পলাতক ৬৯০ বন্দি এখনো অধরা, তথ্য নেই ১৬৬ জনের

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ৩৯
পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ বন্দির মধ্যে এখনো ৬৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পলাতকদের ১৬৬ জনের পরিচয় সম্পর্কেই কোনো তথ্য নেই কারা অধিদপ্তরের কাছে। তারা সবাই নরসিংদী কারাগার থেকে পালিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি পলাতক বন্দি, জঙ্গি, কারাগারের নিরাপত্তা ও বন্দিদের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, গত ৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ২ হাজার ২৪৭ বন্দি পালিয়ে যান। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৯০ জন বাইরে রয়েছেন। শুধু নরসিংদী কারাগার থেকেই পালিয়েছিলেন ৮২৬ বন্দি। ওই সময় কারাগারটির নথিপত্র ও সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখান থেকে পালানো ১৬৬ বন্দির পরিচয় শনাক্ত করতে সমস্যা হচ্ছে। তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

পলাতক বন্দিদের মধ্যে জঙ্গিদের বিষয়েও তথ্য দেন আইজি প্রিজন। তিনি জানান, কারাগার থেকে পালানো তালিকাভুক্ত ৯ জঙ্গির মধ্যে ৬ জনকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিনজন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের একজন জুয়েল ওস্তাদ আগে জামিনে কারাগারের বাইরে ছিলেন। সম্প্রতি পুলিশ তাকে আবার গ্রেপ্তার করেছে।

রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বোমা ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের সঙ্গে কারাগার থেকে পালানো বন্দিদের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষও উদ্বিগ্ন। পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া জুয়েল ওস্তাদের সঙ্গে বর্তমানে পলাতক বোমারু মামুনের কারাগারে পরিচয় ও যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। কারাগারে ঝুঁকিপূর্ণ বন্দিদের আলাদা রাখার ক্ষেত্রে আবাসন সংকট বড় বাধা বলেও স্বীকার করেন তিনি।

আইজি প্রিজন বলেন, কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দির সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সব বন্দিকে পৃথকভাবে রাখা সম্ভব হয় না। একই ওয়ার্ড বা ভবনে থাকায় বন্দিদের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আগে কিছু দুর্বলতা থাকলেও এখন গুরুতর ও ঝুঁকিপূর্ণ বন্দিদের আলাদা জোনে রেখে বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে।

কারাগারে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার দাবি, কারাগারে কোনো মোবাইল ফোন নেই এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। গত এক বছরে বিভিন্ন অভিযানে ৩ হাজারের বেশি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে এ ধরনের ঘটনা অনেকটাই কমেছে।

কারাগারে চিকিৎসক সংকটের চিত্রও তুলে ধরেন কারা মহাপরিদর্শক। তিনি জানান, চিকিৎসকের জন্য ১৫১টি পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র দুজন চিকিৎসক কর্মরত। অন্য কারাগারগুলোতে সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ১০১ জন সিভিল সার্জন বিভিন্ন কারাগারে চিকিৎসা দিচ্ছেন, তবে তারা অন্য দায়িত্বেও থাকায় পূর্ণকালীন সময় দিতে পারছেন না।

কারাগারগুলোতে ফার্মাসিস্ট নিয়োগের পাশাপাশি পিএসসির মাধ্যমে ৫৫ জন নার্স নিয়োগের আদেশ হয়েছে বলেও জানান তিনি। শিগগিরই এসব নার্স কর্মস্থলে যোগ দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন আইজি প্রিজন।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেপ্তার বেড়ে যাওয়ায় কারাগারগুলোর ওপর বন্দি ব্যবস্থাপনার চাপও বেড়েছে। সাধারণত প্রায় ৮০ হাজার বন্দি নিয়ে কাজ করলেও বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা প্রায় ৯৮ হাজার বলে জানান তিনি। অথচ কারাগারগুলোর সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৫ হাজার।

তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৭৯৬ জন বন্দি কারাগারে ঢুকছেন এবং প্রায় ৩ হাজার জন মুক্তি পাচ্ছেন। নিয়মিত বন্দি আসা-যাওয়া থাকলেও কারাগারে থেকে যাওয়া বন্দির সংখ্যা বাড়তে থাকায় মোট চাপ কমছে না।

জুন ও জুলাইয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানোর হারও উল্লেখযোগ্য ছিল। আইজি প্রিজন জানান, ১ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ২৬ হাজারের বেশি মোবাইল কোর্টে দণ্ডিত ব্যক্তিকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি সাজা পাওয়া এসব বন্দির কারণে কারাগারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি সরকারকে জানানো হয়েছে।

দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে ৩৭৯ বিদেশি বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭০ জনের সাজা শেষ হলেও দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তারা এখনো কারাগারে আছেন। সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের পর্যায়ক্রমে নিজ নিজ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ চলছে।

বিদেশি বন্দিদের মৃত্যুর পর মরদেহ ব্যবস্থাপনা নিয়েও তথ্য দেন আইজি প্রিজন। তাঁর ভাষ্য, গত দুই বছরে প্রায় ১৭ জন বিদেশি বন্দির মরদেহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মরদেহ ভারতে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তিনটি মরদেহ বিভিন্ন হিমাগারে রাখা আছে।

কারাগারে দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। গত দুই বছরে ২১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত এবং ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছোটখাটো অপরাধের অভিযোগে আরও ৩০৩ জনকে প্রশাসনিকভাবে অন্য বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

মাদকসংক্রান্ত অপরাধে কোনো কারারক্ষী বা কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলেও জানান কারা মহাপরিদর্শক।

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

১,৮৫০ কোটি টাকায় ২টি এলএনজি কার্গো কিনছে সরকার

সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এলএনজি আমদানির প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়।

৩ ঘণ্টা আগে

কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। এই সরকারি সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী প্রমুখ রয়েছেন।

৪ ঘণ্টা আগে

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-ভিত্তিক ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাটে হাইওয়ে পুলিশের কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন এই ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

৪ ঘণ্টা আগে

সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক মেজর সাদেকুল

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

৪ ঘণ্টা আগে