ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়েছে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে

ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়েছে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৫, ০৮: ২৯
হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়েছে হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের। সাবেক ও বর্তমানে কর্মরত মিলিয়ে তাদের সংখ্যা ১৫।

মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক তিন মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন তারা। সেনা হেফাজতে থাকা এই ১৫ জনের বাইরেও এসব মামলায় আরও ১০ বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। এ তিন মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন সেনা কর্মকর্তাদের বাইরেও সাতজন।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে বাংলাদেশ জেল প্রিজন ভ্যানের সবুজ একটি গাড়িতে রাজধানীর পুরাতন হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত ট্রাইব্যুনালে সেনা কর্মকর্তাদের আনা হয়। তাদের পরনে রয়েছে সাধারণ পোশাক। এ সময় সেখানে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। আরেকটি মামলা হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায়।

গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা দুটি মামলার একটিতে আসামি ১৭ জন। তাদের মধ্যে র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে) এবং র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম এখন সেনা হেফাজতে আছেন।

একই মামলায় র‍্যাবের সাবেক তিন মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ (পরে আইজিপি), এম খুরশিদ হোসেন ও মো. হারুন-অর-রশিদকেও আসামি করা হয়েছে। এই তিনজনই পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও র‍্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলামও এ মামলার আসামি। তারাও পলাতক।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম ও নির্যাতনের আরেক মামলায় শেখ হাসিনা, তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ আসামি ১৩ জন। এর মধ্যে ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী এখন সেনা হেফাজতে আছেন।

এ মামলার আসামিদের মধ্যে আরও আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক। তারা হলেন— লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

এ মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন— ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক। তারা সবাইও পলাতক। তারা দেশের বাইরে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা বিভিন্ন সূত্রের।

এদিজে জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রেদোয়ানুল ও রাফাত এখন সেনা হেফাজতে আছেন। অন্য দুজন পলাতক।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

২৭ বছর আগের মামলায় বিটিটিবির সাবেক ৩ কর্মকর্তার ৪৪ বছরের কারাদণ্ড

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ডের চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) অফিসের সাবেক উচ্চমান সহকারী কাম ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন, একই কার্যালয়ের সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) মো. কামরুল আলম এবং সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) সাদিকুর রহমান খা

৩ ঘণ্টা আগে

দুদকের কমিশনার নিয়োগে ৫ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠন করেছে সরকার। আজ সোমবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

৪ ঘণ্টা আগে

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই নেতা। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে, তার প্রশংসা করেছে মালয়েশিয়া এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।

৫ ঘণ্টা আগে

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার মধ্যে ১ সমঝোতা স্মারক, ২ দলিল বিনিময়

বৈঠক শেষে তাদের উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারক ও অন্যান্য দলিল বিনিময়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান নিজ দেশের পক্ষে দলিলগুলো বিনিময় করেন।

৬ ঘণ্টা আগে