অবৈধ অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠাতে ট্রাম্পের পাশে সুপ্রিম কোর্ট

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিভাসীদের ফেরত পাঠানো হয়। ফাইল ছবি

অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের নিজ দেশ ছাড়া তৃতীয় কোনও দেশে ফেরত পাঠানো শুরু করতে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি পেয়েছেন ডোনাল ট্রাম্প। উচ্চ আদালতের রায় পাওয়ার পর নতুন উদ্যোমে ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিভাসী বিতাড়ন শুরু করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

এর আগে নিম্ন আদালতের একটি আদেশে বলা হয়েছিল, অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠালে তারা সেখানে কী ধরনের ‘ঝুঁকিতে পড়তে পারে সেকথা বলার যথার্থ সুযোগ’ দিতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে। বোস্টন-ভিত্তিক ডিস্ট্রিক্ট জাজ ব্রায়ান মারফি গত ১৮ এপ্রিল ওই আদেশ জারি করেন। এর ফলে ট্রাম্পের অভিবাসী বিতাড়ন প্রক্রিয়া দ্রুত করার পরিকল্পনা আটকে যায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প প্রশাসন আদেশটি তুলে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল।

উল্লেখ্য, অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াটি সাধারণত "অভিবাসন চুক্তি" নামে পরিচিত, যেখানে তৃতীয় দেশটি অভিবাসীদের গ্রহণ করতে সম্মত হয়। এই ধরনের চুক্তিগুলো সাধারণত অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর চেয়ে বেশি সুবিধাজনক বলে মনে করা হয়, কারণ এটি উভয় দেশ এবং অভিবাসীদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক সমাধান হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র এই ধরনের চুক্তিগুলো সাধারণত তাদের প্রতিবেশী দেশ, যেমন মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস এবং এল সালভাদরের সাথে করে থাকে। এছাড়াও, কিছু ক্ষেত্রে, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশ যেমন কানাডা, কলম্বিয়া, এবং পেরুর সাথেও এই ধরনের চুক্তি করেছে। এই দেশগুলোতে সাধারণত অভিবাসীদের আশ্রয় বা মানবিক সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ থাকে।

এই ধরনের চুক্তিগুলো করার ক্ষেত্রে, উভয় দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা এবং পারস্পরিক সম্মতির প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানোর আগে, অভিবাসীদের তাদের অধিকার সম্পর্কে অবহিত করা হয় এবং তাদের আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এছাড়াও, এই ধরনের চুক্তিতে সাধারণত নিশ্চিত করা হয় যে তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য বা নিপীড়ন করা হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের পদক্ষেপের কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি অবৈধ অভিবাসনের সংখ্যা কমাতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, এটি অভিবাসন প্রক্রিয়াটিকে আরও দক্ষ এবং কার্যকর করে তোলে। তৃতীয়ত, এটি তৃতীয় দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নেও সহায়ক হতে পারে।

তবে এমন পদক্ষেপের কিছু সমালোচকও রয়েছেন। তাদের মতে, এই ধরনের চুক্তিগুলো অভিবাসীদের অধিকার লঙ্ঘন করতে পারে এবং তাদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

তৃতীয় দেশে অবৈধ অভিবাসী পাঠানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, অপরাধে জড়িতদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই অভিবাসীদেরকে তাদের নিজ দেশও ফেরত নিতে চায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির’ মুখপাত্র ট্রিশিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, “এই রায় দেশের জনগণের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য এক বিজয়। বিতাড়ন কর্মসূচি নবদ্যোমে শুরু হোক,” বলেন তিনি।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া সংক্ষিপ্ত রায়ে সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনও যুক্তি দেখানো হয়নি। আদালতের রক্ষণশীল ৬ বিচারপতি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দেন, আর তিন উদারপন্থি বিচারপতি ছিলেন বিপক্ষে। এই তিন বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‘আদালতের ক্ষমতার বড় ধরনের অপব্যাবহার’ আখ্যা দিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দেওয়ায় একে ‘ভয়ানক’ আখ্যা দিয়েছে অভিবাসনবিষয়ক আইনি সংস্থা ‘ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন লিটিগেশন অ্যালায়েন্স’। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ট্রিনা রেয়ালমুটো বলেন, “এই সিদ্ধান্ত আমাদের মক্কেলদের নির্যাতন ও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”

অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায় ট্রাম্পের অভিবাসননীতি নিয়ে সাম্প্রতিক আরেকটি বড় জয় বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বার্লিনের জঙ্গলে অস্ত্রের গোপন ভাণ্ডার, রুশ গোয়েন্দা সংযোগের সন্দেহ

ডোব্রিন্ট জানান, ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে— এমন গুরুতর সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে’ তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি জার্মানির বর্তমান ‘উচ্চ ঝুঁকি’র নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে। এতে বিদেশি কোনো শক্তির সম্পৃক্ততা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

৭ ঘণ্টা আগে

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের কারাগারে ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষার পর তাকে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করেছেন।

১৬ ঘণ্টা আগে

ট্রাম্প কি ইরানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর বাণিজ্য বন্ধ করতে পারবেন

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো দেশ ইরানকে আর্থিক, ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো সহায়তা দিলে সেই দেশকেও ‘প্রচণ্ড অর্থনৈতিক ক্ষতির’ মুখে পড়তে হবে।

১৯ ঘণ্টা আগে

কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: নিহত ১৩, আহত ৩৩

রাশিয়ার এই ভয়াবহ হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক সহায়তার জোর আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, "ইউক্রেন যতদিন পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা না পাবে, ততদিন রাশিয়া শান্তির বিষয়টি বিন্দুমাত্র গু

২ দিন আগে