ঢাবির ছাত্রী হলে সান্ধ্য আইন পুরোপুরি বাতিল চায় ‘অবরোধবাসিনী’

ঢাবি প্রতিনিধি
আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০০: ৩৭
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন ‘অবরোধবাসিনী’ প্ল্যাটফর্মের নারী শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলের প্রবেশ-সংক্রান্ত ‘সান্ধ্য আইন’ সম্পূর্ণ বাতিল চায় নারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’। একই সঙ্গে কারফিউ শিথিল করে এক ঘণ্টা সময় বাড়ানোর প্রশাসনিক প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ‘অবরোধবাসিনী’ জানায়, গত ৩০ জুলাই থেকে তিন দফা দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছে তারা। এর অংশ হিসেবে ছাত্রী হলগুলোতে গ্রাফিতি, পোস্টারিং ও মোমবাতি মিছিলের পাশাপাশি একাডেমিক এলাকায় নারী শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং তাদের ভোগান্তির গল্প লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

পরে ৯ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ১ হাজার ২০০-এর বেশি নারী শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসহ স্মারকলিপি জমা দেয় সংগঠনটি। এরপর ১০ আগস্টের সংহতি সমাবেশ থেকে সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবিতে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

তবে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের পরিবর্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারফিউ শিথিল করে এক ঘণ্টা সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানায় ‘অবরোধবাসিনী’। সংগঠনটির দাবি, নারী শিক্ষার্থীদের নাগরিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার পরিবর্তে এ ধরনের সীমিত শিথিলতা সমস্যার সমাধান নয়।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা মুক্ত চলাচলের সুযোগ থাকলেও নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার নামে নির্দিষ্ট সময়ের পর চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। রাতের বেলায় বাইরে থেকে ফেরা নারী শিক্ষার্থীরা এ কারণে নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানির মুখোমুখি হন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুধু হলের প্রবেশের সময়সীমাই নয়, পুরো ক্যাম্পাসেও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। রাত ১০টার পর ক্যাম্পাসে অবস্থান, কার্জন হলে প্রবেশ এবং সন্ধ্যা ৭টার পর জিমনেশিয়ামের ইনডোর গেমসে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া রাতে বিশেষ প্রয়োজনে হলের বাইরে যেতে হলে প্রশাসনের কাছে লিখিত মুচলেকা দিতে হয়। ওই মুচলেকায় ‘নিরাপত্তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় নেবে না’— এমন শর্ত রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তাদের দাবি, এসব বিধিনিষেধ পুরুষ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলে নিরাপত্তার নামে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, তা বৈষম্যমূলক।

‘নিরাপত্তার নামে বৈষম্য নয়’

‘অবরোধবাসিনী’র দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। চলাচল সীমিত করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। বরং ক্যাম্পাস ও হলের গেটে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রহরী ও নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, নিরাপত্তার অজুহাতে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্যাম্পাসের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। ছাত্রী হলের গেটে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রহরী ও নিরাপত্তাকর্মীদের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীর সঙ্গে সমান ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

‘পুরো ঢাকা শহর বা রাতের সব জায়গার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়’— প্রশাসনের এমন যুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা বলেন, পুরো শহরের নিরাপত্তার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।

সান্ধ্য আইন পুরোপুরি বাতিলের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, সান্ধ্য আইন শুধু হলের গেটে প্রবেশের সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব নারী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও পেশাগত কার্যক্রমেও পড়ছে। রাত ১০টার পর হলের বাইরে থাকলে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে টিউশন, সাংবাদিকতা, একাডেমিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিধিনিষেধ ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘অবরোধবাসিনী’ আরও অভিযোগ করে, অনাবাসিক ছাত্রীদের হলের ক্যানটিন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বাধা রয়েছে। তাদের দাবি, অনাবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের অনেকেই নিয়মিত ফি পরিশোধ করলেও নিজেদের হলের সুবিধা ব্যবহারে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, এক ঘণ্টা সময় বাড়ানোর প্রস্তাব নারী শিক্ষার্থীদের নাগরিক ও মৌলিক অধিকারকে খর্ব করে। তাই এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। তারা সান্ধ্যকালীন কারফিউ পুরোপুরি বাতিল করে নারী শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ ও অবাধ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।

তিন দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত

সংবাদ সম্মেলনে ‘অবরোধবাসিনী’ তাদের তিন দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। দাবিগুলো হলো—

১. ছাত্রী হলের ‘সান্ধ্য আইন’ সম্পূর্ণ বাতিল করে নারী শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।

২. বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আবাসিক ও অনাবাসিক সব নারী শিক্ষার্থীকে যে কোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অবস্থানের সুযোগ দেওয়া।

৩. মা-বোনসহ নারী শিক্ষার্থীদের নারী স্বজনদের ছাত্রী হলে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা।

এর আগে, ৩ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে এই তিন দফা দাবি জানিয়েছিল ‘অবরোধবাসিনী’। পরে ১০ আগস্ট সংগঠনটি প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, তাদের দাবি কোনো আংশিক বা সাময়িক শিথিলতা নয়। বৈষম্যমূলক সান্ধ্য আইন সম্পূর্ণ বাতিল এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাধীন চলাচল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি, পথসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ‘অবরোধবাসিনী’র শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি কারফিউ শিথিলের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নারী শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

সম্পদের হিসাব না দেওয়ায় এস কে সুরের স্ত্রীর ২ বছরের কারাদণ্ড

মামলার নথি ও দুদক সূত্রে জানা গেছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সুপর্ণা সুর, তার স্বামী এস কে সুর এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে অর্জিত সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ দাখিলের জন্য সুপর্ণাকে নোটিশ দেওয়া হয়।

২ ঘণ্টা আগে

মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি নয়, ট্রিগার আমিও টানতে জানি: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, তার হাতে এখনো অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সাত মাসের মধ্যে সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে উদ্যোগ এবং কাজের গতি দৃশ্যমান হওয়া দরকার। উপাচার্যের নেতৃত্বে যে দল গঠন করা হয়েছে, তাদের উৎপাদনশীলতা ও

২ ঘণ্টা আগে

পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ সাইবার ইউনিট গঠনের উদ্যোগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন এবং পুলিশ সদস্যদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

২ ঘণ্টা আগে

সিলেটে শাহজালাল-শাহপরাণের মাজার জিয়ারত রাষ্ট্রপতির

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক দিনের সফরে সিলেটে যান রাষ্ট্রপতি। সফরের শুরুতেই তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে গিয়ে জিয়ারত করেন। এরপর যান হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।

২ ঘণ্টা আগে
Advertisement