ইরানে মার্কিন হামলা, মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পালটা আঘাত

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ছবি: সংগৃহীত

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাত্র ১০ দিনের মাথায় আবারও চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্পর্ক। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার কড়া জবাব দিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন মজুতকেন্দ্র এবং রাডার সাইটগুলোতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী (সেন্টকম)। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পালটা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

দুই পরাশক্তির এই পাল্টাপাল্টি হামলায় গত ১৭ জুনের ঐতিহাসিক চুক্তিটির ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তায়, যার জেরে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিককে উদ্ধারের জাতিসংঘ মিশনও স্থগিত হয়ে গেছে।

শনিবার (২৭ জুন) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতকেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোতে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। ইরানের আচরণ নৌ-চলাচলের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করেছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, সেন্টকমের এ ঘোষণার পরপরই দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে মার্কিন হামলা হয়েছে। এর জবাবে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

আইআরজিসি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আবারও যেকোনো হামলা হলে এর জবাব আরও ব্যাপক হবে।

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যকর থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতিসহ চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধের শর্ত যুক্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলোয় সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথা ছিল। যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি, সার ও অন্যান্য পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যায়।

গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরভিত্তিক বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলিতে’ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা পুনরায় বেড়েছে। এ ঘটনাকে সমঝোতা স্মারকের স্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে জাহাজে হামলার পর প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে উদ্ধারের মিশন স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে জাতিসংঘ। যদিও তেহরান এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে ইরান তাদের অনুমতি ছাড়া এ নৌপথ ব্যবহার করে চলাচল না করার জন্য বারবার সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে।

এর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য একটি অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডোর চালুর ঘোষণা দিয়েছে ওমান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ নিরাপদ রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।

ওমান নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সঙ্গে সমন্বয় করে এবং নৌ-চলাচল ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির প্রতি ওমান সালতানাতের দায়িত্ব এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব বিবেচনায় কোনো ধরনের ফি ছাড়াই নৌ-চলাচল অব্যাহত রাখতে আইএমওর সঙ্গে সমন্বয় করে অস্থায়ী করিডোর চালু করা হয়েছে। করিডোরটি আইএমও এবং সংশ্লিষ্ট ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে। এ রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করতে হবে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে ভারত, জানালেন অর্থমন্ত্রী সীতারামন

অর্থমন্ত্রী জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে কৃষি, উৎপাদনশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই), অবকাঠামো এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে সমন্বিত প্রবৃদ্ধির কৌশল বাস্তবায়ন করছে সরকার। একই সঙ্গে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়েও কাজ চলছে।

১ দিন আগে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘খুব ভালো আলোচনা’ চলছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবার সারাদিন ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তার এই মন্তব্যে পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান শিগগিরই হতে পারে— এমন আশাবাদ নতুন করে জোরালো হয়েছে।

১ দিন আগে

রুশ হামলায় কিয়েভ অঞ্চলে নিহত অন্তত ১৪, আহত ২৭

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। হামলায় গুদামঘরসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ। তবে কয়েকটি প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ১৫ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

২ দিন আগে

ইরান যুদ্ধে ‘প্রায় সব’ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র

সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (অ্যাটাকমস) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিআরএসএম)। দুটি সূত্রের ভাষ্য, এসব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ‘প্রায় সবই’ ইতোমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

২ দিন আগে