ব্যাটিং ব্যর্থতায় ওয়ানডে সিরিজও খোয়াল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
তানজিদ-হৃদয়ের ৮৪ রানের জুটি পথ দেখালেও জয় তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। ছবি: জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট

একমাত্র টেস্টের মতো ওয়ানডে সিরিজেও বাংলাদেশি ব্যাটারদের হতশ্রী পারফরম্যান্স অব্যাহত রয়েছে। আর তার মাশুল গুনতে হলো সিরিজ হেরে। ২৪৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচ হারল ১৩ রানে। তাতে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজ নিশ্চিত করল জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশি ব্যাটাররা এমন ব্যাটিংয়ের ‘ধারাবাহিকতা’ ধরে রাখলে হোয়াইটওয়াশের শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হারারে স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ায় সিরিজ বাঁচাতে এ ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না মিরাজদের সামনে। কিন্তু প্রথম ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও ব্যাটাররা তুমুল ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

২৪৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩৬ ওভারে ৩ উইকেটে ১৬৯ রান তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ ১৪ ওভারে তখন বাংলাদেশের প্রয়োজন ৭৯ রান। আস্কিং রান রেট সাড়ে ৫-এর কিছুটা বেশি। কিন্তু ৬৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য থেকে ১৩ রান দূরে থাকতেই অলআউট বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ১৩ রানের মাথায় আউট হয়ে যান সৌম্য সরকার, তার সংগ্রহ ছিল ১০ বলে ৫ রান। ১৬ বলে ৯ রান করে নবম ওভারে প্যাভিলিয়নে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দলের রান তখন ৩৮।

তৃতীয় উইকেটে তানজিদ তামিম আর তাওহীদ হৃদয় বিপর্যয় সামাল দেন ১০৮ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়ে। ২৭তম ওভারে তানজিদ আউট হয়ে গেলে জুটি ভাঙে। আউট হওয়ার আগে তিনি করেছিলেন ৭০ বলে ৫৭ রান।

এরপর নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে হৃদয় ৫৮ বলে ৪৭ রানের জুটি গড়েন। তখনো জয় নাগালেই ছিল বাংলাদেশের। ৩৭তম ওভারের প্রথম বলে হৃদয়ের আউটে মড়কের শুরু। এরপর আর থামানো যায়নি বাংলাদেশি ব্যাটারদের প্যাভিলিয়নে ফেরার মিছিল। জিম্বাবুয়ের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রান আটকে রাখার পাশাপাশি নিয়মিত উইকেটও তুলে নিতে থাকেন।

৯০ বলে ৬০ রান করে হৃদয় ফিরে গিয়েছিলেন ড্রেসিং রুমে। পরের ওভারেই আউট হয়ে যান মোসাদ্দেক সৈকত (৯ বলে ৭ রান)। ৪২তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ২০৭ রানের মাথায় সোহানও প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন, ৪১ বলে ৩৮ করেছিলেন তিনি।

শেষ ৮ ওভারে তখন দলের প্রয়োজন ৪১ রান, হাতে ৪ উইকেট। মিরাজ-রিশাদ-তাসকিনরা সেই রান নিতে পারেননি। ৪৬তম ওভারে রিশাদ হোসেন আউট হয়ে যান ১৫ বলে ৮ রান করে। পরের ওভারে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তাসকিনও, ২ বল খেলে কোনো রান সংগ্রহ করতে পারেননি তিনি। ৪৮তম ওভারের প্রথম বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে যান শরিফুল ইসলামও, ৪ বলে ৬ রান নিয়েছিলেন তিনি।

শেষ ২ ওভারে দলের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। তখনো শেষ ভরসা হয়ে ক্যাপ্টেন মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ৩২ বলে ২৭ রান করে। কিন্তু ৪৯তম ওভারের প্রথম বলেই এনগারাভার বলে ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান মিরাজ। টানা ৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৩ রানের পরাজয় বরণ করে বাংলাদেশ। সিরিজ খোয়ানোও নিশ্চিত হয়।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে ৯ ওভার ১ বলে ৫৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার রিচার্ড এনগারাভা। ব্লেসিং মুজারাবানি ১০ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে এবং ব্র্যাড ইভানস ৯ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন সিকান্দার রাজা, ব্রায়ান বেনেট ও ওয়েসলি মাধভিয়ার।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়েও সুবিধা করতে পারেনি। প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটের উইকেট তুলে নেন তাসকিন আহমেদ। নিজের দ্বিতীয় আর ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ইনোসেন্ট কাইয়ার উইকেটও তুলে নেন তিনি। দলের নবম ও নিজের দ্বিতীয় ওভারে ক্রেইগ আরভিনের উইকেট তুলে নেন তরুণ সেনসেশন নাহিদ রানা। ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন চাপে জিম্বাবুয়ে।

আরেক ওপেনার বেন কারান তখনো একপাশে অপরাজিত। চতুর্থ উইকেটে মাধভিয়ারকে নিয়ে ৪৫ বলে ৩৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। ১৭তম ওভারে ৬৬ রানের মাথায় মাধভিয়ার আউট হয়ে গেলে পঞ্চম উইকেটে তিনি সঙ্গী পান সিকান্দার রাজাকে, গড়েন ৯৫ বলে ৬৮ রানের জুটি। ২৮ বল আর ১৪ রানের ব্যবধানে সিকান্দার রাজার পাশাপাশি ক্লাইভ ম্যাডান্ডেও আউট হয়ে গেলে জিম্বাবুয়ের বড় রানের সংগ্রহের স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছিল। কারণ ৩৬ ওভার ৫ বলে তখন দলের সংগ্রহ মাত্র ১৪৮।

সেখান থেকে ব্র্যাড ইভানসকে সঙ্গে নিয়ে ৮০ বলে ৯৯ রানের জুটি গড়ে আড়াই শ ছুঁই ছুঁই স্কোর সংগ্রহ করে ফেলে জিম্বাবুয়ে। এই সময়ে বাংলাদেশি বোলারদের রীতিমতো কচুকাটা করেন ইভানস। দুই বাউন্ডারির পাশাপাশি ৫টি ছক্কায় তিনি ৩৮ বলে ৫৮ রান সংগ্রহ করে অপরাজিত থাকেন। অন্যপ্রান্তে ১৩৫ বলে ১১১ রানে অপরাজিত থাকেন বেন কারান।

জিম্বাবুয়ের ইতিহাসে নবম ব্যাটার হিসেবে কারান ‘ক্যারিং ব্যাট থ্রু দ্য ইনিংস’ তথা গোটা ৫০ ওভার ব্যাট করে অপরাজিত থাকেন। ১৯৯২ সালে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার প্রথম জিম্বাবুইয়ান ব্যাটার হিসেবে এমন নজির স্থাপন করেছিলেন শ্রীলংকার বিপক্ষে। ১৯৯৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একই ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন তার ভাই গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার। এরপর নেইল জনসন, অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল, ক্রেইগ উইশার্ট, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, ব্রেন্ডন টেইলর ও সবশেষ গত বছর ব্রায়ান বেনেট গোটা ৫০ ওভার ব্যাট করার নজির স্থাপন করেছিলেন।

বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও মেহেদি হাসান মিরাজ। একটি করে উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেন। গোটা ৫০ ওভার ব্যাট করে শতক তুলে নেওয়া কারান পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।

হারারে স্টেডিয়ামেই আগামী শনিবার (১১ জুলাই) সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। সে ম্যাচে হারলে জিম্বাবুয়ের মাটি থেকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা নিয়ে ফিরতে হবে মিরাজ অ্যান্ড কোম্পানিকে।

ad
ad

খেলা থেকে আরও পড়ুন

ভিনিসিয়ুসকে ঘিরে টানাপোড়েন, আর্সেনালের নজরে ব্রাজিলিয়ান তারকা

স্প্যানিশ গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভিনিসিয়ুসের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের জুনে। নতুন চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও বেতন নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।

৩ দিন আগে

ফুটবলের পর এবার টেলিভিশন ড্রামায় রোনালদো

রোনালদোর সঙ্গে এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন আর্সেনাল ও ফ্রান্সের সাবেক কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি। একসময় মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও এবার তারা একই প্রজেক্টে কাজ করবেন।

৩ দিন আগে

আগস্ট থেকে মাঠে গড়াবে ক্লাব ফুটবল, কোন লিগ কবে শুরু

নতুন মৌসুমের সূচনা হবে স্প্যানিশ লা লিগা দিয়ে। আগামী ১৫ আগস্ট উদ্বোধনী ম্যাচে আলাভেসের মুখোমুখি হবে গেতাফে।

৫ দিন আগে

শেষ হলো ১৭ বছরের রঙিন অধ্যায়, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ওটামেন্ডি

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা আলবিসেলেস্তেদের হয়ে দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপাও উঁচিয়ে ধরেছেন। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ১৩৯টি ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ওটামেন্ডি। স্পেনের বিপক্ষে অতি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্তঃমহাদেশীয় লড়াই ফিনালিসিমায় (বা সাম্প্রতিক ফাইনাল ম্যাচ) ১-০ গোলের হারের স্মৃতি

৭ দিন আগে