রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ও ড্রোন হামলায় কিয়েভে নিহত ৪

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১২ জনেরও বেশি মানুষ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে এ রক্তক্ষয়ী হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি।

কিয়েভের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, গভীর রাতে পুরো কিয়েভ অঞ্চল লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রাণঘাতী ড্রোন দিয়ে একযোগে হামলা চালায় রুশ বাহিনী।

হামলার সময় রাজধানীতে অবস্থানরত এএফপির সাংবাদিকরা একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন এবং আকাশে আলোর তীব্র ঝলকানি দেখতে পান। এর ঠিক কিছুক্ষণ আগেই ইউক্রেনের বিমানবাহিনী কিয়েভ অভিমুখে রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসার আকস্মিক সতর্কবার্তা জারি করেছিল।

কিয়েভ নগর সামরিক প্রশাসনের তথ্যমতে, মূল রাজধানীতে হামলায় তিনজন নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এছাড়া কিয়েভের পূর্ব দিকে অবস্থিত বরিসপিল এলাকার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলায় একজন নিহত ও একজন আহত হন। একই অঞ্চলের একটি আবাসিক ভবনে পৃথক হামলায় আরও আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ব্যালিস্টিক অস্ত্রসহ অন্যান্য ড্রোন হামলার ঝুঁকি এখনো কাটেনি। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে মঙ্গলবার থেকেই ইউক্রেনের শিশুরা স্কুলে ফিরতে শুরু করেছে। আনন্দের দিনে নতুন করে রুশ হামলার শঙ্কা দেখা দেওয়ায় কিয়েভ ও আশপাশের পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা বলয় জোরদার করা হয়েছে।

কিয়েভ আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বড় ধরনের কোনো সমাবেশ বা অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। শিশুদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে হাই-স্পিড জেটচালিত ড্রোনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় দিনে একাধিকবার সাইরেন বাজিয়ে বিমান হামলার সতর্কসংকেত জারি করতে হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহান্তে কিয়েভের উপকণ্ঠে একটি গোলাবারুদের গুদামে রুশ হামলায় ৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই দূরপাল্লার হামলা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এসব হামলায় মূলত সামরিক গুদাম, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, তেল শোধনাগার, কৌশলগত বন্দর ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে—যার ফলে দিন দিন বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।

এদিকে রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিতে ভুগছে ইউক্রেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি 'প্যাট্রিয়ট' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় 'ইন্টারসেপ্টর' ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট কিয়েভের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে দুবাই বিমানবন্দরে মাটির নিচে যাবে জ্বালানি ট্যাংক

নতুন বিমানবন্দরের নকশা প্রণয়নের সময় জ্বালানি ট্যাংক মাটির নিচে রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানান গ্রিফিথস। তার ভাষায়, মূল বিষয় হলো হামলার সম্ভাবনা, এর পরিণতি এবং সঠিক মাত্রার ঝুঁকি— এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনা করা।

৮ ঘণ্টা আগে

আর্কটিকে রুশ সাবমেরিনের নাশকতা ঠেকানোর দাবি ন্যাটোর

ওই ঘটনায় কোনো ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রাশিয়া তখন বাস্তবে কোনো ক্যাবল কাটার বদলে একটি নতুন ধরনের নাশকতা প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটির মহড়া চালাচ্ছিল। প্রযুক্তিটির ধরন বা এটি কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

৮ ঘণ্টা আগে

হরমুজের পর বাব-এল-মান্দেব: মোখা দখলে হুতিরা, চাপে বৈশ্বিক বাণিজ্য

বাব এল-মান্দেব থেকে মোখা প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর চারটি সামরিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হুতিরা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। একই সময়ে তারা হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও অগ্রসর হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী দক্ষিণে ধুবাবের দিকে এগোচ্ছে। ধুবাব বাব এল-মান

১১ ঘণ্টা আগে

মার্কিন ইতিহাসের ভয়াবহতম সেই হামলার দিন ও তারপর কী ঘটেছিল

দিনটি ছিল ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার। ছিনতাইকারীরা ছোট ছোট দলে পূর্ব আমেরিকার আকাশপথ দিয়ে ওড়া চারটি বিমান একইসাথে ছিনতাই করে। তারা বিমানগুলোকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে নিউইয়র্ক আর ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আঘাত হানার জন্য।

১২ ঘণ্টা আগে
Advertisement