কলম্বিয়ায় মহাসড়কে বোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১৪

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাউকা প্রদেশে এক ভয়াবহ বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। প্যান-আমেরিকান মহাসড়কে বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে চালানো এই বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন আরও ৩৮ জন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সামরিক বাহিনী এই ঘটনাকে একটি ‘বর্বর সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

হামলার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে এই হামলার পেছনে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মাদক পাচারকারী চক্র জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে উপদ্রুত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং হতাহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) কাজিবিওর এল টুনেল এলাকায় প্যান-আমেরিকান মহাসড়কে এই বিস্ফোরণ ঘটে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিহত এবং আরও ৩৮ জনের বেশি মানুষের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্কও রয়েছে।’

গুজমান এই ঘটনাকে ‘বেসামরিক জনগণের ওপর নির্বিচার হামলা’ হিসেবে নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, ‘ব্যথা প্রকাশ করার মতো যথেষ্ট শব্দ আমাদের কাছে নেই’। এ সময় ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ মোকাবিলায় সরকারের কাছ থেকে ‘দৃঢ় ও ধারাবাহিক” পদক্ষেপের দাবিও জানান তিনি।

গভর্নরের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে বিস্ফোরণের পরের দৃশ্য সামনে এসেছে। ওই ভিডিওতে সড়কে ছিন্নভিন্ন গাড়ি ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। গুজমান বলেন, ‘কাউকা একা এই বর্বরতার মুখোমুখি হতে পারে না’। তিনি আরও জানান, এল তাম্বো, কালোতো, পোপায়ান, গুয়াচেনে, মেরকাদেরেস ও মিরান্ডা এলাকাতেও সহিংস ঘটনা ঘটেছে।

কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল হুগো লোপেজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’। তিনি এর জন্য ‘ইভান মোরদিস্কো’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির নেটওয়ার্ক এবং ‘জাইমে মার্টিনেজ’ গোষ্ঠীকে দায়ী করেন।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলার নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের ‘সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট এবং মাদক পাচারকারী’ বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে ভায়ে দেল কাউকা অঞ্চলের গভর্নর ফ্রান্সিসকা তোরো কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ‘তাৎক্ষণিক সহায়তা’ চেয়েছেন। তিনি এক্সে দেওয়া বার্তায় বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং অপরাধ দমনে ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ব্রেক্সিটের ১০ বছরে ৬ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিদায়, সপ্তমের অপেক্ষা

ব্রেক্সিট গণভোটের ১০ বছর পূর্তির দিনে সেই রাজনৈতিক যাত্রাপথের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের সিদ্ধান্ত দেশটির জন্য শুধু একটি পররাষ্ট্র বা অর্থনৈতিক নীতিগত পরিবর্তন ছিল না; বরং এটি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে, যার প্রভাব এখনো দেশটির রাজনীতিতে স্পষ্ট।

১৬ ঘণ্টা আগে

হোয়াইট হাউজে ড্রোন ও স্নাইপার হামলার ষড়যন্ত্র: আরও দুইজন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একটি ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০ মিক্সড মার্শাল আর্টস ইভেন্টকে লক্ষ্য করে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ষড়যন্ত্রের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

১৯ ঘণ্টা আগে

ইরান কথা না শুনলে ‘যা করার করব’— হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির আওতায় প্রথম দফার আলোচনার পর গতকাল সোমবার থেকে আগামী ৬০ দিনের জন্য ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি এই চুক্তির শর্ত মেনে না চলে, তবে তিনি ‘যা করার তা-ই করবেন’।

১৯ ঘণ্টা আগে

ব্রেক্সিটের এক দশক: ইউরোপ নিয়ে সম্পর্কের জটিলতায় যুক্তরাজ্য

দশ বছর আগের ব্রেক্সিট আলোচনার সময়কার ইউরোপ আর আজকের ইউরোপ এক নয়। তখন মূল প্রশ্ন ছিল যুক্তরাজ্যের বিদায় কীভাবে সামলানো হবে। আর এখন প্রশ্ন— ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে ওঠা বিশ্বে ইউরোপ কীভাবে নিজের অবস্থান ধরে রাখবে।

২০ ঘণ্টা আগে