
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও জনসমক্ষে দেখা দেননি মোজতবা খামেনি। এমনকি তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফানের প্রধান অনুষ্ঠানেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আহত হওয়ায় এখনো প্রকাশ্যে আসার মতো সুস্থ নন বলে দাবি করা হলেও, দেশটির অন্যতম সংকটময় সময়ে তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি নেতৃত্ব, বৈধতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
জ্যেষ্ঠ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে শনিবার (১১ জুলাই) রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, শক্তিশালী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর সমর্থনে সর্বোচ্চ নেতা হওয়া মোজতবা খামেনি ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মুখমণ্ডলে বিকৃতিসহ বিভিন্ন ধরনের আঘাত পান। সূত্রগুলোর দাবি, তিনি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে শারীরিকভাবে এখনো জনসমক্ষে আসার মতো সুস্থ হয়ে ওঠেননি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ওই হামলায় তার বাবা ও তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এর এক সপ্তাহ পর ধর্মীয় পরিষদ মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেয়। কিন্তু এরপর থেকে তার কোনো নতুন ছবি, ভিডিও বা বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি বাবার জানাজা ও দাফানের প্রধান অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। ফলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসের অন্যতম অস্থির সময়ে ইরানের নেতৃত্ব কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতার পরিকল্পনা কী— তা নিয়ে দেশ-বিদেশে জল্পনা-কল্পনা বেড়েছে।
এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হওয়ায় তার ভূমিকা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ইসফাহানের ৪৭ বছর বয়সী দোকানি তাঘি রয়টার্সকে বলেন, “নিরাপত্তার কারণে তিনি জনসমক্ষে না-ও আসতে পারেন, সেটা আমি বুঝি। কিন্তু দেশ এখন খুব কঠিন সময় পার করছে। মানুষকে সর্বোচ্চ নেতাকে দেখতে হবে। তিনি আহত হলেও অন্তত মানুষ বুঝতে চায়, একজন নেতা আছেন এবং তিনিই দেশ পরিচালনা করছেন।”
ক্ষমতাসীন পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করছেন অন্য স্বজনরা
গত বৃহস্পতিবার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফান অনুষ্ঠানে তার কফিনের পাশে ইরানের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থানে তিন ছেলে জানাজার নামাজে অংশ নেন। রয়টার্সের মতে, এ আয়োজন আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্বে পারিবারিক সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
মোজতবা খামেনির তিন ভাইই জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় আলেম হলেও ইরানের রাজনীতিতে তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা নেই এবং ভবিষ্যতেও তা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হয়।
তবে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি আলী খোমেনি শুক্রবারের শোকসভায় মোজতবা খামেনির পক্ষে বক্তব্য দেবেন। বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা তুলে ধরতে পারিবারিক সম্পর্ককে কীভাবে ব্যবহার করা হয়, এটি তারই একটি উদাহরণ।
অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বাবার দাফানের সময় মোজতবা খামেনি অন্তত নিজে উপস্থিত হবেন কিংবা একটি ভিডিও বা অডিও বার্তা দেবেন অথবা নতুন কোনো ছবি প্রকাশ করবেন। কিন্তু এর কোনোটিই ঘটেনি।
ইরানের জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলোর ভাষ্য, গত ৮ মার্চ ধর্মীয় পরিষদের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তার কোনো নতুন ছবি বা বক্তব্য প্রকাশ না হওয়ার পেছনে স্বাস্থ্যগত ও নিরাপত্তাজনিত— উভয় কারণই রয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টিও কম নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যেই যে আকস্মিক যুদ্ধ শুরু করেছিল, তার প্রথম দফার হামলাতেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
এ ছাড়া রাজনৈতিক, কৌশলগত, ধর্মীয় ও বিপ্লবী নেতৃত্বের সর্বোচ্চ প্রতীক হিসেবে মোজতবা খামেনিকে এমন অবস্থায় জনসমক্ষে আসতে হবে, যেখানে তাকে শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সক্ষম বলে প্রতীয়মান হবে। কিন্তু তিনি এখনো সেই অবস্থায় পৌঁছাতে পারেননি বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে সর্বশেষ সরকারি বক্তব্য আসে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের কাছ থেকে। মে মাসে তিনি বলেছিলেন, সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
বর্তমানে আইআরজিসি দেশের ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতা কতদিন জনসমক্ষে না এসে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন— তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
স্কটল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ইতিহাসের অধ্যাপক আলি আনসারি বলেন, “যার হাতে উত্তরাধিকার যাচ্ছে, তিনি যদি সামনে না-ই থাকেন, তাহলে ক্যারিশমাটিক নেতৃত্ব কীভাবে তৈরি হবে? আপাতত হয়তো তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি টেকসই নয়।”
আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন মোজতবা
রয়টার্সের সঙ্গে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কথা বলা ২০ জনের বেশি ইরানি নাগরিক মোজতবা খামেনির দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তেহরানের ৫১ বছর বয়সী শিক্ষক মোহাম্মদরেজা বলেন, “যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও যদি সর্বোচ্চ নেতা জনসমক্ষে না আসেন, বিশেষ করে সাবেক নেতার দাফানের পর, তাহলে দেশে অনিশ্চয়তা ও বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে।”
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদটি বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানের মতো নয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় মতাদর্শ অনুযায়ী, এই পদধারী ব্যক্তি নবম শতকে অন্তর্ধানে যাওয়া শিয়া ইসলামের দ্বাদশ ইমামের পৃথিবীতে প্রতিনিধি।
মোজতবা খামেনি এই ভূমিকাকে কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ছিলেন ইসলামি বিপ্লবের অবিসংবাদিত নেতা এবং দেশের সবচেয়ে সম্মানিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। তার ব্যক্তিত্ব ও ধর্মীয় মর্যাদা এমন ছিল যে, তার প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্য গড়ে উঠেছিল।
তার উত্তরসূরি আলি খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সে সময় তাকে শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় আলেম হিসেবে দেখা হতো না এবং শুরুতে তার কর্তৃত্বও খোমেনির মতো ছিল না।
তবে ৩৭ বছরের নেতৃত্বে তিনি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের একে একে সরিয়ে দেন এবং আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
মোজতবা খামেনিরও শক্তিশালী ধর্মীয় পরিচিতি নেই। আবার বাবার মতো নিজস্ব রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রও তিনি গড়ে তুলতে পারেননি। বরং দীর্ঘদিন বাবার বিস্তৃত কার্যালয় পরিচালনা, সারা দেশে গড়ে ওঠা সেই নেটওয়ার্ক তদারকি এবং বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির মধ্য দিয়েই তার রাজনৈতিক উত্থান ঘটে।
তার রাজনৈতিক দর্শন, নেতৃত্বের ধরন কিংবা প্রশাসনিক সক্ষমতা সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, তার শাসনামলেও আইআরজিসিই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হয়ে থাকবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। পালটাপালটি হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি এখনো তীব্র চাপে রয়েছে। জানুয়ারিতে কঠোরভাবে দমন করা গণবিক্ষোভের মতো পরিস্থিতি আবারও তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এমন বাস্তবতায় দেশের সর্বোচ্চ নেতা এখনো জনসমক্ষে অনুপস্থিত। বিশ্লেষকদের মতে, সময় যত গড়াচ্ছে, এই অনুপস্থিতিই ইরানের জন্য ক্রমেই একটি বড় রাজনৈতিক দায়ে পরিণত হচ্ছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও জনসমক্ষে দেখা দেননি মোজতবা খামেনি। এমনকি তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফানের প্রধান অনুষ্ঠানেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আহত হওয়ায় এখনো প্রকাশ্যে আসার মতো সুস্থ নন বলে দাবি করা হলেও, দেশটির অন্যতম সংকটময় সময়ে তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি নেতৃত্ব, বৈধতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
জ্যেষ্ঠ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে শনিবার (১১ জুলাই) রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, শক্তিশালী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর সমর্থনে সর্বোচ্চ নেতা হওয়া মোজতবা খামেনি ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মুখমণ্ডলে বিকৃতিসহ বিভিন্ন ধরনের আঘাত পান। সূত্রগুলোর দাবি, তিনি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে শারীরিকভাবে এখনো জনসমক্ষে আসার মতো সুস্থ হয়ে ওঠেননি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ওই হামলায় তার বাবা ও তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এর এক সপ্তাহ পর ধর্মীয় পরিষদ মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেয়। কিন্তু এরপর থেকে তার কোনো নতুন ছবি, ভিডিও বা বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি বাবার জানাজা ও দাফানের প্রধান অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। ফলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসের অন্যতম অস্থির সময়ে ইরানের নেতৃত্ব কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতার পরিকল্পনা কী— তা নিয়ে দেশ-বিদেশে জল্পনা-কল্পনা বেড়েছে।
এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হওয়ায় তার ভূমিকা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ইসফাহানের ৪৭ বছর বয়সী দোকানি তাঘি রয়টার্সকে বলেন, “নিরাপত্তার কারণে তিনি জনসমক্ষে না-ও আসতে পারেন, সেটা আমি বুঝি। কিন্তু দেশ এখন খুব কঠিন সময় পার করছে। মানুষকে সর্বোচ্চ নেতাকে দেখতে হবে। তিনি আহত হলেও অন্তত মানুষ বুঝতে চায়, একজন নেতা আছেন এবং তিনিই দেশ পরিচালনা করছেন।”
ক্ষমতাসীন পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করছেন অন্য স্বজনরা
গত বৃহস্পতিবার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফান অনুষ্ঠানে তার কফিনের পাশে ইরানের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থানে তিন ছেলে জানাজার নামাজে অংশ নেন। রয়টার্সের মতে, এ আয়োজন আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্বে পারিবারিক সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
মোজতবা খামেনির তিন ভাইই জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় আলেম হলেও ইরানের রাজনীতিতে তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা নেই এবং ভবিষ্যতেও তা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হয়।
তবে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি আলী খোমেনি শুক্রবারের শোকসভায় মোজতবা খামেনির পক্ষে বক্তব্য দেবেন। বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা তুলে ধরতে পারিবারিক সম্পর্ককে কীভাবে ব্যবহার করা হয়, এটি তারই একটি উদাহরণ।
অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বাবার দাফানের সময় মোজতবা খামেনি অন্তত নিজে উপস্থিত হবেন কিংবা একটি ভিডিও বা অডিও বার্তা দেবেন অথবা নতুন কোনো ছবি প্রকাশ করবেন। কিন্তু এর কোনোটিই ঘটেনি।
ইরানের জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলোর ভাষ্য, গত ৮ মার্চ ধর্মীয় পরিষদের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তার কোনো নতুন ছবি বা বক্তব্য প্রকাশ না হওয়ার পেছনে স্বাস্থ্যগত ও নিরাপত্তাজনিত— উভয় কারণই রয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টিও কম নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যেই যে আকস্মিক যুদ্ধ শুরু করেছিল, তার প্রথম দফার হামলাতেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
এ ছাড়া রাজনৈতিক, কৌশলগত, ধর্মীয় ও বিপ্লবী নেতৃত্বের সর্বোচ্চ প্রতীক হিসেবে মোজতবা খামেনিকে এমন অবস্থায় জনসমক্ষে আসতে হবে, যেখানে তাকে শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সক্ষম বলে প্রতীয়মান হবে। কিন্তু তিনি এখনো সেই অবস্থায় পৌঁছাতে পারেননি বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে সর্বশেষ সরকারি বক্তব্য আসে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের কাছ থেকে। মে মাসে তিনি বলেছিলেন, সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
বর্তমানে আইআরজিসি দেশের ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতা কতদিন জনসমক্ষে না এসে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন— তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
স্কটল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ইতিহাসের অধ্যাপক আলি আনসারি বলেন, “যার হাতে উত্তরাধিকার যাচ্ছে, তিনি যদি সামনে না-ই থাকেন, তাহলে ক্যারিশমাটিক নেতৃত্ব কীভাবে তৈরি হবে? আপাতত হয়তো তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি টেকসই নয়।”
আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন মোজতবা
রয়টার্সের সঙ্গে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কথা বলা ২০ জনের বেশি ইরানি নাগরিক মোজতবা খামেনির দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তেহরানের ৫১ বছর বয়সী শিক্ষক মোহাম্মদরেজা বলেন, “যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও যদি সর্বোচ্চ নেতা জনসমক্ষে না আসেন, বিশেষ করে সাবেক নেতার দাফানের পর, তাহলে দেশে অনিশ্চয়তা ও বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে।”
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদটি বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানের মতো নয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় মতাদর্শ অনুযায়ী, এই পদধারী ব্যক্তি নবম শতকে অন্তর্ধানে যাওয়া শিয়া ইসলামের দ্বাদশ ইমামের পৃথিবীতে প্রতিনিধি।
মোজতবা খামেনি এই ভূমিকাকে কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ছিলেন ইসলামি বিপ্লবের অবিসংবাদিত নেতা এবং দেশের সবচেয়ে সম্মানিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। তার ব্যক্তিত্ব ও ধর্মীয় মর্যাদা এমন ছিল যে, তার প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্য গড়ে উঠেছিল।
তার উত্তরসূরি আলি খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সে সময় তাকে শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় আলেম হিসেবে দেখা হতো না এবং শুরুতে তার কর্তৃত্বও খোমেনির মতো ছিল না।
তবে ৩৭ বছরের নেতৃত্বে তিনি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের একে একে সরিয়ে দেন এবং আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
মোজতবা খামেনিরও শক্তিশালী ধর্মীয় পরিচিতি নেই। আবার বাবার মতো নিজস্ব রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রও তিনি গড়ে তুলতে পারেননি। বরং দীর্ঘদিন বাবার বিস্তৃত কার্যালয় পরিচালনা, সারা দেশে গড়ে ওঠা সেই নেটওয়ার্ক তদারকি এবং বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির মধ্য দিয়েই তার রাজনৈতিক উত্থান ঘটে।
তার রাজনৈতিক দর্শন, নেতৃত্বের ধরন কিংবা প্রশাসনিক সক্ষমতা সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, তার শাসনামলেও আইআরজিসিই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হয়ে থাকবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। পালটাপালটি হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি এখনো তীব্র চাপে রয়েছে। জানুয়ারিতে কঠোরভাবে দমন করা গণবিক্ষোভের মতো পরিস্থিতি আবারও তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এমন বাস্তবতায় দেশের সর্বোচ্চ নেতা এখনো জনসমক্ষে অনুপস্থিত। বিশ্লেষকদের মতে, সময় যত গড়াচ্ছে, এই অনুপস্থিতিই ইরানের জন্য ক্রমেই একটি বড় রাজনৈতিক দায়ে পরিণত হচ্ছে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া অনলাইনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, তারা রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ইয়ানবু শহরে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর কিছু স্থাপনা লক্ষ্য করে অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানা শহরে সৌদি হামলার জবাব হিসেবে
১৫ ঘণ্টা আগে
টুবাস শহরের দক্ষিণ-পূর্বে জর্ডান ভ্যালি এলাকায় অবস্থিত গ্রামটির বাসিন্দা থায়ের বাশারাত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকেকে বলেন, এর আগে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে গ্রামটির দিকে যাওয়ার সব মাটির রাস্তা বন্ধ করে রেখেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। পাঁচ দিন আগে শেষ যে পথটি অবশিষ্ট ছিল, স
১৬ ঘণ্টা আগে
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মহসিন রেজাই স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান তার শর্তগুলো নির্ধারণ করে দিয়েছে। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, অবরুদ্ধ
১৬ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ওয়ালাকে বলেছেন, সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দেওয়া হলেও ইসরায়েলের ‘কোয়ালিটেটিভ অপারেশনাল অ্যাডভান্টেজ’ বা গুণগত সামরিক সুবিধা বজায় থাকবে। তাদের যুক্তি, এ সুবিধা শুধু যুদ্ধবিমানটির ওপর নির্ভর করে না, বরং ইসরায়েলি পাইলটদের ব্যাপক যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা এবং এফ-৩৫-এর সঙ্গে ইসরায়েলি তৈরি অস্ত্র ও প্রযুক
১৭ ঘণ্টা আগে