যৌন সুবিধার বিনিময়ে এমপি-মন্ত্রী, মোদির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
(বাঁ থেকে) মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার, নরেন্দ্র মোদি ও সুব্রামানিয়াম স্বামী। ছবি: কোলাজ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌন সুবিধার বিনিময়ে কয়েকজন নারীকে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন একই দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা সুব্রামানিয়ান স্বামী। এরপর একই অভিযোগ করেছেন নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক ও হিন্দুত্ববাদী লেখিকা মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার।

তাদের দুজনেরই দাবি, যৌনতার বিনিময়ে একাধিক নারীকে এমপি-মন্ত্রী করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদির কার্যালয় কিংবা তার দল বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মন্তব্য করা হয়নি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন ও মুম্বাইভিত্তিক ইন্ডিয়া হেরাল্ডের খবরে বলা হয়েছে, ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নিয়ে একটি পডকাস্টে আলোচনা করতে গিয়ে সুব্রামানিয়ান স্বামী এমন বিস্ফোরক দাবি করেন। তার এ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

সুব্রামানিয়ান স্বামী ভারতের রাজনীতিতে একটি সুপরিচিত নাম। লোকসভা ও রাজ্যসভা— ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষেই নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ১৯৯০-৯১ সালে চন্দ্র শেখর ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি মন্ত্রীও ছিলেন।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দীর্ঘ এক পোস্টে একই অভিযোগের কথা তুলে ধরেন মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার। এই লেখিকা এর আগে মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এমনকি মোদিকে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করে বইও লিখেছেন।

সুব্রামানিয়ান স্বামী পডকাস্টে আলোচনার একপর্যায়ে বলেন, ‘এপস্টেইন তো অনেক ছোট ব্যাপার, সবচেয়ে বড় মাথাকে এবার ধরা উচিত।’ এরপরই তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিরুদ্ধে যৌনতার বিনিময়ে একাধিক নারীকে সংসদ সদস্য করার কথা তুলে ধরেন।

সুব্রামানিয়ান বলেন, ‘আমি তিন থেকে চারজন নারীর নাম বলতে পারি, যারা এমপি হয়েছেন এবং এর জন্য তাদের মোদির সঙ্গে বিছানায় যেতে হয়েছে। এমনকি তাদের মধ্যে একজন মন্ত্রীও হয়েছেন।

এ নিয়ে যখন ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়, তখনই এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করেন কিশওয়ার। তার দাবি, তিনি তার বই প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়ার জন্য সাক্ষাৎ এড়িয়ে গিয়েছিলেন। কারণ তিনি আগে থেকেই নারীদের প্রতি মোদির আচরণ সম্পর্কে অবগত ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক তরুণ গৌতম তার এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করেন সুব্রামানিয়ান স্বামীর পডকাস্টের ওই ভিডিও। পরে আরও অনেক সাংবাদিকই সেটি শেয়ার করেছেন। কিশওয়ার নিজেও গৌতমের সেই পোস্টটি শেয়ার করেই তার দীর্ঘ পোস্টটি লিখেছেন।

কিশওয়ার লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী কোনো কোনো সংসদ সদস্যকে স্রেফ ঘনিষ্ঠতার বিনিময়ে মন্ত্রী করেছেন, তাদের নাম হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকদের মুখে মুখে ঘরে। এমনকী হরদীপ সিং পুরী, এস জয়শংকররা যখন মন্ত্রী হলেন, তখনও অনেকের মুখেই শোনা গিয়েছিল যে তারা প্রধানমন্ত্রীকে ‘বিশেষ সেবা’র ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।”

সাবেক ভারতের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানির কথা সরাসরিই পোস্টে উল্লেখ করেছেন কিশওয়ার। লিখেছেন, “দ্বাদশ শ্রেণি পাস স্মৃতি ইরানি কীভাবে মন্ত্রী হলেন, সেই ‘কেচ্ছা’ জনসাধারণের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। ২০১৪ সালে আমেরিকায় গিয়েও আমি প্রধানমন্ত্রীর ‘কীর্তিকাহিনী’র শুনেছি।”

কিশওয়ার লিখেছেন, ‘এসব গল্প শুনে আমি এতটাই বিরক্ত হয়ে পড়ি যে যেসব অনুষ্ঠানে— এমনকি বিয়ের অনুষ্ঠানেও— মোদি উপস্থিত থাকতে পারেন, সেগুলো এড়িয়ে চলতাম।’

ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। নেটিজেনদের অনেকেই বলছেন, নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অনেকটাই ‘ওপেন সিক্রেট’, যা এখন প্রতিষ্ঠিত ও তারকাদের মুখ থেকে এলো।

এ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও বিজেপির মুখে কুলুপ এঁটে থাকাকে তারা ‘মৌনতায় সম্মতির লক্ষণ’ হিসেবে মনে করছেন। তারা বলছেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা হলে সুব্রামানিয়ান স্বামী ও কিশওয়ারকে ব্যাপক আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতো।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরাক থেকে ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ

শুক্রবার ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোকায় হুথি যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এর এক দিন আগে হুথিরা লোহিত সাগরের পুরো উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছিল।

১৭ ঘণ্টা আগে

সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিটি ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। সেখানে থাকা প্রধান অস্ত্রের গুদাম এবং ‘কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার’ লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হয়।

১৯ ঘণ্টা আগে

ইরান যুদ্ধের পরিণতি কি আফগানিস্তান-ইরাকের মতো হবে?

ইরানের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা আরও বড়। কারণ এটি ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো দুর্বল রাষ্ট্র নয়। প্রায় ৯ কোটি মানুষের দেশটির রয়েছে শক্তিশালী সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামো, বিশাল ভূখণ্ড, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক এবং নিজস্ব জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক পরিচয়। ফলে তেহরানে সরকার পতন ঘটানো গেলেও

২০ ঘণ্টা আগে

ব্রিকসে ইরান-আমিরাত বরফ গলার আভাস

ভারতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সুনজয় সুধীর রয়টার্সকে বলেন, যুদ্ধ শেষ করার চাবিকাঠি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে। তার মতে, ভারত কঠিন আলোচনাগুলো চালু রাখার সুযোগ তৈরি করেছে, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো একই টেবিলে বসতে পারে, কূটনৈতিকভাবে আলোচনা করতে পারে এবং যেসব বিষয়ে তাদের স্বার্থের মিল রয়েছ

১ দিন আগে
Advertisement