যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ পাচ্ছে সৌদি আরব

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউজে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: গেটি ইমেজেস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন, যার মাধ্যমে সৌদি আরব তাদের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও নিউইয়র্ক টাইমস।

চুক্তির বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আজ বুধবারই ঘোষণা করা হতে পারে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে মার্কিন কোম্পানিগুলো অংশ নেবে। পাশাপাশি যৌথ মার্কিন-সৌদি সমীক্ষার ভিত্তিতে দেশটিতে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের পথও উন্মুক্ত হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে। তবে সেখানে এটি বাধার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, অনেক আইনপ্রণেতার আশঙ্কা, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা দিলে বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার ও প্রতিযোগিতার নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সৌদি আরব আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদস্য। ভিয়েনাভিত্তিক এই সংস্থা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি কোথাও গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি চলছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন চালিয়ে থাকে।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একজন জানিয়েছেন, নতুন চুক্তিতে আইএইএর ‘অ্যাডিশনাল প্রটোকল'’ অন্তর্ভুক্ত থাকছে না। এই প্রটোকল থাকলে সংস্থাটি আরও বিস্তৃতভাবে পর্যবেক্ষণ, পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ পেত।

চুক্তির সম্ভাব্য ঘোষণা এমন এক সময়ে আসছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এই যুদ্ধের অন্যতম ঘোষিত লক্ষ্য হচ্ছে তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করা। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। তবে এর আগে দেশটি এমন মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার দাবি করেছে, যা পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার কাছাকাছি।

চুক্তির বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও হোয়াইট হাউজ ও রিয়াদে সৌদি কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

ট্রাম্প এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন— উভয় প্রশাসনই সৌদি আরবের সঙ্গে এমন একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিল, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি সৌদি আরবের সঙ্গে ভাগাভাগি করা যায়।

তবে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, সৌদি আরবে যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দেশটির জন্য পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তোলার পথ সহজ হয়ে যেতে পারে। সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যদি পারমাণবিক বোমা অর্জন করে, তাহলে সৌদি আরবও সেই পথ বিবেচনা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, শুধু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করলেই কোনো দেশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে না। এর জন্য সমন্বিত উচ্চক্ষমতার প্রচলিত বিস্ফোরক ব্যবহারের মতো আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করতে হয়। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয় বলেই ইরানের কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ দীর্ঘদিনের।

ট্রাম্প প্রশাসনের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ২০২৫ সালে ট্রাম্পের সৌদি সফরের ঠিক আগে দেশটি সফর করেন। সে সময় তিনি তর সৌদি সমকক্ষের সঙ্গে সৌদি আরবে বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাত গড়ে তোলার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগও কোনো সাড়া দেয়নি।

এদিকে ইসরায়েল কাতারে হামাসের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর সৌদি আরব ও পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। এরপর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে তার দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি সৌদি আরবের জন্য ‘উপলব্ধ করা হবে’। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত ইসরায়েলের প্রতি এটিকে একটি কৌশলগত সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হয়।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তথাকথিত ‘১২৩ চুক্তি’ সই করে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। তবে আমিরাত নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের দাবি তোলেনি। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচি গড়ে তুলতে আগ্রহী দেশগুলোর জন্য এটিই এখন ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ বা আদর্শ মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বার্লিনের জঙ্গলে অস্ত্রের গোপন ভাণ্ডার, রুশ গোয়েন্দা সংযোগের সন্দেহ

ডোব্রিন্ট জানান, ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে— এমন গুরুতর সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে’ তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি জার্মানির বর্তমান ‘উচ্চ ঝুঁকি’র নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে। এতে বিদেশি কোনো শক্তির সম্পৃক্ততা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

৮ ঘণ্টা আগে

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের কারাগারে ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষার পর তাকে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করেছেন।

১৬ ঘণ্টা আগে

ট্রাম্প কি ইরানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর বাণিজ্য বন্ধ করতে পারবেন

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো দেশ ইরানকে আর্থিক, ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো সহায়তা দিলে সেই দেশকেও ‘প্রচণ্ড অর্থনৈতিক ক্ষতির’ মুখে পড়তে হবে।

২০ ঘণ্টা আগে

কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: নিহত ১৩, আহত ৩৩

রাশিয়ার এই ভয়াবহ হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক সহায়তার জোর আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, "ইউক্রেন যতদিন পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা না পাবে, ততদিন রাশিয়া শান্তির বিষয়টি বিন্দুমাত্র গু

২ দিন আগে