
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করায় তার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস। দলটির অভিযোগ, বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতোই ‘অসংবেদনশীল, অদক্ষ এবং অভ্যাসগত মিথ্যাবাদী’। একই সঙ্গে কংগ্রেস বলেছে, খুব শিগগিরই শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ‘অত্যন্ত ব্যর্থ কর্মকাণ্ডের পূর্ণ হিসাব’ জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান হেরাল্ডের খবরে বলা হয়, বুধবার (২২ জুলাই) কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (যোগাযোগ) জয়রাম রমেশ বলেন, লাখো শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা ভেঙে দেওয়ার পরও ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তিনি নিজের লাগামহীন ঔদ্ধত্য ও ক্ষুদ্র মানসিকতারই প্রকাশ ঘটিয়ে চলেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছিলেন, সরকার নিট পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয় এবং তরুণদের সব যৌক্তিক উদ্বেগ নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করে শিক্ষার্থীদের ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছেন।
এর জবাবে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যেমন, তেমনি মন্ত্রী প্রধানও উদাসীন, অসংবেদনশীল, অদক্ষ এবং অভ্যাসগত মিথ্যাবাদী। লাখো শিক্ষার্থীর আশা-আকাঙ্ক্ষা ভেঙে দেওয়ার পরও তিনি পদত্যাগ করছেন না। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে নিজের সীমাহীন ঔদ্ধত্য ও ক্ষুদ্রতা দেখিয়ে চলেছেন।’
কংগ্রেসের এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি কেবল একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে নয়। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তার পুরো মেয়াদ জুড়ে ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ) ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালে একাধিক প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনা এবং ২০২৬ সালে নিট-ইউজি ও ইউজিসি-নেট সমাজবিজ্ঞান (সোশিওলজি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস।
জয়রাম রমেশ আরও অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার পর শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও রাজনৈতিক। তিনি সরকারি পর্যায়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা অস্বীকার করেছেন এবং বিরোধী দলের সদস্যরা থাকায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এনটিএকে শক্তিশালী করার সুপারিশও মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
তিনি সিবিএসইর দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার অন স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম (ওএসএম) কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগও তোলেন। তার দাবি, ব্যর্থতার ইতিহাস থাকা একটি প্রতিষ্ঠানকে চুক্তি দিতে সিবিএসই তিনবার দরপত্রের শর্ত পরিবর্তন করে। এতে ‘COEMPT’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান সুবিধা পেয়েছে।
রমেশ বলেন, ‘১৮ বছর বয়সী একজন সিবিএসই শিক্ষার্থী নিজেই এই কেলেঙ্কারির বিষয়টি সামনে এনেছে। সরকার তদন্তে এক সদস্যের একটি কমিশন গঠন করেছিল। এক মাসের সময়সীমা পার হয়ে গেলেও কমিশন কী পেয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগে রাজনৈতিক আনুগত্যই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীরব সমর্থনে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রমেশের ভাষ্য, ভারতের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান— বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তাদের প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং একনায়কতান্ত্রিক আচরণের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে বিক্রি করা হচ্ছে এবং এর ‘দাম শুরু হচ্ছে ৩০ লাখ রুপি থেকে’।
রমেশ আরও বলেন, অন্তত দুটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়— শিলংয়ের নর্থ ইস্টার্ন হিল ইউনিভার্সিটি (নেহু) এবং আসামের তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে এতটাই তীব্র বিক্ষোভ হয়েছে যে তাদের ক্যাম্পাস ছেড়ে দূর থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।
জয়রাম রমেশের দাবি, ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার জন্য ধর্মেন্দ্র প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এসব ব্যক্তিকে নিজেরাই বেছে নিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদে (এনএএসি) ঘুস কেলেঙ্কারির ঘটনায় জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে সিবিআই অভিযোগপত্র দিয়েছে। তাঁর দাবি, ওই অধ্যাপককে বর্তমান সরকারের পছন্দের এক উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং পরে সেই একই উপাচার্য তাকে এনএএসিতেও নিয়োগ দেন।
এ ছাড়া টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের (টিআইএসএস) চ্যান্সেলরের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই অভিযোগপত্র দিয়েছে বলে দাবি করেন জয়রাম রমেশ। তার ভাষ্য, ওই ব্যক্তি এর আগে মোদি সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানও ছিলেন।
জয়রাম রমেশ আরও বলেন, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব হিস্টোরিক্যাল রিসার্চ (আইসিএইচআর)–ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘এগুলো হিমশৈলের চূড়ামাত্র। খুব শিগগিরই শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অত্যন্ত ব্যর্থ কর্মকাণ্ডের পূর্ণ হিসাব তুলে ধরা হবে।’
মঙ্গলবার রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ দলের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।
এর জবাবে এক্সে দেওয়া পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস আবারও নির্লজ্জভাবে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যায়। তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে এবং প্রচলিত নিরাপত্তা বিধিও উপেক্ষা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার বিস্তারিত আলোচনায় প্রস্তুত থাকার কথা জানানোর পরও কংগ্রেস গণতান্ত্রিক বিতর্কের পরিবর্তে রাজনৈতিক নাটক বেছে নিয়েছে। তাদের লক্ষ্য কখনোই শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান ছিল না, বরং রাজনৈতিক শিরোনাম তৈরির জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। রাহুল গান্ধীর কাছে এটি শিক্ষার্থীদের বিষয় নয়, বরং আলোচনা ও সমাধানের সব পথ খোলা থাকার পরও সংঘাত তৈরি করার চেষ্টা।’
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারতের শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক প্রচারের ‘উপকরণ’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার চেয়ে অনেক ভালো আচরণ পাওয়ার যোগ্য।
তিনি বলেন, ‘নিট এবং আমাদের তরুণদের সব যৌক্তিক উদ্বেগ নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে আমাদের সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারতের শিক্ষার্থীরা বিশৃঙ্খলার বদলে নিশ্চিততা, স্লোগানের বদলে সমাধান এবং অস্থিরতার বদলে দায়িত্বশীলতা পাওয়ার অধিকার রাখে।’
ধর্মেন্দ্র প্রধান আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রতি শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়। তাদের কাছে আমাদের জবাব, সংস্কার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায় রয়েছে। আর আমাদের সরকার ঠিক সেটিই করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করায় তার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস। দলটির অভিযোগ, বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতোই ‘অসংবেদনশীল, অদক্ষ এবং অভ্যাসগত মিথ্যাবাদী’। একই সঙ্গে কংগ্রেস বলেছে, খুব শিগগিরই শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ‘অত্যন্ত ব্যর্থ কর্মকাণ্ডের পূর্ণ হিসাব’ জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান হেরাল্ডের খবরে বলা হয়, বুধবার (২২ জুলাই) কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (যোগাযোগ) জয়রাম রমেশ বলেন, লাখো শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা ভেঙে দেওয়ার পরও ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তিনি নিজের লাগামহীন ঔদ্ধত্য ও ক্ষুদ্র মানসিকতারই প্রকাশ ঘটিয়ে চলেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছিলেন, সরকার নিট পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয় এবং তরুণদের সব যৌক্তিক উদ্বেগ নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করে শিক্ষার্থীদের ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছেন।
এর জবাবে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যেমন, তেমনি মন্ত্রী প্রধানও উদাসীন, অসংবেদনশীল, অদক্ষ এবং অভ্যাসগত মিথ্যাবাদী। লাখো শিক্ষার্থীর আশা-আকাঙ্ক্ষা ভেঙে দেওয়ার পরও তিনি পদত্যাগ করছেন না। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে নিজের সীমাহীন ঔদ্ধত্য ও ক্ষুদ্রতা দেখিয়ে চলেছেন।’
কংগ্রেসের এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি কেবল একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে নয়। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তার পুরো মেয়াদ জুড়ে ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ) ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালে একাধিক প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনা এবং ২০২৬ সালে নিট-ইউজি ও ইউজিসি-নেট সমাজবিজ্ঞান (সোশিওলজি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস।
জয়রাম রমেশ আরও অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার পর শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও রাজনৈতিক। তিনি সরকারি পর্যায়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা অস্বীকার করেছেন এবং বিরোধী দলের সদস্যরা থাকায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এনটিএকে শক্তিশালী করার সুপারিশও মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
তিনি সিবিএসইর দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার অন স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম (ওএসএম) কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগও তোলেন। তার দাবি, ব্যর্থতার ইতিহাস থাকা একটি প্রতিষ্ঠানকে চুক্তি দিতে সিবিএসই তিনবার দরপত্রের শর্ত পরিবর্তন করে। এতে ‘COEMPT’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান সুবিধা পেয়েছে।
রমেশ বলেন, ‘১৮ বছর বয়সী একজন সিবিএসই শিক্ষার্থী নিজেই এই কেলেঙ্কারির বিষয়টি সামনে এনেছে। সরকার তদন্তে এক সদস্যের একটি কমিশন গঠন করেছিল। এক মাসের সময়সীমা পার হয়ে গেলেও কমিশন কী পেয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগে রাজনৈতিক আনুগত্যই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীরব সমর্থনে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রমেশের ভাষ্য, ভারতের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান— বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তাদের প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং একনায়কতান্ত্রিক আচরণের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে বিক্রি করা হচ্ছে এবং এর ‘দাম শুরু হচ্ছে ৩০ লাখ রুপি থেকে’।
রমেশ আরও বলেন, অন্তত দুটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়— শিলংয়ের নর্থ ইস্টার্ন হিল ইউনিভার্সিটি (নেহু) এবং আসামের তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে এতটাই তীব্র বিক্ষোভ হয়েছে যে তাদের ক্যাম্পাস ছেড়ে দূর থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।
জয়রাম রমেশের দাবি, ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার জন্য ধর্মেন্দ্র প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এসব ব্যক্তিকে নিজেরাই বেছে নিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদে (এনএএসি) ঘুস কেলেঙ্কারির ঘটনায় জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে সিবিআই অভিযোগপত্র দিয়েছে। তাঁর দাবি, ওই অধ্যাপককে বর্তমান সরকারের পছন্দের এক উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং পরে সেই একই উপাচার্য তাকে এনএএসিতেও নিয়োগ দেন।
এ ছাড়া টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের (টিআইএসএস) চ্যান্সেলরের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই অভিযোগপত্র দিয়েছে বলে দাবি করেন জয়রাম রমেশ। তার ভাষ্য, ওই ব্যক্তি এর আগে মোদি সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানও ছিলেন।
জয়রাম রমেশ আরও বলেন, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব হিস্টোরিক্যাল রিসার্চ (আইসিএইচআর)–ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘এগুলো হিমশৈলের চূড়ামাত্র। খুব শিগগিরই শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অত্যন্ত ব্যর্থ কর্মকাণ্ডের পূর্ণ হিসাব তুলে ধরা হবে।’
মঙ্গলবার রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ দলের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।
এর জবাবে এক্সে দেওয়া পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস আবারও নির্লজ্জভাবে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যায়। তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে এবং প্রচলিত নিরাপত্তা বিধিও উপেক্ষা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার বিস্তারিত আলোচনায় প্রস্তুত থাকার কথা জানানোর পরও কংগ্রেস গণতান্ত্রিক বিতর্কের পরিবর্তে রাজনৈতিক নাটক বেছে নিয়েছে। তাদের লক্ষ্য কখনোই শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান ছিল না, বরং রাজনৈতিক শিরোনাম তৈরির জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। রাহুল গান্ধীর কাছে এটি শিক্ষার্থীদের বিষয় নয়, বরং আলোচনা ও সমাধানের সব পথ খোলা থাকার পরও সংঘাত তৈরি করার চেষ্টা।’
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারতের শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক প্রচারের ‘উপকরণ’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার চেয়ে অনেক ভালো আচরণ পাওয়ার যোগ্য।
তিনি বলেন, ‘নিট এবং আমাদের তরুণদের সব যৌক্তিক উদ্বেগ নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে আমাদের সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারতের শিক্ষার্থীরা বিশৃঙ্খলার বদলে নিশ্চিততা, স্লোগানের বদলে সমাধান এবং অস্থিরতার বদলে দায়িত্বশীলতা পাওয়ার অধিকার রাখে।’
ধর্মেন্দ্র প্রধান আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রতি শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়। তাদের কাছে আমাদের জবাব, সংস্কার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায় রয়েছে। আর আমাদের সরকার ঠিক সেটিই করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

ভারতের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির মধ্যেই বুধবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।
৬ ঘণ্টা আগে
পুলিশ মিছিলকারীদের ওপরে ‘অত্যাচার চালিয়েছে’ অভিযোগ করে বুধবার (২২ জুলাই) শীর্ষ আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন এক আইনজীবী। এ নিয়ে জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ। সে দিনের ঘটনার ভিডিও আদালতকে দেখাতে চেয়েছিলেন আবেদনকারী আইনজীবী। প্রধান বিচারপতি স
৬ ঘণ্টা আগে
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে সোনম ওয়াংচুকের চলমান অনশন কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কোনো প্রতিক্রিয়া না আসায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
৭ ঘণ্টা আগে
১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি বিল পাস করেছে ফ্রান্সের পার্লামেন্ট। এর ফলে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাটসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ বছরের কম বয়সীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) প্রথম দেশ হিসেবে নজির গড়ল ফ্রান্স।
৮ ঘণ্টা আগে