হরমুজের পর চীনের নজর ‘আইস সিল্ক রোডে’, সম্ভাবনার সঙ্গে বাড়ছে ঝুঁকিও

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আর্কটিকের নর্দার্ন সি রুটে নিয়মিত সার্ভিস চালু করেছে চীনের সি লেজেন্ড, যা হরমুজ প্রণালি ও সুয়েজ খালের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় হরমুজ প্রণালি ও সুয়েজ খালের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প সমুদ্রপথ হিসেবে আলোচনায় আসছে পৃথিবীর একেবারে উত্তরের বরফাচ্ছাদিত একটি রুট— নর্দার্ন সি রুট (এনএসআর)। রাশিয়ার উত্তর উপকূল ঘেঁষে আর্কটিক মহাসাগরের মধ্য দিয়ে যাওয়া প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথকে ঘিরে চীনের আগ্রহ এখন আর শুধু কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষায় সীমাবদ্ধ নেই; ধীরে ধীরে তা বাস্তব বাণিজ্যিক পরীক্ষায় রূপ নিচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি চীনা শিপিং কোম্পানি সি লেজেন্ড এই পথে নিয়মিত কনটেইনার সার্ভিস চালু করেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো নর্দার্ন সি রুটে একটি নির্ধারিত বাণিজ্যিক কার্গো সার্ভিস শুরু হলো। ফলে চীনের বহুদিনের ‘পোলার সিল্ক রোড’ ধারণা এবার বাস্তবতার পরীক্ষায় পড়েছে।

চীনের জন্য এই রুটের আকর্ষণ স্পষ্ট। নিনবো-ঝৌশান বন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সস্টো পর্যন্ত আর্কটিক পথ ধরে যাত্রায় সময় লাগতে পারে মাত্র ১৮ দিন। একই যাত্রা সুয়েজ খাল দিয়ে করতে সময় লাগে ৪০ দিনেরও বেশি। অর্থাৎ সফলভাবে পরিচালনা করা গেলে চীন-ইউরোপ বাণিজ্যে পরিবহন সময় অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে তাপমাত্রা-সংবেদনশীল পণ্য— যেমন বৈদ্যুতিক গাড়ি, লিথিয়াম ব্যাটারি ও সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম—পরিবহনে এই পথ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এসব পণ্যের বৈশ্বিক রপ্তানিতে চীন ইতোমধ্যে বড় শক্তি। ফলে দ্রুত ইউরোপীয় বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ বেইজিংয়ের জন্য শুধু পরিবহন সুবিধা নয়, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতারও একটি হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

‘পোলার সিল্ক রোড’ থেকে বাস্তব বাণিজ্যে

আর্কটিক নিয়ে চীনের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ২০১৭ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রথম প্রকাশ্যে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে আর্কটিক নৌপথ উন্নয়ন এবং একটি ‘পোলার সিল্ক রোড’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। নর্দার্ন সি রুটের বড় অংশ রাশিয়ার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে। ফলে এই পথের ওপর মস্কোর নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম নেভিগেশন পারমিট দেওয়া থেকে শুরু করে রুটে জাহাজ চলাচল তদারক করে। একই সঙ্গে বরফ ভেঙে পথ তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকারও সরবরাহ করে রাশিয়া। তবে শুরুতে আর্কটিকে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিয়ে মস্কোর মধ্যে সতর্কতা ছিল। কারণ উত্তর মেরু অঞ্চলকে রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিজের কৌশলগত সম্পদ ও প্রভাবক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে।

নর্দার্ন সি রুটের রাশিয়ার দুডিঙ্কা সমুদ্রবন্দর। ছবি: সংগৃহীত
নর্দার্ন সি রুটের রাশিয়ার দুডিঙ্কা সমুদ্রবন্দর। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপে রাশিয়া অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে চীনের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এর ফলে আর্কটিকেও বেইজিংয়ের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বাড়ে।

সি লেজেন্ডের নিয়মিত সার্ভিস এখন সেই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের সবচেয়ে দৃশ্যমান বাণিজ্যিক পরীক্ষা। ২০২৫ সালে একটি পরীক্ষামূলক যাত্রার পর এবার কোম্পানিটি নিয়মিত সার্ভিস শুরু করেছে। তবে এই উদ্যোগ আদৌ লাভজনক ও দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্যিক মডেলে পরিণত হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

হরমুজ ও সুয়েজের বিকল্প— কিন্তু কতটা?

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট এই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

সি লেজেন্ডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা লি শিয়াওবিনের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সুয়েজ খাল ও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ আঞ্চলিক সংঘাতের কাছে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা আবারও সামনে এনেছে। ফলে চীন ও ইউরোপের মধ্যে বিকল্প রুট তৈরির প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরেছেন। মস্কোর লক্ষ্য শুধু নিজেদের পণ্য পরিবহন নয়; বৈশ্বিক বাণিজ্যের মানচিত্রে আর্কটিককে একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

কিন্তু এখানে একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নর্দার্ন সি রুট এখনো সুয়েজ বা হরমুজের মতো বছরজুড়ে উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ নয়। এটি মূলত উষ্ণ মাসগুলোতে বেশি ব্যবহারযোগ্য। বরফ গলার সময় দীর্ঘ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বছরের সব সময় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আর্কটিকের গ্রীষ্মকালীন বরফ দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলে রুটটি আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকছে। এমনকি চলতি বছর রাশিয়ার একটি এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজ মে মাসেই নর্দার্ন সি রুট দিয়ে যাত্রা শুরু করতে সক্ষম হয়েছে, যা অতীতের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে আগাম।

সম্প্রতি রুশ ট্যাংকারের একটি নজিরবিহীন বহরও এনএসআরের অস্বাভাবিক উত্তর দিক দিয়ে চলাচল করেছে। জাহাজগুলো প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করছিল বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে এগুলো উত্তর মেরু থেকে মাত্র ৫০০ মাইলের মধ্যে চলে আসে।

এটি একদিকে আর্কটিক নৌপথের সম্ভাবনার ইঙ্গিত। অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তন যে এই অঞ্চলকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে, তারও একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ।

‘আইস সিল্ক রোডে’র পরিবেশগত মূল্য

সি লেজেন্ডের দাবি, সুয়েজের তুলনায় কম দূরত্বের কারণে আর্কটিক রুটে পণ্য পরিবহনে কার্বন নিঃসরণ প্রায় অর্ধেক কমতে পারে। কিন্তু পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, শুধু কম দূরত্ব হিসাব করলেই পুরো চিত্র পাওয়া যায় না।

আর্কটিকে জাহাজ চলাচলের নিজস্ব পরিবেশগত ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ভারী জ্বালানি তেল বা হেভি ফুয়েল অয়েল— এইচএফও। ২০২৪ সালে আর্কটিক অঞ্চলে এই জ্বালানির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও কিছু শিপিং কোম্পানির বিরুদ্ধে এ ধরনের জ্বালানি ব্যবহারকারী জাহাজ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

সমস্যা হলো, এইচএফও ছড়িয়ে পড়লে তা পরিষ্কার করা অত্যন্ত কঠিন। জ্বালানিটি তুলনামূলকভাবে ঘন হওয়ায় ঠান্ডা পরিবেশে দ্রুত ভেঙে যায় না। বরফের মধ্যে আটকে গেলে তা প্রায় অপসারণ-অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

বেলোনা এনভায়রনমেন্টাল ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলে বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়লে তা মোকাবিলার জন্য রাশিয়া যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। কারণ নর্দার্ন সি রুটের বিশাল অংশ অত্যন্ত দুর্গম ও জনবসতিহীন। কোনো জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়লে বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।

এশিয়ার অ্যালিয়াঞ্জের প্রধান মেরিন রিস্ক কনসালট্যান্ট ক্যাপ্টেন নিতিন চোপড়ার মতে, এই দূরত্ব ও দুর্বল লজিস্টিক সহায়তার কারণে যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে দীর্ঘ সময় জাহাজ অচল থাকা বা জাহাজ আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি। আর এমন ঘটনা ঘটলে একটি ভঙ্গুর আর্কটিক পরিবেশে তেল ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

আরেকটি বড় সমস্যা ‘ব্ল্যাক কার্বন’। ভারী জ্বালানি তেল পোড়ানোর অন্যতম নিঃসরণ এই কালো কার্বন আর্কটিকের বরফ ও তুষারের ওপর জমে সূর্যের আলো শোষণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে বরফ কম আলো প্রতিফলিত করে, বেশি তাপ শোষণ করে এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।

অর্থাৎ আর্কটিক রুট ছোট হওয়ায় জাহাজের জ্বালানি খরচ কমতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে আর্কটিক পরিবেশের ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে, তা সেই কার্বন সাশ্রয়ের বড় অংশই নষ্ট করে দিতে পারে।

‘শেডো ফ্লিট’ নিয়ে নতুন উদ্বেগ

পরিবেশগত ঝুঁকির পাশাপাশি এনএসআরের আরেকটি অন্ধকার দিক হলো রাশিয়ার ‘শেডো ফ্লিট’।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়ার তেল পরিবহনে যে বিপুলসংখ্যক ট্যাংকার ব্যবহৃত হচ্ছে, তাদের অনেকগুলোই যথাযথ বীমা বা নিয়ন্ত্রক তদারকির বাইরে পরিচালিত হয়। এসব জাহাজের একটি অংশ এখন নর্দার্ন সি রুট ব্যবহার করছে।

বেলোনার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রায় ১০০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করেছে। রুটটির মোট কার্গো জাহাজের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছিল এসব জাহাজ।

চলতি বছর শেডো ফ্লিটের এই ব্যবহার আরও বাড়ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মে বরফ কম থাকায় নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহনে রুটটি আরও কার্যকর হয়ে উঠছে। এখানেই রাজনৈতিক ঝুঁকিটা সামনে আসে।

কোনো জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়লে উদ্ধার বা বীমা সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেই সহযোগিতা কতটা দ্রুত ও কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অ্যালিয়াঞ্জ কমার্শিয়ালও তাদের ২০২৬ সালের নিরাপত্তা ও শিপিং পর্যালোচনায় সতর্ক করেছে, নিষেধাজ্ঞা উদ্ধার কার্যক্রমকে জটিল করে তুলতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনই কি আর্কটিক বাণিজ্যের দরজা খুলছে?

নর্দার্ন সি রুটের সবচেয়ে বড় বিদ্রূপ সম্ভবত এখানেই। এই পথকে বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় করে তুলছে যে বিষয়টি, সেটিই আবার এর অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় পরিবেশগত সতর্কবার্তা—আর্কটিকের বরফ গলে যাওয়া।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মকালীন সমুদ্রবরফ কমে যাওয়ায় প্রতি বছর রুটটি দীর্ঘ সময়ের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক নৌচলাচলের সময় আরও বাড়তে পারে।

আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ভিন থাইয়ের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বছরের আরও বেশি সময় নর্দার্ন সি রুট বাণিজ্যিক নৌযানের জন্য উন্মুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সুয়েজ খাল বা হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে আর্কটিক পথ এখনই প্রস্তুত। কারণ বাণিজ্যিক নৌপথ শুধু দূরত্ব দিয়ে বিচার করা যায় না। সেখানে নিরাপত্তা, অবকাঠামো, বীমা, উদ্ধারব্যবস্থা, আবহাওয়া, বরফের পরিস্থিতি, বন্দর সুবিধা, জ্বালানি সরবরাহ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা— সবকিছুর হিসাব করতে হয়।

এনএসআরের ক্ষেত্রে এসব জায়গাতেই এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে।

চীনের জন্য কৌশলগত লাভ, কিন্তু ব্যবসায়িক হিসাব কঠিন

চীনের জন্য আর্কটিক রুটের গুরুত্ব তাই কেবল একটি নতুন শিপিং লেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থায় বেইজিংয়ের বিকল্প তৈরি করার কৌশলের অংশ।

সুয়েজ খাল বা হরমুজ প্রণালির মতো সংকটপূর্ণ পয়েন্টে কোনো যুদ্ধ, অবরোধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে চীনের ইউরোপমুখী বাণিজ্য যাতে পুরোপুরি বিপর্যস্ত না হয়, সে জন্য বিকল্প রুট থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতও নর্দার্ন সি রুট দিয়ে কার্গো পরিবহনে আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে এটি এশিয়া-ইউরোপ বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

তবে আপাতত অর্থনৈতিক হিসাব খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। উচ্চ পরিচালন ব্যয়, সীমিত নৌচলাচল মৌসুম, বরফ মোকাবিলার জন্য বিশেষ জাহাজ ও আইসব্রেকারের প্রয়োজন, বীমা ও নিরাপত্তা ব্যয় এবং রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে সুয়েজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা এখনো কঠিন।

সবচেয়ে বড় কথা, একটি দুর্ঘটনার খরচ এখানে সাধারণ সমুদ্রপথের তুলনায় বহুগুণ বেশি হতে পারে। কোনো তেলবাহী জাহাজ যদি বরফের মধ্যে আটকে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়, তাহলে সেটি শুধু রাশিয়ার জন্য নয়, পুরো আর্কটিক পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

তাই হরমুজ ও সুয়েজের অস্থিরতার পর নর্দার্ন সি রুট নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও এটিকে এখনই বিকল্প বৈশ্বিক বাণিজ্যপথ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং আর্কটিকের ‘আইস সিল্ক রোড’ এখন একটি পরীক্ষাগার—যেখানে চীন পরীক্ষা করছে, জলবায়ু পরিবর্তনে দ্রুত বদলে যাওয়া পৃথিবীর সুযোগকে কীভাবে বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়া যায়।

কিন্তু সেই পরীক্ষার মূল্যও কম নয়। যে বরফ গলে এই নতুন পথ খুলে যাচ্ছে, সেই বরফ গলে যাওয়াই আবার পৃথিবীর সবচেয়ে ভঙ্গুর পরিবেশগুলোর একটিকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই কারণেই নর্দার্ন সি রুটকে আপাতত হরমুজ বা সুয়েজের বিকল্প বলা কঠিন। বরং এটি এমন এক ভবিষ্যৎ বাণিজ্যপথ, যার সম্ভাবনা যত বাড়ছে, তার ঝুঁকির তালিকাও তত দীর্ঘ হচ্ছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি: ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় নারাজ ট্রাম্প

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুতর’ নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে দুই দেশের আলোচনা চালানোর নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা এখন ‘পুরোপুরি অর্থহীন’ হয়ে পড়েছে। এই সমঝোতার আওতায় তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ বিষয় সমাধানের আলোচনা করার কথা ছিল।

৭ ঘণ্টা আগে

৩ লাখ রোহিঙ্গার পরিচয় শনাক্ত, রাখাইনে নিরাপত্তা ফিরলে প্রত্যাবাসন: মিয়ানমার

রোববার (১৬ আগস্ট) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের নামের তালিকা মিয়ানমারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

১ দিন আগে

মার্কিন সেনা আটক বা হত্যায় ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেবে ইরান

মার্কিন সেনাদের আটক বা হত্যা করে ইরানের কাছে হস্তান্তর করতে পারলে প্রায় ৩০ হাজার ডলার (৫ বিলিয়ন ইরানি তোমান) পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কোনো নারী এ ধরনের কাজ করলে তাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেওয়া হবে।

১ দিন আগে

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে হোটেলে আগুনে ৭ জনের মৃত্যু, দগ্ধ অনেকে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে একটি পাঁচতলা হোটেলে ভয়াবহ আগুনে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আগুনে দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে তারা মারা গেছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

১ দিন আগে