মিয়ানমারের উপকূলে নৌকাডুবিতে ৫ শতাধিক রোহিঙ্গার মৃত্যুর আশঙ্কা: জাতিসংঘ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সমুদ্রপথে পরিণত হয়েছে। ফাইল ছবি: রয়টার্স

মিয়ানমারের উপকূলে দুটি নৌকা ডুবে ৫০০ জনের বেশি রোহিঙ্গার প্রাণহানির আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থীশিবির থেকে যাত্রা করা কিছু রোহিঙ্গাও ছিলেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নৌকা দুটি যাত্রা শুরু করে। এতে ৫০০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন, যাদের বেশির ভাগই জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা।

যদিও এই নৌকাডুবির ঘটনা এবং হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি, তবু সম্ভাব্য এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় ইউএনএইচসিআর ও আইওএম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা এবং বাংলাদেশের জনাকীর্ণ শরণার্থীশিবিরের কঠিন জীবনযাপনের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গা মুসলিমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ও নড়বড়ে কাঠের নৌকায় করে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো দেশে নিরাপদ আশ্রয় ও উন্নত জীবিকার সন্ধানে সমুদ্রপথে যাত্রা করে আসছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত বা নিখোঁজ হন। এর ফলে শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য এই নৌপথ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সমুদ্রপথগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর ও আইওএম জানিয়েছে, সর্বশেষ ঘটনায় প্রায় ২৫০ আরোহী নিয়ে যাত্রা করা একটি নৌকার সঙ্গে যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে প্রায় ২৮০ আরোহী বহনকারী আরেকটি নৌকা মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিয়মিত নৌযাত্রার মৌসুমের বাইরে এসব যাত্রা করা হয়েছিল। এ সময় সমুদ্র সাধারণত বেশি উত্তাল ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকে, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।

২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানের পর সেখান থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক দেশত্যাগ শুরু হয়। ওই অভিযানের জেরে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার। তবে দেশটি এখনো রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তাদের দাবি, এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী অবৈধ অভিবাসী।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে রাখাইন রাজ্যেও। সেখানে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সংঘর্ষের মধ্যে রোহিঙ্গারা কার্যত দুই পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে আটকা পড়ে আছেন।

ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরও আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ হয়েছেন বা মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীর পাশাপাশি বাংলাদেশের নাগরিকও রয়েছেন।

গত নভেম্বরে থাইল্যান্ড–মালয়েশিয়া সীমান্তসংলগ্ন লাংকাউই উপকূলে রোহিঙ্গাদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যায়। ওই ঘটনায় প্রায় এক ডজন আরোহীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরান ও তার সহায়তাকারীদের ‘কঠোর পরিণতি’র হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানকে আমি ছাড়া আর কেউ চুক্তির জন্য এত সুযোগ-সুবিধা বা ছাড় দেয়নি। তবে এটি দুঃখজনক যে তারা চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণেই আজ আমি ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা করছি। এই অভিযান এতটাই সর্বাত্মক হবে যে এর আগে কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

১৫ ঘণ্টা আগে

কলকাতায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত আরও দুজনের পরিচয় প্রকাশ

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে অবস্থিত শিখা ইন নামের ওই হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আগুন পাশের আরও কয়েকটি হোটেলেও ছড়িয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

১ দিন আগে

কলকাতায় হোটেলে আগুন: স্ত্রী-সন্তান-শ্বশুরসহ বাংলাদেশি সাংবাদিকের মৃত্যু

নিহত দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন তিনি। অগ্নিকাণ্ডে তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে শর্ণশীষ দত্ত (৩) ও শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০) মারা গেছেন।

১ দিন আগে

কলকাতায় আগুনে নিহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত

বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে স্থানীয় পুলিশ তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের চারজন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।

১ দিন আগে