দুর্ঘটনা থেকে ডিনামাইট

আবুল হাসিম
ফাইল ছবি

আলফ্রেড নোবেলের বাবার ছিল মানুষ মারার কারবার; যুদ্ধে অস্ত্র সাপ্লাই দিতেন। কিন্তু যুদ্ধ থেমে গেলে ব্যবসায় মন্দা আসে। অচীরেই দরিদ্র হয়ে পড়ে নোবেল পরিবার। তবে আলফ্রেড নোবেল ছিলেন নাছোড়বান্দা। মাটি কামড়ে পড়ে থাকেন পৈত্রিক ব্যবসায়। বুঝতে পারেন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন অস্ত্র যদি তৈরি না করা যায়, তাহলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি তাই নতুন বিস্ফোরকের খোঁজ করেন—এমন বিস্ফোরক, যা মুহূর্তেই ধ্বংস করে দিতে পারবে বড় বড় বিল্ডিং কিংবা পাথুরে পাহাড়। তিনি জানতেন, তরল নাইট্রোগ্লিসিরিনের আছে এহেন বিস্ফোরণের ক্ষমতা। কিন্তু সমস্যা হলো নাইটোগ্লিসিরিন স্পর্শকাতর। একটুখানি ঝাুঁকনিতেই ঘটে যেতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। তাই অত্যন্ত সাবধানে কাজ করতে হয়।

আলফ্রেড সুইডেনে একটা বিস্ফোরক কারখানা গড়লেন। সেখানেই চলছিল নাইটোগ্লিসারিনকে বশে আনার চেষ্টা। কারণ, যত শক্তিশালী বিস্ফোরকই হোক, তাকে যদি নিরাপদে বহন বা নিক্ষেপ না করা যায়, সেটা কোনো কাজেই আসবে না। নানা পরীক্ষা-নিরীেক্ষা চলছিল, এর মধ্যে একদিন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নাইট্রোগ্লিসারিনের বিস্ফোরণে কারখানার একাংশ উড়ে যায়, নোবেল ছোট ভাই এমিল মারা যান, এমনকী আলফ্রেডও মারাত্মক আহত হন।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ফ্রান্স সরকার নোবেলের কারখানা বন্ধ করে দেয়। ফলে নোবেল সুইডেন থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে চলে যান জার্মানিতে। সেখানে আরেকটি কারখানা খোলেন। নতুন উদ্যমে শুরু হয় নাইট্রোগ্লিসারিন গবেষণা। কিন্তু সেখানেও দুর্ঘটনা ঘটনার উপক্রম হয়েছিল। তাঁর হাত ফসকে নাইটোগ্লিসারিনের একটা বোতল পড়ে যায় মেঝেতে। নোবেল আতংকিত হয়ে উঠেছিলেন, ভেবেছিলেন এবার বিস্ফোরণে হয়তো তিনিও মারা পড়বেন। কিন্তু সেটা আর ঘটেনি।

ফাইল ছবি

নাইট্রোগ্লিসারিন তরল মাটিতে পড়ে দিব্যি শান্ত হয়ে ওঠে। এমনটা কেন হলো? নোবেল দেখলেন, মেঝেতে নাইট্রোগ্লিসারিণ যেখানে পড়েছে, সেখানে বিশেষ এক ধরনের বালু আছে। সেই বালু নাইট্রোগ্লিসারিনকে শুষে নিয়েছে বিস্ফোরণ ঘটার আগেই।

নোবেল বোঝার চেষ্টা করেন এই বালুর উৎস কী? খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে যান উত্তর—নাইট্রোগ্লিসারিনের বাক্সেই ছিল সেই বালু। ঝাঁকুনি লেগে যাতে নাইট্রোগ্লিসারিনের বোতল পড়ে না যায়, সেজন্য বাক্সে বোতলের চারপাশে বালু ঠেসে দেওয়া ছিল। পরে তারই কিছু অংশ মাটিতে পড়ে গিয়েছিল।

নোবেল বুঝে ফেলেন, এই বালুই হতে যাচ্ছে তার তুরুপের তাস। সেই বিশেষ বালু আর নাইট্রোগ্লিসারিণের পেস্ট তৈরি করে দেখলেন বিস্ফোরণ ঝাঁকুনি বা নড়াচড়ায় বিস্ফোরণ ঘটায় না। কিন্তু জোরে ছুড়ে মারলে কিংবা আগুনে পোড়ালে ভয়ানক বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে স্বাভাবিক তাপ-চাপে এর কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। এটাই ছিল মহাবিস্ফোরক ডিনামাইট আবিষ্কারের মূলমন্ত্র। আলফ্রেড নতুন উদ্যমে কাজে লেগে যান। ১৯৬৭ সাল নাগাদ উদ্ভাবন করে ফেললেন ডিনামাইট। ইউরোপে এর পেটেন্ট রাইট নিলেন, আমেরিকাতেও নিলেন।

শুধু যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ থাকে না ডিনামাইট ব্যবহার। মাটির নিচে খনি তৈরিতে, বড় বড় পরিত্যাক্ত দালান ভাঙতে, এমনকী প্রয়োজনে পাহাড় গুড়িয়ে দিতেও ডিনামাইট ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: নোবেল প্রাইজ ডট অর্গ

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

চীনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহ্‌দী আমিন

চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সামার দাভোস সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের মর্যাদা, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ

৬ ঘণ্টা আগে

বাংলা গানে তারেক রহমানের সফরের ভিডিও প্রকাশ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে নির্মিত। ভিডিওতে দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠক, আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা এবং সফরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে।

৭ ঘণ্টা আগে

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে ‘ইলেকট্রিক শক’ দেওয়ার দাবি বিএনপি এমপির

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

৭ ঘণ্টা আগে

নবাবগঞ্জে ‘ছানি-মুক্ত কৈলাইল কর্মসূচি’র উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক চক্ষুরোগসেবা প্রদানকারী সংস্থা অরবিস ইন্টারন্যাশনাল এবং অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ‘সোস্যাল হেল্প এন্ডেভার ফর বাংলাদেশ (সেবা)’-এর সহযোগী সংগঠন ‘অল্টারনেটিভ অ্যাপ্রোচ’-এর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সেবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

৭ ঘণ্টা আগে