ইরান যুদ্ধে নিহত সেনাদের মরদেহ গ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন ট্রাম্প

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
(বাঁ থেকে) নিহত মার্কিন ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান, প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস ও সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন। ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় নিহত চার মার্কিন সেনাসদস্যের মরদেহ বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হবে। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনে করে তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছালে তা গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রে সেনাসদস্যদের মরদেহ গ্রহণের এই আনুষ্ঠানিকতাকে ‘ডিগনিফায়েড ট্রান্সফার’ বলা হয়। এমন এক সময়ে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ নিয়ে দেশ জুড়ে অসন্তোষ বাড়ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বুধবার ট্রাম্প ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের ডোভার বিমানঘাঁটিতে যাবেন, যেখানে মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে।

যুদ্ধ বা সংঘাতে মার্কিন সেনা নিহত হলে প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিয়মিতই ডোভার বিমানঘাঁটিতে আয়োজিত এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক মর্গও এই ঘাঁটিতেই অবস্থিত।

গত শুক্রবার জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র সেনাদের ব্যারাকে আঘাত হানলে নিহত হন ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান (২৫), সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র‍্যাম্পারসাড (২৮) এবং প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস (১৯)। তারা তিনজনই মার্কিন সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্রিগেডে কর্মরত ছিলেন।

চতুর্থ সেনাসদস্য সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন (৩০) রোববার ইরাকের এরবিলে পৃথক এক ঘটনায় নিহত হন। হামলার জন্য ব্যবহৃত একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করার সময় তাঁর মৃত্যু হয়।

পেন্টাগন সোমবার জানিয়েছে, ৭ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ১০০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যে আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন।

এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে মার্কিন করদাতাদের অন্তত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এতে ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং ৪৫০ জনের বেশি সেনা আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধে হাজার হাজার ইরানিও নিহত হয়েছেন।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট— উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, এই সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্পও বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

চলতি মাসের শুরুতে পরিচালিত রয়টার্স/ইপসোসের জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন মার্কিনির মধ্যে চারজন মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৭ শতাংশ উত্তরদাতা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। রিপাবলিকান কৌশলবিদদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের কর কমানোর নীতির রাজনৈতিক সুফল অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। ওই নির্বাচনে দলটি প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং সম্ভবত সিনেটের নিয়ন্ত্রণও হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বার্লিনের জঙ্গলে অস্ত্রের গোপন ভাণ্ডার, রুশ গোয়েন্দা সংযোগের সন্দেহ

ডোব্রিন্ট জানান, ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে— এমন গুরুতর সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে’ তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি জার্মানির বর্তমান ‘উচ্চ ঝুঁকি’র নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে। এতে বিদেশি কোনো শক্তির সম্পৃক্ততা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

১০ ঘণ্টা আগে

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের কারাগারে ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষার পর তাকে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করেছেন।

১৯ ঘণ্টা আগে

ট্রাম্প কি ইরানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর বাণিজ্য বন্ধ করতে পারবেন

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো দেশ ইরানকে আর্থিক, ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো সহায়তা দিলে সেই দেশকেও ‘প্রচণ্ড অর্থনৈতিক ক্ষতির’ মুখে পড়তে হবে।

১ দিন আগে

কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: নিহত ১৩, আহত ৩৩

রাশিয়ার এই ভয়াবহ হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক সহায়তার জোর আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, "ইউক্রেন যতদিন পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা না পাবে, ততদিন রাশিয়া শান্তির বিষয়টি বিন্দুমাত্র গু

২ দিন আগে