
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্প। ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এ ভূমিকম্পে নিহত দুই হাজারের ঘরে। সে ভূমিকম্পের আট দিন পরও ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক মরদেহ। উদ্ধার কর্মীরা বলছেন, সেখান থেকে জীবিত অবস্থায় কাউকে উদ্ধারের আশা একেবারেই শূন্য।
কিন্তু ‘স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশন’ বলে যে কথাটি প্রচলিত, সেটিই আরেকবার প্রমাণ হলো ভেনেজুয়েলায়। জোড়া ভূমিকম্পের আট দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার হলেন ৪৪ বছর বয়সী হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস। উদ্ধার কর্মীরাই বলছেন, এ ঘটনা রীতিমতো ‘অলৌকিক’!
আর যে হার্নানকে উদ্ধার করা হলো, তার ভাষ্য কী? তিনি বলছেন, মরে গিয়েছিলেন বলেই ভেবে নিয়েছিলেন তিনি। আট দিন পর সূর্যের আলো দেখার অনুভূতি তাই তার কাছে নতুন জীবনের মতো যেন।
সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপকূলীয় লা গুয়াইরা শহরের একটি ধসে পড়া ৯ তলা শপিং মলের পার্কিং ভবনের প্রায় ২৯ ফুট গভীর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হার্নানকে বের করে আনেন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।
এ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া চিলির ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, হার্নানকে জীবিত বের করে আনার পুরো অভিযান শেষ করতে প্রায় ৭০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। উদ্ধার শেষে তাকে দ্রুত একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা ‘ভালো’।
ভয়াবহ এ ভূমিকম্পের পর কয়েকদিন পেরিয়ে যাওয়ায় হার্নানকে মৃতই ধরে নিয়েছিলেন স্ত্রী গুসবিমার গনজালেস। হার্নানের মরদেহটি অন্তত পাওয়া যাবে, এমন ভাবনাই খেলা করছিল তার মনে। পরে যখন জানতে পারেন তার স্বামী জীবিত, আশার আলো দেখতে পান।
হার্নানকে উদ্ধারের অভিযান চলাকালে গুসবিমার গনজালেস সিএনএনকে বলেন, ভূমিকম্পের পর কয়েকটি দিন ছিল ভীষণ বেদনাদায়ক। ভেবেছিলাম, সে হয়তো আর বেঁচে নেই। কিন্তু যখন জানতে পারলাম সে জীবিত, তখন মনে হলো যেন সূর্যের একটি আলো দেখতে পেলাম।
স্বামীর দৃঢ়তার প্রশংসা করে গুসবিমার বলেন, ‘সে একজন নায়কের মতো লড়ে গেছে।’ সন্তানরা এখন ঘরে বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
হার্নান শপিং মলটির নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। বুধবার একটি অনুসন্ধান ক্যামেরা ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রবেশ করানোর পর প্রথমবারের মতো তার অবস্থান নিশ্চিত হতে পারেন উদ্ধারকর্মীরা।
চিলির ফায়ার সার্ভিস প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, পুরু কংক্রিটের স্তরের মাঝখানের ছোট্ট একটি ফাঁক দিয়ে হার্নানের আঙুল নড়ছে। সেটিই ছিল তার জীবিত থাকার প্রথম দৃশ্যমান প্রমাণ।
উদ্ধারকারীরা জানান, হার্নানের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা হচ্ছিল। সরু একটি পাইপ ও সিরিঞ্জের মাধ্যমে তার কাছে পানি, খাবার, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় তরল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল, যেন উদ্ধার অভিযান চলাকালীন তিনি বেঁচে থাকতে পারেন।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে হার্নানের মাথা ও কাঁধ বেরিয়ে আসছে। তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক ছিল এবং একটি চোখ রক্তাভ হয়ে উঠেছিল।
চিলির ফায়ার সার্ভিস জানায়, পুরো উদ্ধার অভিযান ছিল অত্যন্ত জটিল। কারণ ভবনটি তখনো অস্থিতিশীল ছিল এবং যেকোনো সময় নতুন করে ধ্বংসস্তূপ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি ছিল। উদ্ধার কর্মীদের বারবার ওপর থেকে পড়ে আসা কংক্রিট ও ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে।
জাতিসংঘের দুর্যোগ মূল্যায়ন ও সমন্বয় দলের সদস্য সেবাস্তিয়ান মোকরকের বলেন, ভূমিকম্পের সাত দিন পর জীবিত কাউকে উদ্ধার করা কার্যত অলৌকিক ঘটনা। কারণ ভূমিকম্পে আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়কে বলা হয় ‘গোল্ডেন উইন্ডো’, যা সাধারণত প্রথম ৭২ ঘণ্টা। এ সময়ের পর যদি নিরাপদ পানির উৎস না থাকে, তাহলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দ্রুত কমে যায়।
হার্নানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। উদ্ধারকারীরা সরাসরি তার কাছে পানি ও প্রয়োজনীয় তরল পৌঁছে দিতে সক্ষম হওয়ায় তিনি আট দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পেরেছেন।
কোস্টারিকার রেড ক্রস জানিয়েছে, গত রোববার প্রথম খবর পাওয়া যায় যে লা গুয়াইরার গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিং মলের ধ্বংসস্তূপের নিচে হয়তো কেউ জীবিত আছেন। পরে রাডার, সোনার ও শব্দ শনাক্তকারী বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেখানে সত্যিই একজন জীবিত ব্যক্তি আটকে আছেন।
এরপর প্রায় ছয়টি দেশের উদ্ধারকারী দল ও বিশেষজ্ঞরা টানা তিন দিন ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে একটি নিরাপদ পথ তৈরির চেষ্টা করেন। একই সময়ে হার্নানের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অব্যাহত রাখা হয়।
কোস্টারিকার রেড ক্রস এক বিবৃতিতে বলেছে, হার্নান গিলের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। গত কয়েক ঘণ্টায় তাকে শিরায় স্যালাইন, পানি এবং হাইড্রেশন সল্যুশন দেওয়া হয়েছে।
এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে দেখা যায়— একজন উদ্ধারকর্মী সরু পাইপের মাধ্যমে হার্নানের কাছে কমলা রঙের একটি তরল পৌঁছে দিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেটি ইলেকট্রোলাইট পানীয়।
ভিডিওতে উদ্ধারকর্মী তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কি আঘাত পেয়েছেন?’ হার্নান জবাব দেন, ‘না, আমি আহত হইনি। শুধু পাথরের চাপে পিষ্ট হয়ে আছি।’
নায়িব বুকেলে জানান, উদ্ধারকারীরা যে সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিলেন, সেটি কয়েকবার ধসে পড়ায় অভিযান আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল নিরলসভাবে সুড়ঙ্গটি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে। সেটিকে শক্তিশালী করা, সুরক্ষিত করা— সবই করা হয়েছে। কিন্তু বারবার ধসে পড়ায় কাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়।’
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি লা গুয়াইরায় এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটের মধ্যেও অনেক মানুষ কোদাল, গাইতি, এমনকি খালি হাত দিয়েই ধসে পড়া বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খুঁজে চলেছেন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলের মজুত থাকা সত্ত্বেও জরুরি সরঞ্জামের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বুধবার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত দুই হাজার ২৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৩৫০ জন বেশি। তবে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লা গুয়াইরার এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ জানান, তিনি যে অস্থায়ী মর্গে কাজ করছেন সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি মরদেহ নেওয়া হচ্ছে।
একদিকে যখন মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই, অন্যদিকে হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেসের মতো অলৌকিক কিছু উদ্ধার অভিযান এখনো স্বজনদের আশা ছাড়তে দিচ্ছে না। আট দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত বেরিয়ে আসা হার্নান যেন স্মরণ করিয়ে দিলেন— যতক্ষণ না শেষ নিখোঁজ মানুষটির সন্ধান মেলে, ততক্ষণ উদ্ধার অভিযান শেষ হয় না।

ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্প। ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এ ভূমিকম্পে নিহত দুই হাজারের ঘরে। সে ভূমিকম্পের আট দিন পরও ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক মরদেহ। উদ্ধার কর্মীরা বলছেন, সেখান থেকে জীবিত অবস্থায় কাউকে উদ্ধারের আশা একেবারেই শূন্য।
কিন্তু ‘স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশন’ বলে যে কথাটি প্রচলিত, সেটিই আরেকবার প্রমাণ হলো ভেনেজুয়েলায়। জোড়া ভূমিকম্পের আট দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার হলেন ৪৪ বছর বয়সী হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস। উদ্ধার কর্মীরাই বলছেন, এ ঘটনা রীতিমতো ‘অলৌকিক’!
আর যে হার্নানকে উদ্ধার করা হলো, তার ভাষ্য কী? তিনি বলছেন, মরে গিয়েছিলেন বলেই ভেবে নিয়েছিলেন তিনি। আট দিন পর সূর্যের আলো দেখার অনুভূতি তাই তার কাছে নতুন জীবনের মতো যেন।
সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপকূলীয় লা গুয়াইরা শহরের একটি ধসে পড়া ৯ তলা শপিং মলের পার্কিং ভবনের প্রায় ২৯ ফুট গভীর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হার্নানকে বের করে আনেন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।
এ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া চিলির ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, হার্নানকে জীবিত বের করে আনার পুরো অভিযান শেষ করতে প্রায় ৭০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। উদ্ধার শেষে তাকে দ্রুত একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা ‘ভালো’।
ভয়াবহ এ ভূমিকম্পের পর কয়েকদিন পেরিয়ে যাওয়ায় হার্নানকে মৃতই ধরে নিয়েছিলেন স্ত্রী গুসবিমার গনজালেস। হার্নানের মরদেহটি অন্তত পাওয়া যাবে, এমন ভাবনাই খেলা করছিল তার মনে। পরে যখন জানতে পারেন তার স্বামী জীবিত, আশার আলো দেখতে পান।
হার্নানকে উদ্ধারের অভিযান চলাকালে গুসবিমার গনজালেস সিএনএনকে বলেন, ভূমিকম্পের পর কয়েকটি দিন ছিল ভীষণ বেদনাদায়ক। ভেবেছিলাম, সে হয়তো আর বেঁচে নেই। কিন্তু যখন জানতে পারলাম সে জীবিত, তখন মনে হলো যেন সূর্যের একটি আলো দেখতে পেলাম।
স্বামীর দৃঢ়তার প্রশংসা করে গুসবিমার বলেন, ‘সে একজন নায়কের মতো লড়ে গেছে।’ সন্তানরা এখন ঘরে বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
হার্নান শপিং মলটির নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। বুধবার একটি অনুসন্ধান ক্যামেরা ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রবেশ করানোর পর প্রথমবারের মতো তার অবস্থান নিশ্চিত হতে পারেন উদ্ধারকর্মীরা।
চিলির ফায়ার সার্ভিস প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, পুরু কংক্রিটের স্তরের মাঝখানের ছোট্ট একটি ফাঁক দিয়ে হার্নানের আঙুল নড়ছে। সেটিই ছিল তার জীবিত থাকার প্রথম দৃশ্যমান প্রমাণ।
উদ্ধারকারীরা জানান, হার্নানের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা হচ্ছিল। সরু একটি পাইপ ও সিরিঞ্জের মাধ্যমে তার কাছে পানি, খাবার, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় তরল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল, যেন উদ্ধার অভিযান চলাকালীন তিনি বেঁচে থাকতে পারেন।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে হার্নানের মাথা ও কাঁধ বেরিয়ে আসছে। তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক ছিল এবং একটি চোখ রক্তাভ হয়ে উঠেছিল।
চিলির ফায়ার সার্ভিস জানায়, পুরো উদ্ধার অভিযান ছিল অত্যন্ত জটিল। কারণ ভবনটি তখনো অস্থিতিশীল ছিল এবং যেকোনো সময় নতুন করে ধ্বংসস্তূপ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি ছিল। উদ্ধার কর্মীদের বারবার ওপর থেকে পড়ে আসা কংক্রিট ও ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে।
জাতিসংঘের দুর্যোগ মূল্যায়ন ও সমন্বয় দলের সদস্য সেবাস্তিয়ান মোকরকের বলেন, ভূমিকম্পের সাত দিন পর জীবিত কাউকে উদ্ধার করা কার্যত অলৌকিক ঘটনা। কারণ ভূমিকম্পে আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়কে বলা হয় ‘গোল্ডেন উইন্ডো’, যা সাধারণত প্রথম ৭২ ঘণ্টা। এ সময়ের পর যদি নিরাপদ পানির উৎস না থাকে, তাহলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দ্রুত কমে যায়।
হার্নানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। উদ্ধারকারীরা সরাসরি তার কাছে পানি ও প্রয়োজনীয় তরল পৌঁছে দিতে সক্ষম হওয়ায় তিনি আট দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পেরেছেন।
কোস্টারিকার রেড ক্রস জানিয়েছে, গত রোববার প্রথম খবর পাওয়া যায় যে লা গুয়াইরার গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিং মলের ধ্বংসস্তূপের নিচে হয়তো কেউ জীবিত আছেন। পরে রাডার, সোনার ও শব্দ শনাক্তকারী বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেখানে সত্যিই একজন জীবিত ব্যক্তি আটকে আছেন।
এরপর প্রায় ছয়টি দেশের উদ্ধারকারী দল ও বিশেষজ্ঞরা টানা তিন দিন ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে একটি নিরাপদ পথ তৈরির চেষ্টা করেন। একই সময়ে হার্নানের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অব্যাহত রাখা হয়।
কোস্টারিকার রেড ক্রস এক বিবৃতিতে বলেছে, হার্নান গিলের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। গত কয়েক ঘণ্টায় তাকে শিরায় স্যালাইন, পানি এবং হাইড্রেশন সল্যুশন দেওয়া হয়েছে।
এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে দেখা যায়— একজন উদ্ধারকর্মী সরু পাইপের মাধ্যমে হার্নানের কাছে কমলা রঙের একটি তরল পৌঁছে দিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেটি ইলেকট্রোলাইট পানীয়।
ভিডিওতে উদ্ধারকর্মী তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কি আঘাত পেয়েছেন?’ হার্নান জবাব দেন, ‘না, আমি আহত হইনি। শুধু পাথরের চাপে পিষ্ট হয়ে আছি।’
নায়িব বুকেলে জানান, উদ্ধারকারীরা যে সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিলেন, সেটি কয়েকবার ধসে পড়ায় অভিযান আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল নিরলসভাবে সুড়ঙ্গটি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে। সেটিকে শক্তিশালী করা, সুরক্ষিত করা— সবই করা হয়েছে। কিন্তু বারবার ধসে পড়ায় কাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়।’
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি লা গুয়াইরায় এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটের মধ্যেও অনেক মানুষ কোদাল, গাইতি, এমনকি খালি হাত দিয়েই ধসে পড়া বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খুঁজে চলেছেন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলের মজুত থাকা সত্ত্বেও জরুরি সরঞ্জামের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বুধবার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত দুই হাজার ২৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৩৫০ জন বেশি। তবে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লা গুয়াইরার এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ জানান, তিনি যে অস্থায়ী মর্গে কাজ করছেন সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি মরদেহ নেওয়া হচ্ছে।
একদিকে যখন মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই, অন্যদিকে হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেসের মতো অলৌকিক কিছু উদ্ধার অভিযান এখনো স্বজনদের আশা ছাড়তে দিচ্ছে না। আট দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত বেরিয়ে আসা হার্নান যেন স্মরণ করিয়ে দিলেন— যতক্ষণ না শেষ নিখোঁজ মানুষটির সন্ধান মেলে, ততক্ষণ উদ্ধার অভিযান শেষ হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবার সারাদিন ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তার এই মন্তব্যে পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান শিগগিরই হতে পারে— এমন আশাবাদ নতুন করে জোরালো হয়েছে।
১ দিন আগে
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। হামলায় গুদামঘরসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ। তবে কয়েকটি প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ১৫ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
১ দিন আগে
সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (অ্যাটাকমস) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিআরএসএম)। দুটি সূত্রের ভাষ্য, এসব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ‘প্রায় সবই’ ইতোমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
১ দিন আগে
র্যাঞ্চো পালোস ভার্দেস এলাকার ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ কোর্স থেকে একটি পিস্তল ও অবৈধ গোলাবারুদসহ আটক করা হয় ৩৮ বছর বয়সী জেনিন জন টায়েলকে আটক করা হয় বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
২ দিন আগে