ইরান যুদ্ধ ‘সম্ভবত অন্তত জুন মাস পর্যন্ত’ স্থায়ী হবে বলে সতর্ক করেছেন কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ম্যাডিসন কার্টরাইট। দ্য গার্ডিয়ানের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক চাপ, চলমান যুদ্ধ এবং ইরানের ভেতরে বদলে যাওয়া জনমত নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে— তাহলে কি শেষ পর্যন্ত পরমাণু অস্ত্রের পথেই হাঁটছে কোণঠাসা ইরান? দেশটি এরই মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়েও তৎপরতা শুরু করেছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আবদুল আজিজ আল-আতওয়ান বিবৃতিতে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কুয়েতের আকাশসীমায় ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পরিবর্তন হচ্ছে। শুরুতে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও এখন লক্ষ্য হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিও অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তেহরানের রাজনীতিবিদদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনা, ইস্পাত কারখানা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলার কারণে এনপিটি চুক্তিতে থাকা ‘অর্থহীন’ হয়ে পড়েছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ‘বন্ধ’ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, এ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করলে জাহাজগুলোকে ‘কঠোর ব্যবস্থা’র মুখে পড়তে হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে চালকবিহীন ‘ড্রোন স্পিডবোট’ বা নৌ ড্রোন মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, এই চুক্তির সদস্যপদ ইরানের জন্য কোনো সুবিধা বয়ে আনেনি; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘গোয়েন্দাগিরির হাতিয়ারে’ পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও তীব্র হলে ইরানের পক্ষে মাঠে নামতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। তারা জানিয়েছে, যুদ্ধ করার মতো পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। আলিরেজা তাংসিরি হরমুজ প্রণালি বন্ধের জন্য দায়ী ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘অস্বীকার করলেও ইরান বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং দেশটির নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি-আলোচনা স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছেন।’
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২৯০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এ ছাড়া এর আগে নিজেদের ১৩ জন সেনা নিহত হওয়ার খবর দিয়েছিল মার্কিন বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ওয়াশিংটনকে ইঙ্গিত করে কটাক্ষ করেছেন ইরানের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র। তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন নিজেদের মধ্যেই আলোচনা চালাচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ‘পরাজয়কে’ ‘চুক্তি’ হিসেবে আখ্যা না দিতে সতর্ক করেছেন তিনি।
যুদ্ধ আর নতুন করে শুরু হবে না এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে তেহরান, যার মাধ্যমে ওই অঞ্চলে তাদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার দাবি তুলেছে ইরান।
সৌদি যুবরাজ যুক্তি দিয়েছেন যে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ইরান দীর্ঘমেয়াদি হুমকির মুখে রেখেছে, যা দেশটির সরকারকে নির্মূল করার মাধ্যমে দূর করা যেতে পারে। তবে সৌদি কর্মকর্তারা যুবরাজের এমন অবস্থানের কথা অস্বীকার করেছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান— কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াশিংটনের অনেকের কাছেই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নাম আসাটা অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়।
ইসরায়েলের তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎজ। এসব হামলা এমন এক সময় চালানো হলো, যখন ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে।