গুঁড়িয়ে দেওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনেই চলছে টিকাদান, রোদে ভোগান্তি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ৩৪
গুঁড়িয়ে দেওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনেই চলছে টিকাদান, রোদে ভোগান্তি

রাজধানীর মিরপুরে রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ধ্বংসস্তূপের সামনেই শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কেন্দ্রটির গেটের সামনে টেবিল-চেয়ার বসিয়ে এবং ত্রিপল টাঙিয়ে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে দেওয়ায় খোলা জায়গাতেই চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি টিকা নিতে আসা শিশু এবং তাদের অভিভাবকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

মিরপুর-১ নম্বরের বাসিন্দা রুহি আক্তার ছয় মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে টিকা দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর ভেবেছিলাম টিকাদান ক্যাম্পেইন চলবে না। কিন্তু এসে দেখলাম রোদে টেবিল-চেয়ার পেতে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এতে আমাদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে তারা পরিস্থিতির মধ্যেও ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছে, এটা খুবই ভালো।’

আরেক শিশুর অভিভাবক হাফসা বেগম বলেন, ‘আমরা বেশির ভাগ সময় এখানেই চিকিৎসা নিতে আসি। এখানে খরচ কম এবং তারা দায়িত্ব নিয়ে রোগীদের সেবা দেয়। ভবন ভাঙচুরের পরও আজ টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে রোদে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে।’

টিকাদান কর্মসূচিতে দায়িত্ব পালন করা প্যারামেডিক মোছা. ফারজানা জানান, দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ১৬ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ১৬ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি যেমনই হোক, আমরা সেবা দিয়ে যাব।’

কমিউনিটি হেলথ পরিচালক ইকবাল জিল্লাত মজিদ বলেন, ‘আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আমরা টিকাদান কর্মসূচি চালাচ্ছি। আমাদের পুরো প্রতিষ্ঠান এখন ধ্বংসস্তূপের মতো হয়ে গেছে। চিকিৎসকদের বসার কক্ষও পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আগামীকালও আমাদের কর্মসূচি চলবে। আশা করি, দ্রুত হাসপাতালটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিনা আক্তার বলেন, ১৯৭৬ সাল থেকে সরকারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। পরে বিভিন্ন মেয়াদে সেই চুক্তি বাড়ানো হয়েছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি দরিদ্র ও অসহায় মা ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতিসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু এখানে মাসব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি চলার কথা ছিল, তাই আমাদের প্রতিশ্রুতির জায়গা থেকেই আজ ধ্বংসস্তূপের বাইরে টিকাদান কর্মসূচি চালাচ্ছি।’

ঘটনার ঘটনায় থানায় দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে জানিয়ে নাসরিনা আক্তার দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কার্যালয় ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় কার্যালয়ের বিভিন্ন সামগ্রী ও টিকাদানের সরঞ্জামও লুট করা হয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement