ফিলিস্তিন সংকটে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে জাতিসংঘে ১৪২ দেশের ভোট

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের একটি ঘোষণাপত্র অনুমোদনের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট দিয়েছে জাতিসংঘ সদস্যরা।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এই ঘোষণাপত্রটি ১৪২টি দেশের পক্ষে এবং ১০টি দেশের বিপক্ষে ভোটে গৃহীত হয়।

এতে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা ও অবরোধের নিন্দা জানানো হয়েছে।

তবে, এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এটিকে 'একপেশে' এবং হামাসের জন্য 'উপহারস্বরূপ' বলে সমালোচনা করেছে।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

চলতি মাসে বৈশ্বিক নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত হতে যাচ্ছে সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সভা। তার আগেই গতকাল ১৪২টি দেশের ভোটে ঘোষণাপত্রটি অনুমোদনের পক্ষে ভোট দেয়। ভোটদানে বিরত থাকে ১২টি এবং বিপক্ষে অবস্থান নেয় ১০টি দেশ।

সব উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্র ওই ঘোষণা গ্রহণের পক্ষে ভোট দেয়। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, হাঙ্গেরি, মাইক্রোনেশিয়া, নাউরু, পালাউ, পাপুয়া নিউ গিনি, প্যারাগুয়ে ও টোঙ্গা প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয়।

গত জুলাই মাসে সৌদি আরব ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় সাত পৃষ্ঠার ওই ঘোষণাপত্রটি উত্থাপিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ওই সম্মেলন বর্জন করেছিল।

আগামী ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের ফাঁকে বিশ্বনেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেবে।

সাধারণ পরিষদের ১৯৩ সদস্যের অনুমোদিত ঘোষণাপত্রে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের ইসরায়েলবিরোধী হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের হামলা, অবরোধ ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনারও নিন্দা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এসব কার্যক্রম গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও সুরক্ষাজনিত সংকট সৃষ্টি করেছে।

গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধ শেষের দাবি জানিয়ে ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা মিশন মোতায়েন করতে হবে।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এ প্রস্তাব হামাসকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে। আজ প্রথম জাতিসংঘ একটি ঘোষণাপত্র গ্রহণ করল যেখানে হামাসের অপরাধের নিন্দা করা হয়েছে এবং তাদের আত্মসমর্পণ ও নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক প্রদর্শনীমূলক পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছে। মার্কিন কূটনীতিক মরগান ওরটেগাস বলেন, এই প্রস্তাব হামাসের জন্য উপহারস্বরূপ। শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে এই পরিষদ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করেছে, হামাসকে উৎসাহিত করেছে এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

ঘোষণাপত্রকে একপেশে বলে পুরো ভোট প্রক্রিয়াকে নাটকীয়তা বলে নিন্দা করেছে ইসরায়েল। জাতিসংঘে ইসরায়েলের স্থায়ী প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন বলেন, এখানে একমাত্র লাভবান পক্ষ হলো হামাস। যখন সন্ত্রাসীরা উল্লাস করছে, তখন বোঝা যায় শান্তি না বরং সন্ত্রাসই জয়ী হচ্ছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিদায় নিয়ে ভাবছেন স্টারমার, শরতেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্টারমার সোমবার (২২ জুন) ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এর মধ্য দিয়ে এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

৫ ঘণ্টা আগে

নির্বাচনে বড় জয় পেলেন ক্ষমতাসীন আবি, ইথিওপিয়ায় নতুন সংঘাতের শঙ্কা

সমর্থকদের মতে, এই বিজয় অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজন, নিরাপত্তা সংকট ও আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও গভীর হতে পারে।

৫ ঘণ্টা আগে

লেবানন ইস্যুতে ইরানকে নতুন হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ট্রাম্প এমন সময়ে এমন হুমকি দিয়েছেন যখন সুইজারল্যান্ডে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পক্ষে সংসদের স্পিকার বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটক

১৮ ঘণ্টা আগে

৬০ দিনে চুক্তি না হলে হরমুজে টোল নেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ৬০ দিন বা তারপরও এই প্রণালিতে কাউকে কোনো টোল দিতে হবে না। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দুপক্ষ চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে টোল আরোপ করবে।

২০ ঘণ্টা আগে