
বিবিসি বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার দেশের হাতে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের ‘কার্যত অফুরান ভাণ্ডার’ আছে, যা দিয়ে ‘অনন্তকাল’ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেন। আবার ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যেমন ভাবছে, তাদের ‘শত্রুকে প্রতিরোধ করার সক্ষমতা’ তার চেয়েও অনেক বেশি।
শুধু অস্ত্রের ভাণ্ডার আর সরবরাহের ওপরে ইরান যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারিত হবে না, সেটি ঠিক। তবে নিশ্চিতভাবেই অস্ত্রের সংখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক। যেমন— অস্ত্র আর গোলাবারুদের সংখ্যার দিক থেকে রাশিয়া ইউক্রেনকে অনেক আগেই পিছনে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু তবু যুদ্ধ চলছে সেখানে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এবারের যুদ্ধ প্রথম থেকেই জোরালো মাত্রায় শুরু হয়েছে। দুই পক্ষই যত দ্রুত অস্ত্র ব্যবহার করছে তত তাড়াতাড়ি অস্ত্র আবারও উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।
তেল আবিবভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএনএসএস) হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েল এরই মধ্যে দুই হাজারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে। প্রতিটিতে একাধিক বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে।
আইএনএসএস বলছে, ইরান ৫৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে আর এক হাজার ৩৯১টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো লক্ষ্যে পৌছনোর আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
পরিস্থিতি বলছে, যুদ্ধ যদি দীর্ঘদিন ধরে চলে, তাহলে দুপক্ষের জন্যই এই পর্যায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
কোনো সামরিক বাহিনীই তাদের হাতে নির্দিষ্টভাবে কত অস্ত্র আছে সে সংখ্যা প্রকাশ করে না। প্রতিপক্ষকে অন্ধকারে রাখার জন্যই এ তথ্য গোপনীয় রাখা হয়। তবে তথ্য বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে আনুমানিক দুই হাজারেরও বেশি স্বল্প-দূরত্বের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।
পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলছেন, তারা দেখতে পাচ্ছেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হার কমে আসছে। যুদ্ধের প্রথম দিনে যেখানে শয়ে শয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছিল ইরান, এখন তা মাত্র কয়েক ডজনে এসে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল ড্যান কেইন বুধবার বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার হার প্রথম দিনের তুলনায় ৮৬ শতাংশ কমে গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম বলছে, মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যেই সংখ্যাটি ২৩ শতাংশ কমেছে।
ধারণা করা হয়, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেই একমুখী আক্রমণ চালাতে সক্ষম শাহেদ ড্রোন হাজার হাজার সংখ্যায় উৎপাদন করেছে। এই ড্রোনের প্রযুক্তি তারা রাশিয়ার কাছে রপ্তানিও করেছে। রাশিয়া এই শাহেদ ড্রোনগুলোর নিজস্ব একটি সংস্করণ তৈরি করে ইউক্রেনের ওপরে বিধ্বংসী হামলা চালাচ্ছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এর নকল করেছে।
তবে কেইন বলছেন, ইরানের ড্রোন আকাশে ওড়ানোর সংখ্যাও যুদ্ধের প্রথম দিনের তুলনায় ৭৩ শতাংশ কমে গেছে। শুরুর দিকে যে উচ্চমাত্রায় হামলা চালাচ্ছিল ইরান, সেটা ধরে রাখতে এখন সম্ভবত পরিস্থিতি বুঝতে হচ্ছে তাদের।
আবার হামলার সংখ্যা দ্রুত কমে আসার একটি কারণ এটাও হতে পারে যে তারা চেষ্টা করছে অস্ত্র মজুত করে রাখতে। তবে উৎপাদনের হার ধরে রাখাটা আরও কঠিন।
যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান এখন ইরানের আকাশে আধিপত্য চালাচ্ছে। ইরানের বিমান প্রতিরোধব্যবস্থা প্রায় পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। কোনো কার্যকরী বিমান বাহিনীও দেশটিতে আর নেই।
সেন্টকম বলছে, যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ে নজর দেওয়া হবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন উৎক্ষেপণের স্থাপনাগুলোতে। তাদের অস্ত্রের মজুতগুলো খুঁজে বের করা এবং দেশটির যেসব কারখানায় এসব অস্ত্র উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে ধ্বংস করার ওপরে জোর দেওয়া হবে।
এখন ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের পক্ষে সহজতর হবে। তবে তাদের সব অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করা কঠিন হবে। ফ্রান্সের তিনগুণ বড় দেশ ইরান। আকাশ থেকে নজরে পড়বে না— এমনভাবে অস্ত্রভাণ্ডার লুকিয়ে রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব।
আকাশপথে যুদ্ধের সীমাবদ্ধতা সাম্প্রতিক অতীতে দেখা গেছে। দুই বছর ধরে ক্রমাগত বোমাবর্ষণ করে এখনো ইসরায়েল গাজা ভূখণ্ডে হামাসকে ধ্বংস করতে পারেনি।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের মধ্যেও টিকে আছে, একইভাবে টিকে আছে তাদের কিছু অস্ত্রও।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখনো বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে আছে। অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে তাদের হাতে চিরাচরিত অস্ত্রের মজুত বেশি। তবে মার্কিন বাহিনী এখনো বেশি নির্ভর করে নির্ভুলভাবে আঘাত করতে পারে— এমন ব্যয়বহুল অস্ত্রের ওপর। এগুলো আবার কম সংখ্যায় বানানো হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সপ্তাহের শেষের দিকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে একটি বৈঠক ডেকেছেন। উৎপাদন বাড়ানার জন্য তাদের ওপরে চাপ তৈরি করা হতে পারে। এর থেকে বোঝা যায়, আমেরিকার অস্ত্রভাণ্ডারে টান পড়ছে।
তবে আমেরিকা এখন স্বল্প দূরত্বে হামলা চালানোর জন্য কিছুটা সুবিধা পেয়েছে বলে তাদের অস্ত্র ভাণ্ডারের ওপরে কিছুটা চাপ কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ড্যান কেইন বলেন, টমাহক ক্রুজ মিসাইলের মতো দামি আর অত্যাধুনিক লম্বা দূরত্বের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পর্যায় থেকে এগিয়ে গেছে। মার্কিন বিমানবাহিনী এখন তুলনামূলকভাবে কম মূল্যের জেডিএএম বোমার মতো অস্ত্র ব্যবহার করছে। এগুলো লক্ষ্যবস্তুর ওপরে সরাসরি নিক্ষেপ করা যায়।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সঙ্গে যুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান বলছেন, অনেক দূর থেকে প্রাথমিক হামলা চালানোর পরে যুক্তরাষ্ট্র এখন তুলনামূলক কম দামি ক্ষেপণাস্ত্র আর বোমা ব্যবহার করতে পারে।
এভাবে চললে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রায় অনির্দিষ্টকালের জন্য’ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করেন মার্ক ক্যানসিয়ান। তিনি বলেন, যত বেশি দিন যুদ্ধ গড়াবে, লক্ষ্যবস্তুর সংখ্যাও ছোট হয়ে আসবে। অর্থাৎ যুদ্ধের মাত্রাও ধীরে ধীরে কমে আসবে।
মার্ক ক্যানসিয়ান বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হাজার হাজার জেডিএএম বোমা আছে, তবে বহুমূল্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরবরাহ কম। সংঘাতের শুরুর দিকে সেগুলো ব্যবহার করা জরুরি ছিল, যেন ইরানের জবাবি হামলার ঝুঁকি প্রতিহত করা যায়।
‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা খুবই বেশি ছিল, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে নয়, তার আরব-মিত্র দেশ এবং ইউক্রেনেরও চাহিদা ছিল। ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিটা প্যাট্রিয়ট মিসাইলের দাম পড়ে ৪০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি।
মনে করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর প্রায় ৭০০টির মতো প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করতে পারে। ইরানের পক্ষে যদি এখনো ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করার ক্ষমতা থেকে থাকে, তাহলে এই সীমিতসংখ্যক প্যাট্রিয়টের মজুতেও টান পড়বে।
সিএসআইএসের বিশেষজ্ঞ ক্যানসিয়ানের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ১৬০০টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল আছে। এ সংখ্যাটা সম্প্রতি কমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি বিমান থেকে ভূমিতে যুদ্ধ ‘'দীর্ঘ সময়’ ধরে চালাতে পারে, তাহলে বিমান প্রতিরোধের লড়াই ‘আরও অনিশ্চিত’ হয়ে পড়বে বলে মনে করেন মার্ক ক্যানসিয়ান। তিনি বলেন, যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্যাট্রিয়টের সংখ্যা আরও কমিয়ে ফেলতে চান, তাহলে আমার মতে ইরানিদের পরাস্ত করতে পারব আমরা। তবে সেক্ষেত্রে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যদি কোনো সংঘাত তৈরি হয়, তখন সমস্যা তৈরি হবে।
অস্ত্রের মজুত নিয়ে যে চিন্তা আছে, সেটি স্পষ্ট। কারণ ট্রাম্প এ সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জোর দিয়ে বলেছেন, ইরান আমাদের বিরুদ্ধে টিকতে পারবে না। অস্ত্রের দিক থেকে এই কথাটা তিনি সম্ভবত ঠিকই বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার দেশের হাতে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের ‘কার্যত অফুরান ভাণ্ডার’ আছে, যা দিয়ে ‘অনন্তকাল’ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেন। আবার ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যেমন ভাবছে, তাদের ‘শত্রুকে প্রতিরোধ করার সক্ষমতা’ তার চেয়েও অনেক বেশি।
শুধু অস্ত্রের ভাণ্ডার আর সরবরাহের ওপরে ইরান যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারিত হবে না, সেটি ঠিক। তবে নিশ্চিতভাবেই অস্ত্রের সংখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক। যেমন— অস্ত্র আর গোলাবারুদের সংখ্যার দিক থেকে রাশিয়া ইউক্রেনকে অনেক আগেই পিছনে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু তবু যুদ্ধ চলছে সেখানে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এবারের যুদ্ধ প্রথম থেকেই জোরালো মাত্রায় শুরু হয়েছে। দুই পক্ষই যত দ্রুত অস্ত্র ব্যবহার করছে তত তাড়াতাড়ি অস্ত্র আবারও উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।
তেল আবিবভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএনএসএস) হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েল এরই মধ্যে দুই হাজারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে। প্রতিটিতে একাধিক বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে।
আইএনএসএস বলছে, ইরান ৫৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে আর এক হাজার ৩৯১টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো লক্ষ্যে পৌছনোর আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
পরিস্থিতি বলছে, যুদ্ধ যদি দীর্ঘদিন ধরে চলে, তাহলে দুপক্ষের জন্যই এই পর্যায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
কোনো সামরিক বাহিনীই তাদের হাতে নির্দিষ্টভাবে কত অস্ত্র আছে সে সংখ্যা প্রকাশ করে না। প্রতিপক্ষকে অন্ধকারে রাখার জন্যই এ তথ্য গোপনীয় রাখা হয়। তবে তথ্য বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে আনুমানিক দুই হাজারেরও বেশি স্বল্প-দূরত্বের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।
পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলছেন, তারা দেখতে পাচ্ছেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হার কমে আসছে। যুদ্ধের প্রথম দিনে যেখানে শয়ে শয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছিল ইরান, এখন তা মাত্র কয়েক ডজনে এসে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল ড্যান কেইন বুধবার বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার হার প্রথম দিনের তুলনায় ৮৬ শতাংশ কমে গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম বলছে, মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যেই সংখ্যাটি ২৩ শতাংশ কমেছে।
ধারণা করা হয়, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেই একমুখী আক্রমণ চালাতে সক্ষম শাহেদ ড্রোন হাজার হাজার সংখ্যায় উৎপাদন করেছে। এই ড্রোনের প্রযুক্তি তারা রাশিয়ার কাছে রপ্তানিও করেছে। রাশিয়া এই শাহেদ ড্রোনগুলোর নিজস্ব একটি সংস্করণ তৈরি করে ইউক্রেনের ওপরে বিধ্বংসী হামলা চালাচ্ছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এর নকল করেছে।
তবে কেইন বলছেন, ইরানের ড্রোন আকাশে ওড়ানোর সংখ্যাও যুদ্ধের প্রথম দিনের তুলনায় ৭৩ শতাংশ কমে গেছে। শুরুর দিকে যে উচ্চমাত্রায় হামলা চালাচ্ছিল ইরান, সেটা ধরে রাখতে এখন সম্ভবত পরিস্থিতি বুঝতে হচ্ছে তাদের।
আবার হামলার সংখ্যা দ্রুত কমে আসার একটি কারণ এটাও হতে পারে যে তারা চেষ্টা করছে অস্ত্র মজুত করে রাখতে। তবে উৎপাদনের হার ধরে রাখাটা আরও কঠিন।
যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান এখন ইরানের আকাশে আধিপত্য চালাচ্ছে। ইরানের বিমান প্রতিরোধব্যবস্থা প্রায় পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। কোনো কার্যকরী বিমান বাহিনীও দেশটিতে আর নেই।
সেন্টকম বলছে, যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ে নজর দেওয়া হবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন উৎক্ষেপণের স্থাপনাগুলোতে। তাদের অস্ত্রের মজুতগুলো খুঁজে বের করা এবং দেশটির যেসব কারখানায় এসব অস্ত্র উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে ধ্বংস করার ওপরে জোর দেওয়া হবে।
এখন ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের পক্ষে সহজতর হবে। তবে তাদের সব অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করা কঠিন হবে। ফ্রান্সের তিনগুণ বড় দেশ ইরান। আকাশ থেকে নজরে পড়বে না— এমনভাবে অস্ত্রভাণ্ডার লুকিয়ে রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব।
আকাশপথে যুদ্ধের সীমাবদ্ধতা সাম্প্রতিক অতীতে দেখা গেছে। দুই বছর ধরে ক্রমাগত বোমাবর্ষণ করে এখনো ইসরায়েল গাজা ভূখণ্ডে হামাসকে ধ্বংস করতে পারেনি।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের মধ্যেও টিকে আছে, একইভাবে টিকে আছে তাদের কিছু অস্ত্রও।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখনো বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে আছে। অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে তাদের হাতে চিরাচরিত অস্ত্রের মজুত বেশি। তবে মার্কিন বাহিনী এখনো বেশি নির্ভর করে নির্ভুলভাবে আঘাত করতে পারে— এমন ব্যয়বহুল অস্ত্রের ওপর। এগুলো আবার কম সংখ্যায় বানানো হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সপ্তাহের শেষের দিকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে একটি বৈঠক ডেকেছেন। উৎপাদন বাড়ানার জন্য তাদের ওপরে চাপ তৈরি করা হতে পারে। এর থেকে বোঝা যায়, আমেরিকার অস্ত্রভাণ্ডারে টান পড়ছে।
তবে আমেরিকা এখন স্বল্প দূরত্বে হামলা চালানোর জন্য কিছুটা সুবিধা পেয়েছে বলে তাদের অস্ত্র ভাণ্ডারের ওপরে কিছুটা চাপ কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ড্যান কেইন বলেন, টমাহক ক্রুজ মিসাইলের মতো দামি আর অত্যাধুনিক লম্বা দূরত্বের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পর্যায় থেকে এগিয়ে গেছে। মার্কিন বিমানবাহিনী এখন তুলনামূলকভাবে কম মূল্যের জেডিএএম বোমার মতো অস্ত্র ব্যবহার করছে। এগুলো লক্ষ্যবস্তুর ওপরে সরাসরি নিক্ষেপ করা যায়।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সঙ্গে যুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান বলছেন, অনেক দূর থেকে প্রাথমিক হামলা চালানোর পরে যুক্তরাষ্ট্র এখন তুলনামূলক কম দামি ক্ষেপণাস্ত্র আর বোমা ব্যবহার করতে পারে।
এভাবে চললে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রায় অনির্দিষ্টকালের জন্য’ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করেন মার্ক ক্যানসিয়ান। তিনি বলেন, যত বেশি দিন যুদ্ধ গড়াবে, লক্ষ্যবস্তুর সংখ্যাও ছোট হয়ে আসবে। অর্থাৎ যুদ্ধের মাত্রাও ধীরে ধীরে কমে আসবে।
মার্ক ক্যানসিয়ান বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হাজার হাজার জেডিএএম বোমা আছে, তবে বহুমূল্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরবরাহ কম। সংঘাতের শুরুর দিকে সেগুলো ব্যবহার করা জরুরি ছিল, যেন ইরানের জবাবি হামলার ঝুঁকি প্রতিহত করা যায়।
‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা খুবই বেশি ছিল, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে নয়, তার আরব-মিত্র দেশ এবং ইউক্রেনেরও চাহিদা ছিল। ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিটা প্যাট্রিয়ট মিসাইলের দাম পড়ে ৪০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি।
মনে করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর প্রায় ৭০০টির মতো প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করতে পারে। ইরানের পক্ষে যদি এখনো ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করার ক্ষমতা থেকে থাকে, তাহলে এই সীমিতসংখ্যক প্যাট্রিয়টের মজুতেও টান পড়বে।
সিএসআইএসের বিশেষজ্ঞ ক্যানসিয়ানের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ১৬০০টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল আছে। এ সংখ্যাটা সম্প্রতি কমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি বিমান থেকে ভূমিতে যুদ্ধ ‘'দীর্ঘ সময়’ ধরে চালাতে পারে, তাহলে বিমান প্রতিরোধের লড়াই ‘আরও অনিশ্চিত’ হয়ে পড়বে বলে মনে করেন মার্ক ক্যানসিয়ান। তিনি বলেন, যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্যাট্রিয়টের সংখ্যা আরও কমিয়ে ফেলতে চান, তাহলে আমার মতে ইরানিদের পরাস্ত করতে পারব আমরা। তবে সেক্ষেত্রে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যদি কোনো সংঘাত তৈরি হয়, তখন সমস্যা তৈরি হবে।
অস্ত্রের মজুত নিয়ে যে চিন্তা আছে, সেটি স্পষ্ট। কারণ ট্রাম্প এ সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জোর দিয়ে বলেছেন, ইরান আমাদের বিরুদ্ধে টিকতে পারবে না। অস্ত্রের দিক থেকে এই কথাটা তিনি সম্ভবত ঠিকই বলেছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল স্পষ্ট করেছেন যে, বার্লিন ইরানে কোনো ধরনের 'শাসন পরিবর্তন' অভিযানে সমর্থন দেবে না।
৯ ঘণ্টা আগে
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এনবিসিতে যে মন্তব্য করেছিলেন যে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি স্থল আক্রমণের জন্য প্রস্তুত, সেটিও ‘অযথা মন্তব্য’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
৯ ঘণ্টা আগে
ট্রাম্প বলেন, “তারা এখন ডাকছে। বলছে— ‘একটি চুক্তি করলে কেমন হয়?’ কিন্তু আমি বলেছি, তোমরা খানিকটা দেরি করে ফেলেছ।”
১০ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকা পরিস্থিতির মধ্যে ইরাক ও আশপাশের অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৭টি হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক (আইআরআই)।
১১ ঘণ্টা আগে