উইঘুর: জিনপিংয়ের সফরের প্রতিবাদে হোয়াইট হাউজের বাইরে বিক্ষোভ

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রতিবাদে হোয়াইট হাউজের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন উইঘুর অধিকার কর্মীরা। চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় সরাসরি প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউজের সামনে এ বিক্ষোভ হয়। এর আগের দিনই সস্ত্রীক ওয়াশিংটন পৌঁছান জিনপিং। বিরল নজির স্থাপন করে বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত হয়ে ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া তাদের স্বাগত জানান।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও জিনপিং যখন বৈঠক করছিলেন, তখন হোয়াইট হাউজের বাইরে বিক্ষোভ চলছিল। সেখানে উপস্থিত ভার্জিনিয়ার আজিজ সুলায়মান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, তার ভাই আলিম সুলায়মান একজন দন্তচিকিৎসক। প্রায় ১০ বছর আগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন। তার অভিযোগ, কোনো যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই তার ভাইকে সাজা দেওয়া হয়েছে।
আরেক বিক্ষোভকারী হায়দার জান বলেন, উইঘুর ও চীনের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা উচিত।
জিনজিয়াংয়ে চীনা সরকারের নীতিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনা রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের ২০২২ সালের প্রতিবেদনে উইঘুর ও অন্যান্য প্রধানত মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে’র কথা বলা হয়েছিল। প্রতিবেদনে এসব কর্মকাণ্ডের কিছু ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
মানবাধিকার সংগঠন ও সাবেক বন্দিরা জিনজিয়াংয়ে গণহারে আটক, জোরপূর্বক শ্রম, নির্যাতন, নারীদের জোরপূর্বক বন্ধ্যত্বকরণ এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় মুছে দেওয়ার মতো অভিযোগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি সরকার ও মানবাধিকার সংস্থা চীনের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে চীন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এবং জিনজিয়াংয়ের আটককেন্দ্রগুলোকে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবিলার জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ট্রাম্প-জিনপিং আলোচনায় মানবাধিকার প্রশ্ন
উইঘুর বিক্ষোভটি এমন সময়ে হলো, যখন ট্রাম্প ও জিনপিং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, এআই, ইরান ও তাইওয়ানসহ একাধিক কৌশলগত বিষয়ে আলোচনা করছেন। আলোচনায় মানবাধিকার প্রশ্ন কতটা গুরুত্ব পেয়েছে, সে বিষয়ে বৈঠকের প্রকাশিত প্রাথমিক বিবরণে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
তবে বিক্ষোভকারীদের বার্তা ছিল স্পষ্ট— দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমঝোতার পাশাপাশি জিনজিয়াংয়ের মানবাধিকার পরিস্থিতিও ওয়াশিংটনের আলোচনার টেবিলে থাকা উচিত।

-3f63d3.jpg)
-10a2b7.jpg)











-3f63d3-256x144.webp)




