গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৮২% ভবন ক্ষতিগ্রস্ত, প্রায় দেড় লাখ ধ্বংস

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৫: ০২
ইসরায়েলি হামলায় গাজা শহর যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েলি হামলায় গাজা শহর যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলের হামলায় গাজা উপত্যকার প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ২৯০টি বা ৮২ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪২২টি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (পিসিবিএস)।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়, বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে পিসিবিএস এসব তথ্য জানায়।

পিসিবিএসের হিসাবে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪২২টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। আরও ১৩ হাজার ৮৪৮টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে গাজায় প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬২৭টি আবাসিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এ সময়ে উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

ধ্বংসযজ্ঞের বড় প্রভাব পড়েছে পানি ও বর্জ্যপানি ব্যবস্থায়ও। পিসিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত গাজার পানি ও বর্জ্যপানি অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। উপত্যকার ৮২ শতাংশ পরিবার পানির নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন মাথাপিছু মাত্র ৬ লিটার বা ১ দশমিক ৬ গ্যালন পানি পাচ্ছেন।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিসিবিএস। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে সংস্থাটি জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এসব হামলায় ১ হাজার ৪৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৭২ জন আহত হয়েছেন।

পিসিবিএস আরও জানায়, গাজায় খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, আশ্রয় সামগ্রী ও পূর্বনির্মিত ঘর প্রবেশের ক্ষেত্রে ইসরায়েল বিধিনিষেধ অব্যাহত রেখেছে। উপত্যকাটিতে প্রায় ২৪ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত।

এদিকে দখলকৃত পশ্চিম তীরেও বছরের শুরু থেকে বাড়িঘর ও স্থাপনা ধ্বংস, ভূমি দখল এবং বাস্তুচ্যুতির ঘটনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে পিসিবিএস। সংস্থাটি জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রায় ৩৪১টি ধ্বংস অভিযান চালিয়েছে।

এসব অভিযানে ৭৪০টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া অনুমতি না থাকার অভিযোগে আরও ২৫৪টি স্থাপনা ধ্বংসের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে। এসব হামলার মধ্যে হত্যা, গ্রেপ্তার, বাস্তুচ্যুতি, বাড়িঘর ধ্বংস, ভূমি সমতল করা এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের মতো ঘটনা রয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement