শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১৭: ২৭
ধর্মেন্দ্র প্রধান। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ একাধিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থী ও তরুণরা। দিল্লি থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন ধীরে ধীরে ভারতের আরও কয়েকটি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

মোদি সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হলেও তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিলেন। অবশেষে শনিবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে চলমান আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনকারীরা এটিকে তাদের বড় বিজয় হিসেবে দেখছেন।

মন্ত্রীর পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থানরত হাজারো বিক্ষোভকারী উল্লাসে ফেটে পড়েন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা পেরেছি।” তার এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনস্থলে জোরালো উল্লাস শুরু হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে সবচেয়ে বড় রাজপথের আন্দোলনগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে এই বিক্ষোভ। সময়ের সঙ্গে এটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতেও রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তরুণদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য এটি অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “যন্তর মন্তর এবং সারা দেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যাতে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি এ পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে—সে বিবেচনায় আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।”

একই পোস্টে তিনি আরও বলেন, “দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং তাদের ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”

ধর্মেন্দ্র প্রধান যখন পদত্যাগের ঘোষণা দেন, ঠিক সেই সময় নয়াদিল্লিতে আন্দোলনরত তরুণদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করছিল। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে সরকারের মন্ত্রীদের আরেক দফা বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

ভারতের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ’ আন্দোলনের হাজারো সমর্থক গত জুন মাস থেকেই রাজপথে অবস্থান করছেন। তবে গত সোমবার সংসদ অভিমুখে মিছিল করা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করলে আন্দোলন নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করে। ওই ঘটনায় কয়েক ডজন শিক্ষার্থী আহত হন।

প্রথমদিকে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষোভ থেকেই এ আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে এটি কর্মসংস্থানের সংকট, দুর্নীতি এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে ভারতের তরুণদের বিস্তৃত অসন্তোষের প্রতীক হয়ে ওঠে।

এদিকে শনিবারও রাজধানী নয়াদিল্লিতে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট সেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করে। পাশাপাশি ১৮টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশও সীমিত করা হয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আরোপ করা বিধিনিষেধের অংশ হিসেবেই সর্বশেষ এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

দিল্লির আন্দোলনে পুলিশি হামলা, ১২ প্রশ্নের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার। তাদের যুক্তি— দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। একইভাবে অভিযানে অংশ নেওয়া র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলি

৪ ঘণ্টা আগে

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আলোচনায় বসতে নারাজ সিজেপি

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে এক্সে দেওয়া পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রশ্নে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত। সরকার যদি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে আলোচনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার অর্থ হয় না।

৫ ঘণ্টা আগে

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়াই কেন অনশন ভাঙলেন, জানালেন সোনম ওয়াংচুক

নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যেন কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়— এটিকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। আর সে কারণেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াই ২৬ দিনের অনশন

৫ ঘণ্টা আগে

দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিতে পারেন মমতা

বর্তমানে দিল্লিতে চলমান এই বিক্ষোভ সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ছাত্র আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় অবস্থানের বার্তাও স্পষ্ট করবে।

৭ ঘণ্টা আগে