজার লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। পাশের একটি বাড়িতে আহাজারি করছেন জামালের স্ত্রী মরিয়ম। আর একটু পর পর হাউমাউ করছেন জামালের বেঁচে যাওয়া মেয়েটি। তাঁকে সান্তনা দিতে এগিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই।

নিহত জামালের বড় ভাই নুরুল হক বলেন, আমার ভাই জীবনে খুব কষ্ট করছে। একটা স্বপ্ন ছিল ঘরবাড়ি করে পরিবার নিয়ে একত্রে থাকবেন। কিন্তু তা আর হলো না।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক না.গঞ্জের এমপির ছেলেকে রাতেই ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে আটকের কয়েক ঘণ্টা পর রাতেই ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল রোববার দুপুরে আটকের পর মুচলেকা নিয়ে তাকে রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়।

১ দিন আগে

লক্ষ্মীপুরে যুবদল নেতার ঘরে ছোট ভাইয়ের গুলি, ভিডিও ভাইরাল

যে ঘর লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে, সেটি রামগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ও লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার মজুমদারের। গুলি ছোড়া যুবকের নাম সুমন মজুমদার। তিনি যুবদল নেতা আবদুস সাত্তার মজুমদারের ছোট ভাই। এলাকায় তিনি পৃথক ঘরে বসবাস করেন।

১ দিন আগে

চাঁদাবাজির অভিযোগে না.গঞ্জের এমপির ছেলে ডিবি হেফাজতে, যুবদল থেকেও বহিষ্কৃত

রোববার (২১ জুন) দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় তাকে আটক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। পরে সন্ধ্যায় যুবদলের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সহসভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেলের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

২ দিন আগে

ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু, নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের

এ সময় তাকে তার মায়ের সামনেই মারধর করা হয় বলে স্বজনদের অভিযোগ। তবে ডিবি পুলিশের দাবি, ওই যুবককে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। বরং তার সঙ্গে ভালো আচরণ করা হয়েছে এবং তাকে খাবারও দেওয়া হয়েছিল।

২ দিন আগে