এর আগে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর ইরাকে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইরানও হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ও মিত্র দেশের অবস্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে কয়েক মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ এখন আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। এর অংশ হিসেবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চীনে তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার প্রথম চালান পেতে যাচ্ছে দেশটি।
সম্প্রতি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও রাজধানী রিয়াদের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরাক ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মূলত সেসব ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়। সৌদি আরব জানায়, তারা উত্তেজনা বাড়াতে চায় না; তবে দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্
ইরানের এ পদক্ষেপের জবাবে ইরাকে অবস্থিত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একাধিক অস্ত্র ও রসদ ঘাঁটিতে যৌথ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বাহিনী। সেন্টকম জানায়, গত ৭২ ঘণ্টায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নির্দেশে চালানো ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার জবাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এ
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার পথ তৈরি হতে পারে।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা নিয়মিত মার্কিন বিমান হামলা এবং পালটাপালটি আক্রমণ বন্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে একটি যুদ্ধবিরতীর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
গ্যাসক্ষেত্রে হামলার প্রায় একই সময়ে সুলাইমানিয়া থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিলেও পরপর বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিস্ফোরণের তীব্রতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী,
বর্তমানে সবচেয়ে লক্ষণীয় পরিবর্তন হচ্ছে, যুদ্ধের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে যে সীমিত সমর্থন ছিল, সেটিও টালমাটাল হয়ে পড়ছে। প্রায় টানা দুই সপ্তাহ রাতভর হামলার পর আপাতত মার্কিন সামরিক অভিযান স্থগিত রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন সময়ই সংঘাত আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে আসছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ ধরনের হামলা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চরমপন্থী ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের শামিল, যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।
ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতেই ইরানে হামলা চালাচ্ছিল। অন্যদিকে ইরান বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই তাদের লক্ষ্য।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা হামলা চালিয়ে দুটি মসজিদে আগুন দিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদসহ গ্রামের ভবনগুলোর দেয়ালে হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন স্লোগানও লিখেছেন তারা। রোববার ভোরে এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।
হামলায় বিরতির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প সব সময়ই স্পষ্ট করে বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানই তার প্রথম পছন্দ। তবে ইরান যদি আন্তরিকভাবে আলোচনার টেবিলে না আসে, তাহলে কী ঘটতে পারে, সেটিও তিনি তাদের দেখিয়ে দিয়েছেন।
প্রতিরক্ষা শঙ্কার পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে এক ধরণের রাজনৈতিক সংশয়ও তৈরি হয়েছে। জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ক্রমাগত হামলায় ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করা সম্ভব হয়নি। উল্টো বিদেশি আগ্রাসনের মুখোমুখি হয়ে দেশটির সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে সব মতভেদ ভুলে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, সম্প্রতি বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে শি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন—চীন বা কোনো চীনা কোম্পানি ইরানকে কোনো অস্ত্র দেবে না। অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তাঁকে ইয়েমেন বা ইরানে অস্ত্র বিক্রি না করা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে জানান, সৌদির সাথে এই পারমাণবিক সহযোগিতা কেবল বেসামরিক কাজের জন্যই নির্ধারিত। তবে এর বাস্তবায়ন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ওপর।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।