
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে জয়ী হলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার করে দেওয়া হলে মার্কিন সরকারের খরচ হবে প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিবিসির খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত দলের প্রথম জাতীয় সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তবে কীভাবে এই অর্থ দেওয়া হবে বা এর অর্থায়ন কীভাবে হবে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। শুধু বলেছেন, এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই খরচ করতে হবে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এই পরিকল্পনার সঙ্গে আমদানি করা পণ্যের ওপর ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের যোগসূত্রের কথা বলেছেন। তবে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, এই প্রতিশ্রুতি আইনসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিবিসি লিখেছে, নির্বাচনের বছরে ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহিত করার প্রেক্ষাপটে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ধরনের অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ঘটনা সম্ভবত এই প্রথম। সম্মেলনে ট্রাম্পের ঘোষণায় ব্যাপক করতালি পড়ে এবং তিনিও মুহূর্তটি বেশ উপভোগ করেন।
ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে যখন পণ্যের দাম বাড়ছে, যার পেছনে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে শুরু করা যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে। ইরান এর পালটা পদক্ষেপ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব জুড়ে তেলের দামে ওঠানামা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্রাম্প নিজ দলের মধ্যেও চাপের মুখে পড়েছেন।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সমর্থকদের সতর্ক করে বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ শেষ হবে না এবং তেলের দামও তখন পর্যন্ত কমবে না। টেক্সাসে ভাষণ দেওয়ার আগে তিনি এ মন্তব্য করেন। পরে রিপাবলিকানদের সম্মেলনেও একই কথা বলেন। সেখানে তিনি যুক্তি দেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখতে স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক কষ্ট মেনে নেওয়া যুক্তিসংগত।
টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকানদের সম্মেলনে দীর্ঘ ভাষণ দেন ট্রাম্প। তার ভাষণে ইরান যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাব— উঠে আসে। নাগরিকদের ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর সম্মেলনস্থলে ব্যাপক করতালি পড়ে।
ট্রাম্প বলেন, ‘রিপাবলিকানরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ ও যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট— দুই কক্ষেই জয়ী হয়, তাহলে আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার করে লভ্যাংশ দেবো।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আপনারা এই অর্থ খরচ করতে কানাডায় যান।’
এরপর তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আপনারা চীন বা জার্মানিতে যান। আপনাদের এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রেই খরচ করতে হবে।’ তবে মার্কিন নাগরিকরা কোথায় এই অর্থ খরচ করছেন, তা কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, সেটি পরিষ্কার নয়।
ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউজের কাছে জানতে চেয়েছে বিবিসি। তবে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে রিপাবলিকান পার্টির সাবেক একজন কৌশলবিদ ও জনমত জরিপকারী রবার্ট মোরান বলেছেন, এখন থেকে দুই মাসেরও কম সময় পর যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতিকে সেই প্রেক্ষাপটেই দেখা উচিত।
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ‘নিউজডে’ অনুষ্ঠানে মোরান বলেন, ‘এটি একটি অসাধারণ প্রতিশ্রুতি। এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা আমি নিশ্চিত নই— তবে এখন নির্বাচনের মৌসুম।’ তিনি এটিকে ‘একটি আকর্ষণীয় সমস্যার অভিনব সমাধান’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল কংগ্রেসে আসন হারানোর প্রবণতা দেখা যায়।
এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের অন্য রাজনীতিকরা নির্বাচনে সাফল্যের বিনিময়ে অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে, কোভিড-১৯ মহামারির তীব্র সময়টিতে জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাটরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাদের দল সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিলে দুই হাজার ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
ট্রাম্পও এবারই প্রথম নয়, এর আগেও তিনি এ ধরনের অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর আগে শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্ব দিয়ে দুই হাজার ডলারের চেক দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন তিনি।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের পর দেওয়া এই অর্থও একইভাবে ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক কর্মসূচি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। ফক্স নিউজকে ভ্যান্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট মূলত আমেরিকান শ্রমিকদের জন্য একটি লভ্যাংশের কথা বলছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছি, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এমন বিদেশি কোম্পানি ও বিদেশি দেশগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন, যারা আমেরিকার শ্রমিকদের সঙ্গে অন্যায়ভাবে সুবিধা নিয়ে আসছিল।’ ভ্যান্স আরও বলেন, ‘আমি মনে করি না এটি বিতর্কিত কোনো ধারণা।’
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দেয় কংগ্রেস। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট— দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না।
ডালাসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেননি, প্রস্তাবিত অর্থ দেওয়ার জন্য তিনি কংগ্রেসের অনুমোদন চাইবেন কি না। তবে তিনি এই অর্থের নাম দিয়েছেন ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ বা ‘ট্রাম্প লভ্যাংশ’। তবে মার্কিন কোষাগারের ওপর সম্ভাব্য বিপুল ব্যয়ের পাশাপাশি ট্রাম্পের সর্বশেষ এই প্রস্তাব আইনি প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।
ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে অর্থ দেওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন নিষিদ্ধ করেছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। ওই সময় ট্রাম্পের ধনকুবের সমর্থক ইলন মাস্ক সাতটি দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের নিবন্ধিত ভোটারদের নির্দিষ্ট একটি আবেদনে স্বাক্ষর করার বিনিময়ে নগদ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন।
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বুধবারের ভাষণে ট্রাম্পের দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে কর কমানোর প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা হতে পারে, যা আইনসম্মত। নিউ মেক্সিকোর আইনজীবী জন ডে এপিকে (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস) দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি আইনসম্মতই হবে।
জন ডের মতে, এটি নির্বাচনি প্রচারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতি; নির্দিষ্ট কোনোভাবে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যক্তিদের অর্থ দেওয়ার বিষয় নয়। এ ছাড়া নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একজন নির্বাচন আইন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ট্রাম্পের এই প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে নিশ্চিত করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষার আওতায়ও পড়তে পারে।

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে জয়ী হলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার করে দেওয়া হলে মার্কিন সরকারের খরচ হবে প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিবিসির খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত দলের প্রথম জাতীয় সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তবে কীভাবে এই অর্থ দেওয়া হবে বা এর অর্থায়ন কীভাবে হবে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। শুধু বলেছেন, এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই খরচ করতে হবে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এই পরিকল্পনার সঙ্গে আমদানি করা পণ্যের ওপর ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের যোগসূত্রের কথা বলেছেন। তবে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, এই প্রতিশ্রুতি আইনসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিবিসি লিখেছে, নির্বাচনের বছরে ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহিত করার প্রেক্ষাপটে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ধরনের অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ঘটনা সম্ভবত এই প্রথম। সম্মেলনে ট্রাম্পের ঘোষণায় ব্যাপক করতালি পড়ে এবং তিনিও মুহূর্তটি বেশ উপভোগ করেন।
ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে যখন পণ্যের দাম বাড়ছে, যার পেছনে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে শুরু করা যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে। ইরান এর পালটা পদক্ষেপ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব জুড়ে তেলের দামে ওঠানামা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্রাম্প নিজ দলের মধ্যেও চাপের মুখে পড়েছেন।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সমর্থকদের সতর্ক করে বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ শেষ হবে না এবং তেলের দামও তখন পর্যন্ত কমবে না। টেক্সাসে ভাষণ দেওয়ার আগে তিনি এ মন্তব্য করেন। পরে রিপাবলিকানদের সম্মেলনেও একই কথা বলেন। সেখানে তিনি যুক্তি দেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখতে স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক কষ্ট মেনে নেওয়া যুক্তিসংগত।
টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকানদের সম্মেলনে দীর্ঘ ভাষণ দেন ট্রাম্প। তার ভাষণে ইরান যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাব— উঠে আসে। নাগরিকদের ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর সম্মেলনস্থলে ব্যাপক করতালি পড়ে।
ট্রাম্প বলেন, ‘রিপাবলিকানরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ ও যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট— দুই কক্ষেই জয়ী হয়, তাহলে আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার করে লভ্যাংশ দেবো।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আপনারা এই অর্থ খরচ করতে কানাডায় যান।’
এরপর তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আপনারা চীন বা জার্মানিতে যান। আপনাদের এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রেই খরচ করতে হবে।’ তবে মার্কিন নাগরিকরা কোথায় এই অর্থ খরচ করছেন, তা কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, সেটি পরিষ্কার নয়।
ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউজের কাছে জানতে চেয়েছে বিবিসি। তবে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে রিপাবলিকান পার্টির সাবেক একজন কৌশলবিদ ও জনমত জরিপকারী রবার্ট মোরান বলেছেন, এখন থেকে দুই মাসেরও কম সময় পর যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতিকে সেই প্রেক্ষাপটেই দেখা উচিত।
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ‘নিউজডে’ অনুষ্ঠানে মোরান বলেন, ‘এটি একটি অসাধারণ প্রতিশ্রুতি। এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা আমি নিশ্চিত নই— তবে এখন নির্বাচনের মৌসুম।’ তিনি এটিকে ‘একটি আকর্ষণীয় সমস্যার অভিনব সমাধান’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল কংগ্রেসে আসন হারানোর প্রবণতা দেখা যায়।
এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের অন্য রাজনীতিকরা নির্বাচনে সাফল্যের বিনিময়ে অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে, কোভিড-১৯ মহামারির তীব্র সময়টিতে জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাটরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাদের দল সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিলে দুই হাজার ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
ট্রাম্পও এবারই প্রথম নয়, এর আগেও তিনি এ ধরনের অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর আগে শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্ব দিয়ে দুই হাজার ডলারের চেক দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন তিনি।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের পর দেওয়া এই অর্থও একইভাবে ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক কর্মসূচি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। ফক্স নিউজকে ভ্যান্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট মূলত আমেরিকান শ্রমিকদের জন্য একটি লভ্যাংশের কথা বলছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছি, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এমন বিদেশি কোম্পানি ও বিদেশি দেশগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন, যারা আমেরিকার শ্রমিকদের সঙ্গে অন্যায়ভাবে সুবিধা নিয়ে আসছিল।’ ভ্যান্স আরও বলেন, ‘আমি মনে করি না এটি বিতর্কিত কোনো ধারণা।’
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দেয় কংগ্রেস। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট— দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না।
ডালাসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেননি, প্রস্তাবিত অর্থ দেওয়ার জন্য তিনি কংগ্রেসের অনুমোদন চাইবেন কি না। তবে তিনি এই অর্থের নাম দিয়েছেন ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ বা ‘ট্রাম্প লভ্যাংশ’। তবে মার্কিন কোষাগারের ওপর সম্ভাব্য বিপুল ব্যয়ের পাশাপাশি ট্রাম্পের সর্বশেষ এই প্রস্তাব আইনি প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।
ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে অর্থ দেওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন নিষিদ্ধ করেছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। ওই সময় ট্রাম্পের ধনকুবের সমর্থক ইলন মাস্ক সাতটি দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের নিবন্ধিত ভোটারদের নির্দিষ্ট একটি আবেদনে স্বাক্ষর করার বিনিময়ে নগদ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন।
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বুধবারের ভাষণে ট্রাম্পের দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে কর কমানোর প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা হতে পারে, যা আইনসম্মত। নিউ মেক্সিকোর আইনজীবী জন ডে এপিকে (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস) দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি আইনসম্মতই হবে।
জন ডের মতে, এটি নির্বাচনি প্রচারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতি; নির্দিষ্ট কোনোভাবে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যক্তিদের অর্থ দেওয়ার বিষয় নয়। এ ছাড়া নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একজন নির্বাচন আইন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ট্রাম্পের এই প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে নিশ্চিত করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষার আওতায়ও পড়তে পারে।

দুই পক্ষের এসব হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের আশপাশের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত জুলাইয়ের পর প্রথমবার।
১ দিন আগে
৭ অক্টোবর ২০২৩-এর ভোরে হাজার হাজার হামাস যোদ্ধা গাজা সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলে ঢুকে পড়ে। সীমান্তবর্তী সামরিক ঘাঁটি ও বসতিতে একযোগে হামলা চালানো হয়। রকেট হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল। হামলায় ১২ শতাধিক বেশি ইসরায়েলি নিহত হন।
১ দিন আগে
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনে ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’ বলে একমত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব সদস্য রাষ্ট্র। ইইউর পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি কায়া কাল্লাস এ কথা জানিয়েছেন।
১ দিন আগে
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চালকবিহীন এই ডুবোজাহাজের প্রধান কাজের মধ্যে রয়েছে সমুদ্রের তলদেশের তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, সি-ম্যাপ তৈরি, মাইন শনাক্তকরণ এবং পানির নিচের ক্যাবল ও পাইপলাইন পরিদর্শন করা।
১ দিন আগে