আদানিতে ক্যাপিটাল গ্রুপের ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ, কমছে রিলায়েন্সে

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ১৬: ৩০
আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি (বাঁয়ে) ও রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের শীর্ষ দুই শিল্পগোষ্ঠী মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজে নিজেদের বিনিয়োগ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে সম্প্রতি গৌতম আদানির আদানি গ্রুপের তিনটি কোম্পানিতে ২০০ কোটি ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মার্কিন বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল গ্রুপ।

আজ শুক্রবার (২২ মে) মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ক্যাপিটাল গ্রুপের এমন সিদ্ধান্ত ভারতীয় বাজারে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কৌশলগত পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, ৩৩ লক্ষ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের সম্পদ ব্যবস্থাপনাকারী লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক এই ক্যাপিটাল গ্রুপ গত ৫ মে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (বিএসই) একটি ব্লক ডিলের মাধ্যমে আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেডের প্রায় ২ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। এই লেনদেনের আর্থিক মূল্য ৯ হাজার ৫৫০ কোটি রুপি, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ৭৭৬ মিলিয়নের সমান।

এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাপিটাল গ্রুপ শেয়ারবাজার থেকে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে আদানি পাওয়ার এবং ‘আদানি গ্রিন এনার্জি— এই দুটি কোম্পানিতেও দেড় থেকে দুই শতাংশ করে শেয়ার কিনেছে। মূলত আদানি গ্রুপের শেয়ারের সাম্প্রতিক সময়কার ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণেই এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি।

গত এক বছরে আদানি গ্রুপের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আদানি পাওয়ারের শেয়ারের দাম, ৯৪ শতাংশ। এ ছাড়া আদানি গ্রিনের ৩৫ শতাংশ এবং আদানি পোর্টসের শেয়ারের দাম ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ভারতের বাজারের সরাসরি সম্পৃক্ততা এখনো সীমিত। ফলে বন্দর, বিদ্যুৎ ও লজিস্টিকস খাতে আদানির বিস্তৃত উপস্থিতি দেশটির অবকাঠামো, জ্বালানি রূপান্তর ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ব্লুমবার্গ বলছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আদানির আইনি জটিলতা কেটে যাওয়া বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মার্কিন বিচার বিভাগ আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ধনকুবের গৌতম আদানির বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা নতুন করে জোরালো হয়েছে।

অন্যদিকে, ভারতের আরেক শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজে ক্যাপিটাল গ্রুপের বিনিয়োগের মাত্রা ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে। ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের মার্চ মাসে রিলায়েন্সে ক্যাপিটাল গ্রুপের শেয়ারের মূল্য ছিল ৭৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৬ সালের মার্চ শেষে এসে নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

টেলিযোগাযোগ, খুচরা বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে দ্রুত সম্প্রসারণের পর বর্তমানে রিলায়েন্সের মুনাফা প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। আর এই ধীরগতির কারণে গত এক বছরে রিলায়েন্সের শেয়ারের দর কমেছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা তাদের থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইউরোপ জুড়ে দাবানলের তাণ্ডব অব্যাহত, গ্রিসে ৩ দমকলকর্মী নিহত

বিশেষজ্ঞদের মতে, আটলান্টিক উপকূল থেকে পূর্ব ভূমধ্যসাগর, স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডস থেকে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত দাবানলের এই ধারা সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপে নজিরবিহীন। অনেক আগুনই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং শহর ও জনবসতির কাছাকাছি পৌঁছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

১৬ ঘণ্টা আগে

কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় প্রয়াত মনমোহন সিংকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্ট বলেন, সিবিআইয়ের দাখিল করা দুটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালতের মনে হয়েছে, সেগুলো বাতিল করে নতুন করে বিচার শুরুর মতো কোনো গ্রহণযোগ্য বা জোরালো কারণ নেই। ফলে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলাটি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

১৭ ঘণ্টা আগে

আন্দোলন দমনে গুলি চালাতে বলেছিলেন অমিত শাহ— রাহুলের অভিযোগে লোকসভায় হট্টগোল

রাহুল বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে এসে বসার সাহস নেই। আমি তাকে ৩০টি গাড়ির কনভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বসে থাকতে দেখেছি। তিনি আজ সংসদে নেই কেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।’

১ দিন আগে

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন আইন, সর্বোচ্চ সাজা বেড়ে ১০ বছর

রাজ্যসভায় পাস ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি বেড়ে হবে ১০ বছরের কারাদণ্ড, পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপি জরিমানার বিধানও থাকবে।

১ দিন আগে