ব্রেক্সিটের এক দশক: ইউরোপ নিয়ে সম্পর্কের জটিলতায় যুক্তরাজ্য

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
এক দশক আগে ব্রেক্সিট গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল যুক্তরাজ্য। সেই রাজনৈতিক ধাক্কার রেশ এখনো রয়ে গেছে যুক্তরাজ্যে। প্রতীকী ছবি

প্যারিসের ঐতিহাসিক স্যাক্রে-ক্যুর গির্জার পাশেই রয়েছে ‘কারুজেল দে সাঁ পিয়ের’— সোনালি কেশরওয়ালা কাঠের ঘোড়া আর বিষণ্ন ফরাসি শঁসোঁ সংগীতের আবহে ঘুরতে থাকা একটি পুরোনো ক্যারোসেল। পর্যটকদের কাছে এটি দারুণ আকর্ষণীয়। কিন্তু সম্প্রতি সেটির দিকে তাকিয়ে আমার মনে পড়ছিল একেবারেই অন্য একটি বিষয়— ব্রেক্সিট।

১০ বছর আগে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার পক্ষে ভোট দেয়। সেই গণভোটের পর ইউরোপের দৃষ্টিতে ব্রিটেন যেন নিজের ভেতরেই গুটিয়ে যেতে শুরু করে। রাজনৈতিক সংকট, দলীয় বিভাজন, নেতৃত্বের পালাবদল, সংসদীয় অচলাবস্থা— সব মিলিয়ে দেশটি বছরের পর বছর যেন একই জায়গায় ঘুরপাক খেতে থাকে। অনেকটা সেই ক্যারোসেলের মতোই, যা বারবার ঘোরে, কিন্তু কোথাও পৌঁছায় না।

আজ, এক দশক পর, দৃশ্যপট যেন আবারও সেই জায়গাতেই ফিরে এসেছে।

ব্রেক্সিট গণভোটের পর এই ১০ বছরে যুক্তরাজ্যে সাতজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েছেন। সর্বশেষ কিয়ের স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার পর আবারও নেতৃত্ব পরিবর্তনের মুখে দেশ। একই সঙ্গে নতুন করে সামনে এসেছে একটি পুরোনো প্রশ্ন— অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাজ্য কি আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও কাছাকাছি যাবে?

এই প্রশ্নই ছিল স্টারমার সরকারের অন্যতম রাজনৈতিক উদ্যোগ। ব্রেক্সিট-পরবর্তী জটিলতা ও বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে ব্রাসেলসের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছিল তার সরকার। কিন্তু তার পদত্যাগের ঘোষণার পর সেই প্রক্রিয়া এখন নতুন অনিশ্চয়তার মুখে।

অস্থিরতা এখন আর শুধু ব্রিটেনের নয়

ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থা ইউরোপকে প্রথমদিকে বিস্মিত করেছিল। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে ইউরোপের সবচেয়ে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের একটি হিসেবে দেখা হতো।

তবে সময়ের সঙ্গে সেই বিস্ময় অনেকটাই কেটে গেছে।

ইইউয়ের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা এখন বলছেন, আধুনিক ব্রিটিশ রাজনীতির এই অস্থিরতার সঙ্গে তারা অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। তাছাড়া বাস্তবতা হলো— ইউরোপের বড় শক্তি ফ্রান্স ও জার্মানির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও আজ খুব একটা স্থিতিশীল নয়।

তবু প্রশ্ন থেকেই যায়— এমন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ব্রিটেন ও ইউরোপের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার আলোচনা কতটা এগোতে পারবে?

স্টারমার সরকার ব্রেক্সিট-পরবর্তী লালফিতার দৌরাত্ম্য কমিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্য নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন আলোচনা শুরু করেছিল। ব্রাসেলসের ধারণা, নতুন প্রধানমন্ত্রী এলেও সেই আলোচনা চলবে। তবে স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার পর জুলাইয়ের শেষ দিকে নির্ধারিত যুক্তরাজ্য-ইইউ শীর্ষ সম্মেলন আগের সূচি অনুযায়ী হবে কি না, তা এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

মিশেল বার্নিয়ে: ‘যে-ই আসুক, তার সঙ্গেই কাজ করব’

ব্রেক্সিট আলোচনার পুরো সময় জুড়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান আলোচক ছিলেন মিশেল বার্নিয়ে। বর্তমানে তিনি ফরাসি রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ। দুই বছর আগে অল্প সময়ের জন্য ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। সামনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে তার।

ফরাসি পার্লামেন্টের পাশে ছোট্ট একটি কার্যালয়ে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়।

তার বক্তব্যে কোনো আবেগ ছিল না; বরং ছিল বাস্তববাদ। তিনি বলেন, ব্রিটেনে যেই প্রধানমন্ত্রী হোন না কেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার সঙ্গেই কাজ করবে।

বার্নিয়ের ভাষায়, ‘আমাদের এই পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে এবং তাকে সম্মান করতে হবে। নতুন একজন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আসবেন, আমরা তার সঙ্গেই কাজ করব। ব্রেক্সিট আলোচনার সময়ও তো আমি চার বছরে চারজন ভিন্ন ব্রিটিশ আলোচকের মুখোমুখি হয়েছিলাম। সেটিও ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়। তবুও আলোচনা চলেছে।’

ব্রেক্সিট আলোচনার দীর্ঘ বছরগুলোতে বার্নিয়ে সাংবাদিকদের কাছেও বেশ পরিচিত ছিলেন। তার ডেস্কে সব সময় একটি কফি মগ থাকত। সেখানে লেখা ছিল— শান্ত থাকো এবং আলোচনা চালিয়ে যাও (Keep Calm and Carry on Negotiating)।

এটি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিখ্যাত ব্রিটিশ স্লোগান ‘শান্ত থাকো এবং এগিয়ে চলো’ (Keep Calm and Carry On)-এর একটি রসাত্মক রূপান্তর। তবে মগের বার্তায় রসবোধের ছাপ থাকলেও আলোচনার টেবিলে বার্নিয়ে ছিলেন কঠোর ও অনড় আলোচক।

যুক্তরাজ্য বারবার ইইউর কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা চাইলেও তিনি শুরু থেকে একই অবস্থানে ছিলেন— সদস্য না হয়েও সদস্য রাষ্ট্রের সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়।

আবারও ফিরেছে ‘চেরি-পিকিং’ বিতর্ক

আজ এক দশক পর, সেই একই বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।

স্টারমার সরকারের লক্ষ্য ছিল ইউরোপীয় একক বাজারের কিছু অংশের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। কিন্তু একই সঙ্গে তারা চায়নি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেটে বড় অঙ্কের অর্থ দিতে কিংবা অবাধ শ্রমিক চলাচল আবার চালু করতে।

অর্থাৎ, সুবিধাগুলো নেওয়া হবে, কিন্তু সদস্য হওয়ার দায়-দায়িত্ব নেওয়া হবে না।

ঠিক এই প্রস্তাবকেই ব্রাসেলস এক দশক আগে ‘চেরি-পিকিং’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান ছিল পরিষ্কার— কেউ জোট ছেড়ে দিয়ে আবার নিজের পছন্দের সুবিধাগুলো আলাদা করে বেছে নিতে পারে না।

তবে দশ বছরে শুধু ব্রিটেন নয়, পুরো বিশ্বও বদলে গেছে।

এই পরিবর্তিত বাস্তবতাই এখন ইউকে-ইইউ সম্পর্কের নতুন আলোচনাকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও জটিল করে তুলেছে।

দশ বছর আগের ব্রেক্সিট আলোচনার সময়কার ইউরোপ আর আজকের ইউরোপ এক নয়। তখন মূল প্রশ্ন ছিল যুক্তরাজ্যের বিদায় কীভাবে সামলানো হবে। আর এখন প্রশ্ন— ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে ওঠা বিশ্বে ইউরোপ কীভাবে নিজের অবস্থান ধরে রাখবে।

এই পরিবর্তিত বাস্তবতাই ইউকে-ইইউ সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউরোপের কাছে আগের মতো নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়। রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি ইউরোপ জুড়ে ভুয়া তথ্য ছড়ানো, নাশকতা ও সাইবার তৎপরতার মতো ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাবও ইউরোপের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কি ইইউর জন্য লাভজনক হতে পারে?

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে দুই পক্ষের সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও কি একই ধরনের অগ্রগতি সম্ভব?

কিয়ের স্টারমারের পদত্যাগের আগে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিশেল বার্নিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য যদি আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায়, তবে ইইউ তা আন্তরিকভাবেই স্বাগত জানাবে।

তার মতে, যুক্তরাজ্যের একক বাজার ছাড়ার সিদ্ধান্ত উভয় পক্ষের জন্যই ‘হার-হার’ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তবে এরপরই তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজার তাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। বর্তমান অনিশ্চিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে সেই কাঠামোকে দুর্বল করার মতো কোনো ঝুঁকি তারা নেবে না।

বার্নিয়ের ভাষায়, ‘আমরা এখন অনেক বেশি বিপজ্জনক, অস্থিতিশীল ও ভঙ্গুর এক বিশ্বে বাস করছি। তাই আমাদের সম্পদ ও ঐক্য ধরে রাখতে হবে। যুক্তরাজ্যের প্রতি কোনো প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব নেই, কিন্তু তাদের বুঝতে হবে— একক বাজারকে দুর্বল করে এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব নয়।’

সবচেয়ে বড় হুমকি কি ইউরোপের ভেতরেই?

বার্নিয়ের মতে, ইইউর সামনে এখন শুধু বাইরের নয়, ভেতরেরও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থি নেতা মেরিন লে পেন, তার দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জর্দান বারদেলা কিংবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ইউরোসেপ্টিক নেতাদের সঙ্গে তিনি নাইজেল ফারাজের মিল খুঁজে পান।

ব্রেক্সিটের আগে ফারাজ যেমন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যকে ইইউ থেকে বের করে আনার আন্দোলন করেছিলেন, তেমনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও এখন এমন রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হয়েছে, যারা ইইউর ক্ষমতা কমাতে বা কাঠামো বদলে দিতে চায়।

বার্নিয়ে বলেন, ‘আমাদের অনেক দেশেই এখন নিজেদের ফারাজ আছে। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দুর্বল করতে চায়। কিন্তু আমরা তা হতে দিতে পারি না।’

অবশ্য ফারাজ বরাবরই দাবি করে আসছেন, তিনি ইউরোপকে নয়, শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অপছন্দ করেন এবং তার লক্ষ্য ইইউ ধ্বংস করা নয়।

২০২৭: ইউরোপের রাজনীতিতে সম্ভাব্য মোড় পরিবর্তনের বছর

ফ্রান্সের ন্যাশনাল র‍্যালি (আরএন) দলের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ফ্যাব্রিস লেজেরি মনে করেন, ২০২৭ সাল ইউরোপীয় রাজনীতির জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।

ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে বিবিসির সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ফ্রান্সের নির্বাচনে তাদের দল ক্ষমতায় আসবে বলে তারা আত্মবিশ্বাসী।

বর্তমান জনমত জরিপও দেখাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র‍্যালি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইউরোপীয় নীতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে সেখানে নেতৃত্ব পরিবর্তন পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনীতিতেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

লেজেরি বলেন, তাদের দল ইউরোপে অভিবাসন আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, পরিবেশবিষয়ক অনেক নিয়ম শিথিল করতে চায় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেটে ফ্রান্সের অবদানও কমানোর পক্ষে। ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতাও দীর্ঘদিনের।

তার আশা, ২০২৭ সালে শুধু ফ্রান্স নয়, ইতালি, স্পেন ও পোল্যান্ডেও ইউরোসেপ্টিক দলগুলো বড় ধরনের সাফল্য পাবে।

তিনি বলেন, ‘এক সঙ্গে আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ভেতর থেকেই পরিবর্তন করার সুযোগ পাব।’

এমনকি লেজেরি জানান, বড়দিনের আগে তিনি জর্দান বারদেলার সঙ্গে লন্ডনে গিয়ে নাইজেল ফারাজের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তার ভাষায়, ‘যদি ফারাজ যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হন এবং ফ্রান্সে ন্যাশনাল র‍্যালি ক্ষমতায় আসে, তাহলে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার অনেক সুযোগ তৈরি হবে।’

ব্রেক্সিটের পর ইইউ কেন আরও ঐক্যবদ্ধ?

২০১৬ সালে ব্রেক্সিটের ফল ঘোষণার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, একে একে ইতালি, ডেনমার্ক, সুইডেন কিংবা ফ্রান্সও ইইউ ছাড়বে। তখন ‘ফ্রেক্সিট’, ‘সুইএক্সিট’, ‘ইতালএক্সিট’— এমন নানা শব্দও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই ঘটেনি।

জার্মানির রক্ষণশীল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ডেভিড ম্যাকঅ্যালিস্টারের মতে, ইউরোপের মানুষ ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বছরের পর বছর ধরে চলা কঠিন আলোচনার অভিজ্ঞতা দেখেছে। আর সেখান থেকেই তারা বুঝেছে, ইইউ ছাড়া যতটা সহজ মনে হয়েছিল, বাস্তবে তা মোটেও ততটা নয়।

সাম্প্রতিক পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপও সেই ধারণাকেই শক্তিশালী করেছে। যুক্তরাজ্য ও সাতটি ইইউ সদস্যদেশে পরিচালিত ওই জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে ৬২ শতাংশ মানুষের ইইউ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা রয়েছে। ২০১৬ সালে এই হার ছিল ৪৯ শতাংশ।

ইউরোপিয়ান রিফর্ম সেন্টারের আর্মিডা ভ্যান রেইর মতে, আজও ইউক্রেনসহ একাধিক দেশ ইইউতে যোগ দেওয়ার জন্য আগ্রহী। অর্থাৎ সংগঠনটি আকর্ষণ হারায়নি।

অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে ইইউর সব সমস্যা শেষ হয়ে গেছে।

জার্মানির ফ্রিডরিখ মেরৎস, ফ্রান্সের এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কিংবা পোল্যান্ডের ডোনাল্ড টুস্কের মতো মূলধারার নেতারা এখন নানা রাজনৈতিক চাপের মুখে। একই সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদী ও ইউরোসেপ্টিক দলগুলোও জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে।

তবু ইউরোপের অধিকাংশ মানুষের বিশ্বাস, বর্তমান অস্থির বিশ্বে নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা একসঙ্গে থাকার মধ্যেই।

মিশেল বার্নিয়ের মতে, ব্রেক্সিট এখন ইতিহাস। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আর যুক্তরাজ্য নয়; বরং ইউরোপের ভেতর থেকেই উঠে আসা ইউরোসেপ্টিক শক্তিগুলো আগামী বছরগুলোতে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।

আর সেই কারণেই, ব্রেক্সিটের এক দশক পর ইউরোপকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি সিদ্ধান্ত শুধু লন্ডনের জন্য নয়, পুরো ইউরোপের ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরানকে ডলারে তেল বিক্রির অনুমতি, পরমাণু পরিদর্শক পাঠাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

সুইজারল্যান্ডে আলোচনার পর জেডি ভ্যান্স জানিয়েছিলেন যে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা "আজ থেকেই শুরু হতে পারে"।

৮ ঘণ্টা আগে

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মস্কোয় বিমান চলাচল ব্যাহত, পালটা হামলায় নিহত ৬

ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে একদিনে ৮৪টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। এর জেরে রাজধানীর চারটি প্রধান বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। অন্যদিকে রাশিয়ার পালটা হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী এক

৯ ঘণ্টা আগে

কাতারে এলএনজি কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ১৩, বাংলাদেশিসহ আহত ৬৬

গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, রোববার (২১ জুন) শেষ রাতের দিকে রাস লাফানের বারজানের একটি অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই সময় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

২১ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বার্নহ্যাম, শপথ নিলেন এমপি হিসেবে

ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরে আসা বার্নহ্যাম সোমবার (২২ জুন) হাউজ অব কমন্সে শপথ নেন। হাউজ অব কমন্সে তার শপথ গ্রহণ ঘিরে লেবার পার্টির এমপিদের উচ্ছ্বাস ও দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রকাশ্য সমর্থন নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তাকে স্পষ্টভাবে এগিয়ে দিয়েছে।

১ দিন আগে