
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপ মানেই ফুটবলের মহারণ। তবে এবার মাঠের লড়াই, গোল আর জয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। লাল কার্ড প্রত্যাহার, ভিএআর বিতর্ক, রাজনৈতিক প্রভাব, সন্দেহজনক রেফারিং— বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের ক্রীড়া বিভাগ দ্য অ্যাথলেটিক বিশ্বকাপ জুড়ে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত ১০টি ঘটনা নিয়ে একটি বিশেষ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, বড় টুর্নামেন্টে হার-জিতের পর রেফারি বা আয়োজকদের নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে এবার নকআউট পর্বে অসন্তোষ, সন্দেহ এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগের মাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে।
দ্য অ্যাথলেটিক বলছে, কিছু অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, আবার কিছু বিতর্কের পেছনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েই যৌক্তিক প্রশ্ন রয়েছে। ফিফার স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই এসব বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ১০টি বিতর্ক বিশ্লেষণ করেছে দ্য অ্যাথলেটিক। নিচে এর আটটি তুলে ধরা হলো—
বিতর্ক-১: বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহার
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী পরের ম্যাচে তার খেলার সুযোগ ছিল না।
কিন্তু বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ফিফা তার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সরকারি কর্মকর্তারা এবং ইউএস সকার ফেডারেশন ফিফার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এই সিদ্ধান্ত আদায় করে।
বেলজিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানালেও ফিফা সেই আপত্তি নাকচ করে দেয়।
পরে ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ফিফাকে ধন্যবাদ জানিয়ে পোস্ট করেন এবং সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি নিজেই ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলাম।’
বিতর্ক-২: রোনালদোর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
গত বছরের ১৩ নভেম্বর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার দারা ও’শেয়াকে কনুই দিয়ে আঘাত করায় লাল কার্ড দেখেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
এর পাঁচ দিন পর, ১৮ নভেম্বর ওয়াশিংটনের এক নৈশভোজে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দেখা যায় পর্তুগিজ এই তারকাকে।
এর এক সপ্তাহ পরই রহস্যজনকভাবে রোনালদোর তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ফিফা। ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাকে এক বছরের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখে বিশ্বকাপে খেলার অনুমতি দেয়।
সমালোচকদের দাবি, রোনালদোর মতো মেগাস্টারকে শুরু থেকেই বিশ্বকাপে রাখতে ফিফা এই বিশেষ ছাড় দিয়েছে। কারণ, টিকিট বিক্রির দিক থেকে মেক্সিকো ও ব্রাজিলের পরই সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল পর্তুগালের ম্যাচের।
বিতর্ক-৩: ট্রাম্পকে ‘ফিফা পিস প্রাইজ’
গত বছরের ৫ নভেম্বর হঠাৎ করেই ‘ফিফা পিস প্রাইজ— ফুটবল ইউনাইটস দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামে নতুন একটি পুরস্কার চালুর ঘোষণা দেয় ফিফা।
অভিযোগ ওঠে, ফিফা কাউন্সিলের ৩৭ সদস্যের কাউকে না জানিয়েই প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো একক সিদ্ধান্তে এই পুরস্কার চালু করেন।
ঘোষণার দিনই ফ্লোরিডার মায়ামিতে একটি বিজনেস ফোরামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একই মঞ্চে ছিলেন ইনফান্তিনো।
এর ঠিক এক মাস পর, ৫ ডিসেম্বর বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো এই ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ তুলে দেওয়া হয় ট্রাম্পের হাতে।
ফিফার এই সিদ্ধান্ত নিয়েও ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
বিতর্ক-৪: নতুন সিডিং ব্যবস্থা
এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো টেনিসের আদলে একটি বিশেষ সিডিং সিস্টেম চালু করেছে ফিফা।
এই ড্র বিন্যাসে এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দুই দল ফাইনালের আগে কোনোভাবেই মুখোমুখি না হয়।
বড় দলগুলোর সম্ভাব্য লড়াই শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল স্পন্সর, টিকিট বিক্রি এবং সম্প্রচার স্বত্ব থেকে সর্বোচ্চ আয় নিশ্চিত করা।
সমালোচকদের প্রশ্ন, এটি কি কেবল টুর্নামেন্টের আকর্ষণ বাড়ানোর কৌশল, নাকি প্রতিযোগিতার ন্যায্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে?
বিতর্ক-৫: হাইড্রেশন ব্রেক
এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো প্রতি অর্ধে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক চালু করেছে ফিফা।
ফিফার দাবি, খেলোয়াড়দের পানিশূন্যতা রোধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামেও কেন এই অতিরিক্ত বিরতির প্রয়োজন হলো?
ব্লুমবার্গ ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অতিরিক্ত বিরতিতে টেলিভিশন ব্রডকাস্টাররা বাড়তি বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ পাচ্ছে, যা ফিফার স্পন্সরদের বড় ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা দিচ্ছে।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও দাবি করা হয়েছে, শুধু হাইড্রেশন ব্রেক ঘিরে বিজ্ঞাপন বিক্রি থেকেই ফিফার স্পন্সররা প্রায় ২৫ কোটি ডলার আয় করছে।
বিতর্ক-৬: স্কাইক্যামের তারে লেগে গোল?
কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ২–১ গোলের জয়ের পর নতুন এক বিতর্কের জন্ম হয়।
অভিযোগ, ম্যাচের এক পর্যায়ে নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিলান্ডের নেওয়া গোল কিকটি শূন্যে ঝুলন্ত স্কাইক্যামের তারে লেগে দিক পরিবর্তন করে নিচে পড়ে।
সেখান থেকেই বল পেয়ে গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম, যা ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেয়।
নরওয়ের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ প্রতিবাদ জানালেও রেফারি জানান, বলের ভেতরে থাকা বিশেষ চিপ প্রযুক্তিতে কোনো স্পর্শের সংকেত পাওয়া যায়নি।
তবে টেলিভিশনের ভিডিও ফুটেজে বলের অস্বাভাবিক গতিপথ এবং হঠাৎ নিচে নেমে আসার দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি।
বিতর্ক-৭: ‘পাতানো’ ম্যাচের অভিযোগ
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সমীকরণ ছিল পরিষ্কার— আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার ম্যাচ ড্র হলেই দুই দল উঠবে পরের রাউন্ডে, আর বিদায় নেবে ইরান।
এই আশঙ্কায় ১৯৭৮ সালের কুখ্যাত ‘ডিসগ্রেস অব গিহোন’-এর উদাহরণ টেনে আগেই ফিফাকে সতর্ক করেছিল ইরান।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অস্ট্রিয়া ৩–৩ সমতায় ফেরার পর অভিযোগ ওঠে, দুই দলই ইচ্ছাকৃতভাবে শুধু বল পাস করতে থাকে। কেউ আর আক্রমণে যায়নি।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৩–৩ গোলে ড্র হয় এবং বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় ইরান।
অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক ‘পাতানো’ খেলার অভিযোগ অস্বীকার করলেও ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটের দৃশ্য ফুটবল অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিতর্ক-৮: আর্জেন্টিনা ও ইনফান্তিনোকে ঘিরে প্রশ্ন
এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং আর্জেন্টিনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি ও ইনফান্তিনোকে ঘিরে অসংখ্য এআই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সমর্থকের দাবি, আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করতেই টুর্নামেন্ট জুড়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসিকে ঘিরে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায়।
শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর মিসরের তারকা মোস্তাফা জিকো অভিযোগ করেন, ‘বিশ্বকাপ ট্রফি আগেই আর্জেন্টিনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও ভিএআর বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে।
তবে ফিফার রেফারি প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো ভিত্তি নেই।
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই বিতর্ক যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। মাঠের সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কার্যক্রম, ভিএআর, শাস্তি প্রত্যাহার, রাজনৈতিক প্রভাব ও রেফারিং— সব মিলিয়ে টুর্নামেন্ট জুড়ে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েছে ফিফা।
এসব ঘটনার কিছু নিছক আবেগনির্ভর অভিযোগ হলেও, কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিটি ঘটনাই টুর্নামেন্টের ভিন্ন ভিন্ন দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র করেছে।

বিশ্বকাপ মানেই ফুটবলের মহারণ। তবে এবার মাঠের লড়াই, গোল আর জয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। লাল কার্ড প্রত্যাহার, ভিএআর বিতর্ক, রাজনৈতিক প্রভাব, সন্দেহজনক রেফারিং— বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের ক্রীড়া বিভাগ দ্য অ্যাথলেটিক বিশ্বকাপ জুড়ে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত ১০টি ঘটনা নিয়ে একটি বিশেষ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, বড় টুর্নামেন্টে হার-জিতের পর রেফারি বা আয়োজকদের নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে এবার নকআউট পর্বে অসন্তোষ, সন্দেহ এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগের মাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে।
দ্য অ্যাথলেটিক বলছে, কিছু অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, আবার কিছু বিতর্কের পেছনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েই যৌক্তিক প্রশ্ন রয়েছে। ফিফার স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই এসব বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ১০টি বিতর্ক বিশ্লেষণ করেছে দ্য অ্যাথলেটিক। নিচে এর আটটি তুলে ধরা হলো—
বিতর্ক-১: বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহার
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী পরের ম্যাচে তার খেলার সুযোগ ছিল না।
কিন্তু বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ফিফা তার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সরকারি কর্মকর্তারা এবং ইউএস সকার ফেডারেশন ফিফার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এই সিদ্ধান্ত আদায় করে।
বেলজিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানালেও ফিফা সেই আপত্তি নাকচ করে দেয়।
পরে ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ফিফাকে ধন্যবাদ জানিয়ে পোস্ট করেন এবং সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি নিজেই ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলাম।’
বিতর্ক-২: রোনালদোর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
গত বছরের ১৩ নভেম্বর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার দারা ও’শেয়াকে কনুই দিয়ে আঘাত করায় লাল কার্ড দেখেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
এর পাঁচ দিন পর, ১৮ নভেম্বর ওয়াশিংটনের এক নৈশভোজে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দেখা যায় পর্তুগিজ এই তারকাকে।
এর এক সপ্তাহ পরই রহস্যজনকভাবে রোনালদোর তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ফিফা। ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাকে এক বছরের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখে বিশ্বকাপে খেলার অনুমতি দেয়।
সমালোচকদের দাবি, রোনালদোর মতো মেগাস্টারকে শুরু থেকেই বিশ্বকাপে রাখতে ফিফা এই বিশেষ ছাড় দিয়েছে। কারণ, টিকিট বিক্রির দিক থেকে মেক্সিকো ও ব্রাজিলের পরই সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল পর্তুগালের ম্যাচের।
বিতর্ক-৩: ট্রাম্পকে ‘ফিফা পিস প্রাইজ’
গত বছরের ৫ নভেম্বর হঠাৎ করেই ‘ফিফা পিস প্রাইজ— ফুটবল ইউনাইটস দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামে নতুন একটি পুরস্কার চালুর ঘোষণা দেয় ফিফা।
অভিযোগ ওঠে, ফিফা কাউন্সিলের ৩৭ সদস্যের কাউকে না জানিয়েই প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো একক সিদ্ধান্তে এই পুরস্কার চালু করেন।
ঘোষণার দিনই ফ্লোরিডার মায়ামিতে একটি বিজনেস ফোরামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একই মঞ্চে ছিলেন ইনফান্তিনো।
এর ঠিক এক মাস পর, ৫ ডিসেম্বর বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো এই ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ তুলে দেওয়া হয় ট্রাম্পের হাতে।
ফিফার এই সিদ্ধান্ত নিয়েও ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
বিতর্ক-৪: নতুন সিডিং ব্যবস্থা
এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো টেনিসের আদলে একটি বিশেষ সিডিং সিস্টেম চালু করেছে ফিফা।
এই ড্র বিন্যাসে এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দুই দল ফাইনালের আগে কোনোভাবেই মুখোমুখি না হয়।
বড় দলগুলোর সম্ভাব্য লড়াই শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল স্পন্সর, টিকিট বিক্রি এবং সম্প্রচার স্বত্ব থেকে সর্বোচ্চ আয় নিশ্চিত করা।
সমালোচকদের প্রশ্ন, এটি কি কেবল টুর্নামেন্টের আকর্ষণ বাড়ানোর কৌশল, নাকি প্রতিযোগিতার ন্যায্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে?
বিতর্ক-৫: হাইড্রেশন ব্রেক
এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো প্রতি অর্ধে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক চালু করেছে ফিফা।
ফিফার দাবি, খেলোয়াড়দের পানিশূন্যতা রোধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামেও কেন এই অতিরিক্ত বিরতির প্রয়োজন হলো?
ব্লুমবার্গ ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অতিরিক্ত বিরতিতে টেলিভিশন ব্রডকাস্টাররা বাড়তি বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ পাচ্ছে, যা ফিফার স্পন্সরদের বড় ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা দিচ্ছে।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও দাবি করা হয়েছে, শুধু হাইড্রেশন ব্রেক ঘিরে বিজ্ঞাপন বিক্রি থেকেই ফিফার স্পন্সররা প্রায় ২৫ কোটি ডলার আয় করছে।
বিতর্ক-৬: স্কাইক্যামের তারে লেগে গোল?
কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ২–১ গোলের জয়ের পর নতুন এক বিতর্কের জন্ম হয়।
অভিযোগ, ম্যাচের এক পর্যায়ে নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিলান্ডের নেওয়া গোল কিকটি শূন্যে ঝুলন্ত স্কাইক্যামের তারে লেগে দিক পরিবর্তন করে নিচে পড়ে।
সেখান থেকেই বল পেয়ে গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম, যা ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেয়।
নরওয়ের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ প্রতিবাদ জানালেও রেফারি জানান, বলের ভেতরে থাকা বিশেষ চিপ প্রযুক্তিতে কোনো স্পর্শের সংকেত পাওয়া যায়নি।
তবে টেলিভিশনের ভিডিও ফুটেজে বলের অস্বাভাবিক গতিপথ এবং হঠাৎ নিচে নেমে আসার দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি।
বিতর্ক-৭: ‘পাতানো’ ম্যাচের অভিযোগ
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সমীকরণ ছিল পরিষ্কার— আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার ম্যাচ ড্র হলেই দুই দল উঠবে পরের রাউন্ডে, আর বিদায় নেবে ইরান।
এই আশঙ্কায় ১৯৭৮ সালের কুখ্যাত ‘ডিসগ্রেস অব গিহোন’-এর উদাহরণ টেনে আগেই ফিফাকে সতর্ক করেছিল ইরান।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অস্ট্রিয়া ৩–৩ সমতায় ফেরার পর অভিযোগ ওঠে, দুই দলই ইচ্ছাকৃতভাবে শুধু বল পাস করতে থাকে। কেউ আর আক্রমণে যায়নি।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৩–৩ গোলে ড্র হয় এবং বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় ইরান।
অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক ‘পাতানো’ খেলার অভিযোগ অস্বীকার করলেও ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটের দৃশ্য ফুটবল অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিতর্ক-৮: আর্জেন্টিনা ও ইনফান্তিনোকে ঘিরে প্রশ্ন
এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং আর্জেন্টিনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি ও ইনফান্তিনোকে ঘিরে অসংখ্য এআই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সমর্থকের দাবি, আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করতেই টুর্নামেন্ট জুড়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসিকে ঘিরে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায়।
শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর মিসরের তারকা মোস্তাফা জিকো অভিযোগ করেন, ‘বিশ্বকাপ ট্রফি আগেই আর্জেন্টিনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও ভিএআর বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে।
তবে ফিফার রেফারি প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো ভিত্তি নেই।
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই বিতর্ক যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। মাঠের সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কার্যক্রম, ভিএআর, শাস্তি প্রত্যাহার, রাজনৈতিক প্রভাব ও রেফারিং— সব মিলিয়ে টুর্নামেন্ট জুড়ে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েছে ফিফা।
এসব ঘটনার কিছু নিছক আবেগনির্ভর অভিযোগ হলেও, কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিটি ঘটনাই টুর্নামেন্টের ভিন্ন ভিন্ন দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র করেছে।

১৯৫৪ সালে অভিষেকের পর গ্যারি সোবার্সের ক্যারিয়ার থামে ১৯৭৪ সালে। এই দুই দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯৩টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। ৫৭.৭৮ গড়ে করেছেন ৮ হাজার ৩২ রান, ৩৪.০৩ গড়ে নিয়েছেন ২৩৫ উইকেট। ৩৯টি টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি।
১৮ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে শুধু ফুটবলপ্রেমীদের নয়, বিশ্বনেতাদেরও আগ্রহ তুঙ্গে। রোববার নিউ জার্সিতে আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফাইনাল মাঠে বসে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। গ্যালারিতে থাকবেন স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ, রানি লেতিসিয়া ও তাদের দুই কন্যা।
২১ ঘণ্টা আগে
প্রথম ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। দুই ওপেনারের ১২০ রানের জুটির পর মাঝের ধসে চাপে পড়লেও শেষ দিকে ইয়াসির আলী ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়ে সফরকারীরা। এরপর শুরুতেই জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলে পুরো ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে বাংলাদেশ।
১ দিন আগে
দুই ওপেনার সাইফ হাসান এবং তানজিদ হাসান তামিম শুরু থেকে এগিয়েছেন সাবলীল ব্যাটিংয়ে। উইকেটের চারপাশে শট খেলেছেন। দলের বোর্ডে রানও তুলেছেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৫৪ রান তোলে বাংলাদেশ।
১ দিন আগে