
নাজমুল ইসলাম হৃদয়

ভোরবেলার রোদটা আজ অন্যরকম হওয়ার কথা ছিল। জানালা দিয়ে ভেসে আসা আলোয় মনে হওয়ার কথা— আজ ঈদ। পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে আতর মেখে কোলাকুলির আনন্দে মেতে ওঠার দিন। কিন্তু ক্যালেন্ডারের পাতা ঘুরে ঈদের দিন এলেও পৃথিবীর এক বিশাল অংশে সেই আনন্দকে ছাপিয়ে উঠেছে যুদ্ধের দামামা-বারুদের গর্জন। আকাশ চিরে ভেসে আসছে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দ, যা ম্লান করেছে এই পবিত্র উৎসবের আমেজকে।
বিশ্ব জুড়ে মুসলমানের সংখ্যা এখন দুই শ কোটির বেশি— যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে শাওয়ালের চাঁদ আনন্দের বার্তা নিয়ে এলেও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ঢেকে গেছে ধোঁয়া ও আতঙ্কে। উৎসবের দিনেও সেখানে মানুষের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে প্রাণঘাতী অস্ত্র। কখন কোথায় হামলা হবে— এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই ঈদ উদযাপন করছেন কোটি কোটি মানুষ। আনন্দের চেয়ে এবার তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে শান্তির জন্য প্রার্থনা।
বর্তমান এই অস্থিরতার পেছনে দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন ও পরাশক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত নতুন করে বিস্তৃত হয়ে এক বিস্ফোরণমুখর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। পালটাপালটি হামলায় পুরো অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধের আগুন।
এই সংঘাতের বড় ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত ৫০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী। ঈদের দিনেও তাদের জীবন জুড়ে ভর করেছে আতঙ্ক। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। যারা বেঁচে আছেন, তারা প্রতিটি মুহূর্ত কাটাচ্ছেন উৎকণ্ঠায়। আকাশে মিসাইলের শব্দ শুনলেই আতঙ্কে আঁতকে ওঠেন তারা।

ইরান যুদ্ধের এই ভয়াবহ বাস্তবতার কারণে এবার কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে ঈদের চিরচেনা চিত্র পালটে গেছে। নিরাপত্তার চরম ঝুঁকির কারণে খোলা মাঠে বা ঈদগাহে বিশাল জামাত করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়েই ছোট পরিসরে মসজিদের ভেতরে নামাজ পড়তে হয়েছে মুসল্লিদের। শুধুমাত্র দুবাইয়েই ৯০০-এর বেশি মসজিদে একযোগে রুদ্ধদ্বার পরিবেশে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কাতারের একটি মসজিদে ঈদের নামাজ শেষে আক্ষেপ নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি নাফিউল ইসলাম অপু বলেন, ‘পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, এবার আর খোলা মাঠে ঈদের জামাত পড়ার অনুমতি আমাদের দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তার কথা ভেবে ছোট পরিসরে সবাইকে মসজিদের ভেতরেই নামাজ আদায় করতে হয়েছে। আমেরিকা ও ইসরায়েল মিলে যে আগ্রাসন চালাচ্ছে, তাতে ইরান তো নিজেদের রক্ষায় জবাব দেবেই।’
‘কিন্তু এই পরিস্থিতির কারণে আমাদের সারাক্ষণ একটা চাপা আতঙ্কে থাকতে হয়। এরপরও যে সুস্থভাবে ঈদের নামাজটুকু আদায় করতে পেরেছি, তাতেই আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া। ঈদের সেই আনন্দটা এবার আর নেই, আমরা শুধু এই যুদ্ধ থেকে মুক্তি চাই,’— যোগ করেন অপু।
মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ মিশন থেকেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন প্রবাসীদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ঘটনার ভিডিও ধারণ বা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রবাসীদের এই আতঙ্কের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের স্বজনদের মধ্যেও। রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র খালেদ এবং তার বড় বোন মুনের ঈদ আসছে চরম উৎকণ্ঠা আর নির্ঘুম রাত নিয়ে। তাদের বাবা থাকেন সৌদি আরবে। খালেদ ম্লান মুখে বললেন, ‘বাবা একা ঈদ করছেন, আর এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে কখন কোথায় মিসাইল আঘাত হানছে— সেই খবরে আমাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আমেরিকা-ইসরায়েলের এই আগ্রাসী নীতির কারণে আজ পুরো মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্র। এই অবস্থায় আমাদের পরিবারে ঈদের কোনো আনন্দ নেই বললেই চলে।’
বড় বোন মুন ভেজা চোখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে ভয় আর শঙ্কায়। শুধু মনে হয় বাবা নিরাপদে আছেন তো! আমরা এই দুঃসহ দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি চাই। আর কোনো যুদ্ধ বা রক্তপাত নয়, আমরা একটা শান্তিময় পৃথিবী দেখতে চাই।’

ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরেক বাসিন্দা সালেহা বেগমের ছেলে থাকেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। উৎকণ্ঠা নিয়ে তিনি রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘আমার পোলারে আমি আল্লাহরে জিম্মায় দিয়া দিছি। আমার পোলা ভালো থাকলে প্রতিদিনই আমার ঈদ। আল্লাহ যেন আমাগো কথা শোনেন, সবখানে শান্তি ফিরাইয়া আনেন।’
ইরান যুদ্ধের এই ভয়াবহতা আর পশ্চিমা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ কেবল মধ্যপ্রাচ্য বা বাংলাদেশেই আটকে নেই, খোদ আমেরিকায় বসেও সেখানকার সরকারের নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেক প্রবাসী। স্বামী-সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন আমেরিকায় বসবাস করা সুমি আক্তার জানিয়েছেন তার তীব্র ক্ষোভ আর হতাশার কথা।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ ঘিরে আমেরিকার সাম্প্রতিক যে ভূমিকা, তাতে শুধু এখানকার মুসলিম কমিউনিটিই নয়, বরং যাদের ভেতর সামান্যতম মানবতাবোধ আছে, তারাই গভীরভাবে ক্ষুব্ধ ও হতাশ। ইসরায়েলকে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তারা যে নারকীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তার ফলেই আজ চারদিকে এত অশান্তি। মানুষের জীবনের চেয়ে বড় তো আর কিছু হতে পারে না। আমরা সবাই মিলে শুধু একটা শান্তিময় পৃথিবী চাই।’
এত আতঙ্ক, এত রক্তপাত আর পরাশক্তিগুলোর এত ষড়যন্ত্রের মাঝেও মুসলমানদের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রস্থল মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববীতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। সেখানে খুতবায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং এই আগ্রাসনের হাত থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
এদিকে ফিলিস্তিনের বুকে এবার রচিত হলো আরেক বেদনার ইতিহাস। ৫৯ বছরের পুরোনো রীতি ভেঙে পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ঈদের নামাজে সরাসরি বাধা দিয়েছে ইসরায়েল। পুরো মসজিদ ঘিরে মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র সৈন্য, প্রবেশে জারি করা হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। শুক্রবার সকাল থেকে আল-আকসা প্রঙ্গনে জড়ো হওয়া সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ছত্রভঙ্গ করতে ছোড়া হয়েছে স্টান গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস।
ইসরায়েল দাবি করছে, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণেই তাদের এই তথাকথিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিন্তু এত বাধা, এত রক্তচক্ষুও দমাতে পারেনি মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের। পুরনো শহরে ঢুকতে না পারলেও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আল-আকসার সামনের রাস্তাতেই তারা দাঁড়িয়ে গেছেন পরম করুণাময়ের দরবারে, রাস্তাতেই অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের বিশাল জামাত।
সব মিলিয়ে, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকের মতো যুদ্ধাহত দেশগুলোতে মানুষ নিজেদের মতো করে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। আনন্দ-উৎসবের এই দিনে যখন আপনজনদের সাথে হাসিখুশিতে মেতে ওঠার কথা, তখন বিশ্ব জুড়ে মুসলমানদের কণ্ঠে আজ একটাই প্রার্থনা— যুদ্ধ ও আগ্রাসনের অবসান ঘটুক, সাম্রাজ্যবাদের পতন হোক, প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি-সহমর্মিতার পৃথিবী।

ভোরবেলার রোদটা আজ অন্যরকম হওয়ার কথা ছিল। জানালা দিয়ে ভেসে আসা আলোয় মনে হওয়ার কথা— আজ ঈদ। পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে আতর মেখে কোলাকুলির আনন্দে মেতে ওঠার দিন। কিন্তু ক্যালেন্ডারের পাতা ঘুরে ঈদের দিন এলেও পৃথিবীর এক বিশাল অংশে সেই আনন্দকে ছাপিয়ে উঠেছে যুদ্ধের দামামা-বারুদের গর্জন। আকাশ চিরে ভেসে আসছে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দ, যা ম্লান করেছে এই পবিত্র উৎসবের আমেজকে।
বিশ্ব জুড়ে মুসলমানের সংখ্যা এখন দুই শ কোটির বেশি— যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে শাওয়ালের চাঁদ আনন্দের বার্তা নিয়ে এলেও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ঢেকে গেছে ধোঁয়া ও আতঙ্কে। উৎসবের দিনেও সেখানে মানুষের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে প্রাণঘাতী অস্ত্র। কখন কোথায় হামলা হবে— এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই ঈদ উদযাপন করছেন কোটি কোটি মানুষ। আনন্দের চেয়ে এবার তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে শান্তির জন্য প্রার্থনা।
বর্তমান এই অস্থিরতার পেছনে দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন ও পরাশক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত নতুন করে বিস্তৃত হয়ে এক বিস্ফোরণমুখর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। পালটাপালটি হামলায় পুরো অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধের আগুন।
এই সংঘাতের বড় ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত ৫০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী। ঈদের দিনেও তাদের জীবন জুড়ে ভর করেছে আতঙ্ক। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। যারা বেঁচে আছেন, তারা প্রতিটি মুহূর্ত কাটাচ্ছেন উৎকণ্ঠায়। আকাশে মিসাইলের শব্দ শুনলেই আতঙ্কে আঁতকে ওঠেন তারা।

ইরান যুদ্ধের এই ভয়াবহ বাস্তবতার কারণে এবার কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে ঈদের চিরচেনা চিত্র পালটে গেছে। নিরাপত্তার চরম ঝুঁকির কারণে খোলা মাঠে বা ঈদগাহে বিশাল জামাত করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়েই ছোট পরিসরে মসজিদের ভেতরে নামাজ পড়তে হয়েছে মুসল্লিদের। শুধুমাত্র দুবাইয়েই ৯০০-এর বেশি মসজিদে একযোগে রুদ্ধদ্বার পরিবেশে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কাতারের একটি মসজিদে ঈদের নামাজ শেষে আক্ষেপ নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি নাফিউল ইসলাম অপু বলেন, ‘পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, এবার আর খোলা মাঠে ঈদের জামাত পড়ার অনুমতি আমাদের দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তার কথা ভেবে ছোট পরিসরে সবাইকে মসজিদের ভেতরেই নামাজ আদায় করতে হয়েছে। আমেরিকা ও ইসরায়েল মিলে যে আগ্রাসন চালাচ্ছে, তাতে ইরান তো নিজেদের রক্ষায় জবাব দেবেই।’
‘কিন্তু এই পরিস্থিতির কারণে আমাদের সারাক্ষণ একটা চাপা আতঙ্কে থাকতে হয়। এরপরও যে সুস্থভাবে ঈদের নামাজটুকু আদায় করতে পেরেছি, তাতেই আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া। ঈদের সেই আনন্দটা এবার আর নেই, আমরা শুধু এই যুদ্ধ থেকে মুক্তি চাই,’— যোগ করেন অপু।
মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ মিশন থেকেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন প্রবাসীদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ঘটনার ভিডিও ধারণ বা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রবাসীদের এই আতঙ্কের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের স্বজনদের মধ্যেও। রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র খালেদ এবং তার বড় বোন মুনের ঈদ আসছে চরম উৎকণ্ঠা আর নির্ঘুম রাত নিয়ে। তাদের বাবা থাকেন সৌদি আরবে। খালেদ ম্লান মুখে বললেন, ‘বাবা একা ঈদ করছেন, আর এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে কখন কোথায় মিসাইল আঘাত হানছে— সেই খবরে আমাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আমেরিকা-ইসরায়েলের এই আগ্রাসী নীতির কারণে আজ পুরো মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্র। এই অবস্থায় আমাদের পরিবারে ঈদের কোনো আনন্দ নেই বললেই চলে।’
বড় বোন মুন ভেজা চোখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে ভয় আর শঙ্কায়। শুধু মনে হয় বাবা নিরাপদে আছেন তো! আমরা এই দুঃসহ দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি চাই। আর কোনো যুদ্ধ বা রক্তপাত নয়, আমরা একটা শান্তিময় পৃথিবী দেখতে চাই।’

ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরেক বাসিন্দা সালেহা বেগমের ছেলে থাকেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। উৎকণ্ঠা নিয়ে তিনি রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘আমার পোলারে আমি আল্লাহরে জিম্মায় দিয়া দিছি। আমার পোলা ভালো থাকলে প্রতিদিনই আমার ঈদ। আল্লাহ যেন আমাগো কথা শোনেন, সবখানে শান্তি ফিরাইয়া আনেন।’
ইরান যুদ্ধের এই ভয়াবহতা আর পশ্চিমা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ কেবল মধ্যপ্রাচ্য বা বাংলাদেশেই আটকে নেই, খোদ আমেরিকায় বসেও সেখানকার সরকারের নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেক প্রবাসী। স্বামী-সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন আমেরিকায় বসবাস করা সুমি আক্তার জানিয়েছেন তার তীব্র ক্ষোভ আর হতাশার কথা।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ ঘিরে আমেরিকার সাম্প্রতিক যে ভূমিকা, তাতে শুধু এখানকার মুসলিম কমিউনিটিই নয়, বরং যাদের ভেতর সামান্যতম মানবতাবোধ আছে, তারাই গভীরভাবে ক্ষুব্ধ ও হতাশ। ইসরায়েলকে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তারা যে নারকীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তার ফলেই আজ চারদিকে এত অশান্তি। মানুষের জীবনের চেয়ে বড় তো আর কিছু হতে পারে না। আমরা সবাই মিলে শুধু একটা শান্তিময় পৃথিবী চাই।’
এত আতঙ্ক, এত রক্তপাত আর পরাশক্তিগুলোর এত ষড়যন্ত্রের মাঝেও মুসলমানদের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রস্থল মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববীতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। সেখানে খুতবায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং এই আগ্রাসনের হাত থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
এদিকে ফিলিস্তিনের বুকে এবার রচিত হলো আরেক বেদনার ইতিহাস। ৫৯ বছরের পুরোনো রীতি ভেঙে পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ঈদের নামাজে সরাসরি বাধা দিয়েছে ইসরায়েল। পুরো মসজিদ ঘিরে মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র সৈন্য, প্রবেশে জারি করা হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। শুক্রবার সকাল থেকে আল-আকসা প্রঙ্গনে জড়ো হওয়া সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ছত্রভঙ্গ করতে ছোড়া হয়েছে স্টান গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস।
ইসরায়েল দাবি করছে, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণেই তাদের এই তথাকথিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিন্তু এত বাধা, এত রক্তচক্ষুও দমাতে পারেনি মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের। পুরনো শহরে ঢুকতে না পারলেও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আল-আকসার সামনের রাস্তাতেই তারা দাঁড়িয়ে গেছেন পরম করুণাময়ের দরবারে, রাস্তাতেই অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের বিশাল জামাত।
সব মিলিয়ে, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকের মতো যুদ্ধাহত দেশগুলোতে মানুষ নিজেদের মতো করে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। আনন্দ-উৎসবের এই দিনে যখন আপনজনদের সাথে হাসিখুশিতে মেতে ওঠার কথা, তখন বিশ্ব জুড়ে মুসলমানদের কণ্ঠে আজ একটাই প্রার্থনা— যুদ্ধ ও আগ্রাসনের অবসান ঘটুক, সাম্রাজ্যবাদের পতন হোক, প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি-সহমর্মিতার পৃথিবী।

কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এইমাত্র ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাঈনির নিহতের খবর ঘোষণা দিয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ উদ্যোগে অংশ নিয়ে একজোট হয়েছে ছয় দেশ। জাপান এবং ইউরোপের পাঁচ দেশ ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে একটি বিবৃতিও দিয়েছে। তাতে ইরানকে ‘উসকানি’ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে
পুরো জ্যাকসন হাইটস ঘুরে দেখা গেল, বড় বড় কাচে ঘেরা নামিদামি দোকানগুলোর পাশাপাশি রাস্তার দুই ধারে ছোট ছোট টেবিলে পসরা সাজাচ্ছেন সবাই। জায়নামাজ, টুপি, তসবিহ, পোশাক, জুতো, গয়না, খেলনা, ঘর সাজানোর নানা পণ্য, খাবারের দোকান— সেখানে কী নেই আসলে!
৮ ঘণ্টা আগে
তালেবান যখন প্রথম দফায় আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ছিল, সেই ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে, মাত্রই হাতে গোনা কয়েকটি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। পাকিস্তান সেগুলির অন্যতম।
৯ ঘণ্টা আগে