ইরান যুদ্ধের যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ২৫০০ কোটি ডলার: পেন্টাগন

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০২: ০৩
মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের লোগো।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার (২৯ এপ্রিল) আইনপ্রণেতাদের সামনে এক জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এ হিসাব তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে এই প্রথম খরচের হিসাব জানাল যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই ব্যয় নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকানরা হাউজে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে লড়াইয়ের মুখে, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা জনমত জরিপে এগিয়ে থেকে এই ব্যয়বহুল ও অজনপ্রিয় যুদ্ধকে ‘দাম বেড়ে যাওয়ার’ ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।

কী খাতে খরচ এই বিপুল অর্থ?

পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট কংগ্রেসের হাউজ আর্মড সার্ভিস কমিটিতে বলেন, এই অর্থের বড় অংশই খরচ হয়েছে গোলাবারুদে। তবে এই হিসাবের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটি মেরামত বা পুনর্গঠনের সম্ভাব্য ব্যয় অন্তর্ভুক্ত আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা অ্যাডাম স্মিথ বলেন, ‘আমি খুশি যে আপনি এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। কারণ আমরা অনেক দিন ধরে এই সংখ্যাটা জানতে চাইছিলাম, কিন্তু কেউ বলছিল না।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২৫০০ কোটি ডলারের এই প্রাথমিক হিসাব শুধু যুদ্ধের সরাসরি ব্যয় তুলে ধরছে। এর বাইরেও রয়েছে পুনর্গঠন, চিকিৎসা ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার অর্থনৈতিক প্রভাবের মতো দীর্ঘমেয়াদি খরচ। ফলে এ যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় আরও অনেক বেশি হতে পারে।

নির্বাচনের আগে যুদ্ধব্যয়ের এই ইস্যু মার্কিন রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন অর্থনৈতিক চাপ সরাসরি ভোটারদের জীবনে প্রভাব ফেলছে।

যুদ্ধের প্রভাব বিস্তৃত

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে, তবে তার স্থায়িত্ব নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজারের বেশি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। ওই অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরীও রেখেছে, যা এই যুদ্ধের তীব্রতাকেই তুলে ধরে।

এ পর্যন্ত যুদ্ধে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত ও শতাধিক সেনা আহত হয়েছেন। সামরিক খরচের পাশাপাশি যুদ্ধের মানবিক মূল্যও ক্রমেই বাড়ছে।

এদিকে ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিকভাবেই অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ তৈরি করেছে। তার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রেও। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে কৃষিপণ্য, বিশেষ করে সারসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দামেও চাপ তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধাক্কা?

যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে জনমতেও। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, ইরান যুদ্ধের প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে ৩৪ শতাংশে, যা গত মার্চেও ছিল ৩৮ শতাংশ এবং এপ্রিলের মাঝামাঝিতে তা কমে ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছিল। এতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতলে প্রত্যেক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেবেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে যখন পণ্যের দাম বাড়ছে, যার পেছনে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে শুরু করা যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে। ইরান এর পালটা পদক্ষেপ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা

১২ ঘণ্টা আগে

যুদ্ধে টিকতে না পেরে মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে মরিয়া ইরান: ট্রাম্প

ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নৌযানকে লক্ষ্য করে সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনায় আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

১৬ ঘণ্টা আগে

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: একাধিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত

আমেরিকান কর্মকর্তাদের মতে, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে সম্প্রতি পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত এক নাবিক নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। এর পরই মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা জোরদার করে ইরান।

১৭ ঘণ্টা আগে

ফিলিপাইনে ফেরিতে আগুন: নিহত ৫, নিখোঁজ অন্তত ৮৭ জন

কোস্টগার্ডের ক্যাপ্টেন নোয়েমি কায়াবিয়াব ফেরিতে থাকা মোট আরোহীর সংখ্যা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই উদ্ধার কাজ জোরদার করা হয়েছে। কোড়ন এলাকাটি স্বচ্ছ নীল পানি ও প্রবাল প্রাচীরের জন্য বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ায়, নিখোঁজদের মধ্যে দেশি-বিদেশি পর্যটক থাকতে পারেন বলে ধারণা ক

২০ ঘণ্টা আগে
Advertisement