ঢাবিতে শিক্ষকদের শাস্তি ও অচল শিক্ষক সমিতি: মুখোমুখি নীল-সাদা

রাহাতুল ইসলাম রাফি
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১২: ৩৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন। প্রতীকী ছবি

জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী অভিযোগে ২৩১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি, সাত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ এবং প্রায় দেড় বছর ধরে অচল শিক্ষক সমিতি— এই তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত সাদা দল ও আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত নীল দল শনিবার (১ আগস্ট) পৃথক বিবৃতিতে একে অন্যের অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে দুই পক্ষই শিক্ষক সমিতির নির্বাচন না হওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে পরস্পরের ওপর দায় চাপাচ্ছে।

তালিকা ঘিরে নতুন মেরুকরণ

গত ২৭ জুলাই ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে একদল শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতা ও ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে ২৩১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এর দুই দিনের মাথায় ২৯ জুলাই সিন্ডিকেট সভায় ওই অভিযোগগুলো পর্যালোচনার জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে রয়েছেন উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান।

এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই শিক্ষকদের মধ‍্যে বিতর্ক তীব্র হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের দাবি— এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘অমূলক’ ও ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত’।

গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে নীল দল দাবি করে— নীল দল কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি স্বায়ত্তশাসিত পেশাজীবী সংগঠন।

বিবৃতিতে বলা হয়, কথিত ২৩১ শিক্ষকের তালিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থেকে সব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানায় নীল দল।

নীল দলের দাবি, অভিযোগের ভিত্তিতে তালিকা করে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে আরও বিভক্ত করবে। সংগঠনটির ভাষ্য, এটি আইনি নয়, রাজনৈতিক উদ্যোগ।

অন্যদিকে প্রশাসনের কাছে তালিকা দেওয়ার বিষয়ে নীল দলের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। এক বিবৃতিতে সাদা দল দাবি করে— ব্যবস্থা নেওয়ার জন‍্য শিক্ষকদের পৃথক তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে— এমন প্রচার সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তবে বিবৃতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে অভ্যুত্থানবিরোধী বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে দ্রুত শান্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তারা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত তথাকথিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায় সাদা দল।

দুপক্ষের বক্তব‍্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাদা দল শনিবার এই বক্তব্য দিলেও যারা স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা সাদা দলের নেতা বা সমর্থক হিসেবেই পরিচিত। সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন আবুল কালাম সরকার স্মারকলিপি প্রদানকারীদের অন্যতম এবং এর ভিত্তিতে যে কমিটি করা হয়েছে তারাও প্রশাসনের শীর্ষে থাকা সাদা দলের শিক্ষক নেতা।

নির্বাচনহীন শিক্ষক সমিতি নিয়েও মুখোমুখি

দুই পক্ষের বিরোধ এখন শুধু ২৩১ শিক্ষকের তালিকায় সীমাবদ্ধ নেই। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোটা শিক্ষক সমাজকেই নাড়া দিয়েছে। সামনে এসেছে শিক্ষক সমিতি নির্বাচন প্রসঙ্গ। আরও সামনে এসেছে যেখানে ছাত্রদের ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে শিক্ষকদের নির্বাচন করতে না পারার প্রসঙ্গ।

শিক্ষক সমিতির বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এরপর দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন হয়নি। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৫ সদস্যের কমিটির ১১ জন পদত্যাগ করেন। ফলে সমিতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতিবছর শিক্ষক সমিতির নির্বাচন হওয়াটা বাধ্যতামূলক। আমরা বারবার নির্বাচনের কথা বলেছি। কিন্তু, বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা ছড়িয়েছেন— আমরা নাকি নির্বাচন দিচ্ছি না।’

ড. জিনাত বলেন, ‘২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আমি এবং আমার প্রেসিডেন্ট নিজামুল হক ভুঁইয়া সাহেব তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানকে চিঠি পাঠিয়ে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছিলাম। কিন্তু আমরা কোনো সাড়া পাইনি’

অধ্যাপক জিনাত হুদার দাবি, বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামের কাছেও সমিতির পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজন সম্পর্কে অবহিত করা হয়। সে সময় ড. ওবায়েদ দুপক্ষের মধ্যে অর্থাৎ সাদা ও নীল দলের শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনা করার কথা বলেন।

তার অভিযোগ, নির্বাচন না হওয়ার দায় উল্টো নীল দলের ওপর চাপানো হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ঢাবি শিক্ষক সমিতি থেকে পদত্যাগ করেন ১১ শিক্ষক। ছবি: সংগৃহীত
ঢাবি শিক্ষক সমিতি থেকে পদত্যাগ করেন ১১ শিক্ষক। ছবি: সংগৃহীত

তবে সাদা দল-ঘনিষ্ঠ একাধিক শিক্ষক বলছেন, তাদের অবস্থান পরিষ্কার— তারা দ্রুত নির্বাচন চান। কিন্তু দুপক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সমঝোতার অভাবেই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

এদিকে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নিয়ে সাদা দলের অবস্থান জানতে দলটির আহ্‌বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানের বক্তব‍্য পেতে কয়েকদফা চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি কল রিসিভ না করলে তার বক্তব‍্য পাওয়া যায়নি।

সাদা দলের শিক্ষকরাও এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেও আগ্রহী নন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাদা দল-সংশ্লিষ্ট অন্তত তিনজন শিক্ষক রাজনীতি ডটকমকে জানিয়েছেন— নির্বাচন নিয়ে সাদা দলের অবস্থান পরিষ্কার। তারা দ্রুত নির্বাচন চান। তবে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের ‘চাওয়া-পাওয়া’ সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে কোনো ইস্যু থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

বিএনপিপন্থি শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘বর্তমানে সমিতিতে মাত্র দুজন সদস্য অবশিষ্ট আছেন। বেশির ভাগই পদত্যাগ করেছেন। এই কমিটির মূলত কোনো আইনি ও নৈতিক অস্তিত্বই নেই।’

ঢাবির এই উপউপাচার্য বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম— বিশেষ করে সাদা দলসহ অন্যান্য শিক্ষকররা শিক্ষক সমিতির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। ৫ আগস্টের পর এই কমিটিগুলোর বাস্তবে কার্যনির্বাহী অস্তিত্ব বা ভিত্তি আর অবশিষ্ট নেই।’

অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী পুরাতন শিক্ষক সমিতিরই নির্বাচন আয়োজনের কথা ছিল, কিন্তু তারা তা সম্পন্ন করেনি। সংবিধান অনুযায়ী এ পরিস্থিতি এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে। এ সংকট উত্তরণে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই একটি তলবি সভা আহ্বান করতে হবে এবং একটি ভ্যালিড বডি গঠন করে তাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। যেহেতু বর্তমান কমিটির কোনো কার্যকারিতা বা আইনি বৈধতা নেই এবং ৫ আগস্টের পর তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই, তাই সাধারণ শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সভা করার মাধ্যমেই এই ব্যবস্থার সমাধান করতে হবে।’

বর্তমান ও সদ্য সাবেক দুই উপাচার্যকে নির্বাচন আয়োজন সংক্রান্ত বিষয়ে অধ্যাপক জিনাত হুদার চিঠি পাঠানোর দাবির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপউপাচার্য অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী, ‘এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুজন ব্যক্তিই ভালো বলতে পারবেন। অধ্যাপক জিনাত হুদা অন্যদের রেফারেন্স দিয়ে কথা বললেও তার যৌক্তিকতা ও সত্যতা কতটুকু তা নিশ্চিত নয়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেই কেবল এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

নীল দল সংশ্লিষ্ট একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘কেন নির্বাচন হচ্ছে না, সেটা সাদা দলের শিক্ষকরাই ভালো জানেন। এখন তো সব তাদের সঙ্গেই আছে। এমনকি আওয়ামীপন্থি হিসেবে পরিচিত শিক্ষকদের একটি অংশও ক্ষমতার কাছে থাকা সাদা দলের সঙ্গে চলে গেছে। সুতরাং, সংখ্যাগত জায়গা থেকেও কোনো কারণ খুঁজে পাই না।

তবে সাদা দলের একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক রাজনীতি ডটকমকে বলেন, আওয়ামী লীগ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার সময় নীল দল শিক্ষক নিয়োগের মাধ‍্যমে এতটাই এগিয়েছে যে সমিতির নির্বাচন দেওয়া হলেও সাদা দলের নেতৃত্বে যাওয়া কঠিন। তার ধারণা নীল দলে ভোটারের ব‍্যবধান এখন ৩০০ থেকে ৪০০ বেশি।

জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সাদা দলের চিঠি। ছবি: সংগৃহীত
জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সাদা দলের চিঠি। ছবি: সংগৃহীত

শাস্তি নিয়ে বিতর্ক

বিতর্ক আরও বেড়েছে সম্প্রতি সাত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে।

গত ২৮ জুলাইয়ের সিন্ডিকেট সভায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে আরও ছয় শিক্ষককে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এদের মধ্যে সাদেকা হালিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করা চৌধুরী ফজলুল হালিমের মেয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পৃথক পৃথক অভিযোগে তিনজন শিক্ষককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া চারজন শিক্ষককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নীল দলের অভিযোগ, এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অভিযোগ তদন্ত, ট্রাইব্যুনাল গঠন কিংবা অভিযুক্ত শিক্ষকদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ক্ষমতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আইনি প্রক্রিয়া– এই তিনটি বিষয় সামনে এসেছে।

জানতে চাইলে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু খালেদ মোহাম্মদ খাদেমুল হক রাজনীতি ডটকমকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে শাস্তি দেওয়া যায় না। তার মতে, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোতে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

অধ্যাপক জিনাত হুদা জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকেই ৭০-৮০ জন শিক্ষককে বিভিন্নভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ছে।

দুপক্ষের লড়াই, মাঝখানে প্রশাসন

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও কার্যত দুপক্ষের চাপের মধ্যে পড়েছে। প্রশাসন চলছে সাদা দলের নেতৃত্বে, কিন্তু বিশ্ববিদ‍্যালয়ে নীল দলের সমর্থক বেশি।

একদিকে জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী ভূমিকার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। অন্যদিকে সেই কমিটির বৈধতা, শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক সমিতির নির্বাচন— সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন তুলছে ভিন্ন পক্ষ।

বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অন্তত ছয়জন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া যায়, বর্তমান সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে কয়েকটি প্রশ্ন—

২৩১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত কি আইনি প্রক্রিয়ায় হবে, নাকি রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে দেখা হবে?

মেয়াদোত্তীর্ণ ও ১৫ সদস‍্যের ১১ জন পদত্যাগ করা শিক্ষক সমিতির বৈধতা আদৌ আছে কি?

আবার শিক্ষা সমিতির গঠনতন্ত্রে পরিষ্কার বলা আছে যে পরবর্তী কমিটির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, নির্বাচন না হলে সেই প্রক্রিয়া কীভাবে সম্ভব?

এসব প্রশ্নের কোনোটিরই এখনো স্পষ্ট উত্তর নেই। তবে স্পষ্ট হয়েছে, শিক্ষক সমিতির অচলাবস্থা, ২৩১ শিক্ষকের তালিকা এবং সাম্প্রতিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা— সব মিলিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতি এখন দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে গভীর মেরুকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

খুন-অস্ত্র মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের ১০ দিনের রিমান্ড

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানান, ফটিকছড়ি থানার জামাল হত্যা মামলায় পাঁচ দিন এবং অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

৩ ঘণ্টা আগে

প্রাথমিকে নিয়োগ— দ্রুত যোগদান ও পদায়নের দাবিতে সুপারিশপ্রাপ্তদের শাহবাগ অবরোধ

রোববার সকাল ১১টার দিকে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সড়কের বিপরীত পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে।

৩ ঘণ্টা আগে

কলাবাগানে জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে স্ত্রী-শাশুড়ি খুন

নিহত ফিরোজা বেগমের স্বামী মো. ফারুক হোসেন জানান, সকালে তিনি ফোনে খবর পান কাঁঠালবাগানে তার বাসায় মেয়ের জামাই শিপনের সঙ্গে মেয়ে ও শাশুড়ির ঝগড়া হচ্ছে। খবর পেয়ে তিনি বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সকাল ৯টার দিকে বাসায় পৌঁছে তিনি দেখেন, ঘরের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় ফারজানার মরদেহ পড়ে আছে এবং ফিরোজা বেগম

৪ ঘণ্টা আগে

দুপুরের মধ্যে ৩ বিভাগে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

৬ ঘণ্টা আগে