নির্বাচনি প্রচারে যা করতে পারবেন প্রার্থীরা, যা পারবেন না

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়ে গেছে আনুষ্ঠানিকভাবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ভোটের একদিন আগে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে শেষ হবে প্রচারের ঘনঘটা। কিন্তু তিন সপ্তাহের প্রচারে কী করতে পারবেন প্রার্থীরা? কোন কোন বিষয়েই বা নিষেধাজ্ঞা থাকছে তাদের ওপর?

নির্বাচনি প্রচারের এমন করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। নির্দেশনায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের আচরণ বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বানও জানিয়েছে ইসি।

নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে প্রচারে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার বা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এবারের নির্বাচনে পোস্টারও ব্যবহার করতে পারবেন না প্রার্থীরা, যে নিষেধাজ্ঞা দেশে প্রথমবার কোনো নির্বাচনে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনি জনসভা বা সমাবেশ আয়োজনে দলগুলোর কোনো বাধা নেই। তবে সভা-সমাবেশ আয়োজন করার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে জনসভার দিন-তারিখ ও সময়-লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে কোনো সভা-সমাবেশ করতে পারবেন না প্রার্থীরা। সড়ক, মহাসড়কে কিংবা জনপথে জনসভা বা পথসভা করলেও ব্যবস্থা নেবে ইসি। নিষিদ্ধ করা হয়েছে প্রার্থীর পক্ষে বিদেশে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আয়োজনের সুযোগ।

প্রথমাবার নিষিদ্ধ পোস্টার-ফেস্টুন

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, নির্বাচনি প্রচারের অবিচ্ছেদ্য অংশেই পরিণত হয়েছিল পোস্টার। এবারের নির্বাচনে সেই পোস্টারের ওপর দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ প্রার্থীরা পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। যেকোনো ধরনের প্রচার সামগ্রীতে পলিথিন, রেকসিন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এদিকে একজন প্রার্থী তার আসনে সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যার কোনোটিই দৈর্ঘ্যে ১৬ ফুট ও প্রস্থে ৯ ফুটের বেশি নয়। পাশাপাশি নির্বাচনি প্রচারে ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনেও থাকছে নানা বিধিনিষেধ।

আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, ব্যানার-লিফলেট-হ্যান্ডবিল- ফেস্টুন হতে হবে সাদা-কালো। ব্যানার সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট হতে পারবেন। লিফলেট বা হ্যান্ডবিলের আয়তন হতে পারে সর্বোচ্চ এ-ফোর আকৃতির। আর ফেস্টুনের সর্বোচ্চ মাপ বেঁধে দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চিতে।

ইসি জানিয়েছে, ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে প্রতীক ও নিজের ছবি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপানো যাবে না। প্রার্থীর ছবি হতে হবে শুধু পোর্ট্রেট আকারে। প্রচারে ব্যবহার করা ছবির আয়তন সর্বোচ্চ ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটার হতে পারে।

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা তাদের প্রচার সামগ্রীতে কেবল দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। কোনো প্রার্থীর নির্বাচনি প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতা ৩ (তিন) মিটারের বেশি হতে পারবে না।

প্রার্থী, তাদের নির্বাচনি এজেন্ট বা প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে প্রচার শুরুর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থী, দল বা সংশ্লিষ্ট পেজের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ শনাক্তকরণ তথ্য জমা দিতে হবে। এছাড়া অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা যাবে না।

ঘৃণাত্মক, মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রচার করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে নির্বাচনি আচরণবিধিতে। প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক, উসকানিমূলক ভাষাও ব্যবহার করা যাবে না। অপব্যবহার করা যাবে না ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতি। সব প্রচার কনটেন্ট প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করতে হবে; মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, অশ্লীল বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি বা শেয়ার করা যাবে না।

গুজব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে এবার নতুন ধারা যুক্ত করে নির্বাচনি অপরাধ হিসেবে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে বলে ইসির আচরণবিধিতে জানানো হয়।

এদিকে নির্বাচনি প্রচারে বাস, ট্রাক, নৌ যান, মোটরসাইকেল কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন নিয়ে কোনো মিছিল, জনসভা কিংবা কোনো শোডাউনে ‘না’ করা হয়েছে। প্রচারে যানবাহন সহকারে কিংবা যানবাহন ব্যতীত কোনো ধরনের মশাল মিছিলও করা যাবে না।

এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কাউকে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, প্রচারে তোরণ নির্মাণ কিংবা আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ থাকবে।

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা দল বিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডই দেওয়া হতে পারে। দলের ক্ষেত্রেও এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রার্থিতাও বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

প্রথমবারের মতো ভোটযুদ্ধে লড়ছেন ১,৬৯৬ জন: টিআইবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সারা দেশে ২৯৮টি নির্বাচনি এলাকায় মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে ভোটের লড়াইয়ে নামছেন। এর মধ্যে প্রথমবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন ১ হাজার ৬৯৬ জন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ব

১ ঘণ্টা আগে

জাতীয় নির্বাচনে ১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে কমনওয়েলথ

বুধবার ২১ জানুয়ারি কমনওয়েলথের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ ই নানা আকুফো আসো এই পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন। প্রতিনিধি দলের প্রধানের সঙ্গে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা যোগ দেবেন।

৩ ঘণ্টা আগে

ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ঢাকা কলেজের অভ্যন্তরে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তবে ঠিক কী কারণে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

৩ ঘণ্টা আগে

ভোটের আগে-পরে ১২ দিন দেশজুড়ে যৌথ বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে এবার মাঠপর্যায়ে ড্রোন ও ২৫ হাজারেরও বেশি বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

৪ ঘণ্টা আগে