রাজনৈতিক কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না— বিসিএসের ভেরিফিকেশন ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
-6731a8-480x270.webp)
৪৯তম বিসিএসে (বিশেষ) নিয়োগের ‘প্রথম পর্যায়ে (প্রজ্ঞাপনে) বাদ পড়া ৪৬ প্রার্থী’র বিষয়ে যাচাই-বাছাই বা পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ করে আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো প্রার্থীর সঙ্গে বৈষম্য করা হবে না।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য। কারও রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, বিসিএস বা এ ধরনের পরীক্ষা কিংবা অন্য কোনো ক্ষেত্রে সেই কারণে কোনো বৈষম্য করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, “আজকে বিভিন্ন পত্রিকায় আমরা এ বিষয়ে একটা নিউজ দেখতে পেয়েছি। তাতে করে কিছু বিভ্রান্তির জন্ম হয়েছে বা সৃষ্টি হয়েছে। এবং কিছু সোশ্যাল মিডিয়াতে কারও কারও বিভিন্ন স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রাঙ্গণে অস্থিরতা সৃষ্টির একটা অপপ্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে।’
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার প্রজ্ঞাপনের তথ্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় পিএসসির চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ৬৬৮ জন। ফলে প্রথম প্রজ্ঞাপনে ৫৭ জনের নাম না থাকলেও প্রকৃতপক্ষে বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা ৪৬ জন।
এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘বাদ পড়া ৫৭ জনের মধ্যে তিনজন সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেননি ও আটজন মেডিকেল টেস্টে উপস্থিত হননি। তার মানে প্রথম প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা ৫৭ জন নয়, ৪৬ জন হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিসিএস বা এ ধরনের সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক। একইভাবে মেডিকেল পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার বিষয়টিও নিয়োগপ্রক্রিয়ার অংশ। তিনি বলেন, ‘এখানে অনেকেই একটা বিতর্ক তোলার চেষ্টা করেছেন যে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না। আমি সকলকে আশ্বস্ত করতে চাই, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারো প্রতি বৈষম্য করা হবে না।’
চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে নাম না থাকায় এক প্রার্থীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মাহুতির হুমকির প্রসঙ্গও আসে প্রেস ব্রিফিংয়ে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিসিএসের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন একবারেই শেষ হয়ে যায় না; কয়েক দফায় প্রজ্ঞাপন হতে পারে। ৪৯তম বিসিএসে যোগদানের তারিখ ১২ অক্টোবর নির্ধারিত হওয়ায় এখনো সময় আছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এই সমস্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করছে, তার মধ্যে তিনি একজন। এবং তার রাজনৈতিক পরিচয় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হলের একটি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠনের পদ-পদবীধারী নেতা ছিলেন, সম্ভবত হল শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার সেই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি সন্দেহ করে নিয়েছেন তাকে আর চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হবে না। আমার বক্তব্য হলো তাকে ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
পুলিশ ভেরিফিকেশনে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ বা আদালতের সাজা থাকলে নিয়োগের ক্ষেত্রে তা বিবেচনায় নেওয়ার বিধান রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে যদি গুরুতর কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকে, পুলিশ ভেরিফিকেশনে সেজন্য শতকরা একজন বা হাজারে দুই-একজন বাদ পড়তে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে যদি এরকম কোনো কনভিকশন থাকে, সেটা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত, আপিলে খালাস না পাওয়া পর্যন্ত (অপেক্ষা করার) সেরকম কিছু কিছু বিধান তো থাকে। না হলে পরবর্তীতে পাবলিক সার্ভিস নিয়োগগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সেরকম অনেক বিষয়ে অতীতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, আমরা দেখেছি।’ এ বিষয়ে বাদ পড়া প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বুধবার জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৭ জনের নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আজ বৃহস্পতিবার প্রেস ব্রিফিংয়ে ওই ৫৭ জনের মধ্যে তিনজন সার্টিফিকেট জমা দেননি এবং আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এই বিসিএসে মোট ৩ লাখ ১২ হাজারের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের বিভিন্ন পদে ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে মেধাক্রম অনুযায়ী ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সে সময় পিএসসি জানিয়েছিল, কয়েকটি ক্যাডার পদে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫টি পদে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
এদিকে চূড়ান্ত সরকারি গেজেটে নাম না থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নিজের শরীরে আগুন দিয়ে আত্মাহুতির ঘোষণা দিয়েছেন মো. জসিম উদ্দীন। গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। জসিম উদ্দীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কবি জসীমউদ্দীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে জসিম ২০১১ সালের ‘আরব বসন্তের’ পটভূমি তুলে ধরে লেখেন, ‘সময়টা ২০১০ সালের ডিসেম্বর, তিউনিসিয়ার যুবক মোহাম্মদ বোয়াজিজি রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়নে শেষ পর্যন্ত শরীরে আগুন জ্বালিয়ে আত্মাহুতি দিলেন। তার জীবনের বিনিময়ে পুরো আরব বিশ্বে বেশ পরিবর্তন এসেছিল। আজ থেকে সে আমার আইডল।’
নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘৪৯তম বিসিএসের যোগদানের নির্ধারিত দিন (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আমিও শরীরে আগুন জ্বালিয়ে আত্মাহুতি দেওয়ার ঘোষণা দিলাম। আমার জীবনের বিনিময়ে হয়তো কিছুই অর্জিত হবে না; কিন্তু ভেরিফিকেশন নামক হয়রানি এবং গেজেটের দাসত্ব থেকে এই জাতির মেধাবী সন্তানরা মুক্ত হোক, সেই কামনা রইল।’
পরবর্তী আরেকটি পোস্টে নিজের অতীত কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক সংশ্লেষের প্রসঙ্গ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জসিম। তিনি প্রশ্ন রেখে লেখেন, ‘জুলাই ২০২৪-এ শাহবাগ স্কয়ারে থাকা অযোগ্যতা? ২০২২ সালে হল ছাত্রলীগে পোস্টেড ছিলাম সেটা আমার অযোগ্যতা? ফৌজদারি মামলা কিংবা মামলা-হামলায় জড়িত ছিলাম না, সেটা আমার অযোগ্যতা?’


-c26956.jpg)











-436923-256x144.webp)
-27f480-256x144.webp)
-938bec-256x144.webp)




