
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে কূটনৈতিকভাবে বরফ গলার আভাস মিলেছে। শনিবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ব্রিকস জোটের যৌথ ঘোষণায় সমর্থন দিয়েছেন। এতে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে— এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের বৈঠক হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান ও ইউএইর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়, উত্তেজনা কমানো, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকের পর কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সদস্য দেশগুলো গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে— এমন কর্মকাণ্ড এড়িয়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য, সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি প্রবাহ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইরান-ইউএইর দূরত্ব কমানোর চেষ্টা
চলমান যুদ্ধে ইরান ও ইউএই ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে ইরান একাধিকবার ইউএইকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ আগস্টের শেষ দিকে দেশটির আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। ওই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও হেলিকপ্টার ছিল। ওই হামলার পর তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে ইউএই।
দুই দেশের এই বিরোধের প্রভাব ব্রিকসের কার্যক্রমেও পড়েছে। গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এবার তাই শীর্ষ সম্মেলনে আয়োজক ও কূটনীতিকদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরান ও ইউএই— উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি অবস্থান তৈরি করা।
রয়টার্সকে চারটি সূত্র জানিয়েছে, শনিবার নেতারা শেষ পর্যন্ত যৌথ ঘোষণার খসড়ায় ঐকমত্যে পৌঁছান। এতে সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে— এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে বদলে দেবে— এমন সম্ভাবনা কম। তবে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ব্রিকসের সদস্যরা একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছেন, যা জোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
ভারতে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস পেজেশকিয়ান ও শেখ খালেদের বৈঠকের একটি ছবি প্রকাশ করেছে। তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।
ভারতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সুনজয় সুধীর রয়টার্সকে বলেন, যুদ্ধ শেষ করার চাবিকাঠি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে। তার মতে, ভারত কঠিন আলোচনাগুলো চালু রাখার সুযোগ তৈরি করেছে, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো একই টেবিলে বসতে পারে, কূটনৈতিকভাবে আলোচনা করতে পারে এবং যেসব বিষয়ে তাদের স্বার্থের মিল রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে পারে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতায় মিল
নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্রিকসের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইরান। শুক্রবার ব্রিকস বিজনেস ফোরামে অংশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানান।
কোনো দেশ যেন অন্য দেশের বৈধ বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, এমন পরিবেশ তৈরির তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও জোর দেন। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্রুত অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা যুক্ত করে ‘ব্রিকস পে’ চালু, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ডিজিটাল মুদ্রার মধ্যে সংযোগ তৈরি এবং স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানোর মতো উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা চলছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইরান ও ইউএইর সহযোগিতার আরেকটি দৃষ্টান্ত উঠে এসেছে শুক্রবারের ফোরামে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিকস অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তাদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং নতুন বাজারের সুযোগ বাড়ানোর যৌথ উদ্যোগে দুই দেশই সমর্থন জানিয়েছে।
সম্প্রসারণে বেড়েছে মতপার্থক্য
২০০৯ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে ব্রিকসের যাত্রা শুরু হয়। পরে জোটটি সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০২৪ সালে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান ও ইউএই এবং ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়া এতে যোগ দেয়।
সদস্য বাড়ার ফলে ব্রিকসের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক পরিধি বেড়েছে। তবে সদস্য দেশগুলোর ভিন্নমুখী পররাষ্ট্রনীতি ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে উঠেছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে রয়েছে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে ইউএইর সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক রয়েছে।
ব্রিকসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও সদস্য দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে। রাশিয়া ও চীন ব্রিকসকে পশ্চিমা প্রভাবের বিপরীতে বৈশ্বিক ভারসাম্য তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ জোট হিসেবে দেখলেও ভারত ও ব্রাজিল অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবিও জোরালো করছে ব্রিকস। এসব প্রতিষ্ঠানে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব বেশি— এমন ধারণা রয়েছে জোটের কয়েকটি সদস্য দেশের মধ্যে।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে ভারতের ভারসাম্য
সম্মেলনের আয়োজক ভারতও পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকে ঘিরে জটিল কূটনৈতিক ভারসাম্যের মধ্যে রয়েছে। ইরানের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে নয়াদিল্লির। এসব দেশে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় কর্মীও রয়েছেন।
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় নৌযানে হামলায় ইতোমধ্যে অন্তত ১০ জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুক্ত নৌচলাচল ও নাবিকদের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেন।
ভারত একদিকে আরব দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌযানে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করা একটি ঘোষণাতেও সই করেছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে নয়াদিল্লিকে একাধিক পরস্পরবিরোধী স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হচ্ছে।
ঐক্যকে বাস্তব ফলাফলে নিতে চায় ভারত
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ব্রিকস এখন পরিণত হয়েছে। জোটের ঐক্য ও ঐকমত্যকে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে।
সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাসহ সদস্য দেশগুলোর নেতারা অংশ নেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, ব্রিকস দেশগুলোর উচিত ইতিহাসের সঠিক পাশে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক করার দিকে এগিয়ে নেওয়া। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চীন নিজের যথাযথ ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, শি বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে এবং একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির জন্য কাজ করতে হবে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকে ঘিরে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর অবস্থান ভিন্ন হলেও ইরান ও ইউএইকে একটি অভিন্ন ঘোষণায় সমর্থন দেওয়ার জায়গায় আনতে পেরেছে জোটটি। এতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের বড় কোনো পরিবর্তন এসেছে— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো নেই। তবে যুদ্ধের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সমঝোতার পথ খোলা রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে কূটনৈতিকভাবে বরফ গলার আভাস মিলেছে। শনিবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ব্রিকস জোটের যৌথ ঘোষণায় সমর্থন দিয়েছেন। এতে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে— এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের বৈঠক হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান ও ইউএইর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়, উত্তেজনা কমানো, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকের পর কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সদস্য দেশগুলো গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে— এমন কর্মকাণ্ড এড়িয়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য, সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি প্রবাহ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইরান-ইউএইর দূরত্ব কমানোর চেষ্টা
চলমান যুদ্ধে ইরান ও ইউএই ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে ইরান একাধিকবার ইউএইকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ আগস্টের শেষ দিকে দেশটির আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। ওই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও হেলিকপ্টার ছিল। ওই হামলার পর তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে ইউএই।
দুই দেশের এই বিরোধের প্রভাব ব্রিকসের কার্যক্রমেও পড়েছে। গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এবার তাই শীর্ষ সম্মেলনে আয়োজক ও কূটনীতিকদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরান ও ইউএই— উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি অবস্থান তৈরি করা।
রয়টার্সকে চারটি সূত্র জানিয়েছে, শনিবার নেতারা শেষ পর্যন্ত যৌথ ঘোষণার খসড়ায় ঐকমত্যে পৌঁছান। এতে সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে— এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে বদলে দেবে— এমন সম্ভাবনা কম। তবে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ব্রিকসের সদস্যরা একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছেন, যা জোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
ভারতে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস পেজেশকিয়ান ও শেখ খালেদের বৈঠকের একটি ছবি প্রকাশ করেছে। তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।
ভারতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সুনজয় সুধীর রয়টার্সকে বলেন, যুদ্ধ শেষ করার চাবিকাঠি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে। তার মতে, ভারত কঠিন আলোচনাগুলো চালু রাখার সুযোগ তৈরি করেছে, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো একই টেবিলে বসতে পারে, কূটনৈতিকভাবে আলোচনা করতে পারে এবং যেসব বিষয়ে তাদের স্বার্থের মিল রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে পারে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতায় মিল
নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্রিকসের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইরান। শুক্রবার ব্রিকস বিজনেস ফোরামে অংশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানান।
কোনো দেশ যেন অন্য দেশের বৈধ বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, এমন পরিবেশ তৈরির তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও জোর দেন। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্রুত অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা যুক্ত করে ‘ব্রিকস পে’ চালু, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ডিজিটাল মুদ্রার মধ্যে সংযোগ তৈরি এবং স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানোর মতো উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা চলছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইরান ও ইউএইর সহযোগিতার আরেকটি দৃষ্টান্ত উঠে এসেছে শুক্রবারের ফোরামে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিকস অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তাদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং নতুন বাজারের সুযোগ বাড়ানোর যৌথ উদ্যোগে দুই দেশই সমর্থন জানিয়েছে।
সম্প্রসারণে বেড়েছে মতপার্থক্য
২০০৯ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে ব্রিকসের যাত্রা শুরু হয়। পরে জোটটি সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০২৪ সালে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান ও ইউএই এবং ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়া এতে যোগ দেয়।
সদস্য বাড়ার ফলে ব্রিকসের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক পরিধি বেড়েছে। তবে সদস্য দেশগুলোর ভিন্নমুখী পররাষ্ট্রনীতি ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে উঠেছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে রয়েছে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে ইউএইর সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক রয়েছে।
ব্রিকসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও সদস্য দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে। রাশিয়া ও চীন ব্রিকসকে পশ্চিমা প্রভাবের বিপরীতে বৈশ্বিক ভারসাম্য তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ জোট হিসেবে দেখলেও ভারত ও ব্রাজিল অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবিও জোরালো করছে ব্রিকস। এসব প্রতিষ্ঠানে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব বেশি— এমন ধারণা রয়েছে জোটের কয়েকটি সদস্য দেশের মধ্যে।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে ভারতের ভারসাম্য
সম্মেলনের আয়োজক ভারতও পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকে ঘিরে জটিল কূটনৈতিক ভারসাম্যের মধ্যে রয়েছে। ইরানের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে নয়াদিল্লির। এসব দেশে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় কর্মীও রয়েছেন।
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় নৌযানে হামলায় ইতোমধ্যে অন্তত ১০ জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুক্ত নৌচলাচল ও নাবিকদের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেন।
ভারত একদিকে আরব দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌযানে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করা একটি ঘোষণাতেও সই করেছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে নয়াদিল্লিকে একাধিক পরস্পরবিরোধী স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হচ্ছে।
ঐক্যকে বাস্তব ফলাফলে নিতে চায় ভারত
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ব্রিকস এখন পরিণত হয়েছে। জোটের ঐক্য ও ঐকমত্যকে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে।
সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাসহ সদস্য দেশগুলোর নেতারা অংশ নেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, ব্রিকস দেশগুলোর উচিত ইতিহাসের সঠিক পাশে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক করার দিকে এগিয়ে নেওয়া। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চীন নিজের যথাযথ ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, শি বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে এবং একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির জন্য কাজ করতে হবে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকে ঘিরে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর অবস্থান ভিন্ন হলেও ইরান ও ইউএইকে একটি অভিন্ন ঘোষণায় সমর্থন দেওয়ার জায়গায় আনতে পেরেছে জোটটি। এতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের বড় কোনো পরিবর্তন এসেছে— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো নেই। তবে যুদ্ধের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সমঝোতার পথ খোলা রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি (ইরান যুদ্ধ) খুব শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। সম্ভবত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরপরই এর সমাপ্তি ঘটবে। নির্বাচনকে জটিল করে তুলতেই তারা (ইরান) যতটা সম্ভব সময় ক্ষেপণ করার চেষ্টা করছে। তবে আমার মনে হয় জনগণ বিষয়টি ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে।’
৮ ঘণ্টা আগে
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ড্রোন হামলার পরপরই পাইপলাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এর অবস্থা যাচাই করতে জরুরি ও বিশেষায়িত কারিগরি দল মোতায়েন করা হয়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব কাজ করছে।
৯ ঘণ্টা আগে
স্যাটেলাইটের এসব ছবি নিয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের পাওয়া তথ্যের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে এর পক্ষে প্রমাণ চেয়েছেন চীনা কর্মকর্তারা। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বলেছে, ইরানের সঙ্গে চীনের সহযোগিতা আন্তর্জা
১০ ঘণ্টা আগে
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘোষণায় কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা জানানো হবে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে ব্রিকসের এমন অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১০ ঘণ্টা আগে