ওয়ানডেতে প্রথমবার ৫ শতক, গিলের দ্রুততম দ্বিশতকে ৪০০ করেও হারল উইন্ডিজ

ক্রীড়া ডেস্ক
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০০: ২৫
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ৪০৬ রানের টার্গেট চেজ করতে নেমে ওয়ানডেতে দ্রুততম দ্বিশতকের রেকর্ড গড়েছেন ভারতের শুভমান গিল। ছবি: সংগৃহীত
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ৪০৬ রানের টার্গেট চেজ করতে নেমে ওয়ানডেতে দ্রুততম দ্বিশতকের রেকর্ড গড়েছেন ভারতের শুভমান গিল। ছবি: সংগৃহীত

ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে একই ম্যাচে পাঁচ ব্যাটারের সেঞ্চুরি— এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। সেই বিরল কীর্তির ম্যাচেই আবার ওয়ানডের দ্রুততম দ্বিশতকের রেকর্ড গড়েছেন ভারতের অধিনায়ক শুভমান গিল। গিলের অপরাজিত ২২৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ৪০৬ রানের লক্ষ্য মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে গেছে ভারত। জিতেছে ৮ উইকেটে, হাতে ছিল ৩৯ বল।

রেকর্ড বই তছনছ করে দেওয়া এই ম্যাচে রান তাড়ার নতুন রেকর্ডও গড়েছে ভারত। ওয়ানডেতে এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৬০ রান তাড়া করে জয় ছিল তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য। এবার সেটিও উঠে গেল নতুন উচ্চতায়। আর ওয়ানডেতে ৪০০ প্লাস স্কোর তাড়া করে জয়েরও এটি মাত্র দ্বিতীয় নজির। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৩৮ রান তাড়া করে জয় তুলে নেওয়ার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

গুয়াহাটির বারসাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টস জিতে আগে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে ৪০৫ রান তোলে। ওয়ানডেতে উইন্ডিজের এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এই প্রথমবার ওয়ানডেতে ৪০০ রানের মাইলফলকও স্পর্শ করল দলটি।

বিশাল এই সংগ্রহের পথে জন ক্যাম্পবেল ৬৮ বলে করেছেন ১০১ রান। শতক পেয়েছেন অধিনায়ক শাই হোপও, ৯৪ বলে করেছেন ১০৪ রান। আর সবচেয়ে বিধ্বংসী ছিলেন আমির জাঙ্গু, ৭৭ বল থেকে তার সংগ্রহ ১১৪ রান। একই ইনিংসে তিন ব্যাটারের সেঞ্চুরি ওয়ানডে ইতিহাসে মাত্র ষষ্ঠবার ঘটল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে প্রথম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪০০ পেরোনো ইনিংসে সবচেয়ে বেশি বিধ্বংসী ছিলেন আমির জাঙ্গু। ছবি: সংগৃহীত
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪০০ পেরোনো ইনিংসে সবচেয়ে বেশি বিধ্বংসী ছিলেন আমির জাঙ্গু। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ ওয়ানডে দলীয় সংগ্রহ ছিল ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৮৯ রান। দুঃখজনক বিষয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দুটি ইনিংসের একটিতেও জয় আসেনি। ৩৮৯ রানের ইনিংসটি ছিল ইংল্যান্ডের দেওয়া ৪১৮ রানের টার্গেট তাড়া করে। সে ম্যাচ উইন্ডিজ হেরেছিল ২৯ রানে। এবার ওয়ানডেতে প্রথমবার ৪০০ পেরিয়েও তারা ম্যাচ হারল ভারতের কাছে।

ক্যাম্পবেল ও হোপের ১১০ রানের জুটি দিয়ে শুরু হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানবন্যা। এরপর হোপ ও জাঙ্গু তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ১৮২ রান। একপর্যায়ে ৪০ ওভার শেষে তাদের রান ছিল ৩২৯। মনে হচ্ছিল, ওয়ানডে ৪৩০-৪৪০ রানের কাছাকাছি চলে যাবে দলটি। কিন্তু শেষ ১০ ওভারে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে গতি কিছুটা কমে যায়। তবু ৪০৫ রান ভারতের সামনে দাঁড় করিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৈরি করে তাদের প্রথম ৪০০-প্লাস ওয়ানডে ইনিংস।

ম্যাচের প্রথম ইনিংস শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই সংগ্রহ বিশাল মনে হলেও ভারতের ব্যাটিংয়ের কাছে সেই স্কোরও শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন রোহিত শর্মা ও গিল। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ২৫৫ রান।

রোহিত ৭৫ বলে ১০১ রান করে ফিরলেও গিল থামেননি। ৬২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি। ৮৯ বলে ১৫০ এবং মাত্র ১১৭ বলে ২০০ রান পূর্ণ করেন ভারতের অধিনায়ক। এত দিন ওয়ানডেতে দ্রুততম দ্বিশতকের রেকর্ড ছিল ইশান কিষানের— ২০২২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১২৬ বলে। গিল সেটি ভেঙে দেন ৯ বল কম খেলে।

শেষ পর্যন্ত ১৩৩ বলে ২২৩ রানে অপরাজিত থাকেন গিল। তার ইনিংসে ছিল ২৬টি চার ও ৮টি ছক্কা। এটি ওয়ানডেতে রান তাড়া করতে নেমে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। একই সঙ্গে গিল হলেন রোহিত শর্মার পর দ্বিতীয় ব্যাটার, যার ওয়ানডেতে একাধিক দ্বিশতক রয়েছে। রোহিতের দ্বিশতক রয়েছে তিনটি।

এই ম্যাচে আরও একটি মাইলফলক গড়েছেন রোহিত। সেঞ্চুরির পথে তিনি ওয়ানডেতে ১২ হাজার রান পূর্ণ করেছেন। আর ভারতের হয়ে ২ উইকেট নেওয়া কুলদীপ যাদব পূর্ণ করেছেন ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট।

৪০৫ রান করেও হারের ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুর্দান্ত ব্যাটিং শেষ পর্যন্ত ঢাকা পড়ে গেছে গিলের অতিমানবীয় ইনিংসে। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজও ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে ভারত।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement