দিল্লিতে জয়শংকরের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বিদায়ী হাইকমিশনার

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের বিদায়ী হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। এ সময় হাইকমিশনার হিসেবে ভূমিকা রাখার জন্য রিয়াজকে ধন্যবাদ জানান জয়শংকর।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে দুজনের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দিল্লিতে প্রায় দেড় বছর হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ। এখানে দায়িত্ব পালন শেষে কয়েকদিনের মধ্যেই জেনেভাতে জাতিসংঘের কার্যালয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি।
দিল্লিতে রিয়াজের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। সম্প্রতি তার ক্রিডেনশিয়ালস বা নিয়োগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে ভারত সরকার।
রোববার বিকেলে এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে বাংলাদেশের বিদায়ী হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের তথ্য জানিয়েছেন জয়শংকর। বৈঠককে ‘ফেয়ারওয়েল কল’ বা বিদায়কালীন সাক্ষাৎ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। হাইকমিশনার হিসেবে ভূমিকায় তিনি যে অবদান রেখেছেন, সে জন্য রিয়াজ হামিদুল্লাহকে অভিনন্দনও জানান তিনি।
বৈঠকের ছবি পোস্ট করে হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ লিখেছেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে ১৮ মাসের কার্যকালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নীরবে ও ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, যার ভিত্তি ছিল পারস্পরিক আস্থা, মর্যাদা ও অভিন্ন স্বার্থ।
কূটনীতির ‘চিরাচরিত পথে না হেঁটে’ দুই দেশের মানুষের মধ্যেকার নাড়ির টানকেই স্পর্শ করতে চেয়েছেন বলেও জানান রিয়াজ হামিদুল্লাহ।
দিল্লিতে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বিবিসিকে জানিয়েছে, রোববার ভারতের ছুটির দিন দুপুরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যেকার বৈঠক ছিল ‘বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাতের অতিরিক্ত কিছু’ – কারণ সম্পর্কের জটিলতার নানা দিক নিয়েও দুপক্ষের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে।
রিয়াজ হামিদুল্লাহ যে দেড় বছর দিল্লিতে ঢাকার দূত হিসেবে কাজ করেছেন সেই সময়টিতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নজিরবিহীন টানাপোড়েন চলেছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে তিনি প্রায় বছরখানেক দায়িত্বে ছিলেন, যে সময়টিতে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল।
বিএনপি সরকার গঠনের পর দুই দেশের সম্পর্ক গতি পায়। তবে এর মধ্যেও ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ নানা ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক পূর্ণ আস্থায় ফেরেনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি। এই সফর আয়োজন নিয়ে এখনো দুই সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা যাচ্ছে।















