
বিবিসি বাংলা

হরমুজ প্রণালি কেউ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে— ইরানের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা আসার পর থেকেই বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের এই রুটটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবও তাৎক্ষণিকভাবেই পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর আক্রমণ শুরু করার পর থেকেই বিশ্ব জুড়ে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বাড়ছে।
এর কারণটাও সহজেই অনুমেয়— সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে হরমুজ প্রণালি মাত্র ৪০ কিলোমিটার প্রশস্ত, যেখান দিয়ে পৃথিবীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। ফলে তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তেলের সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে তৈরি হয়েছে শঙ্কাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও বেশি অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়বে।
গত সোমবার ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফের উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাব্বারি দেশটির জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ পরিবহনে সতর্কবার্তা জারি করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ওদের এই অঞ্চলে আসা উচিত নয়। ওরা নিশ্চিতভাবে আমাদের কাছ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া পাবে।’
হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর তেলের দামের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড সোমবারই ব্যারেল প্রতি ৭৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। হামলার প্রথম দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির সঙ্গে তুলনা করলে ওই দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে।
নতুন তথ্য বলছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে তেল পরিবহনের জন্য সুপারট্যাংকার ভাড়া করার খরচ গত সপ্তাহের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা প্রতিদিন চার লাখ ডলারেরও বেশি এবং এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বলেই মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-সিক্সের সাবেক প্রধান স্যার অ্যালেক্স ইয়ঙ্গার এর আগে বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘তেলের দামের ওপর প্রভাবের কথা বিবেচনা করলে বলা যায়, ওই প্রণালি বন্ধ রাখলে স্পষ্টতই একটা অবিশ্বাস্য অর্থনৈতিক সমস্যা তৈরি হবে।’
ফ্রেট অ্যানালিটিক্স সংস্থা ভর্টেক্সার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রতিদিন গড়ে ২০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল, কনডেনসেট (প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত কম ঘনত্বের তরল) ও জ্বালানি এই প্রণালি ব্যবহার করে গ্রাহক দেশগুলোতে পাঠানো হয়।
এই পরিমাণ প্রতি বছর সমুদ্রপথে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি বাণিজ্যের সমান। সাপ্লাই চেন অপারেশন বা সরবরাহ শৃঙ্খল কীভাবে কার্যকর করে তোলা যায়, তার পরিবহন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে ফ্রেট অ্যানালিটিক্স সংস্থা।
ইরানসহ ‘অরগানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিসে’র (যা পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর আন্তঃসরকারি সংস্থা) অন্যান্য সদস্য দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাক এশিয়ায় তাদের বেশিরভাগ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়েই রপ্তানি করে।
এই জলপথে যেকোনো ব্যাঘাতের ফলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব দেখা দিতে পারে, যার তাৎক্ষণিক প্রভাব গিয়ে পড়বে তেলের দামের ওপর।

ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত একটি চ্যানেল হরমুজ প্রণালি। এতে প্রবেশ ও প্রস্থানের অংশ ৫০ কিলোমিটার প্রশস্ত। মাঝে সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে এই প্রণালির বিস্তৃতি প্রায় ৪০ কিলোমিটার। হরমুজ প্রণালির কেন্দ্রীয় অংশটি বড় জাহাজ চলাচলের জন্য যথেষ্ট গভীর।
ভারী তেল ট্যাংকারগুলোর কথা মাথায় রেখে সামুদ্রিক নেভিগেশন চার্টে একটি নিরাপদ ইনবাউন্ড লেন, একটি নিরাপদ আউটবাউন্ড লেন ও এই দুইয়ের মাঝে একটি বাফার জোন নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই বড়সড় জাহাজগুলকে মাত্র ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি চ্যানেল ধরে চলাচল করতে হয়।
ট্যাংকারগুলো পারস্য উপসাগরে ঢোকার সময় ইরান ও আরব দেশগুলোর মধ্যবর্তী অঞ্চল গ্রেটার ও লেসার তুন্ব দ্বীপপুঞ্জকে অতিক্রম করে। এই অঞ্চল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
সমুদ্রে যান চলাচল ব্যাহত করতে ব্যবহৃত সবচেয়ে সম্ভাব্য পদ্ধতি সামরিক অভিযান বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ঠিক এটাই ঘটেছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ইরানের কাছে এই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া অনেকটা পারমাণবিক অস্ত্র রাখার সমান। এটি ইরানের কাছে ‘প্রতিরোধ ক্ষমতা’ বলে বিবেচনা করা হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির বিরোধিতা করে আসছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলো এ বিষয়টিও অনেক আগে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা তেহরানকে সে দেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ব্যবহার করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করতে দেবে না।
বিশেষজ্ঞরা প্রায়শই অনুমান করেন ইরান হয়তো সাময়িকভাবে এই প্রণালি বন্ধ করতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের অনেকে আবার এ কথাও বিশ্বাস করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো সামরিক উপায় ব্যবহার করে সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আবার পুনর্বহাল করতে পারবে।
ইরান কীভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে পারে, ২০১২ সালে প্রকাশিত মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে সে বিষয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধীরে ধীরে এই সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিতে পারে তেহরান।
এসব পদক্ষেপ নিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—
ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইরান তেল ট্যাংকারগুলোতে সিল্কওয়ার্ম ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছিল এবং উপসাগরীয় জলসীমায় নৌ মাইন স্থাপন করেছিল। এই মাইনগুলোর মধ্যে একটি ইউএসএস স্যামুয়েল বি রবার্টসে আঘাত হানে। জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী পালটা প্রতিশোধ নেয়।
ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছিল বটে, কিন্তু জাহাজের বিমা প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল এবং একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক যানজট তৈরি করেছিল, যা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের কাছে প্রতি মাসে ওই জলপথ দিয়ে ব্যবহারকারী প্রায় তিন হাজার জাহাজকে বাধা দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়ের মধ্যে একটি হলো দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌকা ও সাবমেরিন ব্যবহার করে মাইন বসানো।
ইরানের নিয়মিত নৌ বাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড আইআরজিসির নৌ বাহিনী বিদেশি যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সম্ভাব্য আক্রমণ চালাতে পারে। তবে ভারী সামরিক জাহাজ ইসরায়েলি বা মার্কিন বিমান হামলার সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলেও মনে করেন তারা।
ইরানের দ্রুতগামী নৌকাগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অ্যান্টি শিপ মিসাইল বা জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত থাকে। তাছাড়া তাদের কাছে বিভিন্ন সার্ফেস ভেসেল (জলপৃষ্ঠে যুদ্ধের জন্য বিশেষভাবে তৈরি), সেমি-সাবমার্সিবল ক্র্যাফট ও সাবমেরিনও রয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে সামুদ্রিক যান চলাচল ট্র্যাক করে— এমন ওয়েবসাইটগুলো সম্প্রতি ইরানের দক্ষিণ সামুদ্রিক সীমান্তের কাছে সামরিক জাহাজের গতিবিধি লক্ষ্য করেছে।
বিশ্লেষণকারী সংস্থা ভর্টেক্সার গবেষণায় দেখা গেছে, সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে, যা যেকোনো প্রতিবেশী দেশের চেয়ে বেশি।
ইউএস এনার্জি ইনফর্মেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) অনুমান, ২০২৪ সালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেটের ৮৪ শতাংশ ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৮৩ শতাংশ এশিয়ার বাজারে গিয়েছিল।
ইআইএ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালি থেকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট আমদানি করেছিল, যা তাদের মোট তেল আমদানির প্রায় ৭ শতাংশ এবং পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের ২ শতাংশ।
ওই একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের আমদানির পরিমাণ ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছিল। এর কারণ দেশীয় উৎপাদন ও কানাডা থেকে আমদানি বেড়েছে। আর সম্মিলিতভাবে ইউরোপের আমদানি করা তেলের পরিমাণ (যার জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহার হয়েছে) প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেলেরও কম বলে মনে করা হচ্ছে।
এসব তথ্য থেকে ধারণা করা হয়, হরমুজ প্রণালি বন্ধের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় শক্তিগুলো, যারা সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েলের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে জোটবদ্ধ, তাদের চাইতে আরব ও এশীয় দেশগুলোর বেশি ক্ষতি হবে।
এদিকে বেশ কয়েকটি এশীয় দেশ ইরানের সঙ্গে ভালো বা কিছু ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও বজায় রেখেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া তেলের অন্যতম বৃহৎ গ্রাহক হলো চীন। এই তেলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিশ্ব বাজারের দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি করে ইরান, যা ওই দেশের অর্থনীতিকে জীবনশক্তি যোগায় এবং তেহরানের ওপর আরোপ করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করে। ইআইএর অনুমান, ২০২৪ সালে বিশ্ব বাজারে ইরান যে তেল রপ্তানি করেছিল তার প্রায় ৯০ শতাংশই চীন কিনেছিল।
ইরানের স্ট্র্যাটেজিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সেক্রেটারি ফিরোজাবাদির মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে প্রথম ক্ষতির সম্মুখীন হবে চীন। তাই এই নিয়ে আলোচনা চীনের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান থেকে রপ্তানি হওয়া তেলের প্রধান গ্রাহক হিসেবে কিন্তু তেলের দাম বেড়ে যাওয়া বা জাহাজ চলাচলের পথে কোনো বাধাকে স্বাগত জানাবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ফলে এ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর বন্ধ হওয়া রোধ করতে চীন তার পূর্ণ কূটনৈতিক শক্তি ব্যবহার করবে বলেও ধারণা করা যেতে পারে।
জ্বালানি পরামর্শদাতা আউটলুক অ্যাডভাইজার্সের অংশীদার আনাস আলহাজ্জি সিএনবিসিকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করলে সম্ভবত শত্রুদের চেয়ে ইরানের মিত্রদের বেশি ক্ষতি হবে। তিনি বলেন, ‘ওরা (ইরান) এমন কিছু করতে চায় না যেন প্রথমে নিজেদের ক্ষতি হয়।’
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা নিয়ে ক্রমাগত হুমকি উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোকে বিগত সময়ে বিকল্প রপ্তানি রুট তৈরি করার ক্ষেত্রে উৎসাহ দিয়েছে। ২০১৯ সালে সৌদি আরব অস্থায়ীভাবে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য একটি প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন পুনর্নির্মাণ করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত তার অভ্যন্তরীণ তেলক্ষেত্রগুলোকে ওমান উপসাগরের ফুজাইরা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর দৈনিক ধারণক্ষমতা দেড় মিলিয়ন ব্যারেল।
ইরান ২০২১ সালের জুলাই মাসে ওমান উপসাগরে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য গোরেহ-জাস্ক পাইপলাইন উদ্বোধন করে। এই পাইপলাইন প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল পরিবহন করতে পারে, যদিও প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরান এখনো তা শুরু করেনি।
ইআইএ গত বছরের জুনে জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিকে বাইপাস করার জন্য বিদ্যমান সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি পাইপলাইন থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৬ লাখ ব্যারেল অব্যবহৃত ক্ষমতা পাওয়া যেতে পারে।

হরমুজ প্রণালি কেউ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে— ইরানের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা আসার পর থেকেই বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের এই রুটটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবও তাৎক্ষণিকভাবেই পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর আক্রমণ শুরু করার পর থেকেই বিশ্ব জুড়ে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বাড়ছে।
এর কারণটাও সহজেই অনুমেয়— সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে হরমুজ প্রণালি মাত্র ৪০ কিলোমিটার প্রশস্ত, যেখান দিয়ে পৃথিবীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। ফলে তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তেলের সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে তৈরি হয়েছে শঙ্কাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও বেশি অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়বে।
গত সোমবার ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফের উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাব্বারি দেশটির জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ পরিবহনে সতর্কবার্তা জারি করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ওদের এই অঞ্চলে আসা উচিত নয়। ওরা নিশ্চিতভাবে আমাদের কাছ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া পাবে।’
হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর তেলের দামের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড সোমবারই ব্যারেল প্রতি ৭৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। হামলার প্রথম দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির সঙ্গে তুলনা করলে ওই দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে।
নতুন তথ্য বলছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে তেল পরিবহনের জন্য সুপারট্যাংকার ভাড়া করার খরচ গত সপ্তাহের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা প্রতিদিন চার লাখ ডলারেরও বেশি এবং এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বলেই মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-সিক্সের সাবেক প্রধান স্যার অ্যালেক্স ইয়ঙ্গার এর আগে বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘তেলের দামের ওপর প্রভাবের কথা বিবেচনা করলে বলা যায়, ওই প্রণালি বন্ধ রাখলে স্পষ্টতই একটা অবিশ্বাস্য অর্থনৈতিক সমস্যা তৈরি হবে।’
ফ্রেট অ্যানালিটিক্স সংস্থা ভর্টেক্সার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রতিদিন গড়ে ২০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল, কনডেনসেট (প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত কম ঘনত্বের তরল) ও জ্বালানি এই প্রণালি ব্যবহার করে গ্রাহক দেশগুলোতে পাঠানো হয়।
এই পরিমাণ প্রতি বছর সমুদ্রপথে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি বাণিজ্যের সমান। সাপ্লাই চেন অপারেশন বা সরবরাহ শৃঙ্খল কীভাবে কার্যকর করে তোলা যায়, তার পরিবহন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে ফ্রেট অ্যানালিটিক্স সংস্থা।
ইরানসহ ‘অরগানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিসে’র (যা পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর আন্তঃসরকারি সংস্থা) অন্যান্য সদস্য দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাক এশিয়ায় তাদের বেশিরভাগ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়েই রপ্তানি করে।
এই জলপথে যেকোনো ব্যাঘাতের ফলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব দেখা দিতে পারে, যার তাৎক্ষণিক প্রভাব গিয়ে পড়বে তেলের দামের ওপর।

ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত একটি চ্যানেল হরমুজ প্রণালি। এতে প্রবেশ ও প্রস্থানের অংশ ৫০ কিলোমিটার প্রশস্ত। মাঝে সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে এই প্রণালির বিস্তৃতি প্রায় ৪০ কিলোমিটার। হরমুজ প্রণালির কেন্দ্রীয় অংশটি বড় জাহাজ চলাচলের জন্য যথেষ্ট গভীর।
ভারী তেল ট্যাংকারগুলোর কথা মাথায় রেখে সামুদ্রিক নেভিগেশন চার্টে একটি নিরাপদ ইনবাউন্ড লেন, একটি নিরাপদ আউটবাউন্ড লেন ও এই দুইয়ের মাঝে একটি বাফার জোন নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই বড়সড় জাহাজগুলকে মাত্র ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি চ্যানেল ধরে চলাচল করতে হয়।
ট্যাংকারগুলো পারস্য উপসাগরে ঢোকার সময় ইরান ও আরব দেশগুলোর মধ্যবর্তী অঞ্চল গ্রেটার ও লেসার তুন্ব দ্বীপপুঞ্জকে অতিক্রম করে। এই অঞ্চল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
সমুদ্রে যান চলাচল ব্যাহত করতে ব্যবহৃত সবচেয়ে সম্ভাব্য পদ্ধতি সামরিক অভিযান বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ঠিক এটাই ঘটেছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ইরানের কাছে এই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া অনেকটা পারমাণবিক অস্ত্র রাখার সমান। এটি ইরানের কাছে ‘প্রতিরোধ ক্ষমতা’ বলে বিবেচনা করা হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির বিরোধিতা করে আসছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলো এ বিষয়টিও অনেক আগে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা তেহরানকে সে দেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ব্যবহার করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করতে দেবে না।
বিশেষজ্ঞরা প্রায়শই অনুমান করেন ইরান হয়তো সাময়িকভাবে এই প্রণালি বন্ধ করতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের অনেকে আবার এ কথাও বিশ্বাস করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো সামরিক উপায় ব্যবহার করে সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আবার পুনর্বহাল করতে পারবে।
ইরান কীভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে পারে, ২০১২ সালে প্রকাশিত মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে সে বিষয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধীরে ধীরে এই সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিতে পারে তেহরান।
এসব পদক্ষেপ নিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—
ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইরান তেল ট্যাংকারগুলোতে সিল্কওয়ার্ম ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছিল এবং উপসাগরীয় জলসীমায় নৌ মাইন স্থাপন করেছিল। এই মাইনগুলোর মধ্যে একটি ইউএসএস স্যামুয়েল বি রবার্টসে আঘাত হানে। জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী পালটা প্রতিশোধ নেয়।
ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছিল বটে, কিন্তু জাহাজের বিমা প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল এবং একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক যানজট তৈরি করেছিল, যা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের কাছে প্রতি মাসে ওই জলপথ দিয়ে ব্যবহারকারী প্রায় তিন হাজার জাহাজকে বাধা দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়ের মধ্যে একটি হলো দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌকা ও সাবমেরিন ব্যবহার করে মাইন বসানো।
ইরানের নিয়মিত নৌ বাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড আইআরজিসির নৌ বাহিনী বিদেশি যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সম্ভাব্য আক্রমণ চালাতে পারে। তবে ভারী সামরিক জাহাজ ইসরায়েলি বা মার্কিন বিমান হামলার সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলেও মনে করেন তারা।
ইরানের দ্রুতগামী নৌকাগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অ্যান্টি শিপ মিসাইল বা জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত থাকে। তাছাড়া তাদের কাছে বিভিন্ন সার্ফেস ভেসেল (জলপৃষ্ঠে যুদ্ধের জন্য বিশেষভাবে তৈরি), সেমি-সাবমার্সিবল ক্র্যাফট ও সাবমেরিনও রয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে সামুদ্রিক যান চলাচল ট্র্যাক করে— এমন ওয়েবসাইটগুলো সম্প্রতি ইরানের দক্ষিণ সামুদ্রিক সীমান্তের কাছে সামরিক জাহাজের গতিবিধি লক্ষ্য করেছে।
বিশ্লেষণকারী সংস্থা ভর্টেক্সার গবেষণায় দেখা গেছে, সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে, যা যেকোনো প্রতিবেশী দেশের চেয়ে বেশি।
ইউএস এনার্জি ইনফর্মেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) অনুমান, ২০২৪ সালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেটের ৮৪ শতাংশ ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৮৩ শতাংশ এশিয়ার বাজারে গিয়েছিল।
ইআইএ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালি থেকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট আমদানি করেছিল, যা তাদের মোট তেল আমদানির প্রায় ৭ শতাংশ এবং পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের ২ শতাংশ।
ওই একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের আমদানির পরিমাণ ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছিল। এর কারণ দেশীয় উৎপাদন ও কানাডা থেকে আমদানি বেড়েছে। আর সম্মিলিতভাবে ইউরোপের আমদানি করা তেলের পরিমাণ (যার জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহার হয়েছে) প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেলেরও কম বলে মনে করা হচ্ছে।
এসব তথ্য থেকে ধারণা করা হয়, হরমুজ প্রণালি বন্ধের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় শক্তিগুলো, যারা সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েলের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে জোটবদ্ধ, তাদের চাইতে আরব ও এশীয় দেশগুলোর বেশি ক্ষতি হবে।
এদিকে বেশ কয়েকটি এশীয় দেশ ইরানের সঙ্গে ভালো বা কিছু ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও বজায় রেখেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া তেলের অন্যতম বৃহৎ গ্রাহক হলো চীন। এই তেলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিশ্ব বাজারের দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি করে ইরান, যা ওই দেশের অর্থনীতিকে জীবনশক্তি যোগায় এবং তেহরানের ওপর আরোপ করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করে। ইআইএর অনুমান, ২০২৪ সালে বিশ্ব বাজারে ইরান যে তেল রপ্তানি করেছিল তার প্রায় ৯০ শতাংশই চীন কিনেছিল।
ইরানের স্ট্র্যাটেজিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সেক্রেটারি ফিরোজাবাদির মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে প্রথম ক্ষতির সম্মুখীন হবে চীন। তাই এই নিয়ে আলোচনা চীনের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান থেকে রপ্তানি হওয়া তেলের প্রধান গ্রাহক হিসেবে কিন্তু তেলের দাম বেড়ে যাওয়া বা জাহাজ চলাচলের পথে কোনো বাধাকে স্বাগত জানাবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ফলে এ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর বন্ধ হওয়া রোধ করতে চীন তার পূর্ণ কূটনৈতিক শক্তি ব্যবহার করবে বলেও ধারণা করা যেতে পারে।
জ্বালানি পরামর্শদাতা আউটলুক অ্যাডভাইজার্সের অংশীদার আনাস আলহাজ্জি সিএনবিসিকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করলে সম্ভবত শত্রুদের চেয়ে ইরানের মিত্রদের বেশি ক্ষতি হবে। তিনি বলেন, ‘ওরা (ইরান) এমন কিছু করতে চায় না যেন প্রথমে নিজেদের ক্ষতি হয়।’
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা নিয়ে ক্রমাগত হুমকি উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোকে বিগত সময়ে বিকল্প রপ্তানি রুট তৈরি করার ক্ষেত্রে উৎসাহ দিয়েছে। ২০১৯ সালে সৌদি আরব অস্থায়ীভাবে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য একটি প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন পুনর্নির্মাণ করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত তার অভ্যন্তরীণ তেলক্ষেত্রগুলোকে ওমান উপসাগরের ফুজাইরা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর দৈনিক ধারণক্ষমতা দেড় মিলিয়ন ব্যারেল।
ইরান ২০২১ সালের জুলাই মাসে ওমান উপসাগরে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য গোরেহ-জাস্ক পাইপলাইন উদ্বোধন করে। এই পাইপলাইন প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল পরিবহন করতে পারে, যদিও প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরান এখনো তা শুরু করেনি।
ইআইএ গত বছরের জুনে জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিকে বাইপাস করার জন্য বিদ্যমান সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি পাইপলাইন থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৬ লাখ ব্যারেল অব্যবহৃত ক্ষমতা পাওয়া যেতে পারে।

সরকারের পতন হলে বহু ইরানি, সম্ভবত বেশির ভাগ মানুষই উল্লাস প্রকাশ করবে। কিন্তু গায়ের জোরে একটি শাসকগোষ্ঠীকে সরিয়ে সেখানে শান্তিপূর্ণ ও সুসংহত একটি বিকল্প দাঁড় করানো হবে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্প বাজি ধরেছেন যে এটি সম্ভব এবং এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যকে আরও উন্নত ও নিরাপদ একটি জায়গায় পরিণত করবে।
১৩ ঘণ্টা আগে
ফার্স নিউজ জানিয়েছে, খামেনিকে বিদায় জানাতে রাজধানীতে একটি গণ-স্মরণানুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন দেশটির সরকার। তবে দাফন, জানাজা বা স্মরণ অনুষ্ঠানের তারিখ এখনো জানানো হয়নি।
১৪ ঘণ্টা আগে
ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ও জ্বালানি ট্যাংকার উভয় জাহাজেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর ওই এলাকা থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানানো হয়। যদিও এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কি
১৪ ঘণ্টা আগে
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে ইরাকের তেল উৎপাদন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে; দেশটির রুমাইলা ও ওয়েস্ট কুর্না-২ এর মতো বৃহৎ তেলক্ষেত্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সংঘাতের উত্তাপ ছড়িয়েছে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতেও; দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেট ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া
১৫ ঘণ্টা আগে