ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নজর কলম্বিয়া-কিউবায়, মেক্সিকোও পেল সতর্কবার্তা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭: ৫০
৪ জানুয়ারি ফ্লোরিডা থেকে মেরিল্যান্ডের সামরিক ঘাঁটি জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে যাওয়ার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিউইয়র্কে তুলে নেওয়ার পর এবার কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকেও হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ছাড়া কিউবাতেও শিগগিরই সরকারের পতন হবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে বসে গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মাদুরোকে নিউইয়র্কে তুলে নেওয়ার পর ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, ভেনেজুয়েলা ‘আচরণ ঠিক না করলে’ সেখানে আবারও মার্কিন সেনা পাঠানো হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়া— দুটি দেশই গভীর সংকটে আছে। ভেনেজুয়েলায় একজন অসুস্থ ব্যক্তি দেশ চালাচ্ছিলেন, যিনি কোকেন তৈরি করে তা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন। আমি বলতে চাই, তিনি খুব বেশি দিন এমনটা চালিয়ে যেতে পারবেন না।’

এ সময় যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়ার বিরুদ্ধেও সামরিক অভিযান চালাতে পারে কি না— এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কাছে তো শুনতে ভালোই লাগছে।’

এ ছাড়া কিউবার প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, দেশটিতে ‘সামরিক হস্তক্ষেপের’ সম্ভাবনা কম। কারণ, কিউবা নিজে থেকেই পতনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘কিউবা পতনের মুখে। আমি আসলে জানি না, তারা কীভাবে ধরে রাখতে পারবে। কিন্তু কিউবার এখন কোনো আয় নেই। তারা তাদের সব আয় ভেনেজুয়েলা থেকে ও ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল থেকে পেয়েছে।’

সাংবাদিকদের সাথে আলাপে পার্শ্ববর্তী দেশ মেক্সিকোকে নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, মেক্সিকো হয়ে মাদক ঢুকছে যুক্তরাষ্ট্রে, তাই দেশটিকে ‘নিজেদের গুছিয়ে নিতে হবে’, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কিছু করতে হবে’।

যদিও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমকে তিনি ‘দারুণ মানুষ’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, তার সঙ্গে কথা হলেই তিনি মেক্সিকোতে মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দেন। ট্রাম্প আরও বলেন, মেক্সিকো সরকার সমস্যাটি মোকাবিলার সক্ষমতা রাখে, তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশটিতে মাদক কার্টেলগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী।

এদিকে কলম্বিয়াকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট পেত্রো। তিনি ট্রাম্পকে তার বিরুদ্ধে ‘কুৎসা রটানো’ বন্ধ করার এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় অঞ্চলটি ‘দাস ও চাকরের মতো আচরণের’ শিকার হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (আগে টুইটার) দেওয়া একাধিক পোস্টে পেত্রো বলেন, মানব ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম দেশ, যারা দক্ষিণ আমেরিকার কোনো রাজধানীতে বোমা হামলা চালিয়েছে। তবে প্রতিশোধ কোনো সমাধান নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।পেত্রোর ভাষ্য, লাতিন আমেরিকাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হতে হবে, যার সঙ্গে বিশ্বের সব দেশের বাণিজ্য ও সহযোগিতার সক্ষমতা থাকবে। ‘আমরা শুধু উত্তরের দিকে তাকিয়ে থাকি না, সব দিকেই তাকাই,’— বলেন তিনি।

এর আগেও কলম্বিয়া ও কিউবা নিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক অভিযানের পর তিনি বলেছিলেন, পেত্রোকে ‘নিজের পিঠ বাঁচিয়ে চলতে হবে’ এবং কিউবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘শেষ পর্যন্ত কথা বলবেই’, কারণ দেশটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প আদৌ তার হুমকি বাস্তবায়ন করবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যুক্তরাষ্ট্র অধ্যয়ন কেন্দ্রের সহযোগী অধ্যাপক ডেভিড স্মিথ বলেন, ট্রাম্প সাধারণত শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে অন্য দেশগুলোকে চাপ দিতে চান, যেন বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ ছাড়াই তারা যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া মেনে নেয়।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন মেথডিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিশ্লেষক ম্যাথিউ উইলসন বলেন, ভবিষ্যতে কোনো পদক্ষেপ হলে কিউবাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে। কারণ হিসেবে কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকার উৎখাতের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনপূর্ণ।

এর আগে গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে সস্ত্রীক কারাকাস থেকে নিউইয়র্কে তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন এটিকে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে এবং মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদ’-এর অভিযোগ তোলে। তবে মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ক্ষমতা থেকে তাকে সরিয়ে দিতেই এসব অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র।

মাদুরো ও তার স্ত্রী বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিন বন্দিশিবিরে রয়েছেন। মাদক এবং অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুরে তাদের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে।

মাদুরোকে ‘অপহরণ’ করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা বাড়লেও ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে সরে আসেননি। ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, উরুগুয়ে ও স্পেন এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘শান্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক নজির’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে গ্রিনল্যান্ডকে নিয়েও হুমকি প্রদর্শনমূলক মন্তব্য করেছিলেন। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর তিনি বলেছিলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের লাগবেই’। ট্রাম্পের দাবি, চীন ও রাশিয়ার জাহাজ হুমকি তৈরি করছে অঞ্চলটিতে। তাই, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুরক্ষায় গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ‘খুবই প্রয়োজন’।

লক্ষ্য পূরণে ডেনমার্কের মালিকানাধীন আর্কটিক দ্বীপটিতে বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগেরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ নয়, কূটনৈতিক পথেই সমঝোতার চেষ্টা করছেন তিনি। আর সেজন্য গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় শতাধিক নিহত

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদ পরিচালিত হওয়ার প্রমাণ তালেবান প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করেছে পাকিস্তান।

১৫ ঘণ্টা আগে

ট্রাম্পের প্রস্তাবে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘লাগবে না, ধন্যবাদ’

ট্রাম্পের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিয়েলসেন। তিনি বলেছেন, ‘লাগবে না, ধন্যবাদ— গ্রিনল্যান্ডে নাগরিকদের জন্য ইতোমধ্যে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা রয়েছে।’

১ দিন আগে

কাশ্মিরের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গি ‘এনকাউন্টারে’ নিহত

গত দুই বছর ধরে কিশতওয়ার এলাকায় সক্রিয় থাকা সাইফুল্লাহ অন্তত ২০ বার অভিযানের মুখে নিরাপত্তা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল পাঁচ লাখ টাকা। এবার নিরাপত্তা বাহিনীর ২১ বারের চেষ্টায় তিনি এনকাউন্টারে নিহত হলেন।

২ দিন আগে

ট্রাম্পের বাসভবনে প্রবেশ করায় এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা

পাম বিচে অবস্থিত বাসভবনটি মূলত ট্রাম্পের অবকাশযাপন কেন্দ্র। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ওই শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি সেখানকার ফটকের আশপাশে সন্দেহজনভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। তাকে থামিয়ে তল্লাশি করা হলে তার হাতে একটি শটগান ও জ্বালানির ক্যান পাওয়া যায়।

২ দিন আগে