
মনোয়ার মোস্তফা

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বা রুফটপ সোলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার। সরকার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে মালিকের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনে নেওয়ার একটি উদ্যোগ নিয়েছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যারা ব্যাটারিসহ সোলার সিস্টেম স্থাপন করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর গ্রিডে দেওয়া উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের জন্য প্রতি ইউনিটে ১০.৫০ টাকা পাবেন। বাসা-বাড়ি-শিল্প-বাণিজ্য—যেখান থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হোক না কেন, সবাইকে নেট মিটারিংয়ের আওতায় এবং বাধ্যতামূলক ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেমের অধীন থাকতে হবে।
শুনতে বেশ আকর্ষণীয় মনে হলেও, এই ‘প্রণোদনা’ কি আসলেই ছাদ-মালিকদের আকৃষ্ট করতে পারবে? এর ফলে, ছাদ-মালিকেরা কি রুফটপ সোলার স্থাপনে বাড়তি উৎসাহ বোধ করবেন, নাকি বিদ্যমান নেট মিটারিং ব্যবস্থাকেই বেশি লাভজনক মনে করবেন?
অর্থনীতি ও গাণিতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি মাঠপর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য মোটেও উৎসাহজনক নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রেই তা সাংঘর্ষিক ও ত্রুটিপূর্ণ।
প্রথমেই দৃষ্টি দেওয়া যাক, ব্যক্তিগত বাসা-বাড়ির দিকে। একথা মনে রাখতে হবে যে, পারিবারিক আবাস বা বাসা-বাড়ি কিন্তু সোলারভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম উৎস হতে পারে। ২০২১ ও ২০২২ সালে প্রকাশিত সরকারি দু’টি জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার বা খানা আছে। ৮১.৭% পরিবার নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করে। এই হিসেবে, প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ পরিবার নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করেন। ২২% পরিবার পাকা ছাদের নিচে ও ৭৬% পরিবার টিনের ছাদের (চাল) নিচে বসবাস করে।
এটা ঠিক যে, পরিবারের সংখ্যা দিয়ে সত্যিকার ‘স্থাপনা’র সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। কারণ একই স্থাপনার নিচে একাধিক পরিবার বসবাস করে, যেমনটি শহরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। শহরে এখন বেশিরভাগ মানুষই বহুতল ভবনে বা ফ্ল্যাটে থাকেন। একটি ভবনে অনেক পরিবার থাকলেও, ছাদ একটাই। সেখানে জেনারেটর রুম, লিফট, হাঁটা-চলার জন্য স্পেস আর ছাদবাগানের জায়গা বাদ দিলে সোলার বসানোর জায়গা তেমন একটা থাকে না।
প্রকৃত অর্থে ‘স্থাপনা’র সংখ্যা পরিবারের সংখ্যার চেয়ে অবশ্যই কম হবে। তবে ধারণা করা যায়, এই স্থাপনার সংখ্যা ২ কোটির কম হবে না। ফলে সামগ্রিকভাবে স্থাপনার হিসাব মাথায় রাখলে, আবাসিক ঘর-বাড়ি ছাদভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা উঁকি দেয়।
একটা অনুমানভিত্তিক হিসাব দাঁড় করানো যেতে পারে। মোট স্থাপনার ভেতর থেকে যদি মাত্র ১০ লাখ স্থাপনার প্রতিটির ছাদে কিংবা টিনের চালে গড়ে ৬০০ বর্গফুট জায়গায় ছাদভিত্তিক সোলার স্থাপনের সুযোগ পাওয়া যায়, তাহলে কমপক্ষে মোট ৬ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার সিস্টেম স্থাপন করা সম্ভব। এই ৬ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম প্রতিদিন কমপক্ষে ২ কোটি ৫০ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে, যা প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল্প হতে পারে।
এবার আসা যাক, সরকারের সাম্প্রতিক প্রণোদনা প্যাকেজ প্রসঙ্গে।
একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের হিসাব দেখা যাক। ধরুন, আপনার পরিবারে মাসে ৪০০ ইউনিট বা বছরে মোট ৪৮০০ ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে। এর জন্য ৩ কিলোওয়াটের একটি সোলার সিস্টেম দরকার। বাজারে প্যানেল ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির দাম পড়বে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। কিন্তু সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজে অংশ নেওয়ার শর্ত অনুযায়ী আপনাকে ব্যাটারি লাগাতেই হবে। ১৮ ঘণ্টার ব্যাকআপ দিতে পারে এমন দুটি ভালো মানের লিথিয়াম ব্যাটারি কিনতে লাগবে আরও ২ লাখ ২৪ হাজার ৪০০ টাকা। অর্থাৎ, আপনার মোট প্রাথমিক বিনিয়োগ দাঁড়াল ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টাকা।
এত টাকা হয়তো আপনার পকেটে নেই। তাই ৩০ শতাংশ নিজের টাকা দিয়ে বাকি প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে ১০ শতাংশ সুদে ৫ বছরের জন্য ঋণ নিলেন। এরপর বিএসটিআই, স্রেডার অনুমোদন আর নেট মিটারিংয়ের দৌড়ঝাঁপ করে সিস্টেমটি চালু করতেই আপনার এক বছর কেটে যাবে।
এই সিস্টেম থেকে ২০ বছরে আপনি মোট ৯৪ হাজার ১২৩ ইউনিট বিদ্যুৎ পাবেন। এবার খরচের খাতাটা মেলাই। প্রথম ৫ বছর আপনাকে আসল ও সুদ মিলিয়ে ব্যাংকের কিস্তি টানতে হবে। ১০ বছর পর ব্যাটারি ও ইনভার্টার বদলাতে আড়াই লাখ টাকার মতো লাগবে। এর সঙ্গে নিজস্ব বিনিয়োগের লাভ, ২০ বছরের রক্ষণাবেক্ষণ ও মিটার চার্জ যোগ করলে আপনার মোট খরচ দাঁড়াবে প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ পড়বে ১২ টাকার ওপরে।
অথচ সরকার আপনাকে দেবে ইউনিটপ্রতি মাত্র ১০.৫০ টাকা! আপনি যদি পুরো বিদ্যুৎ বিক্রি করেন, তবে ২০ বছরে আপনার লোকসান হবে তিন লাখ টাকার বেশি।
সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি হলো প্রথম ৩ বছরের নগদ খরচের চাপ। সিস্টেম বসানোর পর প্রথম ৩ বছর আপনাকে ব্যাংকের কিস্তি দিতে হবে। হিসাব করলে দেখা যায়, এই সময়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পেছনে আপনার পকেট থেকে নগদ বেরিয়ে যাবে প্রায় ২২ টাকা! অথচ ঠিক এই ৩ বছরের জন্যই সরকার আপনাকে ১০.৫০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। ৫ বছর পর যখন ব্যাংক ঋণ শোধ হয়ে আপনার খরচ কমবে, তখন প্রণোদনার মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে।
এতসব হিসাব-নিকাশ শেষে যে কেউ খুব সহজে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন যে, সরকারের প্রস্তাবিত সাড়ে ১০ টাকার অফারের চেয়ে বিদ্যমান নেট মিটারিং ব্যবস্থাটিতে থাকাই পরিবার কিংবা শিল্প-বাণিজ্য—সবার জন্যই বেশি লাভজনক। বিশেষ করে আবাসিক বা পারিবারিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে সরকারি বেচাকেনার জটিলতায় না গিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য সম্পূর্ণ ‘অফ-গ্রিড’ (Off-grid) বা ‘হাইব্রিড’ (Hybrid) সিস্টেম ব্যবহার করা। এ ব্যবস্থায় নিজের উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজে ব্যাটারিতে জমিয়ে ব্যবহার করলে, তা দীর্ঘমেয়াদে গ্রিড থেকে চড়া দামে কেনা বিদ্যুতের চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়।
ছাদভিত্তিক বিদ্যুতের বড় সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হলো শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সরকারি-বেসরকারি বড় স্থাপনাগুলোর সুবিশাল ছাদ। কিন্তু ঠিক এই জায়গাতেই সরকারের নতুন উদ্যোগের অর্থনৈতিক হিসাবটি বড় ধরনের হোঁচট খাচ্ছে।
বর্তমানে বাণিজ্যিক কিংবা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্রিড থেকে কেনা বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম গড়ে ১২ টাকার ওপরে (পিক ও অফ-পিক আওয়ারভেদে এটি আরও বেশি হতে পারে)। তাহলে কোনো শিল্পমালিক কেন বিশাল বিনিয়োগ করে নিজের ছাদে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সাড়ে ১০ টাকা দরে সরকারের কাছে বিক্রি করবেন? বর্তমানের প্রচলিত নেট মিটারিং ব্যবস্থাতেই বরং তাদের লাভ অনেক বেশি।
কিছু আবাসিক গ্রাহকের ক্ষেত্রেও কথাটা সত্য। কেননা আবাসিক পর্যায়ে ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহার করলে বাড়তি ইউনিটপ্রতি দাম ধরা হয় ১৭.৩৫ টাকা। ফলে যে পরিবার মাসে ৭৫০ ইউনিট ব্যবহার করে, গড়ে সে পরিবারের প্রতি ইউনিটের দাম ১৩ টাকার ওপরে চলে যায়।
বিদ্যমান নেট মিটারিং নীতিমালায় একজন উদ্যোক্তা তার সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজে ব্যবহার করেন এবং ছুটির দিনে বা অব্যবহৃত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেন। মাস শেষে তিনি গ্রিড থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ নিয়েছেন এবং গ্রিডে যতটুকু দিয়েছেন, তার একটি ‘নেট’ বা সমন্বিত হিসাব করা হয়। এই ‘এনার্জি ব্যাংকিং’ ব্যবস্থার ফলে উদ্যোক্তা মূলত ইউনিট-টু-ইউনিট সুবিধা পান। অর্থাৎ, তিনি যে ১২ টাকা দামের বিদ্যুৎটি গ্রিড থেকে কিনতেন, সোলারের মাধ্যমে তিনি সেই ১২ টাকাই সাশ্রয় করছেন।
কিন্তু নতুন নিয়মে যদি তাকে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ১০.৫০ টাকায় বিক্রি করতে হয়, তবে প্রতি ইউনিটে তার অন্তত ১.৫০ টাকার আর্থিক ক্ষতি বা অপারচুনিটি কস্ট তৈরি হবে। বেশি দামের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুযোগ রেখে কম দামে বিদ্যুৎ বিক্রির এই মডেল কোনো কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
মনে রাখতে হবে, ব্যাটারি যুক্ত করার কারণে একটি সোলার প্রজেক্টের প্রাথমিক খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। বিনিয়োগ উঠে আসতে যেখানে ৪-৫ বছর লাগত, ব্যাটারির কারণে তা ৮-১০ বছরে গিয়ে ঠেকে। প্রজ্ঞাপনে ব্যাটারিসহ উৎপাদন খরচ মাত্র ৮ টাকা ধরা হয়েছে, যা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে একেবারেই বাস্তবসম্মত নয়।
অন্যদিকে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, উৎপাদিত বিদ্যুতের এই প্রণোদনার অর্থ নগদে দেওয়া হবে না, বরং তিন মাস অন্তর অন্তর সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে প্রেরণ করা হবে। এই শর্তটি অনেক ক্ষুদ্র বা মাঝারি উদ্যোক্তার নগদ অর্থ প্রবাহের (Cash flow) ক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরি করবে। সোলার সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি সময়সীমার পর কোনো কোনো ইকুইপমেন্ট প্রতিস্থাপনের জন্যও একটি খরচ থাকে। সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য পেতে তিন মাস অপেক্ষা করা উদ্যোক্তাদের জন্য বাড়তি বিড়ম্বনা।
আমাদের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্প খাত বর্তমানে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের নানামুখী চাপে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা প্রতিনিয়ত কার্বন নির্গমন কমানো ও ‘গ্রিন এনার্জি’ ব্যবহারের চাপ দিচ্ছে। এই সময়ে শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ত্বরান্বিত করতে সরকারের উচিত ছিল সহজ শর্তে সবুজ অর্থায়নের ব্যবস্থা করা।
একটি কার্যকর ও টেকসই জ্বালানি নীতির মূল শর্ত হলো, তা উৎপাদনকারী এবং সরকার—উভয়ের জন্যই লাভজনক হতে হবে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকে জনপ্রিয় করতে হলে বিদ্যমান ইউনিট-টু-ইউনিট নেট মিটারিং ব্যবস্থাটিকেই আরও সহজলভ্য ও শর্তমুক্ত করতে হবে। ব্যাটারি স্টোরেজকে বাধ্যতামূলক না করে, বরং যারা স্বেচ্ছায় ব্যাটারি স্টোরেজ স্থাপন করে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে পারবে, তাদেরকে পিক-আওয়ারের উচ্চমূল্য বা বিশেষ ‘প্রিমিয়াম ট্যারিফ’ প্রদান করা যেতে পারে।
শিল্পের ছাদে উৎপাদিত প্রতিটি ইউনিট সবুজ বিদ্যুৎ শুধু কারখানার বিদ্যুৎ বিলই কমাচ্ছে না, বরং জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমাচ্ছে এবং বিশ্ববাজারে আমাদের শিল্পের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। তাই ১০.৫০ টাকার ভ্রান্ত হিসাব এবং ব্যাটারির খরচের ফাঁদে আটকে না রেখে, শিল্প খাতকে তার নিজস্ব গতিতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বোচ্চ উৎসাহ দেওয়াটাই হবে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে স্মার্ট ‘প্রণোদনা প্যাকেজ’।
লেখক: উন্নয়ন-অর্থনীতি বিশ্লেষক

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বা রুফটপ সোলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার। সরকার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে মালিকের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনে নেওয়ার একটি উদ্যোগ নিয়েছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যারা ব্যাটারিসহ সোলার সিস্টেম স্থাপন করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর গ্রিডে দেওয়া উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের জন্য প্রতি ইউনিটে ১০.৫০ টাকা পাবেন। বাসা-বাড়ি-শিল্প-বাণিজ্য—যেখান থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হোক না কেন, সবাইকে নেট মিটারিংয়ের আওতায় এবং বাধ্যতামূলক ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেমের অধীন থাকতে হবে।
শুনতে বেশ আকর্ষণীয় মনে হলেও, এই ‘প্রণোদনা’ কি আসলেই ছাদ-মালিকদের আকৃষ্ট করতে পারবে? এর ফলে, ছাদ-মালিকেরা কি রুফটপ সোলার স্থাপনে বাড়তি উৎসাহ বোধ করবেন, নাকি বিদ্যমান নেট মিটারিং ব্যবস্থাকেই বেশি লাভজনক মনে করবেন?
অর্থনীতি ও গাণিতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি মাঠপর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য মোটেও উৎসাহজনক নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রেই তা সাংঘর্ষিক ও ত্রুটিপূর্ণ।
প্রথমেই দৃষ্টি দেওয়া যাক, ব্যক্তিগত বাসা-বাড়ির দিকে। একথা মনে রাখতে হবে যে, পারিবারিক আবাস বা বাসা-বাড়ি কিন্তু সোলারভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম উৎস হতে পারে। ২০২১ ও ২০২২ সালে প্রকাশিত সরকারি দু’টি জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার বা খানা আছে। ৮১.৭% পরিবার নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করে। এই হিসেবে, প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ পরিবার নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করেন। ২২% পরিবার পাকা ছাদের নিচে ও ৭৬% পরিবার টিনের ছাদের (চাল) নিচে বসবাস করে।
এটা ঠিক যে, পরিবারের সংখ্যা দিয়ে সত্যিকার ‘স্থাপনা’র সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। কারণ একই স্থাপনার নিচে একাধিক পরিবার বসবাস করে, যেমনটি শহরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। শহরে এখন বেশিরভাগ মানুষই বহুতল ভবনে বা ফ্ল্যাটে থাকেন। একটি ভবনে অনেক পরিবার থাকলেও, ছাদ একটাই। সেখানে জেনারেটর রুম, লিফট, হাঁটা-চলার জন্য স্পেস আর ছাদবাগানের জায়গা বাদ দিলে সোলার বসানোর জায়গা তেমন একটা থাকে না।
প্রকৃত অর্থে ‘স্থাপনা’র সংখ্যা পরিবারের সংখ্যার চেয়ে অবশ্যই কম হবে। তবে ধারণা করা যায়, এই স্থাপনার সংখ্যা ২ কোটির কম হবে না। ফলে সামগ্রিকভাবে স্থাপনার হিসাব মাথায় রাখলে, আবাসিক ঘর-বাড়ি ছাদভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা উঁকি দেয়।
একটা অনুমানভিত্তিক হিসাব দাঁড় করানো যেতে পারে। মোট স্থাপনার ভেতর থেকে যদি মাত্র ১০ লাখ স্থাপনার প্রতিটির ছাদে কিংবা টিনের চালে গড়ে ৬০০ বর্গফুট জায়গায় ছাদভিত্তিক সোলার স্থাপনের সুযোগ পাওয়া যায়, তাহলে কমপক্ষে মোট ৬ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার সিস্টেম স্থাপন করা সম্ভব। এই ৬ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম প্রতিদিন কমপক্ষে ২ কোটি ৫০ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে, যা প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল্প হতে পারে।
এবার আসা যাক, সরকারের সাম্প্রতিক প্রণোদনা প্যাকেজ প্রসঙ্গে।
একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের হিসাব দেখা যাক। ধরুন, আপনার পরিবারে মাসে ৪০০ ইউনিট বা বছরে মোট ৪৮০০ ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে। এর জন্য ৩ কিলোওয়াটের একটি সোলার সিস্টেম দরকার। বাজারে প্যানেল ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির দাম পড়বে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। কিন্তু সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজে অংশ নেওয়ার শর্ত অনুযায়ী আপনাকে ব্যাটারি লাগাতেই হবে। ১৮ ঘণ্টার ব্যাকআপ দিতে পারে এমন দুটি ভালো মানের লিথিয়াম ব্যাটারি কিনতে লাগবে আরও ২ লাখ ২৪ হাজার ৪০০ টাকা। অর্থাৎ, আপনার মোট প্রাথমিক বিনিয়োগ দাঁড়াল ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টাকা।
এত টাকা হয়তো আপনার পকেটে নেই। তাই ৩০ শতাংশ নিজের টাকা দিয়ে বাকি প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে ১০ শতাংশ সুদে ৫ বছরের জন্য ঋণ নিলেন। এরপর বিএসটিআই, স্রেডার অনুমোদন আর নেট মিটারিংয়ের দৌড়ঝাঁপ করে সিস্টেমটি চালু করতেই আপনার এক বছর কেটে যাবে।
এই সিস্টেম থেকে ২০ বছরে আপনি মোট ৯৪ হাজার ১২৩ ইউনিট বিদ্যুৎ পাবেন। এবার খরচের খাতাটা মেলাই। প্রথম ৫ বছর আপনাকে আসল ও সুদ মিলিয়ে ব্যাংকের কিস্তি টানতে হবে। ১০ বছর পর ব্যাটারি ও ইনভার্টার বদলাতে আড়াই লাখ টাকার মতো লাগবে। এর সঙ্গে নিজস্ব বিনিয়োগের লাভ, ২০ বছরের রক্ষণাবেক্ষণ ও মিটার চার্জ যোগ করলে আপনার মোট খরচ দাঁড়াবে প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ পড়বে ১২ টাকার ওপরে।
অথচ সরকার আপনাকে দেবে ইউনিটপ্রতি মাত্র ১০.৫০ টাকা! আপনি যদি পুরো বিদ্যুৎ বিক্রি করেন, তবে ২০ বছরে আপনার লোকসান হবে তিন লাখ টাকার বেশি।
সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি হলো প্রথম ৩ বছরের নগদ খরচের চাপ। সিস্টেম বসানোর পর প্রথম ৩ বছর আপনাকে ব্যাংকের কিস্তি দিতে হবে। হিসাব করলে দেখা যায়, এই সময়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পেছনে আপনার পকেট থেকে নগদ বেরিয়ে যাবে প্রায় ২২ টাকা! অথচ ঠিক এই ৩ বছরের জন্যই সরকার আপনাকে ১০.৫০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। ৫ বছর পর যখন ব্যাংক ঋণ শোধ হয়ে আপনার খরচ কমবে, তখন প্রণোদনার মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে।
এতসব হিসাব-নিকাশ শেষে যে কেউ খুব সহজে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন যে, সরকারের প্রস্তাবিত সাড়ে ১০ টাকার অফারের চেয়ে বিদ্যমান নেট মিটারিং ব্যবস্থাটিতে থাকাই পরিবার কিংবা শিল্প-বাণিজ্য—সবার জন্যই বেশি লাভজনক। বিশেষ করে আবাসিক বা পারিবারিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে সরকারি বেচাকেনার জটিলতায় না গিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য সম্পূর্ণ ‘অফ-গ্রিড’ (Off-grid) বা ‘হাইব্রিড’ (Hybrid) সিস্টেম ব্যবহার করা। এ ব্যবস্থায় নিজের উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজে ব্যাটারিতে জমিয়ে ব্যবহার করলে, তা দীর্ঘমেয়াদে গ্রিড থেকে চড়া দামে কেনা বিদ্যুতের চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়।
ছাদভিত্তিক বিদ্যুতের বড় সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হলো শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সরকারি-বেসরকারি বড় স্থাপনাগুলোর সুবিশাল ছাদ। কিন্তু ঠিক এই জায়গাতেই সরকারের নতুন উদ্যোগের অর্থনৈতিক হিসাবটি বড় ধরনের হোঁচট খাচ্ছে।
বর্তমানে বাণিজ্যিক কিংবা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্রিড থেকে কেনা বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম গড়ে ১২ টাকার ওপরে (পিক ও অফ-পিক আওয়ারভেদে এটি আরও বেশি হতে পারে)। তাহলে কোনো শিল্পমালিক কেন বিশাল বিনিয়োগ করে নিজের ছাদে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সাড়ে ১০ টাকা দরে সরকারের কাছে বিক্রি করবেন? বর্তমানের প্রচলিত নেট মিটারিং ব্যবস্থাতেই বরং তাদের লাভ অনেক বেশি।
কিছু আবাসিক গ্রাহকের ক্ষেত্রেও কথাটা সত্য। কেননা আবাসিক পর্যায়ে ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহার করলে বাড়তি ইউনিটপ্রতি দাম ধরা হয় ১৭.৩৫ টাকা। ফলে যে পরিবার মাসে ৭৫০ ইউনিট ব্যবহার করে, গড়ে সে পরিবারের প্রতি ইউনিটের দাম ১৩ টাকার ওপরে চলে যায়।
বিদ্যমান নেট মিটারিং নীতিমালায় একজন উদ্যোক্তা তার সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজে ব্যবহার করেন এবং ছুটির দিনে বা অব্যবহৃত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেন। মাস শেষে তিনি গ্রিড থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ নিয়েছেন এবং গ্রিডে যতটুকু দিয়েছেন, তার একটি ‘নেট’ বা সমন্বিত হিসাব করা হয়। এই ‘এনার্জি ব্যাংকিং’ ব্যবস্থার ফলে উদ্যোক্তা মূলত ইউনিট-টু-ইউনিট সুবিধা পান। অর্থাৎ, তিনি যে ১২ টাকা দামের বিদ্যুৎটি গ্রিড থেকে কিনতেন, সোলারের মাধ্যমে তিনি সেই ১২ টাকাই সাশ্রয় করছেন।
কিন্তু নতুন নিয়মে যদি তাকে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ১০.৫০ টাকায় বিক্রি করতে হয়, তবে প্রতি ইউনিটে তার অন্তত ১.৫০ টাকার আর্থিক ক্ষতি বা অপারচুনিটি কস্ট তৈরি হবে। বেশি দামের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুযোগ রেখে কম দামে বিদ্যুৎ বিক্রির এই মডেল কোনো কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
মনে রাখতে হবে, ব্যাটারি যুক্ত করার কারণে একটি সোলার প্রজেক্টের প্রাথমিক খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। বিনিয়োগ উঠে আসতে যেখানে ৪-৫ বছর লাগত, ব্যাটারির কারণে তা ৮-১০ বছরে গিয়ে ঠেকে। প্রজ্ঞাপনে ব্যাটারিসহ উৎপাদন খরচ মাত্র ৮ টাকা ধরা হয়েছে, যা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে একেবারেই বাস্তবসম্মত নয়।
অন্যদিকে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, উৎপাদিত বিদ্যুতের এই প্রণোদনার অর্থ নগদে দেওয়া হবে না, বরং তিন মাস অন্তর অন্তর সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে প্রেরণ করা হবে। এই শর্তটি অনেক ক্ষুদ্র বা মাঝারি উদ্যোক্তার নগদ অর্থ প্রবাহের (Cash flow) ক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরি করবে। সোলার সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি সময়সীমার পর কোনো কোনো ইকুইপমেন্ট প্রতিস্থাপনের জন্যও একটি খরচ থাকে। সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য পেতে তিন মাস অপেক্ষা করা উদ্যোক্তাদের জন্য বাড়তি বিড়ম্বনা।
আমাদের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্প খাত বর্তমানে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের নানামুখী চাপে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা প্রতিনিয়ত কার্বন নির্গমন কমানো ও ‘গ্রিন এনার্জি’ ব্যবহারের চাপ দিচ্ছে। এই সময়ে শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ত্বরান্বিত করতে সরকারের উচিত ছিল সহজ শর্তে সবুজ অর্থায়নের ব্যবস্থা করা।
একটি কার্যকর ও টেকসই জ্বালানি নীতির মূল শর্ত হলো, তা উৎপাদনকারী এবং সরকার—উভয়ের জন্যই লাভজনক হতে হবে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকে জনপ্রিয় করতে হলে বিদ্যমান ইউনিট-টু-ইউনিট নেট মিটারিং ব্যবস্থাটিকেই আরও সহজলভ্য ও শর্তমুক্ত করতে হবে। ব্যাটারি স্টোরেজকে বাধ্যতামূলক না করে, বরং যারা স্বেচ্ছায় ব্যাটারি স্টোরেজ স্থাপন করে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে পারবে, তাদেরকে পিক-আওয়ারের উচ্চমূল্য বা বিশেষ ‘প্রিমিয়াম ট্যারিফ’ প্রদান করা যেতে পারে।
শিল্পের ছাদে উৎপাদিত প্রতিটি ইউনিট সবুজ বিদ্যুৎ শুধু কারখানার বিদ্যুৎ বিলই কমাচ্ছে না, বরং জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমাচ্ছে এবং বিশ্ববাজারে আমাদের শিল্পের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। তাই ১০.৫০ টাকার ভ্রান্ত হিসাব এবং ব্যাটারির খরচের ফাঁদে আটকে না রেখে, শিল্প খাতকে তার নিজস্ব গতিতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বোচ্চ উৎসাহ দেওয়াটাই হবে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে স্মার্ট ‘প্রণোদনা প্যাকেজ’।
লেখক: উন্নয়ন-অর্থনীতি বিশ্লেষক

বাংলাদেশের গণপরিবহনে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ঢাকার রাস্তায় যখন নারী চালক, নারী সহকারী আর নারী যাত্রীদের নিয়ে বাস চলছে, তখন সেটা দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু এই ভালো লাগার ভেতরেই কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন লুকিয়ে আছে, যে প্রশ্নগুলো শুধু বাসের রং নিয়ে নয়, বরং আ
১৪ দিন আগে
মানুষের একটা অদ্ভুত স্বভাব আছে— সে নিজেকে যেমন, তার চেয়ে একটু ভালো করে দেখাতে চায়। আগে এই প্রবণতার সীমা ছিল পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, অফিস কিংবা বন্ধুমহল পর্যন্ত। এখন সেই ছোট পরিসরটি বিস্ফোরিত হয়ে গেছে। হাতে একটি স্মার্টফোন, সামনে একটি ক্যামেরা, আর পেছনে কোটি কোটি দর্শকের সম্ভাবনা। ফলে মানুষ এখন
১৫ দিন আগে
পশ্চিমা অর্থনীতিবিদদের তৈরি করা এই ‘স্টেয়ারকেস মডেল’ থেকে যে ধারণার জন্ম, চীনের বিরুদ্ধে মূলত সেই ধারণাটিই প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু এই ধারাবাহিকতাকেই কেন অর্থনীতির চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে মেনে নিতে হবে? প্রতিটি দেশেরই অধিকার আছে, তার সম্পদভিত্তি, শ্রমশক্তি, পুঁজিবাজার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা যে উন্নয়নপথকে ধরে
১৮ দিন আগে
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক ব্যবসা হিসেবে না দেখে পুনরায় 'সেবা খাত' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বিগত দিনে এ খাতে অপরাধের মাধ্যমে যে লুণ্ঠনের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে, তার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল সরকার সংকট মোকাবিলায় কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারবে।
১৯ দিন আগে