
মো. কাফি খান

সমসাময়িক বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপট আজ প্রবৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা থেকে বিচ্যুত হয়ে এক রক্ষণাত্মক ও সংকোচনমূলক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রথাগত মন্দা সাধারণত ব্যবসায়িক চক্রের স্বাভাবিক উত্থান-পতনের কারণে ঘটে। কিন্তু বর্তমানে লক্ষণগুলো আরও গভীরতর কাঠামোগত ব্যাধির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যাকে অর্থনীতিবিদরা ‘গ্লোবাল ব্যালান্স শিট রিসেশন’ বা ‘বৈশ্বিক উদ্বর্তপত্র মন্দা’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। ২০২৬ সালের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বহুমুখী যুদ্ধের সংকট এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে বেসরকারি খাতের আচরণের মৌলিক পরিবর্তন। দীর্ঘ সময় ধরে ‘সহজলভ্য ঋণ’ (ইজি মানি) গ্রহণের পর সুদের হার হঠাৎ করে বেড়ে গেলে বেসরকারি খাতের ঋণের বোঝা পাহাড়সম হয়ে দাঁড়ায়। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাথমিক লক্ষ্য ‘মুনাফা সর্বোচ্চকরণ’ থেকে সরে গিয়ে ‘ঋণ সর্বনিম্নকরণে’ কেন্দ্রীভূত হয়।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ গ্রহণে অনীহা প্রদর্শন করে (Debt-Allergic)। মূল্যস্ফীতি কমে গেলেও তারা নতুন বিনিয়োগ বা উদ্ভাবনের পরিবর্তে নিজেদের ‘ব্যালান্স শিট’ মেরামতের দিকে বেশি নজর দেয়। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমালেও বাজারে তার সুফল সীমিত থাকে। কারণ বেসরকারি খাত কেবল টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকে।
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনে চলমান সংঘাত এখন আর কেবল আঞ্চলিক সমস্যা নয়; বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির ‘সাপ্লাই চেইনে’র জন্য বড় একটি ধাক্কা। যুদ্ধ কেবল অবকাঠামো ধ্বংস করছে না, বরং জ্বালানি ও বাণিজ্যের বৈশ্বিক স্নায়ুতন্ত্রকে অচল করে দিচ্ছে।
যুদ্ধ সরাসরি উৎপাদন ও পরিবহণকে প্রভাবিত করছে। চলমান সংঘাত কাঁচামালের সরবরাহে বড় শক তৈরি করেছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও খাদ্যদ্রব্যের সরবরাহে বাধা বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ প্রবাহ এবং মুদ্রা বাজারও প্রভাবিত হযচ্ছে। ঝুঁকি বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরাসরি অর্থ বাজার থেকে সরে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতও বিনিয়োগে অনীহা প্রদর্শন করছে। যুদ্ধের কারণে উৎপাদন খরচ যখন আকাশছোঁয়া, তখন সামগ্রিক চাহিদা বজায় রাখার দায়িত্ব সরাসরি রাষ্ট্রের ওপর এসে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে একটি বৈশ্বিক ‘হারানো দশক’ (Lost Decade) এড়াতে নিচের পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য—
আজকের বিশ্ব অর্থনীতি ঋণের ভারে জর্জরিত এবং যুদ্ধের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত। কেবল মুদ্রানীতির ওপর নির্ভর করে পুনর্জীবন সম্ভব নয়। স্থবিরতা কাটিয়ে টেকসই পুনরুদ্ধারের জন্য সাহসী, কৌশলগত রাজস্ব হস্তক্ষেপ অপরিহার্য।
* এই নিবন্ধে উপস্থাপিত তথ্য ও বিশ্লেষণ একান্তই লেখকের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ এবং শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে রচিত। এটি কোনো প্রকার আর্থিক, বিনিয়োগ বা আইনি পরামর্শ হিসেবে গণ্য হবে না।
লেখক: কলামিস্ট ও অর্থনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক

সমসাময়িক বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপট আজ প্রবৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা থেকে বিচ্যুত হয়ে এক রক্ষণাত্মক ও সংকোচনমূলক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রথাগত মন্দা সাধারণত ব্যবসায়িক চক্রের স্বাভাবিক উত্থান-পতনের কারণে ঘটে। কিন্তু বর্তমানে লক্ষণগুলো আরও গভীরতর কাঠামোগত ব্যাধির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যাকে অর্থনীতিবিদরা ‘গ্লোবাল ব্যালান্স শিট রিসেশন’ বা ‘বৈশ্বিক উদ্বর্তপত্র মন্দা’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। ২০২৬ সালের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বহুমুখী যুদ্ধের সংকট এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে বেসরকারি খাতের আচরণের মৌলিক পরিবর্তন। দীর্ঘ সময় ধরে ‘সহজলভ্য ঋণ’ (ইজি মানি) গ্রহণের পর সুদের হার হঠাৎ করে বেড়ে গেলে বেসরকারি খাতের ঋণের বোঝা পাহাড়সম হয়ে দাঁড়ায়। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাথমিক লক্ষ্য ‘মুনাফা সর্বোচ্চকরণ’ থেকে সরে গিয়ে ‘ঋণ সর্বনিম্নকরণে’ কেন্দ্রীভূত হয়।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ গ্রহণে অনীহা প্রদর্শন করে (Debt-Allergic)। মূল্যস্ফীতি কমে গেলেও তারা নতুন বিনিয়োগ বা উদ্ভাবনের পরিবর্তে নিজেদের ‘ব্যালান্স শিট’ মেরামতের দিকে বেশি নজর দেয়। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমালেও বাজারে তার সুফল সীমিত থাকে। কারণ বেসরকারি খাত কেবল টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকে।
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনে চলমান সংঘাত এখন আর কেবল আঞ্চলিক সমস্যা নয়; বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির ‘সাপ্লাই চেইনে’র জন্য বড় একটি ধাক্কা। যুদ্ধ কেবল অবকাঠামো ধ্বংস করছে না, বরং জ্বালানি ও বাণিজ্যের বৈশ্বিক স্নায়ুতন্ত্রকে অচল করে দিচ্ছে।
যুদ্ধ সরাসরি উৎপাদন ও পরিবহণকে প্রভাবিত করছে। চলমান সংঘাত কাঁচামালের সরবরাহে বড় শক তৈরি করেছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও খাদ্যদ্রব্যের সরবরাহে বাধা বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ প্রবাহ এবং মুদ্রা বাজারও প্রভাবিত হযচ্ছে। ঝুঁকি বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরাসরি অর্থ বাজার থেকে সরে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতও বিনিয়োগে অনীহা প্রদর্শন করছে। যুদ্ধের কারণে উৎপাদন খরচ যখন আকাশছোঁয়া, তখন সামগ্রিক চাহিদা বজায় রাখার দায়িত্ব সরাসরি রাষ্ট্রের ওপর এসে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে একটি বৈশ্বিক ‘হারানো দশক’ (Lost Decade) এড়াতে নিচের পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য—
আজকের বিশ্ব অর্থনীতি ঋণের ভারে জর্জরিত এবং যুদ্ধের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত। কেবল মুদ্রানীতির ওপর নির্ভর করে পুনর্জীবন সম্ভব নয়। স্থবিরতা কাটিয়ে টেকসই পুনরুদ্ধারের জন্য সাহসী, কৌশলগত রাজস্ব হস্তক্ষেপ অপরিহার্য।
* এই নিবন্ধে উপস্থাপিত তথ্য ও বিশ্লেষণ একান্তই লেখকের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ এবং শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে রচিত। এটি কোনো প্রকার আর্থিক, বিনিয়োগ বা আইনি পরামর্শ হিসেবে গণ্য হবে না।
লেখক: কলামিস্ট ও অর্থনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক

বই আমাদের জীবনের কেন্দ্র থেকে ধীরে ধীরে সরে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে ঘরের সাজসজ্জার অংশ হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ বইকে এমন এক ধরনের ‘সামাজিক আসবাব’ হিসেবেও ব্যবহার করেন, যা ঘরের রুচি ও সামাজিক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। হকিংয়ের বই নিয়ে পুরোনো এক প্রতিবেদনে প্রকাশকরাই এমন বইকে ‘সোশ্যাল ফার্নিচার’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
৫ দিন আগে
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সতর্ক করেছেন— বড় ভূমিকম্পে ঢাকার বহু এলাকায় উদ্ধারকারী দলের পৌঁছানো কঠিন হবে, কোথাও কোথাও উদ্ধার অভিযান চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। তার এ বক্তব্যকে একটি সংস্থার সীমাবদ
৫ দিন আগে
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির সংকট। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া, আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, দুর্বল চাহিদা ব্যবস্থাপনা এবং বছরের পর বছর ধরে চলা পরিকল্পনার ঘাটতি মিলেই বারবার এই সংকট তৈরি করছে।
৬ দিন আগে
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার বিকল্প নেই। এনটিআরসিএ’র বিদ্যমান কাঠামোর কোনো দুর্বলতা থাকলে তা পর্যালোচনা ও সংস্কারের মাধ্যমে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই এই প্রক্রিয়াকে পেছনে ঠেলে দিয়ে আবার ব্যক্তি বা কমিটির দুর্নীতির সুযোগ করে
৬ দিন আগে