
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

১৭ দিন পেরিয়ে ১৮ দিনে পড়েছে ইরান যুদ্ধ। এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে তেলের বাজার, পুঁজিবাজার ও এভিয়েশন খাতসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। বেশির ভাগ দেশই এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছে— কখন শেষ হবে এই যুদ্ধ?
কিন্তু যারা এই যুদ্ধ শুরু করেছে, সেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কী চাইছে? যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, তারাই বা কী চাইছে চলমান পরিস্থিতিতে? তারা কি চাইছে এই যুদ্ধ শেষ করতে? চাইলেও সেটি কীভাবে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো কিছুটা অস্পষ্ট। কখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল সীমিত করা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি, কখনো বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব দাবি মেনে নিতে হবে ইরানকে। কখনো ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র শাসনব্যবস্থার সম্পূর্ণ পতন ঘটানোর কথাও বলেছেন তিনি।
এখন পর্যন্ত ইরানের পতন ঘটেনি, দেশটি আত্মসমর্পণও করেনি। তবে হামলার শুরুর দিনেই নিহত হয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। পরের ১৬ দিনের টানা বোমা হামলায় দেশটির সামরিক বাহিনী মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এর আগে ওমানের মধ্যস্থতায় ফেব্রুয়ারিতে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছিল। তাতে পারমাণবিক বিষয়ে অগ্রগতিও হচ্ছিল। ওমানি কর্মকর্তাদের মতে, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না— এমন নিশ্চয়তা দিয়ে ইরান বড় ধরনের ছাড় দিতেও প্রস্তুত ছিল।
তবে ইরান যা নিয়ে আলোচনা করতে রাজি ছিল না, তা হলো তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং ইয়েমেনের হুথি বা লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোকে দেওয়া সমর্থন বন্ধ করা।
ওয়াশিংটন ও তাদের মিত্রদের জন্য আদর্শ পরিস্থিতি হতো যদি এই যুদ্ধের মাধ্যমে আয়াতুল্লাহদের শাসনের অবসান ঘটে এবং দ্রুত সেখানে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার আসে; যারা নিজেদের জনগণ বা প্রতিবেশীদের জন্য আর হুমকি হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিকল্প পছন্দনীয় ফলাফল হতে পারত যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্র তাদের আচরণ পরিবর্তন করে, নাগরিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে এবং ওই অঞ্চলের উগ্রপন্থী মিলিশিয়াদের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে। তবে ইরান যখন তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে বেছে নিয়েছে, তখন এমন পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ মোজতবা খামেনিও কট্টরপন্থি হিসেবেই পরিচিত এবং তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মতোই রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত। ফলে তার নেতৃত্বে ইরানের বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই।
বিশ্ববাজারে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম, হরমুজ প্রণালি আংশিক রুদ্ধ হওয়া এবং আমেরিকার আবারও মধ্যপ্রাচ্যের এক ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা অস্বস্তি— সব মিলিয়ে যুদ্ধ বন্ধের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। কিন্তু তেহরানের শাসনব্যবস্থা যদি দমে না গিয়ে ‘অবাধ্য’ই থেকে যায়, তবে ট্রাম্পের পক্ষে এই যুদ্ধকে ব্যর্থতা ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে তুলে ধরা কঠিন হবে।
ইরান চায় যুদ্ধ যত দ্রুতসম্ভব থামুক, তবে যেকোনো মূল্যে নয়। অর্থাৎ ওয়াশিংটনের সব দাবি মেনে নিয়ে নয়। তারা জানে, এই যুদ্ধে ট্রাম্পের চেয়ে বেশি সময় টিকে থাকার মতো ‘কৌশলগত ধৈর্য’ সম্ভবত তাদের আছে। তার ওপর ভৌগোলিক অবস্থানও তাদের অনুকূলে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ইরানের উপকূলরেখা দীর্ঘতম। সরু হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, যেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য জাহাজ চলাচলে হুমকি তৈরির সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখে এরই মধ্যে ইরান আতঙ্ক ছড়িয়েওছে।
এ অবস্থায় ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, তার পরিণতি সামাল দিতে ট্রাম্প অন্যান্য দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অ্য দেশগুলোকে সামরিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে তাতে খুব একটা সাড়া মিলছে না।
যুক্তরাজ্য, ইউরোপ ও অন্যান্য দেশ তাদের নৌ বাহিনীকে ঝুঁকির মুখে ফেলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। অনেক দেশই কারণ হিসেবে বলেছে, শুরু থেকেই তারা এই যুদ্ধের পক্ষে ছিল না।
আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান বলছে, যুদ্ধ শেষ হতে হবে এমন সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তার মাধ্যমে যে তাদের ওপর আর হামলা হবে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণও তারা চায়।
ইরান সম্ভবত জানে যে এর কোনোটিই তারা পাবে না। কিন্তু ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নেতৃত্ব ও রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) যদি কেবল এই সংঘাতে টিকে থাকতে পারে, তবেই তারা নিজেদের জনগণ ও বিশ্বের কাছে একে বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবে।
যুদ্ধে জড়িত তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ইসরায়েলিদের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ করার তাড়া সবচেয়ে কম মনে হচ্ছে। তারা ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলের মজুত, গুদাম, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, রাডার স্টেশন ও আইআরজিসি ঘাঁটিগুলো যতটাসম্ভব ধ্বংস হতে দেখতে চায়।
যুদ্ধ থামলে এসবই আবার পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব। তাই ইসরায়েল চায়, ইরান এটা বুঝুক যে পুনর্নির্মাণের চড়া মূল্য দিতে হবে। অর্থাৎ ইসরায়েলি বিমানবাহিনী কয়েক মাস পর আবারও ফিরে এসে সেগুলোতে বোমা ফেলতে সক্ষম হবে।
ইরানের মিসাইল ও বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচিকে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে ইসরায়েল। যুদ্ধ শুরুর আগে পর্যন্ত ইরানের অত্যন্ত উন্নত নিজস্ব মিসাইল ও ড্রোন শিল্প ছিল। ইরান তাদের মিত্র রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছিল, যা ব্যবহার করে ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
এ ছাড়া ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এই দ্বিমুখী হুমকিকে এমন কিছু হিসেবে দেখছে, যার সঙ্গে ইসরায়েল আপস করতে পারে না।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমান— এই আরব দেশগুলো ভেবেছিল, তারা সমুদ্রের ওপারের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গেই মানিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।
ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে সমর্থন না জানানো সত্ত্বেও এসব দেশ ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলার শিকার হচ্ছে। এতে তারা ক্ষুব্ধ। কেবল সোমবারের প্রথম কয়েক ঘণ্টাতেই সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোঁড়া ৬০টিরও বেশি প্রজেক্টাইল ভূপাতিত করেছে।
এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা আমাকে বলেন, সীমারেখা অতিক্রম করা হয়েছে। তেহরানের সঙ্গে আমাদের আর কোনো আস্থা নেই এবং এর পর তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখা সম্ভব নয়।
উপসাগরীয় এসব দেশ যুদ্ধের অবসান চায় বটে, তবে তাদের হাতে যুদ্ধ বন্ধ করতে দরকষাকষি করার মতো কিছুই নেই। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের ফল ভোগ করতে হবে তাদের।
বিবিসি অবলম্বনে

১৭ দিন পেরিয়ে ১৮ দিনে পড়েছে ইরান যুদ্ধ। এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে তেলের বাজার, পুঁজিবাজার ও এভিয়েশন খাতসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। বেশির ভাগ দেশই এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছে— কখন শেষ হবে এই যুদ্ধ?
কিন্তু যারা এই যুদ্ধ শুরু করেছে, সেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কী চাইছে? যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, তারাই বা কী চাইছে চলমান পরিস্থিতিতে? তারা কি চাইছে এই যুদ্ধ শেষ করতে? চাইলেও সেটি কীভাবে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো কিছুটা অস্পষ্ট। কখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল সীমিত করা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি, কখনো বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব দাবি মেনে নিতে হবে ইরানকে। কখনো ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র শাসনব্যবস্থার সম্পূর্ণ পতন ঘটানোর কথাও বলেছেন তিনি।
এখন পর্যন্ত ইরানের পতন ঘটেনি, দেশটি আত্মসমর্পণও করেনি। তবে হামলার শুরুর দিনেই নিহত হয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। পরের ১৬ দিনের টানা বোমা হামলায় দেশটির সামরিক বাহিনী মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এর আগে ওমানের মধ্যস্থতায় ফেব্রুয়ারিতে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছিল। তাতে পারমাণবিক বিষয়ে অগ্রগতিও হচ্ছিল। ওমানি কর্মকর্তাদের মতে, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না— এমন নিশ্চয়তা দিয়ে ইরান বড় ধরনের ছাড় দিতেও প্রস্তুত ছিল।
তবে ইরান যা নিয়ে আলোচনা করতে রাজি ছিল না, তা হলো তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং ইয়েমেনের হুথি বা লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোকে দেওয়া সমর্থন বন্ধ করা।
ওয়াশিংটন ও তাদের মিত্রদের জন্য আদর্শ পরিস্থিতি হতো যদি এই যুদ্ধের মাধ্যমে আয়াতুল্লাহদের শাসনের অবসান ঘটে এবং দ্রুত সেখানে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার আসে; যারা নিজেদের জনগণ বা প্রতিবেশীদের জন্য আর হুমকি হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিকল্প পছন্দনীয় ফলাফল হতে পারত যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্র তাদের আচরণ পরিবর্তন করে, নাগরিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে এবং ওই অঞ্চলের উগ্রপন্থী মিলিশিয়াদের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে। তবে ইরান যখন তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে বেছে নিয়েছে, তখন এমন পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ মোজতবা খামেনিও কট্টরপন্থি হিসেবেই পরিচিত এবং তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মতোই রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত। ফলে তার নেতৃত্বে ইরানের বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই।
বিশ্ববাজারে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম, হরমুজ প্রণালি আংশিক রুদ্ধ হওয়া এবং আমেরিকার আবারও মধ্যপ্রাচ্যের এক ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা অস্বস্তি— সব মিলিয়ে যুদ্ধ বন্ধের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। কিন্তু তেহরানের শাসনব্যবস্থা যদি দমে না গিয়ে ‘অবাধ্য’ই থেকে যায়, তবে ট্রাম্পের পক্ষে এই যুদ্ধকে ব্যর্থতা ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে তুলে ধরা কঠিন হবে।
ইরান চায় যুদ্ধ যত দ্রুতসম্ভব থামুক, তবে যেকোনো মূল্যে নয়। অর্থাৎ ওয়াশিংটনের সব দাবি মেনে নিয়ে নয়। তারা জানে, এই যুদ্ধে ট্রাম্পের চেয়ে বেশি সময় টিকে থাকার মতো ‘কৌশলগত ধৈর্য’ সম্ভবত তাদের আছে। তার ওপর ভৌগোলিক অবস্থানও তাদের অনুকূলে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ইরানের উপকূলরেখা দীর্ঘতম। সরু হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, যেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য জাহাজ চলাচলে হুমকি তৈরির সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখে এরই মধ্যে ইরান আতঙ্ক ছড়িয়েওছে।
এ অবস্থায় ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, তার পরিণতি সামাল দিতে ট্রাম্প অন্যান্য দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অ্য দেশগুলোকে সামরিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে তাতে খুব একটা সাড়া মিলছে না।
যুক্তরাজ্য, ইউরোপ ও অন্যান্য দেশ তাদের নৌ বাহিনীকে ঝুঁকির মুখে ফেলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। অনেক দেশই কারণ হিসেবে বলেছে, শুরু থেকেই তারা এই যুদ্ধের পক্ষে ছিল না।
আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান বলছে, যুদ্ধ শেষ হতে হবে এমন সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তার মাধ্যমে যে তাদের ওপর আর হামলা হবে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণও তারা চায়।
ইরান সম্ভবত জানে যে এর কোনোটিই তারা পাবে না। কিন্তু ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নেতৃত্ব ও রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) যদি কেবল এই সংঘাতে টিকে থাকতে পারে, তবেই তারা নিজেদের জনগণ ও বিশ্বের কাছে একে বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবে।
যুদ্ধে জড়িত তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ইসরায়েলিদের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ করার তাড়া সবচেয়ে কম মনে হচ্ছে। তারা ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলের মজুত, গুদাম, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, রাডার স্টেশন ও আইআরজিসি ঘাঁটিগুলো যতটাসম্ভব ধ্বংস হতে দেখতে চায়।
যুদ্ধ থামলে এসবই আবার পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব। তাই ইসরায়েল চায়, ইরান এটা বুঝুক যে পুনর্নির্মাণের চড়া মূল্য দিতে হবে। অর্থাৎ ইসরায়েলি বিমানবাহিনী কয়েক মাস পর আবারও ফিরে এসে সেগুলোতে বোমা ফেলতে সক্ষম হবে।
ইরানের মিসাইল ও বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচিকে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে ইসরায়েল। যুদ্ধ শুরুর আগে পর্যন্ত ইরানের অত্যন্ত উন্নত নিজস্ব মিসাইল ও ড্রোন শিল্প ছিল। ইরান তাদের মিত্র রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছিল, যা ব্যবহার করে ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
এ ছাড়া ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এই দ্বিমুখী হুমকিকে এমন কিছু হিসেবে দেখছে, যার সঙ্গে ইসরায়েল আপস করতে পারে না।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমান— এই আরব দেশগুলো ভেবেছিল, তারা সমুদ্রের ওপারের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গেই মানিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।
ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে সমর্থন না জানানো সত্ত্বেও এসব দেশ ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলার শিকার হচ্ছে। এতে তারা ক্ষুব্ধ। কেবল সোমবারের প্রথম কয়েক ঘণ্টাতেই সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোঁড়া ৬০টিরও বেশি প্রজেক্টাইল ভূপাতিত করেছে।
এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা আমাকে বলেন, সীমারেখা অতিক্রম করা হয়েছে। তেহরানের সঙ্গে আমাদের আর কোনো আস্থা নেই এবং এর পর তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখা সম্ভব নয়।
উপসাগরীয় এসব দেশ যুদ্ধের অবসান চায় বটে, তবে তাদের হাতে যুদ্ধ বন্ধ করতে দরকষাকষি করার মতো কিছুই নেই। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের ফল ভোগ করতে হবে তাদের।
বিবিসি অবলম্বনে

ইরান যুদ্ধের কারণে মার্চের শেষের দিকে গুরুত্বপূর্ণ চীন সফর প্রায় এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
৪ ঘণ্টা আগে
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে একাধিক ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়েছে। ইরাকের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলা শুরুর পর থেকে এটি ছিল সবচেয়ে তীব্র আক্রমণ। তবে এ হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। তবে বাগদাদেই ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর এক ঘাঁটিতেও পালটা হামলা হয়েছে, যে
৫ ঘণ্টা আগে
শনি ও রোববার সরকারি ছুটি থাকায় শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করার বিষয়েও আলোচনা ছিল। তবে শুক্রবার ছুটি ঘোষণা করলে টানা তিন দিন সরকারি অফিসগুলো বন্ধ থাকবে। এ বিষয়টি এড়াতে শুক্রবারের বদলে বুধবারকে বেছে নেওয়া হয়েছে ছুটির জন্য।
৬ ঘণ্টা আগে
ট্রাম্পের এ আহ্বানে সাড়া মেলেনি একেবারেই। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, থেকে শুরু করে জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর কেউই খুব একটা উৎসাহ দেখাননি ট্রাম্পের প্রস্তাবে। এমনকি ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত চীনের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানালে তারাও মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে