
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের দ্রুত সামরিক অগ্রযাত্রায় লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা বা তা বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার প্রণালিটির মাঝখানে অবস্থিত পেরিম দ্বীপে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে এই সক্ষমতা আরও জোরালো হয়েছে।
এতে ইরানের সঙ্গে সপ্তম মাসে চলা যুদ্ধে নতুন এক সংকটের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ বাব আল-মান্দাব বন্ধ হয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান তেল পরিবহন নৌপথের ওপরই তেহরানের প্রভাব বাড়তে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বাব আল-মান্দেব প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেলে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর লোহিত সাগরের বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি করা সৌদি আরব নতুন করে বড় ঝুঁকিতে পড়বে।
নতুন সামরিক চাপে যুক্তরাষ্ট্র
বাব আল-মান্দেব ইয়েমেন ও আফ্রিকার মাঝখানে অবস্থিত এবং লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে এই নৌপথকে ‘গেট অব টিয়ার্স’ বা ‘অশ্রুর দ্বার’ বলা হয়। এই প্রণালিতে হুতিদের অগ্রযাত্রা এমন সময়ে ঘটছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পথ খুঁজছে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনসমর্থন রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে উচ্চ জ্বালানি মূল্য রিপাবলিকানদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখেও ইরান এখনো নতি স্বীকারের লক্ষণ দেখাচ্ছে না।
কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের জ্যেষ্ঠ ফেলো স্টিফেন ওয়ার্টহেইম বলেন, ট্রাম্পের কৌশল ছিল ইরানের অর্থনীতিকে চাপে রাখা, কিন্তু সংঘাতকে এমন পর্যায়ে না নেওয়া যাতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিও চাপে পড়ে। হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা সেই পরিকল্পনাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
বাব আল-মান্দেব বন্ধ করে দিলে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পরিস্থিতিতে পড়তে পারে, যেখানে জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে। কিন্তু হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সত্ত্বেও অতীতে হুতিদের দমন করা যায়নি। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে।

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন সামরিক সহায়তা চান। তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, আপাতত সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে রাজি হয়নি ওয়াশিংটন। তবে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ট্রাম্পও ওই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সময়ে হুতিরাও মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মিত্র দেশগুলোকে সক্ষম করে তোলা।
সৌদি আরব, ইরান ও হুতিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার বলেছে, হুতিদের বিরুদ্ধে অবরোধ বা সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ইয়েমেনের সংঘাতের সমাধান করা সম্ভব নয়। তারা সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। তবে হুতিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক বা তাদের সামরিক সহায়তার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি তেহরান।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও ঝুঁকিতে
হরমুজ প্রণালির পর বাব আল-মান্দেবও ঝুঁকিতে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে যাতায়াত করত।
রয়টার্স লিখেছে, হুতিরা বাব আল-মান্দেব বন্ধ করে দিতে পারলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে আরও বড় ধাক্কা লাগতে পারে। এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ৭ শতাংশ পেট্রোলিয়াম সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ পণ্য পরিবহন করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে নিকটপ্রাচ্যবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডেভিড শেনকার বলেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি ইরান একই সঙ্গে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব— এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এতে তেহরানের হাতে বিপুল অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব চলে আসবে।
বিশ্লেষক ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রকে কি নিজেদের সামরিক বাহিনী ও সীমিত বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করে হুতিদের ঠেকাতে হবে, নাকি সৌদি আরব, মিত্র দেশ এবং ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের সরকারকে নিজেদের মতো করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে দিতে হবে— এই সিদ্ধান্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
ইয়েমেনের রাজধানী সানা প্রায় ১২ বছর আগে দখলে নেয় হুতিরা। তাদের উৎখাত করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট অভিযান চালালেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো সমঝোতাও প্রশ্নে
রয়টার্স লিখেছে, হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে গত বছরের মার্কিন-হুতি সমঝোতাও কার্যত ভেঙে যাবে। ওই সমঝোতার আওতায় লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা বন্ধ করার বিনিময়ে হুতিদের ওপর বোমা হামলা বন্ধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
নতুন করে অভিযান শুরু হলে ইয়েমেন থেকে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়তে পারে মার্কিন বাহিনী। একই সঙ্গে হুতিদের অবস্থান গত বছরের তুলনায় বদলে যাওয়ায় তাদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে উল্লেখযোগ্য নৌ ও বিমান সম্পদ এবং বাড়তি গোয়েন্দা সক্ষমতা ব্যবহার করতে হতে পারে।
হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়িষ্ণু গোলাবারুদ ও বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের ওপরও চাপ বাড়তে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, সম্পদের সংকট নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ এবং এর বাইরেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য মজুত যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত টিম লেন্ডারকিং বর্তমানে এসকোয়ার প্যাটন বগসের কর্মকর্তা। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক ওয়েবকাস্টে তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে যেতে অনিচ্ছুক— এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
এ অবস্থায় ওয়াশিংটনের সৌদি আরবকে বিমান হামলা চালানোর জন্য আরও বেশি গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া এবং ইয়েমেন সরকারকে কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তা বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন টিম লেন্ডারকিং।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন ছিল, ‘ইয়েমেন আমাদের জন্য কী করতে পারে?’ তার উত্তর, ‘ইয়েমেন আমাদের দিনটাই নষ্ট করে দিতে পারে।’

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের দ্রুত সামরিক অগ্রযাত্রায় লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা বা তা বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার প্রণালিটির মাঝখানে অবস্থিত পেরিম দ্বীপে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে এই সক্ষমতা আরও জোরালো হয়েছে।
এতে ইরানের সঙ্গে সপ্তম মাসে চলা যুদ্ধে নতুন এক সংকটের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ বাব আল-মান্দাব বন্ধ হয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান তেল পরিবহন নৌপথের ওপরই তেহরানের প্রভাব বাড়তে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বাব আল-মান্দেব প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেলে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর লোহিত সাগরের বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি করা সৌদি আরব নতুন করে বড় ঝুঁকিতে পড়বে।
নতুন সামরিক চাপে যুক্তরাষ্ট্র
বাব আল-মান্দেব ইয়েমেন ও আফ্রিকার মাঝখানে অবস্থিত এবং লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে এই নৌপথকে ‘গেট অব টিয়ার্স’ বা ‘অশ্রুর দ্বার’ বলা হয়। এই প্রণালিতে হুতিদের অগ্রযাত্রা এমন সময়ে ঘটছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পথ খুঁজছে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনসমর্থন রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে উচ্চ জ্বালানি মূল্য রিপাবলিকানদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখেও ইরান এখনো নতি স্বীকারের লক্ষণ দেখাচ্ছে না।
কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের জ্যেষ্ঠ ফেলো স্টিফেন ওয়ার্টহেইম বলেন, ট্রাম্পের কৌশল ছিল ইরানের অর্থনীতিকে চাপে রাখা, কিন্তু সংঘাতকে এমন পর্যায়ে না নেওয়া যাতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিও চাপে পড়ে। হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা সেই পরিকল্পনাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
বাব আল-মান্দেব বন্ধ করে দিলে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পরিস্থিতিতে পড়তে পারে, যেখানে জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে। কিন্তু হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সত্ত্বেও অতীতে হুতিদের দমন করা যায়নি। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে।

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন সামরিক সহায়তা চান। তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, আপাতত সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে রাজি হয়নি ওয়াশিংটন। তবে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ট্রাম্পও ওই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সময়ে হুতিরাও মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মিত্র দেশগুলোকে সক্ষম করে তোলা।
সৌদি আরব, ইরান ও হুতিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার বলেছে, হুতিদের বিরুদ্ধে অবরোধ বা সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ইয়েমেনের সংঘাতের সমাধান করা সম্ভব নয়। তারা সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। তবে হুতিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক বা তাদের সামরিক সহায়তার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি তেহরান।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও ঝুঁকিতে
হরমুজ প্রণালির পর বাব আল-মান্দেবও ঝুঁকিতে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে যাতায়াত করত।
রয়টার্স লিখেছে, হুতিরা বাব আল-মান্দেব বন্ধ করে দিতে পারলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে আরও বড় ধাক্কা লাগতে পারে। এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ৭ শতাংশ পেট্রোলিয়াম সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ পণ্য পরিবহন করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে নিকটপ্রাচ্যবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডেভিড শেনকার বলেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি ইরান একই সঙ্গে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব— এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এতে তেহরানের হাতে বিপুল অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব চলে আসবে।
বিশ্লেষক ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রকে কি নিজেদের সামরিক বাহিনী ও সীমিত বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করে হুতিদের ঠেকাতে হবে, নাকি সৌদি আরব, মিত্র দেশ এবং ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের সরকারকে নিজেদের মতো করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে দিতে হবে— এই সিদ্ধান্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
ইয়েমেনের রাজধানী সানা প্রায় ১২ বছর আগে দখলে নেয় হুতিরা। তাদের উৎখাত করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট অভিযান চালালেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো সমঝোতাও প্রশ্নে
রয়টার্স লিখেছে, হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে গত বছরের মার্কিন-হুতি সমঝোতাও কার্যত ভেঙে যাবে। ওই সমঝোতার আওতায় লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা বন্ধ করার বিনিময়ে হুতিদের ওপর বোমা হামলা বন্ধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
নতুন করে অভিযান শুরু হলে ইয়েমেন থেকে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়তে পারে মার্কিন বাহিনী। একই সঙ্গে হুতিদের অবস্থান গত বছরের তুলনায় বদলে যাওয়ায় তাদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে উল্লেখযোগ্য নৌ ও বিমান সম্পদ এবং বাড়তি গোয়েন্দা সক্ষমতা ব্যবহার করতে হতে পারে।
হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়িষ্ণু গোলাবারুদ ও বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের ওপরও চাপ বাড়তে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, সম্পদের সংকট নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ এবং এর বাইরেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য মজুত যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত টিম লেন্ডারকিং বর্তমানে এসকোয়ার প্যাটন বগসের কর্মকর্তা। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক ওয়েবকাস্টে তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে যেতে অনিচ্ছুক— এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
এ অবস্থায় ওয়াশিংটনের সৌদি আরবকে বিমান হামলা চালানোর জন্য আরও বেশি গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া এবং ইয়েমেন সরকারকে কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তা বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন টিম লেন্ডারকিং।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন ছিল, ‘ইয়েমেন আমাদের জন্য কী করতে পারে?’ তার উত্তর, ‘ইয়েমেন আমাদের দিনটাই নষ্ট করে দিতে পারে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি (ইরান যুদ্ধ) খুব শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। সম্ভবত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরপরই এর সমাপ্তি ঘটবে। নির্বাচনকে জটিল করে তুলতেই তারা (ইরান) যতটা সম্ভব সময় ক্ষেপণ করার চেষ্টা করছে। তবে আমার মনে হয় জনগণ বিষয়টি ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে।’
৮ ঘণ্টা আগে
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ড্রোন হামলার পরপরই পাইপলাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এর অবস্থা যাচাই করতে জরুরি ও বিশেষায়িত কারিগরি দল মোতায়েন করা হয়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব কাজ করছে।
১০ ঘণ্টা আগে
স্যাটেলাইটের এসব ছবি নিয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের পাওয়া তথ্যের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে এর পক্ষে প্রমাণ চেয়েছেন চীনা কর্মকর্তারা। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বলেছে, ইরানের সঙ্গে চীনের সহযোগিতা আন্তর্জা
১০ ঘণ্টা আগে
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘোষণায় কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা জানানো হবে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে ব্রিকসের এমন অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১১ ঘণ্টা আগে