
এম ডি মাসুদ খান

“একটি জাতিকে পরাজিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় সবসময় তার শহর ধ্বংস করা নয়; বরং তার আত্মবিশ্বাস, জ্ঞান, ঐক্য এবং ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতাকে ভেঙে দেওয়া।”
আজ যখন আমরা পৃথিবীর মানচিত্রের দিকে তাকাই, তখন এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা চোখে পড়ে। পৃথিবীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ মুসলিম। বিস্তৃত ভূখণ্ড, বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদের বড় অংশ, কৌশলগত সমুদ্রপথ এবং তরুণ জনসংখ্যা— সবই মুসলিম বিশ্বের শক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
আজ বিশ্বের বহু সংঘাত, মানবিক বিপর্যয় ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মুসলিম সমাজের বিভিন্ন অংশ। কোথাও যুদ্ধ, কোথাও দখল, কোথাও বাস্তুচ্যুতি, কোথাও দারিদ্র্য, কোথাও আবার ধর্মীয় বিদ্বেষ। এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই—কেন এমন হলো?
ইসলামের প্রথম যুগে মুসলমানরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে নৈতিকতা, জ্ঞান, শৃঙ্খলা এবং আত্মরক্ষার সক্ষমতা একে অন্যের পরিপূরক ছিল। বদর থেকে ইয়ামুক, কাদিসিয়া থেকে হিত্তিন— এসব যুদ্ধ কেবল সামরিক বিজয়ের ইতিহাস নয়, বরং সংগঠন, নেতৃত্ব, প্রস্তুতি ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। যুদ্ধকে কখনো উদ্দেশ্য বানানো হয়নি, উদ্দেশ্য ছিল অন্যায় প্রতিরোধ এবং সমাজকে নিরাপদ রাখা।
পরে মুসলিম সভ্যতা বিশ্বের জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বাগদাদের বায়তুল হিকমাহ, কর্ডোভার বিশ্ববিদ্যালয়, দামেস্কের চিকিৎসাবিদ্যা, আল-খাওয়ারিজমির গণিত, ইবনে সিনার চিকিৎসাবিজ্ঞান, ইবনে রুশদের দর্শন এবং ইবনে খালদুনের সমাজবিজ্ঞান—এসব মানবসভ্যতার যৌথ ঐতিহ্য। মুসলিম বিশ্ব তখন তরবারির চেয়ে কলমের জন্যই বেশি পরিচিত ছিল।
কিন্তু ইতিহাস কখনো স্থির থাকে না। আজ ফিলিস্তিনে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া শিশু, গৃহহীন পরিবার, খাদ্য ও চিকিৎসার সংকটে থাকা মানুষ এবং প্রতিদিনের অনিশ্চয়তা শুধু একটি অঞ্চলের নয়, সমগ্র মানবতার বিবেককে প্রশ্ন করে। একইভাবে বিশ্বের অন্য সংঘাতেও— যে-ই বেসামরিক মানুষ হোক না কেন— তাদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক দাবি। কোনো শিশুর কান্না ধর্ম দেখে আলাদা হয় না, কোনো মায়ের শোক জাতীয়তা দেখে কমে না।
তবে কেবল বাইরের অন্যায়ের কথা বললেই পুরো সত্য বলা হয় না। মুসলিম বিশ্বকে একটি কঠিন প্রশ্ন নিজেদেরও করতে হবে।
কেন এমন একটি সভ্যতা আজ প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে, যেখানে তারাই একসময় বিশ্বের জ্ঞানচর্চার নেতৃত্ব দিয়েছিল?
কেন বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় মুসলিম বিশ্বের উপস্থিতি সীমিত? কেন এত প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বহু মুসলিম দেশ প্রযুক্তির ক্রেতা, উদ্ভাবক নয়? কেন রাজনৈতিক বিভক্তি ও অভ্যন্তরীণ সংঘাত বাইরের শক্তির জন্য হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে?
এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু অন্যের মধ্যে খুঁজলে চলবে না, নিজেদের মধ্যেও খুঁজতে হবে।
ইসলাম কখনো দুর্বলতার শিক্ষা দেয় না। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য যতটাসম্ভব শক্তি প্রস্তুত রাখো”— এই শক্তি শুধু অস্ত্রের নয়; বরং জ্ঞান, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, কূটনীতি, নৈতিকতা, সামাজিক ঐক্য এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতাও এর অংশ। শক্তির উদ্দেশ্য আগ্রাসন নয়, অন্যায়কে নিরুৎসাহিত করা এবং শান্তিকে সুরক্ষিত রাখা।
বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধের রূপও বদলে গেছে। আজ ড্রোন, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যযুদ্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, গণমাধ্যম এবং প্রযুক্তি— এসবই শক্তির নতুন ভাষা। যে জাতি এসব ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবে, সে কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়বে।
তাই মুসলিম বিশ্বের পুনর্জাগরণ যদি সত্যিই কাম্য হয়, তবে তার ভিত্তি হতে হবে পাঁচটি স্তম্ভের ওপর—
প্রথমত, শিক্ষা ও গবেষণায় বৈশ্বিক নেতৃত্ব অর্জনের চেষ্টা;
দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ, যেন অন্যের ওপর নির্ভরতা কমে;
তৃতীয়ত, ন্যায়ভিত্তিক সুশাসন, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা;
চতুর্থত, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা; এবং
পঞ্চমত, বৈধ আত্মরক্ষার সক্ষমতা, যাতে কোনো রাষ্ট্র বা জনগোষ্ঠী আগ্রাসনের মুখে অসহায় না হয়।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দায়িত্ব রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন যদি কখনো শক্তিশালীর জন্য এক রকম এবং দুর্বলদের জন্য আরেক রকম হয়, তবে সেই ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানবাধিকার তখনই অর্থবহ, যখন তা ধর্ম, জাতীয়তা বা ভূরাজনৈতিক স্বার্থ নির্বিশেষে সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়।
মুসলিম উম্মাহর সামনে আজ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অস্তিত্বের নয়, নেতৃত্বের। ইসলাম একটি ধর্ম হিসেবে টিকে থাকবে। কিন্তু মুসলিম সমাজ মর্যাদার সঙ্গে বাঁচবে কি না, তা নির্ভর করবে তাদের জ্ঞান, চরিত্র, ঐক্য, ন্যায়বোধ ও সক্ষমতার ওপর।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়— যে জাতি নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে, শিক্ষা গ্রহণ করে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেয়, তাকে দীর্ঘদিন পরাজিত রাখা যায় না।
আজ মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ঘৃণা নয়, হিকমাহ; প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার; আবেগ নয়, দূরদর্শিতা; বিভক্তি নয়, ঐক্য; এবং স্লোগানের বদলে এমন প্রতিষ্ঠান, যা আগামী শতাব্দীর নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারে।
কারণ ইতিহাসের পাতা একদিন বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু ভবিষ্যতের পাতা লেখা হয় আজকের সিদ্ধান্ত দিয়ে।
লেখক: কলামিস্ট ও বনবিদ

“একটি জাতিকে পরাজিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় সবসময় তার শহর ধ্বংস করা নয়; বরং তার আত্মবিশ্বাস, জ্ঞান, ঐক্য এবং ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতাকে ভেঙে দেওয়া।”
আজ যখন আমরা পৃথিবীর মানচিত্রের দিকে তাকাই, তখন এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা চোখে পড়ে। পৃথিবীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ মুসলিম। বিস্তৃত ভূখণ্ড, বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদের বড় অংশ, কৌশলগত সমুদ্রপথ এবং তরুণ জনসংখ্যা— সবই মুসলিম বিশ্বের শক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
আজ বিশ্বের বহু সংঘাত, মানবিক বিপর্যয় ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মুসলিম সমাজের বিভিন্ন অংশ। কোথাও যুদ্ধ, কোথাও দখল, কোথাও বাস্তুচ্যুতি, কোথাও দারিদ্র্য, কোথাও আবার ধর্মীয় বিদ্বেষ। এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই—কেন এমন হলো?
ইসলামের প্রথম যুগে মুসলমানরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে নৈতিকতা, জ্ঞান, শৃঙ্খলা এবং আত্মরক্ষার সক্ষমতা একে অন্যের পরিপূরক ছিল। বদর থেকে ইয়ামুক, কাদিসিয়া থেকে হিত্তিন— এসব যুদ্ধ কেবল সামরিক বিজয়ের ইতিহাস নয়, বরং সংগঠন, নেতৃত্ব, প্রস্তুতি ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। যুদ্ধকে কখনো উদ্দেশ্য বানানো হয়নি, উদ্দেশ্য ছিল অন্যায় প্রতিরোধ এবং সমাজকে নিরাপদ রাখা।
পরে মুসলিম সভ্যতা বিশ্বের জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বাগদাদের বায়তুল হিকমাহ, কর্ডোভার বিশ্ববিদ্যালয়, দামেস্কের চিকিৎসাবিদ্যা, আল-খাওয়ারিজমির গণিত, ইবনে সিনার চিকিৎসাবিজ্ঞান, ইবনে রুশদের দর্শন এবং ইবনে খালদুনের সমাজবিজ্ঞান—এসব মানবসভ্যতার যৌথ ঐতিহ্য। মুসলিম বিশ্ব তখন তরবারির চেয়ে কলমের জন্যই বেশি পরিচিত ছিল।
কিন্তু ইতিহাস কখনো স্থির থাকে না। আজ ফিলিস্তিনে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া শিশু, গৃহহীন পরিবার, খাদ্য ও চিকিৎসার সংকটে থাকা মানুষ এবং প্রতিদিনের অনিশ্চয়তা শুধু একটি অঞ্চলের নয়, সমগ্র মানবতার বিবেককে প্রশ্ন করে। একইভাবে বিশ্বের অন্য সংঘাতেও— যে-ই বেসামরিক মানুষ হোক না কেন— তাদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক দাবি। কোনো শিশুর কান্না ধর্ম দেখে আলাদা হয় না, কোনো মায়ের শোক জাতীয়তা দেখে কমে না।
তবে কেবল বাইরের অন্যায়ের কথা বললেই পুরো সত্য বলা হয় না। মুসলিম বিশ্বকে একটি কঠিন প্রশ্ন নিজেদেরও করতে হবে।
কেন এমন একটি সভ্যতা আজ প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে, যেখানে তারাই একসময় বিশ্বের জ্ঞানচর্চার নেতৃত্ব দিয়েছিল?
কেন বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় মুসলিম বিশ্বের উপস্থিতি সীমিত? কেন এত প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বহু মুসলিম দেশ প্রযুক্তির ক্রেতা, উদ্ভাবক নয়? কেন রাজনৈতিক বিভক্তি ও অভ্যন্তরীণ সংঘাত বাইরের শক্তির জন্য হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে?
এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু অন্যের মধ্যে খুঁজলে চলবে না, নিজেদের মধ্যেও খুঁজতে হবে।
ইসলাম কখনো দুর্বলতার শিক্ষা দেয় না। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য যতটাসম্ভব শক্তি প্রস্তুত রাখো”— এই শক্তি শুধু অস্ত্রের নয়; বরং জ্ঞান, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, কূটনীতি, নৈতিকতা, সামাজিক ঐক্য এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতাও এর অংশ। শক্তির উদ্দেশ্য আগ্রাসন নয়, অন্যায়কে নিরুৎসাহিত করা এবং শান্তিকে সুরক্ষিত রাখা।
বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধের রূপও বদলে গেছে। আজ ড্রোন, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যযুদ্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, গণমাধ্যম এবং প্রযুক্তি— এসবই শক্তির নতুন ভাষা। যে জাতি এসব ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবে, সে কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়বে।
তাই মুসলিম বিশ্বের পুনর্জাগরণ যদি সত্যিই কাম্য হয়, তবে তার ভিত্তি হতে হবে পাঁচটি স্তম্ভের ওপর—
প্রথমত, শিক্ষা ও গবেষণায় বৈশ্বিক নেতৃত্ব অর্জনের চেষ্টা;
দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ, যেন অন্যের ওপর নির্ভরতা কমে;
তৃতীয়ত, ন্যায়ভিত্তিক সুশাসন, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা;
চতুর্থত, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা; এবং
পঞ্চমত, বৈধ আত্মরক্ষার সক্ষমতা, যাতে কোনো রাষ্ট্র বা জনগোষ্ঠী আগ্রাসনের মুখে অসহায় না হয়।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দায়িত্ব রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন যদি কখনো শক্তিশালীর জন্য এক রকম এবং দুর্বলদের জন্য আরেক রকম হয়, তবে সেই ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানবাধিকার তখনই অর্থবহ, যখন তা ধর্ম, জাতীয়তা বা ভূরাজনৈতিক স্বার্থ নির্বিশেষে সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়।
মুসলিম উম্মাহর সামনে আজ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অস্তিত্বের নয়, নেতৃত্বের। ইসলাম একটি ধর্ম হিসেবে টিকে থাকবে। কিন্তু মুসলিম সমাজ মর্যাদার সঙ্গে বাঁচবে কি না, তা নির্ভর করবে তাদের জ্ঞান, চরিত্র, ঐক্য, ন্যায়বোধ ও সক্ষমতার ওপর।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়— যে জাতি নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে, শিক্ষা গ্রহণ করে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেয়, তাকে দীর্ঘদিন পরাজিত রাখা যায় না।
আজ মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ঘৃণা নয়, হিকমাহ; প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার; আবেগ নয়, দূরদর্শিতা; বিভক্তি নয়, ঐক্য; এবং স্লোগানের বদলে এমন প্রতিষ্ঠান, যা আগামী শতাব্দীর নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারে।
কারণ ইতিহাসের পাতা একদিন বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু ভবিষ্যতের পাতা লেখা হয় আজকের সিদ্ধান্ত দিয়ে।
লেখক: কলামিস্ট ও বনবিদ

ছোটবেলা থেকেই জাম্বুরা দিয়ে কিংবা খড়ের বল বানিয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেছি এবং তা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে গেছি অনার্স পরীক্ষার প্রায় তিন মাস আগ পর্যন্ত। ফুটবল ছাড়া ক্রিকেট, হকি ও দৌড় প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব প্রদর্শন না করতে পারলেও পাকিস্তান অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিলাম।
৬ দিন আগে
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কোনো স্বয়ংক্রিয় অর্জন নয়। এটি অর্জন করতে হয় সুশাসন, মানসম্মত শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের ইতিবাচক শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালনার মাধ্যমে। বাংলাদেশের সামনে এখনও সেই সুযোগ রয়েছে। এখন প্রয়োজন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।
৬ দিন আগে
কী আছে চাকমা ভাষা ও হরফে রচিত পাঠ্যবইগুলোতে? বইগুলো পর্যালোচনায় অসংখ্য ভুল, অসঙ্গতি ও মানহীন রচনা পাওয়া গেছে। রয়েছে ভুলে ভরা বানান, শব্দের অপপ্রয়োগ, দুর্বল লিখনশৈলী ও ধারাবাহিকতার অভাব। পেশাদারিত্বের বিশাল অনুপস্থিতি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। ভিনভাষার ছড়াকে অনুকরণ করে চাকমারূপ দেওয়া হয়েছে। এখানে কিছু অসঙ
১২ দিন আগে
অশালীন ভাষার এই বিস্তার কেবল আবেগের বহির্প্রকাশ নয়, অনেক ক্ষেত্রেই এটি একটি রাজনৈতিক কৌশল। যখন কোনো গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ককে যুক্তির জায়গা থেকে সরিয়ে অপমান, কুরুচি ও যৌন ইঙ্গিতের দিকে নিয়ে যায়, তখন প্রকৃত রাজনৈতিক প্রশ্নগুলো আড়ালে চলে যায়। নীতির আলোচনা হারিয়ে যায়, জবাবদিহি দুর্বল হয়, আর জনপরিসর
১৫ দিন আগে