ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন সত্ত্বেও গাজায় ট্রাম্পের বাহিনীতে বাংলাদেশ?

সজীব রহমান
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ১০
ফিলিস্তিনের গাজায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হতে আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। কোলাজ: রাজনীতি ডটকম

যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) বা ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ গঠনের পরিকল্পনার প্রস্তাব করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আগ্রহ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, এ বাহিনী পরিচালনার খুঁটিনাটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে এবং এ বাহিনীতে অন্যান্য মুসলিম দেশের অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। সে জায়গা থেকে এ বাহিনীতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।

জাতীয় নির্বাচনের ঠিক যখন আর এক মাস বাকি, এমন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এমন স্পর্শকাতর ইস্যুতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে কি না— এমন প্রশ্নও তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিমত, যদি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই হয়, তাহলে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজসহ সব অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই নিতে হবে।

গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে দেশটির রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠক করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। ওই বৈঠকেই ট্রাম্প প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আগ্রহের কথা জানান।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বার্তায় জানানো হয়, খলিলুর রহমানের এ প্রস্তাবের জবাবে অ্যালিসন হুকার বলেন, এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে ইচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্র।

এ খবর প্রকাশের পর নানা মহল থেকেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থনের বিপরীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক বিবেচনায় তার প্রস্তাবিত বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আগ্রহ দেখানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ফিলিস্তিন সংহতি কমিটি বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের এ উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ওই সিদ্ধান্ত থেকে অবিলম্বে সরে আসার দাবিও জানিয়েছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংহতি কমিটি বলেছে, ‘মনে রাখা প্রয়োজন, বাংলাদেশের জনগণ সবসময় ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়ে এসেছে। সরকারের এই ঘৃণ্য তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার জোর দাবি জানাচ্ছে সংহতি কমিটি।’

আইএসএফ কী?

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ২০ দফা প্রস্তাব হাজির করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই ২০ দফার একটিতে বলা হয়, হামাসের ত্যাগ করা অস্ত্র জমা নেওয়া থেকে শুরু করে সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা পর্যন্ত গাজায় নিরস্ত্রীকরণের পুরো প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের এ সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রস্তাবও গত নভেম্বরে গৃহীত হয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে। তবে এ বাহিনী কীভাবে গঠিত হবে, যুক্তরাষ্ট্র নাকি জাতিসংঘ— কার অধীনে এর কার্যক্রম চলবে, কাজের ধরন কী হবে— এসব বিষয় এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। এ বাহিনী গঠনের প্রস্তাবনার বিষয়গুলো একেবারেই স্পষ্ট নয় বলেও ওই সময় নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় উল্লেখ করে একাধিক দেশ।

এদিকে ট্রাম্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, গাজায় শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে অবশ্যই অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে। গাজার প্রশাসনিক থেকে শুরু করে সব ধরনের খাত মূলত হামাসের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। সেই হামাস ট্রাম্পের প্রস্তাবে অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি হয়নি।

আইএসএফে অন্তর্ভুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ নিয়ে উদ্বেগ

ট্রাম্প প্রস্তাবিত স্থিতিশীলতা বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো ধরনের সিদ্ধান্তের আগে গোটা বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা হওয়া উচিত এবং সবার কাছ থেকেই এ বিষয়ে মতামত আসা উচিত বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী।

রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবকিছু বিস্তারিতভাবে প্রচার হওয়া উচিত। এ বাহিনীতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শর্ত কী হবে, কীভাবে সেনা মোতায়েন হবে, বিধিবিধান কী হবে— সবকিছু বিস্তারিত পর্যালোচনার পর যদি দেখা যায় আমাদের মতাদর্শের সঙ্গে মিলছে, তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তাড়াহুড়ো করে কিছু করা ঠিক হবে না।’

মুসলিম দেশগুলো আইএসএফে অংশগ্রহণ নিয়ে কী ভাবছে বা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখতে বলছেন ইশফাক ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মিশর, তুরস্ক, জর্ডান, পাকিস্তানের মতো দেশ যদি এই বাহিনীতে অংশ নেয়— যাদের প্রভাব ওই অঞ্চলে আরও অনেক বেশি— তাহলে কোনো সুবিধা দেখছি না। তা না করে শর্তাবলি স্পষ্ট না করে একা একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াটি মনে হয় সঠিক হবে।’

এ বাহিনীতে অংশগ্রহণে কোনো সমস্যা না দেখলেও মুসলিম দেশগুলোর বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সংস্থা ওআইসির সদস্যদের মধ্যে যেন কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়, সেদিকে সচেতন থাকার কথা বলছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাব এনাম খানও। অন্যদিকে জাতিসংঘের অধীনে এ বাহিনী গঠিত হলে বাংলাদেশের অংশ নিতে অসুবিধা নেই বলে মনে করছেন কূটনীতি বিশ্লেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হয়েছে, আরও কিছু দেশের মতো বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্যও ৫ থেকে ১৫ হাজার ডলারের (সাড়ে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত) ভিসা বন্ড শর্ত আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার চাপও। এসব পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার অংশ হতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিবিসি বাংলাকে সাহাব এনাম খান ও হুমায়ুন কবির দুজনেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ মুহূর্তে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণও।

তবে পরিস্থিতি যাই হোক, বিষয়টি নিয়ে সব মহলের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইশফাক ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা হওয়া উচিত। কেবল সেনাবাহিনী তো নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে আরও নানা অংশীজন রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো রয়েছে, সুশীল সমাজ রয়েছে। সাধারণ মানুষও আছে। সবাইকে জানাতে হবে। সামনে জাতীয় নির্বাচনও আছে। এমন সময়ে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনেক বুঝেশুনে নিতে হবে।’

জাতীয় নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে অন্তর্বর্তী সরকার এমন কোনো বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে কি না— এমন প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ।

রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘এখনকার সরকারের মেয়াদ আছে আর মাত্র এক মাস। সাধারণত দেখা যায়, এ ধরনের সরকার নির্বাচনের তিন মাস আগে থেকেই মৌলিক পরিবর্তন বা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় না। নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করা হয়। ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত এখন নেওয়া ঠিক না।’

আইএসএফে যোগদানের বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রয়াসের অংশ বলে সন্দেহ করছেন অধ্যাপক ইমতিয়াজও। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকার নিছক ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মনোযোগ আকর্ষণ করতে এটি করতে চেয়েছে।’

তবে ফিলিস্তিনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সেটি বিবেচনায় গাজায় এ বাহিনীতে ফিলিস্তিনিদের পূর্ণ সমর্থন না থাকলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘বাংলাদেশের এমন কিছু করা উচিত হবে না যা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যাবে। ফিলিস্তিনিরা যতক্ষণ না কোনো প্রস্তাব সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করছে বা তাতে অংশ নিচ্ছে, ততক্ষণ বাংলাদেশেরও সে প্রস্তাবের সঙ্গে যাওয়া ঠিক হবে না। দেশের সব জনগণই যেহেতু ফিলিস্তিনের পক্ষে, ফলে কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের পক্ষেই তাদের বিপক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।’

আইএফএসে কারা থাকবে?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা প্রকাশের পর ৭০টি দেশের কাছে আইএসএফে অংশগ্রহণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অক্টোবরে জানান, অনেক দেশই আইএসএফে অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে তাদের কাছে।

এরপর নানা দেশই এএসএফে অংশগ্রহণের বিষয়ে মতামত জানিয়েছে। বেশির ভাগ দেশই এ ক্ষেত্রে বাহিনীর নীতিমালা ও কার্যক্রমের সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়েছে। নানা ধরনের শর্তের কথাও বলেছে। মিডল ইস্ট মনিটরের এক খবরে বলা হয়, ইতালি ও ইন্দোনেশিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, হামাসের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগ না থাকলে তবেই তারা এই বাহিনীতে সেনা পাঠাবে।

জার্মানির সরকারি পোর্টাল ডয়েচেল্যান্ড ডটডিইতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুলকে উদ্ধৃত করে এক সংবাদ জানানো হয়, গাজায় এই বাহিনীর অংশ হবে না জার্মানি। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই বাহিনীতে সেনা পাঠানোর জন্য পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে চাপ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আইএসএফ নিয়ে বিভিন্ন দেশের ‘জটিলতা’

ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজায় স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাবের পরই নানা ধরনের উদ্বেগ উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক মহল থেকে। আইএসএফ মিশনের পরিধি অস্পষ্ট হওয়ায় অনেক দেশই এ নিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে পারেনি। বিশেষ করে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এ বাহিনী নিয়ে বেশ রক্ষণশীল প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আইএসএফ মোতায়েনের বিষয়ে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে এ বাহিনীকে হামাস যোদ্ধাদের মুখোমুখি হতে হবে। কোনো দেশই চাইবে না, তাদের সেনারা এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়ুক।

এদিকে আইএসএফ নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও স্পষ্ট করেই বলেছেন, এ বাহিনী গঠনের সময় এমন লোকদের রাখতে হবে, যারা ইসরায়েলকে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে কিংবা ইসরায়েলও যাদের নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে। এ ইস্যুতেই তুরস্ককে নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।

ট্রাম্প প্রস্তাবিত স্থিতিশীলতা বাহিনীতে বড় ভূমিকা রাখার আগ্রহ দেখিয়েছিল তুরস্ক। কিন্তু এ বাহিনীতে দেশটির অংশগ্রহণের সরাসরি বিরোধিতা করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ আবার গত ৫ জানুয়ারি ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খোলাখুলিভাবেই বলেছেন, তুরস্ক অংশ না নিলে এই বাহিনী ফিলিস্তিনের বাসিন্দাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতাই অর্জন করবে না।

এর আগের সপ্তাহে অবশ্য এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। এরপর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, এ বাহিনীতে তুরস্কের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে তুরস্কের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আজারবাইজান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়ার মতো আরও অনেক দেশই আইএসএফে সেনা পাঠাতে নিরুৎসাহিত হয়েছে।

আবার মিশনে প্রশিক্ষণরত কয়েক শ ফিলিস্তিনি সেনার একটি দলকেও ট্রাম্পের এই বাহিনীর অংশ মনে করা হচ্ছিল। তবে ইসরায়েল টুডে দেশটির সরকারের সূত্রে জানিয়েছে, এ বাহিনী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে এ বাহিনীর অংশগ্রহণেরও বিপক্ষে ইসরায়েল। সব মিলিয়ে এটি অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মূলত গঠন করা হবে ইসরায়েলের সবুজ সংকেত নিয়েই।

আইএসএফে অংশগ্রহণের বিরোধিতা রয়েছে অন্য দেশেও

কেবল বাংলাদেশ নয়, ট্রাম্প প্রস্তাবিত গাজার শান্তি বাহিনীতে সেনা পাঠানো নিয়ে বিরোধিতা ও উদ্বেগ রয়েছে আরও অনেক দেশেরই। বিশেষ করে ট্রাম্প গাজার জন্য যে শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন, তার প্রথম ধাপের বাস্তবায়ন নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।

ট্রাম্পের প্রস্তাবনায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের সময় থেকে সব পক্ষকে নিরস্ত্র হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো— অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত চার শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে বেশকিছু শিশুও। এ অবস্থায় পরবর্তী ধাপগুলোও ঠিকমতো অনুসরণ করা হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

পাকিস্তানের সাবেক কূটনীতিক মালিহা লোধির একটি বিশ্লেষণ ছাপিয়েছিল দেশটির গণমাধ্যম ডন। সেখানে লোধি লিখেছেন, এটি পরিষ্কার যে পরিকল্পনা নিয়ে অস্পষ্টতা ও ঐকমত্যের ঘাটতি রয়েছে। গাজায় একটি দুর্বল অস্ত্রবিরতি কার্যকর হয়েছে। প্রতিদিনই ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করছে। শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বারবার বলছেন, শান্তি পরিকল্পনা মেনে তারা গাজা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করবে না। সে ক্ষেত্রে হামাসও অস্ত্র ত্যাগ করবে না। হামাসের সমর্থন ছাড়া গাজায় আইএসএফ মোতায়েন কার্যকর হবে না।

মালিহা লোধি আরও লিখেছেন, পাকিস্তানে আইএসএফের অংশ হওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবতার বিরুদ্ধে যাবে। যদি আইএসএফের দায়িত্ব হয় হামাসকে নিয়ন্ত্রণ করা, তাহলে পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা উচিত। তা না হলে পাকিস্তানি সেনারা সরাসরি হামাস বা অন্যান্য প্রতিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়বে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করার দাবি বিশ্বাসযোগ্য হবে না। পাকিস্তানি সেনারা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে তার পরিণতি নৈতিক ও জনমত প্রতিক্রিয়া— দুই ক্ষেত্রেই ভয়াবহ হবে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রস্তাবনায় সমর্থন জানায়নি রাশিয়া। দেশটির প্রতিনিধি বলেন, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক কাঠামোর কোনো প্রতিফলন না থাকায় তারা এ প্রস্তাবকে কোনোভাবেই সমর্থন করছেন না। বরং ট্রাম্প প্রস্তারিত বাহিনীটি বাস্তবে সংঘাতের একটি পক্ষ হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা জানান তিনি।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

ইসিতে তৃতীয় দিনের আপিলে বৈধতা পেলেন ৪১ জন

আখতার আহমেদ জানান, রিটার্নিং অফিসারের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনে মোট ৭১টি আপিল শুনানি হয়েছে। এর মধ্যে ৪১টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে। এছাড়া ২৫টি আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে। অপর চারটি আপিল অপেক্ষমান রাখা হয়েছে।

১৮ ঘণ্টা আগে

‘অনৈতিক প্রস্তাবে’ রাজি না হওয়ায় বনশ্রীর স্কুলছাত্রীকে হত্যা

সন্দেহভাজন ২৮ বছর বয়সি মিলন মল্লিক নিহতের বাবার খাবার হোটেলের কর্মী ছিলেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা মিলনকে রোববার রাতে বাগেরহাট সদর থানার বড় সিংগা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

১৮ ঘণ্টা আগে

ভারতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়: আসিফ নজরুল

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ক্রীড়া সম্পর্ক এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ভারতে চলমান ‘উগ্র সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি’ এবং ‘বাংলাদেশবিদ্বেষী ক্যাম্পেইন’-এর কারণে দেশটিতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

১৯ ঘণ্টা আগে

দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না। এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়।

২০ ঘণ্টা আগে