
ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

সারা পৃথিবীর ফুটবলপ্রিয় মানুষের মধ্যে আমিও একজন। সেই ছোটবেলা থেকেই জাম্বুরা দিয়ে কিংবা খড়ের বল বানিয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেছি এবং তা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে গেছি অনার্স পরীক্ষার প্রায় তিন মাস আগ পর্যন্ত। ফুটবল ছাড়া ক্রিকেট, হকি ও দৌড় প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব প্রদর্শন না করতে পারলেও পাকিস্তান অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিলাম।
হঠাৎ একদিন আমাদের খেলাধুলার পরিচালক মোস্তফা সাহেব আবিষ্কার করলেন যে, আমি উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম স্থান অধিকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। তিনি জানলেন, আমার পরীক্ষার আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। তিনি হন্তদন্ত হয়ে খেলার মাঠে ছুটে এলেন এবং আমাকে খেলার মাঠ থেকে বলতে গেলে বলপ্রয়োগে তুলে নিলেন। এখন থেকে যেন আর আমি খেলার মাঠে না আসি, সে নিষেধাজ্ঞা জারি হলো। তার নিষেধাজ্ঞা কাজে লেগেছে।
মাস্টারি করার কালেও মাঝে মাঝে মাঠে নেমেছি। ডান হাতের কব্জিতে এখনও ফুটবলের স্বাক্ষর বয়ে চলেছি। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার কালে ডান হাতে বল পাঞ্চিং করতে গিয়ে কব্জিটা উল্টে গিয়েছিল। মার খাওয়া এড়াতে মামার বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। একমাত্র পানি-পট্টি ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ইংল্যান্ডে পড়াশোনার কালে বিলেতি ডাক্তার দেখিয়েছিলাম। কিন্তু সেটাকে তিনি নির্বিবাদী আখ্যায়িত করায় তা অবিকৃত রেখেই জীবনটা কাটিয়ে দিয়েছি।
ফুটবল খেলা ছেড়ে দিলেও ফুটবল দেখা ছাড়িনি। এখনও রাত জেগে ফুটবল খেলা দেখি। ওয়ার্ল্ড কাপের খেলাগুলোর বলতে গেলে সবকটিই দেখেছি। পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে খেলা না দেখলে খেলা জমে না, যদিও সংঘাত বাধানোর মতো পক্ষ-বিপক্ষ নেওয়া প্রায় ভুলে গেছি।
আমার আত্মসংবরণের একটা কৌশল আছে। আমি যে দলকে সমর্থন করি, তার ভিত্তি নিজেই খুঁজে নিই। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, আমার পছন্দের দলটি প্রায়ই হারে। তাই আমার কৌশলটি হলো, যে দলটিকে আমি হারাতে চাই, তাকেই সমর্থন করা। এর ফলও পেয়েছি, কিন্তু তা আর ব্যাখ্যা করছি না।
তবে এবারের বিশ্বকাপে আমার পছন্দের দল প্রথম থেকেই স্পেন। দেশটি একসময় মুসলমানদের দখলে ছিল। সেটা অনেকের অপছন্দের কারণ হতে পারে। তবে আমার পছন্দের কারণটা তাদের ক্ষিপ্রতা। অনেকেই খেলে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ক্ষিপ্রতা অনেকে দেখতে ব্যর্থ হয়। তাদের সবচেয়ে ক্ষিপ্র ব্যক্তিটি হচ্ছে মায়ের কোলে কিংবা বাথটাবে শুয়ে থাকা লামিন ইয়ামাল।
মেসির সঙ্গে সেই ১৯ বছর আগের ইয়ামালের ছবি। আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি, এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন, তবে চ্যাম্পিয়ন হবে স্পেন। কারণ, তাদের দলে তারুণ্যের ঝলক আর ক্ষিপ্রতা অবিশ্বাস্য। আমার ধারণা, স্পেনের এই তরুণটি ও পেড্রি এবার বিশ্বকে চমকে দেবে। স্পেন চ্যাম্পিয়ন হবে আর ইয়ামাল স্ব-উদ্যোগে, স্ব-উল্লাসে মেসির কোলে লাফিয়ে পড়বে বা গলা জড়িয়ে ধরে বিশ্বকে চমকে দেবে।
আগেই বলে রাখি, এবারে তৃতীয় স্থানটি অবশ্যই ফ্রান্সের ভাগ্যেই রয়েছে, যদিও ইংল্যান্ডের প্রতি অফুরন্ত দুর্বলতা আমার আছে।
লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ ও বাংলা একাডেমির সম্মানিত ফেলো

সারা পৃথিবীর ফুটবলপ্রিয় মানুষের মধ্যে আমিও একজন। সেই ছোটবেলা থেকেই জাম্বুরা দিয়ে কিংবা খড়ের বল বানিয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেছি এবং তা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে গেছি অনার্স পরীক্ষার প্রায় তিন মাস আগ পর্যন্ত। ফুটবল ছাড়া ক্রিকেট, হকি ও দৌড় প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব প্রদর্শন না করতে পারলেও পাকিস্তান অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিলাম।
হঠাৎ একদিন আমাদের খেলাধুলার পরিচালক মোস্তফা সাহেব আবিষ্কার করলেন যে, আমি উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম স্থান অধিকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। তিনি জানলেন, আমার পরীক্ষার আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। তিনি হন্তদন্ত হয়ে খেলার মাঠে ছুটে এলেন এবং আমাকে খেলার মাঠ থেকে বলতে গেলে বলপ্রয়োগে তুলে নিলেন। এখন থেকে যেন আর আমি খেলার মাঠে না আসি, সে নিষেধাজ্ঞা জারি হলো। তার নিষেধাজ্ঞা কাজে লেগেছে।
মাস্টারি করার কালেও মাঝে মাঝে মাঠে নেমেছি। ডান হাতের কব্জিতে এখনও ফুটবলের স্বাক্ষর বয়ে চলেছি। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার কালে ডান হাতে বল পাঞ্চিং করতে গিয়ে কব্জিটা উল্টে গিয়েছিল। মার খাওয়া এড়াতে মামার বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। একমাত্র পানি-পট্টি ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ইংল্যান্ডে পড়াশোনার কালে বিলেতি ডাক্তার দেখিয়েছিলাম। কিন্তু সেটাকে তিনি নির্বিবাদী আখ্যায়িত করায় তা অবিকৃত রেখেই জীবনটা কাটিয়ে দিয়েছি।
ফুটবল খেলা ছেড়ে দিলেও ফুটবল দেখা ছাড়িনি। এখনও রাত জেগে ফুটবল খেলা দেখি। ওয়ার্ল্ড কাপের খেলাগুলোর বলতে গেলে সবকটিই দেখেছি। পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে খেলা না দেখলে খেলা জমে না, যদিও সংঘাত বাধানোর মতো পক্ষ-বিপক্ষ নেওয়া প্রায় ভুলে গেছি।
আমার আত্মসংবরণের একটা কৌশল আছে। আমি যে দলকে সমর্থন করি, তার ভিত্তি নিজেই খুঁজে নিই। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, আমার পছন্দের দলটি প্রায়ই হারে। তাই আমার কৌশলটি হলো, যে দলটিকে আমি হারাতে চাই, তাকেই সমর্থন করা। এর ফলও পেয়েছি, কিন্তু তা আর ব্যাখ্যা করছি না।
তবে এবারের বিশ্বকাপে আমার পছন্দের দল প্রথম থেকেই স্পেন। দেশটি একসময় মুসলমানদের দখলে ছিল। সেটা অনেকের অপছন্দের কারণ হতে পারে। তবে আমার পছন্দের কারণটা তাদের ক্ষিপ্রতা। অনেকেই খেলে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ক্ষিপ্রতা অনেকে দেখতে ব্যর্থ হয়। তাদের সবচেয়ে ক্ষিপ্র ব্যক্তিটি হচ্ছে মায়ের কোলে কিংবা বাথটাবে শুয়ে থাকা লামিন ইয়ামাল।
মেসির সঙ্গে সেই ১৯ বছর আগের ইয়ামালের ছবি। আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি, এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন, তবে চ্যাম্পিয়ন হবে স্পেন। কারণ, তাদের দলে তারুণ্যের ঝলক আর ক্ষিপ্রতা অবিশ্বাস্য। আমার ধারণা, স্পেনের এই তরুণটি ও পেড্রি এবার বিশ্বকে চমকে দেবে। স্পেন চ্যাম্পিয়ন হবে আর ইয়ামাল স্ব-উদ্যোগে, স্ব-উল্লাসে মেসির কোলে লাফিয়ে পড়বে বা গলা জড়িয়ে ধরে বিশ্বকে চমকে দেবে।
আগেই বলে রাখি, এবারে তৃতীয় স্থানটি অবশ্যই ফ্রান্সের ভাগ্যেই রয়েছে, যদিও ইংল্যান্ডের প্রতি অফুরন্ত দুর্বলতা আমার আছে।
লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ ও বাংলা একাডেমির সম্মানিত ফেলো

৫ আগস্ট রাতের সেই এক ধরনের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ পরিস্থিতি একটা চাপা শঙ্কা তৈরি করেছিল, সন্দেহ নেই। কিন্তু তার পাশেই যা দেখেছিলাম— দেশের ইতিহাসে স্বৈরাচার পতনের পর সাধারণ মানুষের মুখে ফুটে ওঠা সেই অবর্ণনীয় আনন্দ— তা ছিল সম্পূর্ণ খাঁটি, সম্পূর্ণ অকৃত্রিম।
৪ দিন আগে
আজ ৫ আগস্ট ২০২৬। সেই দুপুরের ঠিক দুই বছর পর। যে মিছিল সেদিন শাহবাগ, শহিদ মিনার আর যমুনার সামনের রাস্তায় থেমে গিয়েছিল আনন্দ-উল্লাসে, তার পায়ের শব্দ আজও যেন মিলিয়ে যায়নি। বদলেছে সরকার, বদলেছে সংসদ, বদলেছে রাষ্ট্রের নথিপত্র। কিন্তু সেই দিনের প্রশ্নগুলো এখনো বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।
৪ দিন আগে
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা কয়েক সপ্তাহের ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ, রক্তক্ষয় এবং দেশ জুড়ে অশান্তির পর ক্ষমতা ত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদে চেপে বসা ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।
৪ দিন আগে
বাংলাদেশ আজ আর সাহায্যনির্ভর রাষ্ট্র নয়; বরং উদীয়মান একটি আঞ্চলিক অর্থনীতি। সেই বাস্তবতার আলোকে কূটনীতিও হতে হবে আত্মবিশ্বাসী, ভারসাম্যপূর্ণ এবং দূরদর্শী। বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখে, কিন্তু কারও প্রভাববলয়ে আবদ্ধ না হয়ে, বাংলাদেশ তার সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অটু
৫ দিন আগে