এক দশক পর বৈশ্বিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচার শুরু

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ১১
২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়। ফাইল ছবি

প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় (মুসলিম) সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজি) বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত এই আদালত ‘বৈশ্বিক আদালত’ (ওয়ার্ল্ড কোর্ট) নামেও পরিচিত।

আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) দেশটির স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) মামলার শুনানি শুরু হবে। এর আগে ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। এই মামলাটিরই শুনানি শুরু হচ্ছে আজ, টানা তিন সপ্তাহ ধরে এই শুনানি চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জাতিসংঘের আদালতে নথিভুক্ত রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার তদন্তকারী দল ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শুনানি শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘গণহত্যার প্রকৃত সংজ্ঞা কী, গণহত্যা সংক্রান্ত অভিযোগ কীভাবে প্রমাণ করা যায় এবং এ ধরনের গুরুতর অপরাধের ন্যায়বিচার কীভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব— এই মামলার মাধ্যমে এসব প্রশ্নের একটি আন্তর্জাতিক নজির স্থাপিত হবে।’

এর আগে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। মিয়ানমার সরকার সশস্ত্র রোহিঙ্গা সংগঠন আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-কে ওই হামলার জন্য দায়ী করে। এর জেরে ওই মাসেই বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

অভিযানের নামে সাধারণ রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো সহিংসতায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আসে। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তারা এখনও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে।

সেনা অভিযানের পরপরই জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী দল ঘটনার তদন্ত করে। তদন্ত প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করে।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নোবেলজয়ী অং সান সুচি। তিনি জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার অভিযোগকেও ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

পরবর্তীতে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন অং সান সুচি ও তার নেতৃত্বাধীন সরকার। বর্তমানে তিনি মিয়ানমারের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত আদালতে তার বিচার চলছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বড় সুবিধা পাবে আইআরজিসির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের দৃষ্টিতে যাকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেই ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই সম্ভাব্য সমঝোতার মাধ্যমে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটিতে পরিণত হতে পারে।

৬ ঘণ্টা আগে

‘বিশ্বাসঘাতক’ ট্রাম্পের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ক্ষোভ, এককভাবে লড়াইয়ের পক্ষে ইসরায়েলিরা

৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবেও কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন এই নেতা এখন ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখনও তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।

৬ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন উইটকফ ও আরাগচি

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন ইরান যুদ্ধ চুক্তিকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে এক্সিওসের বরাতে জানিয়ে

৮ ঘণ্টা আগে

ইরান ইস্যুই গড়তে পারে জে ডি ভ্যান্সের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী এ ধরনের হাই-প্রোফাইল আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর। কিন্তু ট্রাম্প দৃশ্যত রুবিওর পরিবর্তে ভ্যান্সকেই সামনে নিয়ে এসেছেন। ফলে প্রশাসনের ভেতরে রুবিওর প্রকৃত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

৯ ঘণ্টা আগে