
শরিফুল হাসান

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই ঈদে না হোক, আগামী ঈদে রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ঈদ করতে পারবেন— এমন প্রত্যাশা করেন তিনি। শুক্রবার (১৪ মার্চ) রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে লাখো রোহিঙ্গাকে নিয়ে আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি চট্টগ্রামের ভাষায় বলেন, ‘এই ঈদে পাইরতাম নো। সামনর ঈদত যেন অনারা নিজর বাড়িত যাইয়েরে ঈদ গরিন ফারন।’ (এই ঈদে পারব না। সামনের ঈদ যেন আপনারা নিজেদের বাড়িতে গিয়ে ঈদ করতে পারেন।)
আমি জানি না, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে কী জাদু আছে যে আগামী বছরের মার্চে যখন ঈদ হবে সেই ঈদ রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ঈদ করবে— এমন কথা তিনি বলতে পারেন। এটা কি শুধুই প্রত্যাশার কথা? নাকি তার সরকারের কূটনৈতিক কোনো কৌশল আছে?
জাতিসংঘ মহাসচিব বছর দুই আগে বলেছিলেন, শিগগিরই তিনি রোহিঙ্গাদের ফেরার সম্ভাবনা দেখেন না। এবার তিনি বললেন, তহবিলের কাটছাঁটের ফলে নাটকীয় প্রভাব পড়বে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ওপর।
আর ড. ইউনূস আগামী ঈদের আশার কথা বললেন। তিনি যখন বলেছেন, নিশ্চয়ই তিনি রাজনৈতিক নেতাদের মতো শুধু কথার কথা বলেননি। তার এই কথা সত্যি হলে বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি হবে অনেক বড়। তবে আমি শুধু আপনাদের একটা অঙ্ক বলি।
উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয় শিবিরে এখন নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ। এর মধ্যে আশ্রয় শিবিরে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুর সংখ্যাই ৫ লাখ। প্রতিবছর ক্যাম্পে নতুন করে ৩০ হাজার শিশু যুক্ত হচ্ছে। বিয়েও হচ্ছে ব্যাপক। নতুন-পুরোনো মিলিয়ে প্রতিদিন রোহিঙ্গার সংখ্যা বাড়ছেই। তারপরও যদি ধরি কাল থেকেই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে শুরু করেছে, তাহলে ১২ লাখ রোহিঙ্গার ফিরতে কতদিন লাগবে জানেন?
চলুন, অঙ্কটা মেলানোর চেষ্টা করি। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যেকার চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৩০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার কথা। সে অনুযায়ী, কাল থেকে যদি অব্যাহতভাবে বছরের ৩৬৫ দিন ৩০০ করে রোহিঙ্গা ফেরে, তাহলে বছরে ফিরবে এক লাখ। এই হিসাবে ১২ লাখ লোকের ফিরতে লাগবে অন্তত ১২ বছর।
সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সপ্তাহের দুদিন যদি প্রত্যাবাসন বন্ধ থাকে, তাহলে সময় লাগবে ১৫ বছর। আর যদি দিনে ৩০০’র বদলে ২০০ জন করে ফেরে, তাহলে সময় লাগেব প্রায় ২৪ বছর!
কিন্তু এই সময়ে নতুন করে কত শিশুর জন্ম হবে? সহজ অঙ্কটা বেশ জটিল হয়ে গেল, তাই না? আর সেই জটিলতায় যদি যোগ হয় এমন বাস্তবতা যে গত সাত বছরে একজনও ফেরেনি, কবে থেকে ফিরবে কেউ জানে না, এমনকি আদৌ ফিরবে কি না তাও জানা নেই— তাহলে সামনে আসে কেবলই এক অনিশ্চয়তা। সেই অনিশ্চয়তায় সামনে দাঁড়িয়ে ১২ লাখ রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশও।
এর মধ্যে কোন জাদুবলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই ঈদে না হোক, আগামী ঈদে রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ঈদ করতে পারবেন, দেখা যাক। জানি না তিনি কতজন রোহিঙ্গার ফেরার কথা বলছেন, কত সময়ের কথা বলেছেন। তারপরও আশায় থাকলাম যে আগামী মার্চের মধ্যে রোহিঙ্গারা অন্তত ফিরতে শুরু করবে।
আমি মনে করি, সব রোহিঙ্গাদের যদি মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যায় সেটি হবে বাংলাদেশের জন্য বিরাট এক অর্জন!
আমি সবসময় বলি, আমার ভয় হয়। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে চীনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে দুর্বল ভূমিকা দেখি, তাতে রোহিঙ্গাদের কখনো মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো নাও যেতে পারে। আশা করছি, আমার এসব আশঙ্কা মিথ্যা প্রমাণিত হবে। আশা করি, বাংলাদেশ এবার অন্তত ব্যর্থ হবে না। শুভ কামনা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
লেখক: অভিবাসন বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই ঈদে না হোক, আগামী ঈদে রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ঈদ করতে পারবেন— এমন প্রত্যাশা করেন তিনি। শুক্রবার (১৪ মার্চ) রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে লাখো রোহিঙ্গাকে নিয়ে আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি চট্টগ্রামের ভাষায় বলেন, ‘এই ঈদে পাইরতাম নো। সামনর ঈদত যেন অনারা নিজর বাড়িত যাইয়েরে ঈদ গরিন ফারন।’ (এই ঈদে পারব না। সামনের ঈদ যেন আপনারা নিজেদের বাড়িতে গিয়ে ঈদ করতে পারেন।)
আমি জানি না, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে কী জাদু আছে যে আগামী বছরের মার্চে যখন ঈদ হবে সেই ঈদ রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ঈদ করবে— এমন কথা তিনি বলতে পারেন। এটা কি শুধুই প্রত্যাশার কথা? নাকি তার সরকারের কূটনৈতিক কোনো কৌশল আছে?
জাতিসংঘ মহাসচিব বছর দুই আগে বলেছিলেন, শিগগিরই তিনি রোহিঙ্গাদের ফেরার সম্ভাবনা দেখেন না। এবার তিনি বললেন, তহবিলের কাটছাঁটের ফলে নাটকীয় প্রভাব পড়বে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ওপর।
আর ড. ইউনূস আগামী ঈদের আশার কথা বললেন। তিনি যখন বলেছেন, নিশ্চয়ই তিনি রাজনৈতিক নেতাদের মতো শুধু কথার কথা বলেননি। তার এই কথা সত্যি হলে বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি হবে অনেক বড়। তবে আমি শুধু আপনাদের একটা অঙ্ক বলি।
উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয় শিবিরে এখন নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ। এর মধ্যে আশ্রয় শিবিরে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুর সংখ্যাই ৫ লাখ। প্রতিবছর ক্যাম্পে নতুন করে ৩০ হাজার শিশু যুক্ত হচ্ছে। বিয়েও হচ্ছে ব্যাপক। নতুন-পুরোনো মিলিয়ে প্রতিদিন রোহিঙ্গার সংখ্যা বাড়ছেই। তারপরও যদি ধরি কাল থেকেই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে শুরু করেছে, তাহলে ১২ লাখ রোহিঙ্গার ফিরতে কতদিন লাগবে জানেন?
চলুন, অঙ্কটা মেলানোর চেষ্টা করি। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যেকার চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৩০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার কথা। সে অনুযায়ী, কাল থেকে যদি অব্যাহতভাবে বছরের ৩৬৫ দিন ৩০০ করে রোহিঙ্গা ফেরে, তাহলে বছরে ফিরবে এক লাখ। এই হিসাবে ১২ লাখ লোকের ফিরতে লাগবে অন্তত ১২ বছর।
সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সপ্তাহের দুদিন যদি প্রত্যাবাসন বন্ধ থাকে, তাহলে সময় লাগবে ১৫ বছর। আর যদি দিনে ৩০০’র বদলে ২০০ জন করে ফেরে, তাহলে সময় লাগেব প্রায় ২৪ বছর!
কিন্তু এই সময়ে নতুন করে কত শিশুর জন্ম হবে? সহজ অঙ্কটা বেশ জটিল হয়ে গেল, তাই না? আর সেই জটিলতায় যদি যোগ হয় এমন বাস্তবতা যে গত সাত বছরে একজনও ফেরেনি, কবে থেকে ফিরবে কেউ জানে না, এমনকি আদৌ ফিরবে কি না তাও জানা নেই— তাহলে সামনে আসে কেবলই এক অনিশ্চয়তা। সেই অনিশ্চয়তায় সামনে দাঁড়িয়ে ১২ লাখ রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশও।
এর মধ্যে কোন জাদুবলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই ঈদে না হোক, আগামী ঈদে রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ঈদ করতে পারবেন, দেখা যাক। জানি না তিনি কতজন রোহিঙ্গার ফেরার কথা বলছেন, কত সময়ের কথা বলেছেন। তারপরও আশায় থাকলাম যে আগামী মার্চের মধ্যে রোহিঙ্গারা অন্তত ফিরতে শুরু করবে।
আমি মনে করি, সব রোহিঙ্গাদের যদি মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যায় সেটি হবে বাংলাদেশের জন্য বিরাট এক অর্জন!
আমি সবসময় বলি, আমার ভয় হয়। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে চীনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে দুর্বল ভূমিকা দেখি, তাতে রোহিঙ্গাদের কখনো মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো নাও যেতে পারে। আশা করছি, আমার এসব আশঙ্কা মিথ্যা প্রমাণিত হবে। আশা করি, বাংলাদেশ এবার অন্তত ব্যর্থ হবে না। শুভ কামনা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
লেখক: অভিবাসন বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্মতা স্পষ্ট করা দরকার— আমি রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা আন্দোলনকে অন্যায় বলছি না। আমার মূল যুক্তিটি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নিয়ে— রাজপথকে যদি প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে রাখা হয়, তাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
১৬ দিন আগে
মানুষের জীবনে কিছু প্রয়োজন আছে, যেগুলো নিয়ে কোনো আপস চলে না। খাদ্য তার প্রথম সারিতে। সকালে শ্রমজীবী মানুষের নাশতার রুটি, দুপুরে পরিবারের ভাতের হাঁড়ি, কৃষকের গোলায় ধান কিংবা দুর্যোগে অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে যাওয়া খাদ্যসহায়তা—সবকিছুর পেছনেই রয়েছে একটি বিশাল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা। সেই ব্যবস্থাপনার কেন
১৮ দিন আগে
বাংলাদেশের গণপরিবহনে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ঢাকার রাস্তায় যখন নারী চালক, নারী সহকারী আর নারী যাত্রীদের নিয়ে বাস চলছে, তখন সেটা দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু এই ভালো লাগার ভেতরেই কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন লুকিয়ে আছে, যে প্রশ্নগুলো শুধু বাসের রং নিয়ে নয়, বরং আ
১৯ দিন আগে
মানুষের একটা অদ্ভুত স্বভাব আছে— সে নিজেকে যেমন, তার চেয়ে একটু ভালো করে দেখাতে চায়। আগে এই প্রবণতার সীমা ছিল পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, অফিস কিংবা বন্ধুমহল পর্যন্ত। এখন সেই ছোট পরিসরটি বিস্ফোরিত হয়ে গেছে। হাতে একটি স্মার্টফোন, সামনে একটি ক্যামেরা, আর পেছনে কোটি কোটি দর্শকের সম্ভাবনা। ফলে মানুষ এখন
২০ দিন আগে