
অরুণাভ বিশ্বাস

প্রাচীন যুদ্ধের ইতিহাসে ব্যাটল অব থার্মোপিলাই বা থার্মোপিলাইয়ের যুদ্ধ আত্মত্যাগ আর দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে আছে হাজার বছর ধরে। খ্রিস্টপূর্ব ৪৮০ সালে এই যুদ্ধ হয়েছিল গ্রিসের সংকীর্ণ এক পর্বতপথে, থার্মোপিলাই নামের জায়গায়। এখানে মুখোমুখি হয়েছিল শক্তিশালী পারসিয়ান সাম্রাজ্য আর গ্রিসের ছোট ছোট নগররাষ্ট্র—বিশেষ করে স্পার্টা। দুই পক্ষের শক্তির তুফাত ছিল আকাশ-পাতালে। তবুও এই যুদ্ধে গ্রিক সেনারা যে বীরত্ব দেখিয়েছিল, তা আজও কল্পকথার মতো শোনায়।
তখন পারসিয়ান সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন প্রথম জারসিস। তাঁর লক্ষ্য, পুরো গ্রিসকে নিজের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা। কয়েক বছর আগে তাঁর বাবা প্রথম দারিয়ুসও গ্রিস আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ম্যারাথনের যুদ্ধে গ্রিকদের কাছে হেরে গিয়েছিলেন। সেই ব্যর্থতার প্রতিশোধ নিতে জারসিস বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে রওনা হন। ঐতিহাসিকদের ধারণা, পারসিয়ান সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল কয়েক লাখ—যদিও প্রাচীন কিছু লেখায় বলা হয়েছে সেটা ছিল দশ লক্ষেরও বেশি। এদিকে গ্রিসের পক্ষে লড়াইয়ে নেমেছিল মাত্র কয়েক হাজার সৈন্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল স্পার্টার রাজা লিওনিদাসের নেতৃত্বে আসা ৩০০ জন স্পার্টান যোদ্ধা।
থার্মোপিলাই ছিল এমন এক স্থান, যেখানে সমুদ্র আর পাহাড়ের মাঝখানে সরু রাস্তা দিয়ে কেবল অল্পসংখ্যক সেনাই একসঙ্গে যেতে পারত। গ্রিকরা জানত, উন্মুক্ত মাঠে তারা পারসিয়ানদের মোকাবিলা করতে পারবে না। তাই তারা এই সরু পথ বেছে নিয়েছিল, যাতে পারসিয়ানদের সংখ্যার সুবিধা কাজে না লাগে। যুদ্ধ শুরুর আগে গ্রিক সেনারা দেয়ালের মতো লাইন তৈরি করে দাঁড়িয়ে যায়, আর স্পার্টানরা তাঁদের বিখ্যাত ব্রোঞ্জের ঢাল, বর্শা ও তলোয়ার নিয়ে প্রস্তুত হয়। যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী স্পার্টানরা শৃঙ্খলা, সহনশীলতা আর আত্মনিবেদনের জন্য বিখ্যাত ছিল।
প্রথম দুই দিন পারসিয়ানরা গ্রিক সেনাদের ভাঙতে পারেনি। জারসিস তাঁর শ্রেষ্ঠ সৈন্যদল, ইমর্টালস, পাঠালেও তারা স্পার্টানদের শক্ত প্রতিরক্ষা ভেদ করতে ব্যর্থ হয়। স্পার্টানদের ঢাল-ঢাল মিশিয়ে তৈরি হওয়া ফালানক্স ফরমেশন ছিল প্রায় অদম্য। প্রতিবার আক্রমণে পারসিয়ানরা প্রচুর ক্ষতি স্বীকার করলেও গ্রিকরা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল খুবই কম।
তৃতীয় দিনে ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। এফিয়াল্টিস নামে এক গ্রিক বিশ্বাসঘাতক পারসিয়ানদের গোপন পাহাড়ি রাস্তা দেখিয়ে দেয়, যা দিয়ে তারা গ্রিক সেনাদের পেছন দিক থেকে ঘিরে ফেলতে পারে। খবর পেয়ে রাজা লিওনিদাস বুঝতে পারেন, এখন আর যুদ্ধ জেতা সম্ভব নয়। তখন তিনি অধিকাংশ গ্রিক সেনাকে সরে যেতে বলেন, যাতে তারা জীবিত ফিরে গিয়ে পরবর্তী লড়াই চালাতে পারে। কিন্তু তিনি নিজে ৩০০ স্পার্টান, থেস্পিয়ানদের একটি দল এবং কিছু থিবান সেনা নিয়ে শেষ পর্যন্ত অবস্থান করেন।
তৃতীয় দিনের সকালে যখন পারসিয়ানরা চারদিক থেকে আক্রমণ চালায়, স্পার্টানরা তবুও হাল ছাড়েনি। তাঁদের বর্শা ভেঙে গেলে তলোয়ার দিয়ে, তলোয়ার ভাঙলে খালি হাতে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। অবশেষে সব সৈন্য নিহত হয়, আর রাজা লিওনিদাসও যুদ্ধে প্রাণ দেন। পারসিয়ানরা তাঁর মৃতদেহ পেয়ে নির্মমভাবে শিরশ্ছেদ করে। কিন্তু এই আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি—থার্মোপিলাইয়ের যুদ্ধ গ্রিকদের মধ্যে এক নতুন জেদ ও ঐক্যের জন্ম দেয়, যা পরবর্তী যুদ্ধে পারসিয়ানদের পরাজিত করতে সাহায্য করে।
এই যুদ্ধ নিয়ে বহু ইতিহাসবিদ মতামত দিয়েছেন। ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ টম হল্যান্ড বলেন, “থার্মোপিলাই শুধু একটি যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল স্বাধীনতার জন্য দাঁড়িয়ে থাকার প্রতীক। যেখানে সংখ্যায় দুর্বলরা সাহস ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে এক অজেয় শক্তির মোকাবিলা করেছিল।” আমেরিকার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল কার্টলেজ, যিনি স্পার্টার ইতিহাসের অন্যতম বিশেষজ্ঞ, মন্তব্য করেন, “এই যুদ্ধের কাহিনি যতটা ইতিহাস, ততটাই কিংবদন্তি। হয়তো ঘটনাগুলোর অনেকটাই অতিরঞ্জিত, কিন্তু স্পার্টানদের আত্মত্যাগের যে বার্তা, তা অনন্তকাল টিকে থাকবে।”
ফরাসি সামরিক ইতিহাসবিদ পিয়ের ডুপুই এর ব্যাখ্যা আরও সরল, “থার্মোপিলাই প্রমাণ করেছে যে, যুদ্ধ কেবল সংখ্যার খেলা নয়। সঠিক জায়গা, সঠিক কৌশল আর অটল মনোবল থাকলে দুর্বল বাহিনীও ইতিহাস গড়তে পারে।” তাঁর মতে, আজকের সামরিক কৌশলেও থার্মোপিলাইয়ের শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।
যুদ্ধ শেষে গ্রিসের নগররাষ্ট্রগুলো, বিশেষ করে এথেন্স ও স্পার্টা, আরও দৃঢ়ভাবে একত্রিত হয়। কয়েক মাস পর সালামিসের নৌযুদ্ধে গ্রিকরা পারসিয়ানদের নৌবাহিনীকে বড় ধরনের হারায়, আর খ্রিস্টপূর্ব ৪৭৯ সালে প্লাতাইয়ার যুদ্ধে স্থলবাহিনীতেও চূড়ান্ত জয় পায়। ইতিহাসে থার্মোপিলাই তাই শুধু এক যুদ্ধের নাম নয়, বরং এক অদম্য প্রতিরোধের প্রতীক।
আজও থার্মোপিলাইয়ের সেই সরু গিরিপথে রাজা লিওনিদাসের স্মৃতিস্তম্ভ দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে খোদাই করা আছে বিখ্যাত গ্রিক কবি সাইমনিদিসের লাইন—বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায়, “যাত্রী, গিয়ে স্পার্টাকে বলো, আমরা এখানে শুয়ে আছি, তাদের আইন মান্য করে।” এই ছোট্ট কবিতাটিই যেন স্পার্টানদের জীবনবোধের সারসংক্ষেপ।
সবশেষে বলা যায়, ব্যাটল অব থার্মোপিলাই আমাদের শেখায় যে ইতিহাসে জয়-পরাজয় কখনো শুধু শক্তি বা সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। বরং মানুষের মনোবল, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার প্রতি ভালোবাসাই নির্ধারণ করে কে আসলে বিজয়ী হয়ে উঠবে। লিওনিদাস ও তাঁর সঙ্গীরা যেদিন থার্মোপিলাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন, সেদিনই তাঁরা প্রমাণ করেছিলেন—মৃত্যুর মধ্যেও আছে চিরস্থায়ী জয়।

প্রাচীন যুদ্ধের ইতিহাসে ব্যাটল অব থার্মোপিলাই বা থার্মোপিলাইয়ের যুদ্ধ আত্মত্যাগ আর দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে আছে হাজার বছর ধরে। খ্রিস্টপূর্ব ৪৮০ সালে এই যুদ্ধ হয়েছিল গ্রিসের সংকীর্ণ এক পর্বতপথে, থার্মোপিলাই নামের জায়গায়। এখানে মুখোমুখি হয়েছিল শক্তিশালী পারসিয়ান সাম্রাজ্য আর গ্রিসের ছোট ছোট নগররাষ্ট্র—বিশেষ করে স্পার্টা। দুই পক্ষের শক্তির তুফাত ছিল আকাশ-পাতালে। তবুও এই যুদ্ধে গ্রিক সেনারা যে বীরত্ব দেখিয়েছিল, তা আজও কল্পকথার মতো শোনায়।
তখন পারসিয়ান সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন প্রথম জারসিস। তাঁর লক্ষ্য, পুরো গ্রিসকে নিজের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা। কয়েক বছর আগে তাঁর বাবা প্রথম দারিয়ুসও গ্রিস আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ম্যারাথনের যুদ্ধে গ্রিকদের কাছে হেরে গিয়েছিলেন। সেই ব্যর্থতার প্রতিশোধ নিতে জারসিস বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে রওনা হন। ঐতিহাসিকদের ধারণা, পারসিয়ান সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল কয়েক লাখ—যদিও প্রাচীন কিছু লেখায় বলা হয়েছে সেটা ছিল দশ লক্ষেরও বেশি। এদিকে গ্রিসের পক্ষে লড়াইয়ে নেমেছিল মাত্র কয়েক হাজার সৈন্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল স্পার্টার রাজা লিওনিদাসের নেতৃত্বে আসা ৩০০ জন স্পার্টান যোদ্ধা।
থার্মোপিলাই ছিল এমন এক স্থান, যেখানে সমুদ্র আর পাহাড়ের মাঝখানে সরু রাস্তা দিয়ে কেবল অল্পসংখ্যক সেনাই একসঙ্গে যেতে পারত। গ্রিকরা জানত, উন্মুক্ত মাঠে তারা পারসিয়ানদের মোকাবিলা করতে পারবে না। তাই তারা এই সরু পথ বেছে নিয়েছিল, যাতে পারসিয়ানদের সংখ্যার সুবিধা কাজে না লাগে। যুদ্ধ শুরুর আগে গ্রিক সেনারা দেয়ালের মতো লাইন তৈরি করে দাঁড়িয়ে যায়, আর স্পার্টানরা তাঁদের বিখ্যাত ব্রোঞ্জের ঢাল, বর্শা ও তলোয়ার নিয়ে প্রস্তুত হয়। যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী স্পার্টানরা শৃঙ্খলা, সহনশীলতা আর আত্মনিবেদনের জন্য বিখ্যাত ছিল।
প্রথম দুই দিন পারসিয়ানরা গ্রিক সেনাদের ভাঙতে পারেনি। জারসিস তাঁর শ্রেষ্ঠ সৈন্যদল, ইমর্টালস, পাঠালেও তারা স্পার্টানদের শক্ত প্রতিরক্ষা ভেদ করতে ব্যর্থ হয়। স্পার্টানদের ঢাল-ঢাল মিশিয়ে তৈরি হওয়া ফালানক্স ফরমেশন ছিল প্রায় অদম্য। প্রতিবার আক্রমণে পারসিয়ানরা প্রচুর ক্ষতি স্বীকার করলেও গ্রিকরা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল খুবই কম।
তৃতীয় দিনে ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। এফিয়াল্টিস নামে এক গ্রিক বিশ্বাসঘাতক পারসিয়ানদের গোপন পাহাড়ি রাস্তা দেখিয়ে দেয়, যা দিয়ে তারা গ্রিক সেনাদের পেছন দিক থেকে ঘিরে ফেলতে পারে। খবর পেয়ে রাজা লিওনিদাস বুঝতে পারেন, এখন আর যুদ্ধ জেতা সম্ভব নয়। তখন তিনি অধিকাংশ গ্রিক সেনাকে সরে যেতে বলেন, যাতে তারা জীবিত ফিরে গিয়ে পরবর্তী লড়াই চালাতে পারে। কিন্তু তিনি নিজে ৩০০ স্পার্টান, থেস্পিয়ানদের একটি দল এবং কিছু থিবান সেনা নিয়ে শেষ পর্যন্ত অবস্থান করেন।
তৃতীয় দিনের সকালে যখন পারসিয়ানরা চারদিক থেকে আক্রমণ চালায়, স্পার্টানরা তবুও হাল ছাড়েনি। তাঁদের বর্শা ভেঙে গেলে তলোয়ার দিয়ে, তলোয়ার ভাঙলে খালি হাতে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। অবশেষে সব সৈন্য নিহত হয়, আর রাজা লিওনিদাসও যুদ্ধে প্রাণ দেন। পারসিয়ানরা তাঁর মৃতদেহ পেয়ে নির্মমভাবে শিরশ্ছেদ করে। কিন্তু এই আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি—থার্মোপিলাইয়ের যুদ্ধ গ্রিকদের মধ্যে এক নতুন জেদ ও ঐক্যের জন্ম দেয়, যা পরবর্তী যুদ্ধে পারসিয়ানদের পরাজিত করতে সাহায্য করে।
এই যুদ্ধ নিয়ে বহু ইতিহাসবিদ মতামত দিয়েছেন। ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ টম হল্যান্ড বলেন, “থার্মোপিলাই শুধু একটি যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল স্বাধীনতার জন্য দাঁড়িয়ে থাকার প্রতীক। যেখানে সংখ্যায় দুর্বলরা সাহস ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে এক অজেয় শক্তির মোকাবিলা করেছিল।” আমেরিকার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল কার্টলেজ, যিনি স্পার্টার ইতিহাসের অন্যতম বিশেষজ্ঞ, মন্তব্য করেন, “এই যুদ্ধের কাহিনি যতটা ইতিহাস, ততটাই কিংবদন্তি। হয়তো ঘটনাগুলোর অনেকটাই অতিরঞ্জিত, কিন্তু স্পার্টানদের আত্মত্যাগের যে বার্তা, তা অনন্তকাল টিকে থাকবে।”
ফরাসি সামরিক ইতিহাসবিদ পিয়ের ডুপুই এর ব্যাখ্যা আরও সরল, “থার্মোপিলাই প্রমাণ করেছে যে, যুদ্ধ কেবল সংখ্যার খেলা নয়। সঠিক জায়গা, সঠিক কৌশল আর অটল মনোবল থাকলে দুর্বল বাহিনীও ইতিহাস গড়তে পারে।” তাঁর মতে, আজকের সামরিক কৌশলেও থার্মোপিলাইয়ের শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।
যুদ্ধ শেষে গ্রিসের নগররাষ্ট্রগুলো, বিশেষ করে এথেন্স ও স্পার্টা, আরও দৃঢ়ভাবে একত্রিত হয়। কয়েক মাস পর সালামিসের নৌযুদ্ধে গ্রিকরা পারসিয়ানদের নৌবাহিনীকে বড় ধরনের হারায়, আর খ্রিস্টপূর্ব ৪৭৯ সালে প্লাতাইয়ার যুদ্ধে স্থলবাহিনীতেও চূড়ান্ত জয় পায়। ইতিহাসে থার্মোপিলাই তাই শুধু এক যুদ্ধের নাম নয়, বরং এক অদম্য প্রতিরোধের প্রতীক।
আজও থার্মোপিলাইয়ের সেই সরু গিরিপথে রাজা লিওনিদাসের স্মৃতিস্তম্ভ দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে খোদাই করা আছে বিখ্যাত গ্রিক কবি সাইমনিদিসের লাইন—বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায়, “যাত্রী, গিয়ে স্পার্টাকে বলো, আমরা এখানে শুয়ে আছি, তাদের আইন মান্য করে।” এই ছোট্ট কবিতাটিই যেন স্পার্টানদের জীবনবোধের সারসংক্ষেপ।
সবশেষে বলা যায়, ব্যাটল অব থার্মোপিলাই আমাদের শেখায় যে ইতিহাসে জয়-পরাজয় কখনো শুধু শক্তি বা সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। বরং মানুষের মনোবল, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার প্রতি ভালোবাসাই নির্ধারণ করে কে আসলে বিজয়ী হয়ে উঠবে। লিওনিদাস ও তাঁর সঙ্গীরা যেদিন থার্মোপিলাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন, সেদিনই তাঁরা প্রমাণ করেছিলেন—মৃত্যুর মধ্যেও আছে চিরস্থায়ী জয়।

লেবাননে ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা না পেরোতেই সেখানে নতুন করে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট নিরসনের যে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে, তা শুরুর দিকেই বড় এক পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো বার্ড ফ্লুর মারাত্মক ‘এইচ৫এন১’ (H5N1) স্ট্রেইন শনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে অত্যন্ত সংক্রামক এই ভ্যারিয়েন্টটি এখন পৃথিবীর প্রতিটি মহাদেশেই পৌঁছে গেল। এর আগে অস্ট্রেলিয়াই ছিল একমাত্র মহাদেশ, যেখানে বার্ড ফ্লুর এই স্ট্রেইনটি খুঁজে
১৫ ঘণ্টা আগে
ইউরোপে উদ্দেশে রওনা হওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীদের একটি নৌকা গত সপ্তাহে লিবিয়া উপকূলে ডুবে গিয়ে অন্তত ৫১ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘আবরিন’। এ দুর্ঘটনায় গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা এবং নিখোঁজদের মধ্যে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, বাকিদের হদিস মেলেনি।
১৫ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের দৃষ্টিতে যাকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেই ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই সম্ভাব্য সমঝোতার মাধ্যমে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটিতে পরিণত হতে পারে।
১৭ ঘণ্টা আগে